Home » চলচ্চিত্র » বাংলা সিনেমার অন্যরকম নায়িকারা
sumitadebiges

বাংলা সিনেমার অন্যরকম নায়িকারা

Share Button

ঢাকা, ৭ এপ্রিল:-
বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে, অনেকদিন আগে পর পর বেশ কয়েকটা হিন্দি সামাজিক ছবি দেখেছিলাম। অনেকটা শখের বশে দুই এক পাত্র কারণসুধা পান করার মতই। কাকতলিয়ভাবেই কিনা জানি না, তার বেশির ভাগ ছবিতেই অনেক রকম নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, বিন্দু নামের একজন। যৌবনকালে তিনি নাকি ভ্যাম্প চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

হিন্দি নায়িকা বিন্দুর দজ্জাল কণ্ঠ এবং ততোধিক কুটিল অভিনয় দেখে বুঝবার উপায় নেই যে তিনি বাস্তবিকই এমন নন। হিন্দির খোজ খবর রাখে, এমন একজন ভারতীয় বন্ধু বললেন, পর্দায় ঐ রকম উপস্থিতির জন্য নাকি, বাস্তব জীবনে বিন্দুকে ছেলের বৌ খুজতে রীতিমত সংগ্রাম করতে হয়েছে।

আমাদের চলচ্চিত্রেও কিন্ত খল চরিত্রটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন অনেক অভিনেত্রিই। তাদের কয়েকজনের কথা বলবো।

১। শিউলি:  আগের দিনে, খল নায়কের সাথে খল নায়িকারাও থাকতেন। তার কাজ থাকতো, হয় খল নায়কের কুকর্মের সঙ্গি হওয়া, নয়তো নায়িকার কাছ থেকে নায়কে ছিনিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করা। সাধারণতা এদেরকে দেখানো হতো, উচ্চবিত্ত ঘরের ক্লাব পার্টি করা মেয়ে হিসেবে। এবং দর্শক বিনোদনের জন্য সে সময়ের জন্য একটু খোলামেলা পোষাকে ক্লাবে নৃত্য সম্বিলিত একটা গানের সিন থাকতো।

শিউলি, বাস্তবে ছিলেন শিক্ষিত এবং একজন ব্যারিস্টারের মেয়ে। সাধারণত এই ঘরানার মেয়েরা এখন পর্যন্ত চলচিত্রে অভিনয় করতে আসেন না। সম্ভবত এ কারণেই শিউলি খুব জলদি খলনায়িকার চরিত্রে একচেটিয়া কিছুদিন রাজত্ব করে গিয়েছেন। কথিত আছে, বাস্তব জীবনেও তিনি উৎশৃংখল জীবন যাপন করতেন বলে, পরিবার থেকে ত্যাজ্য হয়েছিলেন। খল নায়ক রাজু আহমেদের সাথে তার প্রণয়ের কথা সবাই জানতো। রাজু আহমেদ খুন হবার কিছুদিনের মধ্যেই তার মুখমন্ডল এসিডে ঝলছে দেয়া হয়। এর পর থেকে তিনি সবার দৃস্টির আড়ালে চলে যান। অনেকের মতে, এসিডের কারণে লাবণ্য নস্টের হতাশায় , তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে সামাজিক ছবিতে তার নাচে আকৃস্ট হয়ে অনেক মধ্যবিত্তই প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হতেন।

২। শর্বরিঃ শিউলির পর দর্শকের নাচের আনন্দ দিতে ইনি বেশ সফল হন। কি বাইজি কি ক্লাব ডান্স, সব যায়গায় তার নাচের মুদ্রা অভিন্ন ছিল রংবাজ ছবিতে রাজ্জাকের সাথে তার একটা নাচ গানের সিন আছে। সময় পেলে দেখে নিতে পারেন।

৩। রহিমা খালা : (নিম্নবিত্ত) দজ্জাল শাশুড়ি, কিংবা অত্যাচারি বাড়িওয়ালির ভুমিকায় তিনি অনবদ্য ছিলেন। এফ ডি সিতে বয়োজোষ্ঠ বলে, তাকে খালা বলে সবাই সম্বোধন করতো বলে, নামের সাথে পদবিটাতেও খালা যুক্ত হয়ে গিয়েছিল চিরদিনের জন্য। তবে বেশ কিছু ছবিতে নিরিহ অসহায় মা-খালা-নানির অভিনয়ও করেছেন তিনি।

৪। রানি সরকার : তিনি অনেক পুরানো অভিনেত্রি। দজ্জাল থেকে শুরু করে নিরিহ সব রকমের চরিত্রেই তাকে মানিয়ে যেত। ফোক ছবিতে তাকে রানি হিসেবে যতটা মানাতো, উচ্চবিত্ত চরিত্রে তিনি মানানসই ছিলেন না বলে, এই চরিত্র তাকে খুব বেশি দেখা যায়নি।

৫। রওশন জামিল : অভিনয় জগতে ইনি গোলাম মোস্তফার মতই এক কথায় অতুলনীয়। অভিনয়ের প্রতিটি শাখায় তিনি অভিনয় জগতের সবচেয়ে উজ্জল তারকা। অনেক ছবিতে তাকে দজ্জাল চরিত্রে দেখা গিয়েছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া” ছবিটা আরেকবার দেখেই দেখুন না।

৬। মায়া হাজারিকাঃ উচ্চ বিত্তের দ্বিচারিণী স্ত্রীর ভুমিকায়, মায়া হাজারিকার সমকক্ষ কেউই ছিলেন না। ক্লাবে গিয়ে মদ খাওয়া, পর পুরুষের সাথে প্রেম, সংসারে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য ষড়যন্ত্র, এসবই তিনি করতেন। অবশ্য পর্দায়। উল্লেখযোগ্য অনেক ছবির মধ্যে “ভালো মানুষ” এর কথা বলা যায়।

৭। সেতারা বেগম : ইনাকে দেখলে কেউ বলবে না, ইনি একজন উচ্চ শিক্ষিত মহিলা। এমনই ছিল তার গ্রাম্য চরিত্রে অভিনয়ের প্রতিভা।গ্রাম্য কুটনি বুড়ির ভুমিকায় যুগ যুগ ধরে তাকে দর্শকরা মনে রাখবে। ভাবছেন ইনি কে? অভিনেত্রি লাকি ইনামের মা তিনি। আগে চলচিত্রে আর এর পর টিভি নাটকে তিনি ঐ ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতেন।

৮। সুপ্রিয়া: না, কোলকাতার বিখ্যাত নায়িকা সুপ্রিয়া নন, সম্পর্কে তিনি শর্বরির সহোদরা। তবে নাচ টাচ তাকে দিয়ে হতো না বলে, পর্দায় যৌনাবেদন (সংলাপের মাধ্যমে) প্রকাশের জন্য তার রোল বাধা ছিল। তবে শিউলির আগমনে ইনার ক্যারিয়ার ধবংস হয়ে যায়।

৯। আয়েশা আখতার : আমাদের অভিনয় জগতের আরেক দিকপাল। মমতাময়ি মায়ের ভুমিকায় তিনি প্রচন্ড আবেগ তৈরি করার ক্ষমতা রাখতেন। যারা সমাধি ছবিটা দেখেছেন, তারা এব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। ইনিও কিন্ত দজ্জাল চরিত্রে কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। “বিনি সুতোর মালা” এমনই একটি ছবি।

১০। সুমিতা দেবিঃ জসিম যেমন ভিলেন থেকে নায়ক হয়েছিলেন, তেমনি সুমিতা দেবিও নায়িকা থেকে ভিলেন কাম অভিনেত্রী হয়েছিলেন। প্রইয়াত জহির রায়হানের প্রথমা স্ত্রী ছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি গলার স্বর ওঠা নামা করতে পারতেন অতি স্বাচ্ছন্দে। যেমন ” ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন” ছবিতে বাজখাই গলার সুমিতা দেবিকে মমতাময়ী মায়ের চরিত্রে সম্পুর্ণ আলাদা মনে হবেই। এখানেই ছিল তার মুন্সিয়ানা।

১১। সারা জীবন সহ নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করা সুলতানা, মাঝে মাঝে সহ নায়িকার ভুমিকাতেই খলনায়িকার অভিনয় করেছেন। তবে সেটাকে খাটি ভ্যাম্প চরিত্রের বলা যায় কিনা বুঝতে পারছি না।

সর্বদা খিটিখিটে মেজাজি চরিত্রটিকে ঠিক খল বলা যায় না বলে, দিলারা জামানের কথাটা আসছে না। তিনি চলচিত্রে অভিনয় করেছেন কিনা, সেটাও জানি না। তাই তার নাম উল্লেখিত হলো ঠিকই, তবে খলনায়িকা নয়, একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে।

পুরুষতান্ত্রিক চিত্রনাট্টে যেখানে খোদ নায়িকাদের রোলটাই অনেকটা অলংকারের মত, সেখানে খলনায়িকার ভুমিকায় মাত্র হাতে গোণা কজন, নিজ প্রতিভার গুণেই দর্শকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈকরতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদেরকে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিবাদন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত লেখা, http://www.somewhereinblog.net/blog/tirondaz/29012387)

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares