Home » টেলিভিশন » ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন এবং আমাদের অবস্থান – নোমান রবিন
1234Untitled-3

ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন এবং আমাদের অবস্থান – নোমান রবিন

Share Button

ঢাকা, ১০ এপ্রিল:-

নোমান রবিন,     চলচ্চিত্রকার, টিভি নাটক নির্মাতা এবং প্রযোজক

 

আমাকে কেউ কেউ FB Inbox এ অনুরোধ করেন “বাংলাদেশে ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন” নিয়ে লিখতে। লেখার প্রারম্ভেই আপনাদের অনুরোধের মধ্যে একটি ভুল শব্দের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। আর তা হলো “আগ্রাসন”। কই ভাই? বাংলাদেশের কোথাও কোন বিলবোর্ড, পোস্টারে বা বাংলাদেশী বা ভারতীয় কোন টিভি চ্যানেলে তো ভারতীয় সংস্কৃতি আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার কোন রকম কোন ক্যাম্পেইন তো চোখে পড়ল না! তাহলে কেন আমরা শুধু শুধু অন্যের দোষ ধরব? আগে শব্দের মুল্য ও মান বোঝেন, তারপর তা প্রয়োগ করেন। অযথা বাড়তি কথা বলার কি দরকার? যাই হোক প্রসংগটি যখন উঠলই এর শ্রাদ্ধ না করে আর ছাড়ছি না। আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি ও দেখেছি যে এই বঙ্গদেশে সংষ্কৃতি লালন, বহন ও প্রয়োগের দিক থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরাই এগিয়ে। তারা তাদের ধর্মের আচারের কারণেই গান, বাজনা, নাচ, অর্থাৎ সংস্কৃতির প্রধানতম উপাদানগুলো নিয়ে পারিবারিক ভাবেই অনুশীলনের মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন এবং আছেন। অন্যদিকে মুসলমান ধর্মে নাকি গান বাজনা নিষিদ্ধ!!যদিও এই গুলো আরব দেশের ফতোয়া। আরবদের কুকর্মের কথা এবং ইসলামের সত্য ঘটনাগুলো গান হয়ে দেশ থেকে দেশে ঘুরে ফিরে যাচ্ছিল। তাই তারা অর্থ দিয়ে, ধন সম্পদ দিয়ে দেশে দেশে তাদের কিছু দোসর তৈরী করেছে এবং এই গোলামদের দিয়েই বিভিন্ন ফতোয়া দেয়ার মাধ্যমে সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে ভীষনভাগে ব্যাহত করেছে। যাই হোক মুল আলোচনায় আসা যাক। ১৯৪৭ এ ধর্মের সাইনবোর্ডেই ভাগ করা হল এই ভূখন্ডকে। সংস্কৃতির লালন ও বহনকারিদের অনেকে নিরাপত্তার অভাবে চলে গেলেন ওপারে! যারা থেকে গেলেন তাদেরকে বিভিন্ন কিস্তিতে এই দেশ থেকে তাড়ানোর যুদ্ধ শুরু হলো ১৯৭১ এ ও ১৯৭৫ এর পরবর্তিতে। ১৯৭৫ এরপর থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ কাল পর্যন্ত জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে গান, বাজনা নিষিদ্ধ না থাকলেও যারা বংশ পরম্পরায় সংস্কৃতি বা গানের ধারক-বাহক, তারা একরকম আনঅফিসিয়ালি নিষিদ্ধই ছিল। ফলে সংস্কৃতির বিকাশ হওয়া তো দূরে থাক, নিরবে বাঙ্গালী ঐতিহ্য হারাতে থাকল। আসলে চর্চার অভাবে যা হয় আর কি। যাই হোক, আদি সংস্কৃতির ধারক আওয়ামী লীগ এসে যে আমাদের সংস্কৃতিকে খুব বেশি বুঝতে পারল তাও নয়। কারন ততোদিনে সংস্কৃতি রুপ পরিবর্তন করে আকাশ সংস্কৃতিতে চলে গেছে এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকাতে নতুন বাজারে আসা বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল গুলোর সাথে “মুড়ি খাইলে ঠোঙ্গা ফ্রি” স্টাইলে ভারতীয় টিভিও ঢুকে গেল। ভারতীয় চ্যানেল তো ঢুকল না ঢুকল তাদের আচার, ব্যবহার, সংস্কৃতি, গান, নাচ এমন কি ভাষাও। এখন আমাদের ঘরের বাচ্চাও হিন্দি বলতে পারে। প্রিয় পাঠক! এখন আমার লেখার শুরু থেকে আবার পড়ে আসেন। আবার পরেন এবং তুলনা করেন আমাদের সংস্কৃতি এখন কোথায়? আপনার আমার হৃদয়ে? আপনার আমার পরিবার কি আমাদের সংস্কৃতি লালন করে, করেছে? নাকি আমাদের সংস্কৃতি শুধুই শিল্পকলা, টিভি অনুষ্ঠান ইত্যাদি কেন্দ্রিক? বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগন ভারত ছাড়াও নিজ ইচ্ছায় প্রভাবিত ও পরিচালিত হয়। সুতরাং ভারতকে নিজেদের দোষের কারণে দোষী করা একদম ঠিক হবে না। তবে হা! এখনই উপযূক্ত সময় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার। যেই পদক্ষেপে সংস্কৃতির নতুন ঠিকানা টিভি ও অনলাইন নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে সাজিয়ে নেয়া যাবে। বেড়ে যাবে শিল্পি ও শিল্পের মুল্যমান। কিভাবে? শুধুই নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে। নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপন করলে কি হবে? কষ্ট করে একটু গুগল করে দেখবেন প্লিজ? (চলবে)

Check Also

masranga

পাঁচ পেরিয়ে ছয় বছরে মাছরাঙা

মিডিয়া খবর:- মাছরাঙা টেলিভিশনের ৫ম বর্ষপূর্তি আজ। ‘রাঙাতে এলো মাছরাঙা’ স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালের এই …

news-24

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু টেলিভিশন চ্যানেল ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর

মিডিয়া খবর :-  আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে ২৪ ঘণ্টা খবরভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘নিউজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares