Home » চিত্রকলা » হাসান প্রথাগত অঙ্কনরীতি ভেঙে নতুন কিছু করতে চান
paintings

হাসান প্রথাগত অঙ্কনরীতি ভেঙে নতুন কিছু করতে চান

Share Button

মিডিয়া খবর :-

বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ এর আয়োজনে ২৪ অক্টোবর ২০১৪ থেকে শিল্পী সৈয়দ হাসান মাহমুদের ‘বিমূর্ত প্রশান্তি ’ (Abstract Serenity) শীর্ষক একক চিত্রকলা প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে (বাড়ী # ২৭৫/এফ, রোড # ২৭ পুরাতন, ধানমন্ডি, ঢাকা) অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তেইশ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে ইতালির মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও শিল্পসমালোচক জর্জিও গুইলিয়েলমিনো, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম ও শিল্পসমালোচক অধ্যাপক আবুল মনসুর। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন শিল্পী সৈয়দ হাসান মাহমুদ এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। 

painting-hasanপ্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা ৬৯ টি। প্রদর্শনী আগামী ১৫ নভেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

শিল্পী সৈয়দ হাসান মাহমুদের জন্ম ১৯৫৮ সালে ঢাকায়। তিনি ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বিএফএ ডিগ্রী লাভ করেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৩ টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং দেশে বিদেশে বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন বই এবং ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ ডিজাইন করেছেন। প্রায় আঠারো বছর পর হাসান মাহমুদের একক প্রদর্শনী আয়োজিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীর ছবিগুলো আঁকতে গিয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ধারণাকে অবলম্বন করেননি, কোনো রূঢ় সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়াসী হননি। হাসানের ছবিতে আবেগ ছাপিয়ে যায় যুক্তিকে। তিনি সামষ্টিক কোনো বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বরং ক্ষণিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালো লাগায় ভেসে যেতে পছন্দ করেন। বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ মনে করে, একনিষ্ঠ শিল্পী হাসান মাহমুদের ছবি যেমন আমাদের চেনা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নতুন চিত্রভাষায় উপস্থাপিত করবে, তেমনি একজন রোমান্টিক এবং আবেগধর্মী শিল্পীর দীর্ঘ শিল্প-পথযাত্রার নীরব বিবর্তনের সঙ্গেও আমাদের পরিচয় করিয়ে দেবে। বর্তমানে তিনি ঝাঁপি স্কুল অব্ আর্ট এ অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করছেন।hasan-art

হাসান মাহমুদের প্রথম দিকের তেলরঙের কাজগুলোতে মৌলিক জ্যামিতিক আকার এবং বুনটের প্রাধান্য ছিল। পরবর্তীকালে তিনি যখন জলরঙে কাজ করেন তখন প্রথাগত পদ্ধতিতে জলরং ব্যবহারের পরিবর্তে বিভিন্ন নিরীক্ষার পথ অবলম্বন করেন। নানা জ্যামিতিক আকারের ব্যবহার এবং রং-প্রয়োগের এক সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচিত হয় শিল্পীর নির্মাণ ও সৃষ্টিতে। একপর্যায়ে শিল্পী অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়ে হাসান প্রকৃতির রোমাঞ্চকর সৌন্দর্যে আপ্লুত হয়ে নিজের শিল্পচিন্তাকে পুনরায় আবিষ্কারের প্রয়াস পান। চারদিকে বড় বড় গাছের ডালপালার ফাঁকে আলো-ছায়ার সপ্রাণ খেলা নতুন ভাবনার জোগান দেয়। সাম্প্রতিক ছবিতে তিনি প্রকৃতিকে করে তুলেছেন তাঁর সৃজনের প্রধান বিষয়বস্তু। আমাদের পারিপার্শিক, সমাজ এবং বিশ্বব্যবস্থার নানা বেদনাদায়ক অনিয়ম আর নিরন্তর হতাশাকে সযতেœ পাশ কাটিয়ে যেতে চান তিনি, বরং তাঁর ক্যানভাসে তিনি স্বস্তি, আনন্দ আর প্রশান্তির বাতাবরণ তৈরিতে আগ্রহী। কিন্তু হাসানের ক্যানভাসে প্রকৃতি বর্ণহীন, হতে পারে প্রকৃতি-ধ্বংসের বিরুদ্ধে এটা তাঁর নীরব প্রতিবাদ। শিল্পী হাসান প্রথাগত অঙ্কনরীতি ভেঙে নতুন কিছু করতে চান। তাই তিনি উদ্ভাবন করেছেন বিশেষ ধরনের তুলি, ব্রাশ ইত্যাদি। তিনি রংকে ক্যানভাসের উপরিভাগ থেকে গড়িয়ে পড়তে দেন, যা একটি বুনট তৈরি করে। পরে এর ওপর বিশেষ ধরনের তুলি দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে ক্রমাগত রং নিক্ষেপ করেন, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন আকার ধারণ করে। এরপর ছুরি বা স্প্যাচুলা দিয়ে ক্যানভাসে দাগ কেটে যান। শিশুসুলভ উচ্ছলতায় হাসান রং নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন, তবে রংয়ের উজ্জ্বলতায় মুখরিত নয় বরং এর ধূসরতায় বিষাদগ্রস্ত হতে ভালোবাসেন তিনি। তাঁর অবচেতনে প্রকৃতি আছে নানা রং ও রূপ নিয়ে। ছবি আঁকতে গিয়ে তিনি ক্যানভাস থেকে শারীরিক দূরত্ব তৈরি করেন, অবচেতন জগতের অনিয়ন্ত্রিত আবেগ তাঁর ছবিকে পথ দেখায়।

Check Also

dhaka art summit

ঢাকা আর্ট সামিট গৌরবময় শিল্পযজ্ঞ

মিডিয়া খবর:- ৫ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় তৃতীয়বারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা …

porimoni

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সিনেমায় পরীমনি

মিডিয়া খবর :- নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম অবশেষে নতুন সিনেমা ‘স্বপ্নজাল’র জন্য নায়িকা খুঁজে পেলেন। নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares