Home » মঞ্চ » নাটক ‘সী-মোরগ’ একটি ময়না তদন্ত

নাটক ‘সী-মোরগ’ একটি ময়না তদন্ত

Share Button

মিডিয়া খবর :-                     -: সেলিম বিশ্বাস :-

বিশেষকরে  আমরা যারা ফুটবল খেলা দেখি, তারা এ কথা জানি যে, টিম হিসেবে যে দল ভালো খেলা প্রদর্শন করতে পারে, তারা-ই ভালো দল হিসেবে স্বীকৃতি পান। আজকাল ‘কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে’ ‘টিম ওয়ার্ক’ কথাটি বেশ চলছে। মোদ্দা কথা হলো- যেখানে কাজ আছে, সেখানে টিম ওয়ার্ক আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো টিম ওয়ার্ক দিয়েইতো মিশন সফল করা সম্ভব। এতক্ষণ ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম। আসল আলাপ শুরু করি।see-morog
১০ অক্টোবর ২০১৪ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো ‘বাংলাদেশ থিয়েটার’ –এর নাটক ‘সী-মোরগ’র ২৪৯তম প্রদর্শনী।
মঞ্চে কুশীলবদের মুভমেন্ট , আলো আর আবহ সঙ্গীতের খেলা দিয়ে শুরু হয় নাটকটি। চারপাশে গিজগিজ করা দারিদ্রের মাঝখানে গড়ে ওঠা শিকদার বাড়ী। তার অতি আদরের সী-মোরগটি হারিয়ে যায়, যাকে সুগন্ধি সাবানে গোসল করানো হতো, পশু ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হতো, যার জন্য শিকদার কারো বুকে গুলি চালাতে দ্বিধা করে না। এ নিয়েই বাঘাবাড়ি তল্লাট তটস্থ থাকে নাটক জুড়ে।
৬০-৭০ এর দশকের গ্রামীণ পটভূমির উপর নির্মিত নাটকটির কাহিনী পারিবারিক টানাপোড়েন, নারীজীবন, বহুবিবাহ, শ্রেণী বৈষম্য আর রূপক মোরগকে নিয়ে এগোতে থাকে। কাহিনীর বিষয়বস্তুগুলো চলমান দশকেও দেখা যায়, তবে তা ভিন্ন মোড়কে। কারও দুবেলা খাবার জুটতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে কারও আবার বিশাল পুঁজির উপর রসাল জীবনযাপন। শিকদার বাড়ী যেন দুর্নীতির আখড়া, অভাবে স্বভাব নষ্ট আর কি। হিন্দু পরিবারের বিপদে কাছের বন্ধুও সুযোগ নিতে চায় উলঙ্গভাবে।‘নেই ভেদাভেদ হেথা’- সমস্বরে ন্যয়ের পক্ষে আওয়াজ তুলে কাহিনীর সমাপ্ত হয়। যেন এক ডানপন্থী সমাজতন্ত্র।
এবার সেট নিয়ে কিছু ক্যাচাল। গৃহস্থ বাড়ীর নারকেল গাছ তার জৌলুশ আরও বাড়িয়ে দেবার দাবি জানাচ্ছিল। শিকদার বাড়িতে তিন তিনটা বউ, সুতরাং ফুল গাছ না থাকলে বাড়িটা গৃহস্থভাব কিছুটা মলিন হলে কি করা! হিন্দু বাড়ী বুঝাতে সেটে যে কাজ করা হয়েছে তা আরও নিখুঁত হলে অসুবিধা কি? একটা তুলসী গাছ হলে মনে হয় জমতো। যেমনটি ভালো হতো মিলানায়তন ব্যবস্থাপনায় পেশাদার ভাবটা থাকতো। কারন লাইট ডিজাইনতো নাটকানুযায়ী  যথার্থই ছিল।
শিকদার চরিত্রে খন্দকার শাহ্ আলমের আত্মবিশ্বসী অভিনয় দর্শকদের দৃষ্টি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রশ্ন হলো শিকদারের দুই চাকরের চরিত্র- মুনা আর লাল মাহমুদ। তারা যেন মুখস্থ সংলাপ আওড়াচ্ছিলেন, এক্সপ্রেশানের খরা, সহশিল্পীর সংলাপ ধরে যথাযথ সময় ব্যয়ে নিজের সংলাপ দেয়ার অভাব, কোথায় যেন একটু তাড়াহুড়া। অন্য দুই চাকর পারভীন আর ঝাালু -ঝাালু চরিত্রটির একক সংলাপের সময়টায় চরিত্রের মধ্যে আরও খানিকটা ঢুকলে দর্শক বাহবা হয়তো তিনি পেতেন। পারভীনের আঙ্গিক অভিনয়ে দর্শক মজা পেয়েছেন। পাগলা বাবা আর ঘটক তাদের নিজস্ব কারিগরী দিয়ে দর্শককে মোহিত করেছেন। চোর, তিন বিবি’র চরিত্র স্বাভাবিকভাবেই করেছেন, চোর আরেকটু মিষ্টি দিলে আরও মিষ্টি লাগতো। মুরব্বি বয়জদ্দি তাকে ঠিক মতোই বয়ে নিয়ে গিয়েছেন, শহরদ্দি চরিত্রকে আরও পেশাদার হতে হবে, সাথে বিপুলকেও। ক্ষিতিশের জায়গাটা বড় আবেগী, নাটকে তারুন্যের/ যৌবনের একমাত্র প্রতীক। তাকে আরও অনেক যত্ন নিতে হবে তার চরিত্রের স্বাস্থ্যের প্রতি।
যা বলছিলাম। সবমিলে টিমের প্রত্যেককে সর্বাপেক্ষা ভালো করতে হবে। তবেই তো ভালো টিমের দৃষ্টিনন্দন টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এত এত পরিশ্রমের স্বার্থকতা। তাই না?

Check Also

শিল্পকলায় মর্তের অরসিক

মিডিয়া খবর:- আজ শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭ টায় মঞ্চায়িত হবে বঙ্গলোকের দ্বিতীয় …

আজ নাটক কঞ্জুসের ৬৯০ তম মঞ্চায়ন

মিডিয়া খবর :- ৭০০ তম মঞ্চায়নের পথে এগিয়ে চলেছে হাসির নাটক কঞ্জুস। আজ নাটকটির ৬৯০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares