Home » প্রোফাইল » ছবির মানুষটির নাম শহিদুল ইসলাম খোকন

ছবির মানুষটির নাম শহিদুল ইসলাম খোকন

Share Button
মিডিয়া খবর:-      -: ফজলে এলাহী পাপ্পু :-

ছবির মানুষটির নাম শহিদুল ইসলাম খোকন। বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের মেধাবী পরিচালকদের অন্যতম। যিনি আমার সমবয়সী বাংলা সিনেমা পাগল মানুষগুলোর কাছে ‘পরিচালক খোকন’ নামে খুব পরিচিত ছিলেন। না, আজ পরিচালক খোকনের কোন কর্ম নিয়ে কথা বলবো না। আজ শুধু আমাদের বিবেককে কিছু প্রশ্ন করবো।
তৎকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী ভারতের সাথে আমাদের চলচ্চিত্রের একটা আলাদা পার্থক্য গড়ে তুলেছিলেন এই পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন। ভারত মার্শাল আর্ট ভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারতো না কিন্তু আমরা পারতাম, খুব ভালোই পারতাম। সেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন এই পরিচালক খোকন । তাঁর কারনে আমরা পেয়েছিলাম মার্শাল আর্ট হিরো রুবেল’কে। তাঁর কারনে আমরা পেয়েছিলাম মার্শাল আর্ট জানা দুর্ধর্ষ খলনায়ক ড্যানি সিডাক, ইলিয়াস কোবরা’র মতো অভিনেতাদের যাদের সদ্ব্যবহার একমাত্র তিনি করতে পারতেন। এছাড়াও পেয়েছিলাম প্রথমবারের মতো মার্শাল আর্ট জানা নায়িকা মিশেলা , অভিনেতা সিরাজ পান্না’র মতো কিছু দারুন মানুষদের যারা ছবিতে থাকা মানেই ভিন্নকিছু পাওয়া।

কক্সবাজারের জেলেদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে যে দুর্দান্ত বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ করা যায় সেটা প্রথম জেনেছিলাম পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন এর ‘লড়াকু’ ছবির মাধ্যমে। চলন্ত উড়োজাহাজের ভেতর ভিলেনদের সাথে মারামারির দৃশ্য প্রথম দেখি ‘বিপ্লব’ ছবির মাধ্যমে। যুদ্ধঅপরাধী ‘রাজাকার’ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন ও এর পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ডকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছিলেন প্রথম যে মানুষটি তিনি এই পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন । ‘বীরপুরুষ’ ছবিটিতে তিনি দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কিভাবে আমাদের সমাজকে ও যুবকদের ধ্বংস করছে তার চিত্র আর ‘ঘাতক’ ছবিটি তো ছিল একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধঅপরাধীদের নেতা গোলাম আজম’কে উদ্দেশ্য করেই তুলে ধরেছিলেন প্রতীকীভাবে যা নিয়ে সেই সময় জামাত শিবির প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ‘ঘাতক’ ছবিটির কারনে জীবনের হুমকিও পেয়েছিলেন তিনি।

প্রয়াত কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদিকে পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক সিনেমার অভিনেতা বানিয়ে দিলেন যিনি তিনি এই শহিদুল ইসলাম খোকন । শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে নতুন এক ফরিদির জন্ম হয় যা ফরিদিকে এনে দিয়েছিল দুর্দান্ত তারকা খ্যাতি । যে ফরিদির সাথে টিভি নাটকের ফরিদির পার্থক্য যোজন যোজন দূরে। বাংলা চলচ্চিত্রে নায়কবিহীন সম্পূর্ণ কমেডি ধাঁচের ছবি ‘পালাবি কোথায়’ নির্মাণ করেছিলেন এই পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন। বাংলা চলচ্চিত্রের কমেডি রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্র ‘ভণ্ড’ ‘পাগলা ঘণ্টা’ তৈরি করেন এই খোকন । এমনিভাবে সবসময় বাংলা চলচ্চিত্রকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করার পেছনে তাঁর জুড়ি ছিল না । লড়াকু, বীরপুরুষ, বজ্রমুষ্ঠি , বিপ্লব , উত্থান পতন, সন্ত্রাস, টপ রংবাজ , শত্রু ভয়ংকর, অপহরণ, সতর্ক শয়তান , বিশ্বপ্রেমিক, দুঃসাহস, গৃহযুদ্ধ, ঘাতক, কমান্ডার, ভণ্ড, পাগলা ঘণ্টা’র মতো দারুন সব বিনোদনধর্মী সফল ছবির পরিচালক এই শহিদুল ইসলাম খোকন । যার কাছে আমরা , আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প ঋণী।

এমন একজন গুণী মানুষ আজ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত যার পরিনাম নিশ্চিত মৃত্যু । আজ তাঁর চোখে মুখে অন্ধকার। তাঁর অবর্তমানে পরিবারটি কিভাবে চলবে, কি হবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ সেটা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মানুষটির কাছে । একজন গুণী মানুষের এমন অসহায়ত্ববরণ সম্ভবত বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোন দেশে হয় না । কারন আমরা আমাদের গুণীদের মূল্যায়ন করতে পারিনি । আমরা আমাদের গুণীদের ভুলে বিদেশি গুণী মানুষদের খবর নিয়ে ব্যস্ত থাকি । বিদেশি গুণী মানুষদের নিয়ে আফসোস করি অথচ নিজের দেশের গুণী মানুষেরা যে অসহায় জীবন যাপন করছে তাঁর খবর রাখি না । বেঁচে থাকতে আমরা গুণী মানুষগুলোকে আশ্বস্ত করতে পারিনা যে তোমার অবর্তমানে তোমার পরিবারের দায়িত্ব এই জাতির, এই রাষ্ট্রের যা নিয়ে তুমি ভেবো না । আমরা পারি শুধু মৃত্যুর পর কফিনের উপর কিছু শুঁকনো , বাসি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের কর্তব্য সম্পাদন করতে ।

একজন বিদেশিকে যদি শহিদুল ইসলাম খোকনের ছবিগুলো দেখানোর পর আজকের করুন অবস্থার কথা বলেন তাহলে সেই বিদেশি অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন করবে ‘’তোমরা কি মানুষ নাকি অন্য কিছু?’’ । জীবনের শেষ প্রান্তে গুণী মানুষদের এই অসহায়ত্ব বারবার আমাদের প্রমান করে আমরা গুণী মানুষদের মূল্যায়ন করার মতো একটি সুজাতি হয়ে উঠতে পারিনি। গুণী মানুষদের চাপা দীর্ঘশ্বাস , মনের কষ্ট আমাদের শিল্পে অভিশাপ হয়ে কেঁদে ফেরে তাইতো আমরা দিন দিন এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে যাই । আসুন আজ আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই এই গুণী মানুষটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য । আসুন আজ আমরা পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন এর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে শান্তিতে মৃত্যু বরন করার অধিকারটুকু নিশ্চিত করি ।।

বিঃ দ্রঃ আমার বন্ধু তালিকায় থাকা বন্ধুদের কাছে কোনদিন আমার কোন পোস্ট শেয়ার করার অনুরোধ করিনি কিন্তু আজ এই পোস্টটি বেশি বেশি করে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য । সরকারের কাছে দাবী জানাই শীঘ্রই শহিদুল ইসলাম খোকনের পরিবারের ভরন পোষণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য ।

Check Also

jafor iqbal hero

নায়ক জাফর ইকবাল শুভ জন্মদিন

মিডিয়া খবর :- শুভ জন্মদিন আমাদের নায়ক (জাফর ইকবাল). আশির দশকের রূপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা …

থিয়েটারের স্বজন এস এম সোলায়মান

মিডিয়া খবর:-        -: কাজী শিলা :- এস এম সোলায়মান থিয়েটারের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares