Home » চলচ্চিত্র » গতানুগতিক হিটম্যানে ব্যতিক্রম জয় চৌধুরী
hitman

গতানুগতিক হিটম্যানে ব্যতিক্রম জয় চৌধুরী

Share Button

মিডিয়া খবর :-         -: রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ :-

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র গুলোর ভেতর ‘হিটম্যান’ চলচ্চিত্রটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চলচ্চিত্রটি নকল গল্পে নির্মিত হওয়ায় কাকরাইল ফিল্মপাড়া সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত হতে হয়। আর এ বিতর্কে সেন্সর বোর্ড চলচ্চিত্রটিকে আটকিয়ে দিলেও পরে মানবিক কারণ দেখিয়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়। আর তাই নকলের তকমা গায়ে লাগিয়ে ঈদে মুক্তি পায় ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘হিটম্যান’। চলচ্চিত্রটিকে নিয়ে আলোচনা করার আগে এর পোস্টার নিয়ে দু-চারটে লাইন লিখতে চাই। hitman-poster

প্রেক্ষাগৃহের সামনে আমার দু’রকম পোস্টার চোখে পড়লো। যার একটিতে শাকিব খান মাঝখানে টুপিওয়ালা জ্যাকেট পরে দাঁড়িয়ে আছে। তার নীচে বাম পাশে অপু বিশ্বাস তাকিয়ে আছে অবাক ভঙ্গিতে এবং একদম উপরে ডান পাশে মিশা সওদাগরের রাগান্বিত মুখ। সেই সাথে মাঝখানে একটি বড় মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি। অন্যটায় শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, পার্শ্ব নায়িকা, বিদেশী নৃত্যশিল্পী সহ অনেকের ছবি ছিল। কিন্তু আমি অবাক হলাম পোস্টারে পার্শ্ব নায়ক, যাকে নিয়ে চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে তার ছবি না দেখে! পোস্টারে সবার ছবি থাকলেও তার ছবি কেন থাকবে না তা আসলেই রহস্যজনক। চলচ্চিত্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পার্শ্ব নায়কের ছবি পোস্টারে না থাকায় একটা ‘কিন্তু’র জন্ম নেয়। নতুন নায়কদের এভাবে ‘কিন্তু’র ভিতর রেখে দেয়া তাদের মানসিকতাকে কতোটা দূর্বল আর আশাহত করে দেয় তা পরিচালকরা ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন।

এবার কাহিনীতে আসি। চলচ্চিত্রটির কাহিনীতে কোন নতুনত্ব ছিলো না,  শুরুতেই বলেছি চলচ্চিত্রটি নকল গল্পে নির্মিত। তবে যে চলচ্চিত্রটি থেকে গল্প নকল করা হয়েছে সেটি আমি না দেখায় নকলের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ‘হিটম্যান’ দেখেছি।

চলচ্চিত্রটির কাহিনী এমন – ডাস্টবিন থেকে ছেলে কুড়িয়ে পায় এক ধনী ব্যক্তি। ধনী ব্যক্তির ছেলে শুভ’র সাথে বন্ধুর সম্পর্ক হয়ে যায় কুড়িয়ে পাওয়া ছেলে রানা’র। শুভ বোকা ধরনের। তাকে কেউ কিছু বললে রানা এসে প্রতিশোধ নেয়। এক সময় বড় হয়ে ধনী ব্যক্তির মারা যাওয়ার পShakib-web3র শুভ পুলিশে চাকরি নেয়। এখানে বলে রাখা ভালো সেই ধনী ব্যক্তি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। শুভ কোন সন্ত্রাসী ধরতে গেলে রানা এসে সাহায্য করে। এক সময় শুভকে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলে। তারপর যথারীতি বন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয় রানা।

বাংলা চলচ্চিত্রে এমন গতানুগতিক কাহিনী অহরহ। ভাই হত্যার প্রতিশোধ। বন্ধুকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করা। নায়িকার সাথে কোন এক বিষয়ে ঝগড়া লাগিয়ে প্রেমে পড়া। এমন কাহিনীতে অতীতেও বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সুতরাং নতুনত্ব বলা যাবে না। তবে এখানে চলচ্চিত্রের কাহিনীর এক পর্যায়ে হুট করে বিনা কারনে শুভ’র বাবা মারা যাওয়াটা বেমানান লেগেছে। আর একজন পুলিশ অফিসার হয়তো এতো বোকা হয় না যতোটা দেখানো হয়েছে চলচ্চিত্রে। আমি যতোটুকু জানি একজন পুলিশ আত্মরক্ষার কৌশল জেনেই চাকরি করে। অথচ চলচ্চিত্রে পুলিশ অফিসার শুভকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেনো পুলিশ ট্রেনিং না করেই সে চাকরি পেয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালকের আরো ভাবা উচিত ছিল। চলচ্চিত্রের শেষে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার জন্য গ্রেফতার করা হলো’ এবং জেল থেকে নায়ক বের হবে বাইরে আত্মীয়, প্রেমিকা দাঁড়িয়ে থাকবে এমন সংলাপ/দৃশ্য থেকে এখনও বেরিয়ে আসAPU-BIS-2তে না পারাটা হতাশাজনক।

চলচ্চিত্রের কাহিনীতে দু’টি আইটেম গান রেখে পরিচালক তরুণ দর্শকদের ঝাঁকি দিতে চেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি সফলও হয়েছেন। ক্যামেরা যখন আইটেম কন্যাদের বক্ষ, উন্মুক্ত পেট আর বাহু দেখাচ্ছিলো তখন অনেক দর্শককে নড়েচড়ে বসতে দেখেছি এবং সেই সাথে শিষের শব্দ শুনেছি। একটি আইটেম গানে বিপাশার বুক দোলানো দেখে আমার অশ্লীল যুগের কথা মনে পড়ছিলো বারবার। অনেক মহিলা দর্শককে দেখেছি আইটেম গানের সময় হল থেকে বেরিয় যেতে। আবার গান শেষ হলে ভিতরে ঢুকেছে।

চলচ্চিত্রটিতে শাকিব খান আগের মতোই ভালো অভিনয় করেছেন। তবে ‘হিটম্যান’ নামটা শুনলে যে চরিত্রটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেটা তার ভেতর খুঁজে পাইনি। বিগত চলচ্চিত্র গুলোর মতোই শত্রুদের ঘায়েল করে সিনেমার ইতি টেনেছেন। একটি কথা না বললেই নয়, শাকিব খানের স্বাস্থ্য যে হারে বেড়ে চলছে তাতে আগামী কয়েক বছর পর তাকে নায়ক হিসেবে মানাবে কিনা আদৌ সন্দেহ।

চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন নায়ক জয় চৌধুরী। নতুন হলেও এর আগে দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অসাধারণ অভিনয় করেছেন তিনি এই চলচ্চিত্রে। শাকিব খান এবং মিশা সওদাগরের মধ্যে থেকেও সুন্দর অভিনয় দিয়ে দর্শকদের তিনি নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন। প্রমাণ স্বরুপ আমি দেখেছি জয় চৌধুরী’র অভিনয় দেখে দর্শক হাততালি দিয়েছে। বাহবা দিয়েছে সকলে। দর্শকদের হাত তালি পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন কাজটি সহজ করে ফেলেছেন জয় চৌধুরী। একটি আইটেম গানে কিছুটা সময় নেচেছিলেন তিনি। তার নাচের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে তাকে আমার পেশাদার মনে হয়েছে। এই নায়কের যেহেতু নায়িকা ছিলো সেহেতু আলাদা একটি গান দেয়া যেতে পারতো। পরিচালক কেনো দিলেন না সেটা আমার বোধগম্য নয়। মিশা সওদাগরের চিল্লাচিল্লি অভিনয় বিরক্তিকর লেগেছে। তার এমন একঘেয়েমী অভিনয় থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। অপু বিশ্বাসের অভিনয় ভালো লেগেছে। পার্শ্ব নায়িকাও খারাপ করেনি।joy-chowdhury

সুদিপ কুমার দ্বীপ এর লেখা গানগুলো ব্যতিক্রম ছিলো। বিশেষ করে ‘কাটেনাতো ঘোর’ শিরোনামের গানটি সবার মুখে মুখে হয়ে গেছে। এছাড়া আইটেম গানের কথা গানের দৃশ্যের সাথে মানানসই লেগেছে। আলী আকরাম শুভ’র সংগীতায়োজন প্রশংসার দাবীদার। ক্যামেরার ফ্রেমিং ভালো লেগেছে। কোন দৃশ্যের ফ্রেমিং খুব একটা দৃষ্টিকটু লাগেনি। তৌহিদ হোসেন চৌধুরীর সম্পাদনা উন্নত মনে হয়েছে। তবে এফডিসির চিরচেনা সেট থেকে বাইরে বেরিয়ে শ্যুটিং করলে হয়তো আরো ভালো হতে পারতো। সবমিলিয়ে বেশ ভালো একটি সিনেমা ‘হিটম্যান’। আশাকরি আগামীতে এর থেকে আরো ভালোমানের চলচ্চিত্র পাবো পরিচালকের কাছ থেকে।

Check Also

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares