Home » সোশ্যাল মিডিয়া » সরকারের নজরদারিতে ফেসবুক টুইটার ও ইউটিউব
soaial-web-3

সরকারের নজরদারিতে ফেসবুক টুইটার ও ইউটিউব

Share Button

ঢাকা. ১০ এপ্রিল:-

অনলাইনের ওপর আগের চেয়ে বেশি নজরদারি ও কড়াকড়ি আরোপ করা শুরু করেছে সরকার। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার এবং ইউটিউটে নজরদারি শুরু করে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি এ জন্য একটি আলাদা সেল খুলেছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাও এটি নিয়মিত মনিটর করছে। আছে দলীয়ভাবেও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সে জন্য সরকারি দলের একটি ইউনিট কাজ করছে বছর পাঁচেক ধরে। সময়ের সাক্ষী ও বাঁশের কেল্লা নামে দুটো ফেসবুক পেজে সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়ে থাকে।

তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগে থেকেই ডিজিটাল মিডিয়ায় নজরদারি ছিল। এখনো বেড়েছে। সরকার এটাকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছে। গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগের জাগরণ মঞ্চ হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারি নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল মতামতধর্মী ওয়েবসাইট ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ও টুইটার এবং ভিডিও আপলোডিং সাইট ইউটিউবের ওপর।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারের এ উদ্যোগকে অনেকে ভিন্নভাবে দেখছেন। এ নিয়ে ব্লগ ও ফেসবুকে নানা সমালোচনা সে সময় হয়েছিল। তবে এবারের ঘোষণায় কিছুটা ভয় সাইবার জগতের মানুষের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বলে একজন ব্লগার বলছেন। তার মতে, সরকার যা চাইবে তাই হবে। সুতরাং এখানে ‘নিজেকে অনেক বড় বিপ্লবী’ প্রমাণের চেষ্টা আত্মঘাতী।
সাইবার ক্রাইমের নামে বিটিআরসি যে আনুষ্ঠানিক নজরদারি করছে, এটাকে তারা স্বাধীন মতের জন্য হুমকি মনে করছেন না। বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীলকান্তি বোস বলেছেন, তারা অপরাধমূলক বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন। বিটিআরসি সূত্র মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিটিআরসি এটি দেখভাল করলেও এসব ওয়েবসাইটের ওপর সরকারের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিএসআইআরটি) নামে বিটিআরসি ২০১২ সালে সাইবার ক্রাইম শনাক্তে কাজ শুরু করে। সে সময়কার বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, আগে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিত বিটিআরসি, তবে সিএসআইআরটি কাজ শুরু করায় সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে সার্বণিক নজরদারি চলছে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলোতে এমন বিষয় শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়াই হবে এই দলের মূল কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তবে এখন সরকার রাজনৈতিক মতামতধর্মী বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি, এমনটা জানিয়ে বিটিআরসি সূত্র বলছে, সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করতে পারে এমন বিষয়ের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা ১১ সদস্যের দল এ জন্য কাজ করছে। কমিশনের সদস্য, মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, পিএসটিএন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ও সাইবার ক্যাফের প্রতিনিধিদের এই দলে রাখা হয়েছে।

মোবাইল অপারেটর ও অন্যরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। বিটিআরসি মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্স) এ কে এম শহিদুজ্জামান জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে দুই থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা এবং পাঁচ লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

কোনো ওয়েবসাইটে তিকর কিছু থাকলে তাৎণিকভাবে তা বন্ধ না-ও করা হতে পারে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই এই টিমের মূল লক্ষ্য। তবে গুরুতর কোনো অপরাধ বা যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, সে ক্ষেত্রে এ টিম কমিশনকে জানিয়ে তাৎণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান তিনি।

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিটিআরসির তিনজন সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ পুরোদমে কাজ করছেন। বিটিআরসি ভবনে একটিকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সর্বণ এ নজরদারি করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। সহকারী পরিচালক পদের এই তিনজন বিশেষ প্রশিণপ্রাপ্ত বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান। তিনি বলেন, সন্দেহজনক কিছু পেলেই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

Check Also

mahi

বন্ধ জাজের ইউটিউব চ্যানেল

মিডিয়া খবর:- বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেল কপিরাইট জটিলতায় বন্ধ হলো। …

messenger video call

বাংলাদেশেও ফেসবুক অ্যাপস্ মেসেঞ্জারে ভয়েস-ভিডিও কল

মিডিয়া খবর:- বাংলাদেশের গ্রাহকরা এখন থেকে ফেসবুকের টেক্সট মেসেজিং অ্যাপস্ মেসেঞ্জার ব্যবহার করে ভয়েস এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares