Home » মঞ্চ » নাট্যবিন্দু’র প্রথম প্রযোজনা “চাকভাঙ্গা মধু ”

নাট্যবিন্দু’র প্রথম প্রযোজনা “চাকভাঙ্গা মধু ”

Share Button

মিডিয়া খবর :-

আজ বুধবার ৫ই নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি স্টুডিও থিয়েটার হলে  সন্ধা ৭টায় ‘নাট্যবিন্দু’র প্রথম প্রযোজনা” “চাকভাঙ্গা মধু ”পঞ্চম প্রদর্শনী।  নাটকটি রচনা করেছেন মনোজ মিত্র, নির্দেশনা দিয়েছেন আশফাকুর রাহমান আশিক।

বাংলা সাহিত্যের কাল পুরুষ মনোজ মিত্র। তার রচিত মৌলিক নাটক সমূহের মধ্যে এক অনন্য রচনা “চাক ভাঙ্গা মধু”। নাটকটি মূলত আমাদের সমাজেরই নির্মম এক প্রতিচ্ছবি। তিনি এই নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে আমাদের সমাজের দুটি শ্রেনীর মধ্যকার বিভাজনের এক চরম সত্যকে অতি সহজ সরল ভাবে তুলে ধরেছেন। সমাজের শোষক ও শোষিত এই দুইchak-bhanga-madhu শ্রেনীর মধ্যকার চিরায়িত এক নির্মম ধ্বংসাত্মক খেলার প্রতিছবি এই নাটকে প্রকাশ পেয়েছে।
একটি শোষক পরিবার গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের উপর নজর রেখে চলেছে কখন কিভাবে একটি পরিবারটিকে চুষে নিঃশেষ করে দেয়া যায়।
একটি শোষিত পরিবার যারা জীবন যুদ্ধে প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তবুও তাদের ছেড়ে যায়নি শোষকের কালো থাবা।
একটি সাপে কাটা রোগীকে নিয়ে শুরু হয় গল্প। শোষক পরিবার এর কর্ণধার অঘোর ঘোষকে সাপে কেটেছে, সে একজন সুদখোর ও নারী লোভী মানুষ। সে সুদের জালে আঁশটে পিঁশটে বেঁধে রেখেছে পুরো গ্রামটাকে। তাকে সাপে কেটেছে, এই খবরে সারা গ্রামে যেন আনন্দের শেষ নেই, কিন্তু ভয় সবার মাতলাকে নিয়ে। অঘোর ঘোষকে সাপে কাটা কাল হয়ে দাড়িয়েছে মাতলার পরিবারের জন্য। কারন এই তল্লাটে একমাত্র গুণিন হল মাতলা। মাতলা ও তার চাচা মিলে পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রামবাসী এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না, মাতলাকে যেমন করেই হোক বুঝাতে হবে সে যেন অঘোর ঘোষকে না বাঁচায়। মাতলা ও তেমনি সিদ্ধান্ত নেয় সে বাঁচাবেনা অঘোর ঘোষকে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়ায় মাতলার দারিদ্রতা ও তার গর্ভবতী মেয়ে বাদামি। বাদামি খুব সহজ সরল একজন মেয়ে। সে তার বাবাকে চেষ্টা করে ঝাড়ানোর জন্য রাজি করতে । মাতলাকে কোন ভাবেই রাজি করানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে অঘোর ঘোষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার কথিত বোন দাক্ষায়নী ও তার ছেলে শংকর। এক সময় তারা ছলে বলে রাজি করিয়ে ফেলে বাদামিকে, বাদামি ও তার বাবাকে রাজি করিয়ে ফেলে অঘোর ঘোষকে বাঁচানোর জন্য। ধীরে ধীরে মাতলা বাঁচিয়ে তোলে অঘোর ঘোষকে। বেঁচে উঠেই অঘোর ঘোষ তার চিরাইত স্বভাবে ফিরে যায়। সে দাবি করে বসে তার সুদ এবং তার কু-নজর পরে মাতলার মেয়ে বাদামির দিকে। বাদামি হয়ে উঠে প্রতিবাদী এক অগ্নি মূর্তি। নাটকটি খুজে পায় নতুন এক দিক। আর সমাজ পাবে নতুন এক পথ।

‘‘নাট্য বিন্দু”র প্রতিষ্ঠাতা ও নাট্য নির্দেশক আশফাকুর রাহমান আশিক বলেন,  নাট্য বিন্দুর প্রথম প্রযোজনা মনোজ মিত্র রচিত “চাকভাঙ্গা মধু” নাটকটি মঞ্চায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় এবং নাটকটি নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য নাট্যবিন্দুর সকল সদস্যদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। নাট্য বিন্দু প্রতিষ্ঠিত হয় ১২/১২/২০১২ ইং তারিখে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ আমরা  সামনে এসেছি। এই চলার পথে আমরা পেয়েছি আমাদের অনেক অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্খিদের সহযোগিতা। আমি নাট্য বিন্দুর পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে জানাই কৃতজ্ঞতা। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল অনভিজ্ঞ সব ছেলে মেয়েদের নিয়ে মঞ্চের কাজ শুরু করা। শুরুতে দলের বেশির ভাগ সদস্যই ছিল- যারা একটি মঞ্চ নাটকও আগে কখন দেখেনি ও করেনি। এমন কিছু ছেলে মেয়ে নিয়ে “নাট্য বিন্দু” শুরু করে পথ চলা। তারই ধারাবাহিকতায় ১ বছর এর বেশি সময় পর আমরা মঞ্চে উপস্থিত হয়েছি। 

কুশীলব-

মাতলা – মনোজ মল্লিক

জটা-    আকাশ চক্রবর্তী নির্ঝর

বাদামী – ইসরাত জাহান মৌটুসী / শায়লা আহাম্মেদ রিয়া

অঘোর ঘোষ – শামীম হোসেন (শ্রাবণ)

দাক্ষায়নী –  নওশীন আক্তার / নিসর্গ বাহার

শংকর – রক্তিম পাল

ফুকনা – নোরঞ্জন

বৃদ্ধ বেহারা  – রাসেল মিয়া

যুবক বেহারা – কৌশিক সাহা নীল

নেপথ্যে-

রচনা – মনোজ মিত্র

নির্দেশনা – আশফাকুর রহমান আশিক

আবহ সঙ্গীত – শিশির রহমান

পোষাক – তাছমিনা রহমান ইমু

মঞ্চ – কামাল খান

আলোক পরিকল্পনা – নাজমুল রনি

রুপসজ্জা – জাহাঙ্গির

মঞ্চ অধিকর্তা –  প্রবীর সরকার

Check Also

শিল্পকলায় মর্তের অরসিক

মিডিয়া খবর:- আজ শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭ টায় মঞ্চায়িত হবে বঙ্গলোকের দ্বিতীয় …

আজ নাটক কঞ্জুসের ৬৯০ তম মঞ্চায়ন

মিডিয়া খবর :- ৭০০ তম মঞ্চায়নের পথে এগিয়ে চলেছে হাসির নাটক কঞ্জুস। আজ নাটকটির ৬৯০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares