Home » টিভি চ্যানেল » ভারতীয় মিডিয়ার আগ্রাসন–আমাদের মিডিয়া
star_jalsha-web-640px

ভারতীয় মিডিয়ার আগ্রাসন–আমাদের মিডিয়া

Share Button

ঢাকা:-

প্রায় সবাই মুভি ইন্ডাষ্ট্রি তে ভারতীয় মুভির সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে চিন্তিত। অবশ্যই এই আগ্রাসন নিয়ে উদ্ভিগ্ন হবার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে এই ফাক তালে একটা জিনিস আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। টিভি বিজ্ঞাপন এবং নাটক কে কেন্দ্র করে আমাদের এখানে যে শিল্প টা গড়ে উঠার চেষ্টা করছে তাও কিন্তু এক প্রকার হুমকির সম্মুখীন! আমি আমার পোষ্ট অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত টিভি চ্যানেলের আগ্রাসন এবং তার সম্ভাব্য সাইড এফেক্ট এর ব্য্যাপারে আলোচনা দিয়ে শুরু করবো।

বুঝিয়ে বলি। আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন টিভিতে কেন দিবেন? কারণ একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর কাছে আপনার পণ্য দ্রব্য সম্পর্কে একটা মেসেজ পৌছানো দরকার। অর্থাৎ আপনার টার্গেট পপুলেশন ঐ টিভি চ্যানেলের দর্শক হলেই আপনি বিজ্ঞাপন দেবার কথা চিন্তা করবেন। এখন ধরুন আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেবার মাধ্যমে আপনার টার্গেট কৃত পটেনশিয়াল কাষ্টমার দের কাছে আপনার মেসেজ পৌছাতে পারেন তাহলে আর অন্য চ্যানেলে যাবেন?সোজা বাংলায় উত্তর হলো না! সেটাই ঘটতে যাচ্ছে আমাদের ক্ষেত্রে! আমাদের বিশাল টিভি দর্শকদের বড় একটা অংশ এখন ষ্টার জলসা এবং জি বাংলা নামক দুটি চ্যানেলের সস্তা, নিম্ন মানের এবং অরুচিকর অনুষ্ঠানে আসক্ত। (বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যে গুলো বউ শাশুড়ি এর যুদ্ধ, পরকীয়া ইত্যাদি প্রমোট করে থাকে) এখন যদি লাক্সের মতো মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি গুলো ষ্টার জলসায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশের এবং ভারতের, এই দুই দেশেরই পটেন শিয়াল কাষ্টমারদের কাছে তাদের মেসেজ পৌছে দিতে পারে তাহলে তারা কেন বাংলাদেশী চ্যানেল গুলো তে বিজ্ঞাপন দিবে? দিবে না! ফলে চ্যানেল গুলো বিজ্ঞাপনের রেট কমাতে বাধ্য হবে। ফলে অনুষ্ঠানের মান ও কমবে। নিম্ন মানের অনুষ্ঠানের আউট কাম হিসেবে আরো বেশী মাত্রায় দর্শক ওই চ্যানেল গুলোর অনুষ্ঠান দেখবে। ফলে একটা চক্রের মাঝে পরে আমাদের টিভি চ্যানেল গুলো বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। আর বিজ্ঞাপন শিল্প? আরে ভাই যেখানে বিজ্ঞাপনই নাই সেখানে বিজ্ঞাপন শিল্প থাকবে কি করে? আমাদের বিজ্ঞাপন শিল্পতেও দাদা দের আগমন শুরু হয়েছে। একটি মোবাইল কোম্পানির রিসেন্ট বেশ কয়েক টি বিজ্ঞাপন ভারতীয় নির্মাতাদের দিয়ে তৈরী করা হয়েছে (যে গুলো আক্ষরিক অর্থেই অখাদ্য ছিলো) আর টিভি নাটকের কথা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এটা এমনিতেই “Gone” একটা কেস হয়ে যাবে। আমি জানি না এই বিষয়টা মিডিয়ার সাথে যারা জড়িত তারা উপলব্ধি করতে পারছেন কিনা! কিংবা হয় তো উপলব্ধি করতে পারছেন কিন্তু যে কারণে ভারতীয় চলচিত্র আমদানি করাকে অনেকেই জায়েজ করার চেষ্টা করছেন সে একই কারণে তারাও চুপ আছেন!

২০১২ সালে একটি জাতীয় দৈনিক ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে , বাংলাদেশে টেলিভিশনের দর্শক ৯ কোটি ১২ লাখের মতো। এসব দর্শকের বয়স ১৫ বছরের ওপরে। শিশু যাদের বয়স ১৪ বছরের নিচে তাদের গোনা হয়নি। সে হিসাব নিলে দর্শক সংখ্যা ১১ কোটির মতো হতে পারে। এ দর্শকেরা তাদের প্রতি শত মিনিটের মাত্র ৩০ মিনিট বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখেন। এটি তারা দেখেন মূলত বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শক বেশি থাকে। বাকিটা তারা ব্যয় করেন ভারতীয় বাংলা/হিন্দি চ্যানেলের পেছনে।

বিজ্ঞাপনের বেপার টা এখানেই শেষ করতে চাচ্ছিলাম। শেষ করার আগে একটা ডেমো দেখাই?-  (উপরের ছবি দেখুন)

যারা জানেন না তাদের জন্য বলে রাখি বিক্রয়.কম একটি অনলাইনে কেনা বাচা করা যায় এমন সেবা প্রদান কারী বাংলা দেশী ওয়েব সাইট! তাদের বিজ্ঞাপন স্টার জলসার ওয়েব সাইটে দেখে যারা কোমর বেধে গালাগালি করার জন্য তৈরী হচ্ছেন তাদের জন্য বলি এই বিজ্ঞাপন বিক্রয়.কম নিজেরা স্টার জলসাকে দেয় নাই। কাজ টা করা হয়েছে গুগল এড এর মাধ্যমে। সোজা বাংলায় গুগল এডের কাজ টা এখানে অনেক টা কনসালটেন্টের মতো মতো। বিক্রয়.কম গুগল এড-কে দায়িত্ব দিছে যে বাংলাদেশী ইউজার রা ব্যবহার করে এমন ওয়েব সাইটে আমাদের সাইটের বিজ্ঞাপন দিতে হবে। গুগল দেখছে যে এই সাইটে বাংলাদেশ থেকে রেগুলার বেসিসে বেশ ভালো এমাউন্টের লোক জন ভিজিট করে। সো তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে দিছে!(সোজা ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করলাম, বাস্তবের বিষয় টা আরো জটিল) অদূর ভবিষ্যতে টিভি মিডীয়াতেও এই ধরণের নমুনা দেখতে পাবেন। এবং দেখানোর জন্য কাজ ও চলছে। গত কিছুদিন যাবত “দুই বাংলা” মিলিয়ে ট্যালেন্ট হান্ট টাইপ কিছু প্রতিযোগিতার ব্যপারে আলাপ আলোচনা শুনতে পাচ্ছি। এমনকি দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে নাটক নির্মাণের একটা ব্যাপারেও আলোচনা চলছে ভারতীয় একটি বাংলা চ্যানেলের উদ্যোগে বলে শুনা যায় । এ ধরণের উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু মাত্র বাংলাদেশে এ চ্যানেল গুলোর দর্শক আরো বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। যদি ওয়েব সাইটে তারা বাংলাদেশী প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন নিতে পারে তাহলে একটু চেষ্টা চরিত্র করে টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন গুলো যদি আনা যায় দোষের কি?

বিজ্ঞাপন তো বিজ্ঞাপন। ভারতীয় চ্যানেল গুলো তাদের চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচারের জন্যও ক্যাবল অপারেটর দের কাছ থেকে আলাদা ফি নিয়ে থাকে।

সাপ্তাহিক ২০০০ এ ২০১২ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ থেকে তাদের জনপ্রিয়তার মাপকাঠি অনুযায়ী ফি নিয়ে থাকে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী স্টার প্লাস বাংলাদেশ থেকে গ্রহণ করে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭শ ৫০ টাকা। স্টার মুভিজকে প্রতিমাসে দিতে হয় ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ৯শ টাকা। লাইফ ওকে নামক চ্যানেলটি প্রতিমাসে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে থাকে ১ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫শ টাকা। জি স্টুডিওকে দিতে হয় ৭৭ লাখ ১২ হাজার ৭শ টাকা। জিটিভি নেয় ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩শ ৫০ টাকা। সনি টেলিভিশনকে দিতে হয় ১ কোটি ৯২ হাজার ১শ ৫০ টাকা। সেট ম্যাক্স নেয় ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬শ টাকা। স্টার গোল্ডকে পরিশোধ করতে হয় ৫০ লাখ ৫ হাজার ৫০ টাকা। জি সিনেমাকে দিতে হয় চাঁদার পরিমাণ ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ ৫০ টাকা। ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ টাকা নেয় স্টার স্পোর্টস চ্যানেল। বিফোরইউ নেয় ৪ লাখ ১০ হাজার ২শ ৫০ টাকা। জি প্রিমিয়ারকে দিতে হয় ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ৯শ ৫০ টাকা। জি অ্যাকশন চ্যানেলের ফি-এর পরিমাণ ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪শ ৫০ টাকা। জি ক্যাফে চ্যানেলকে দিতে হয় ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯শ ৫০ টাকা। সাব (এসএবি) টিভি, তারা টিভি এবং তারা মিউজিক প্রত্যেকে নেয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩শ টাকা করে। স্টার ওয়ান এবং স্টার ওয়ার্ল্ডের প্রত্যেকের চাঁদার পরিমাণ ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ১শ ৫০ টাকা। স্টার জলসা , জি বাংলার মাসিক ফি এর ব্যাপারে কোন তথ্য সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশ করা হয় নি।(প্রত্যেকটি হিসাব মাসিক বাৎসরিক নয়) তো এবার প্রশ্ন উঠতে পারে আমাদের দেশের চ্যানেল যদি ভারতে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে কি আমরাও এভাবে চাদা আদায় করতে পারবো? সোজা বাংলায় উত্তর না! ভারতীয় সম্প্রচার নীতিমালা আইন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ভারতে স্যাটেলাইট টিভি দেখাতে হলে প্রথমে তথ্য কমিশনে আবেদন করতে হয়। এরপর সেখানে অফিস ও প্রতিনিধি দেখাতে হয়। প্রতিনিধির কাছে অন্তত ১ কোটি রুপির সম্পত্তি দেখাতে হয়। এরপর কেবল অপারেটরকে টাকা দিয়ে (যেখানে তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে!!) চ্যানেল দেখাতে হয়(সাপ্তাহিক ২০০০)

এবার আসি মুভি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে। এবিষয়ে আগেও আলোচনা করছি। আলোচনার পরিসর কম হওয়াতে খুব সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় নিয়ে আবার কথা বলি। দাবি করা হচ্ছে দেশের মৃত প্রায় চলচিত্র শিল্প কে বাচানোর জন্যই ভারত এগিয়ে এসেছে। বাস্তবতা হলো টালিউডের বাংলা মুভি তাদের প্রোডাক্ট হিসেবে তাদের গ্রোথ এর স্টেজ পার করে এসেছে। এখন তাদের ডিক্লেনিং শুরু হবে। তাদের নিজেদের মার্কেট থেকেই তাদের প্রডাকশন কষ্ট উঠানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তামিল মুভির রিমেক, সুন্দরী নায়িকা আর ঝক ঝকে প্রিন্ট দিয়ে আর দর্শক টানা যাচ্ছে না। মার্কেট থেকে পাওয়া প্রফিট এর সাথে ছবি তৈরীর খরচ খাপ খাচ্ছে না। ফলে একটা বাজে অবস্থা তাদের সামনে আসতে যাচ্ছে। ফলাফল সরূপ বাধ্য হয়ে তাদের মার্কেট এক্সপানশন করতে হবে। কোন নতুন মার্কেট এ প্রোডাক্ট এন্ট্রি করানোর সময় যে জিনিস গুলো কে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় সে গুলোর মাঝে উল্লেখ যোগ্য হলো ১ মার্কেটে পটেনশিয়াল কাষ্টমার (মার্কেটে কি পরিমাণ কাস্টমার আছে) এবং ২ পসিবল কম্পিটিশন ( প্রোডাক্টটা মার্কেটে কি ধরণের কম্পিটিশন ফেস করতে পারে) সোজা কথায় বলি আমাদের বাংলাদেশে এই মুহুর্তে ভারতীয় বাংলা মুভির একটা বিশাল পটেনশিয়াল মার্কেট আছে ।আর এই মুহুর্তে বাংলাদেশের বাংলা মুভি ভারতীয় বাংলা মুভির সাথে কম্পিটিশন করার মতো অবস্থায় নাই! কেন নাই?এই প্রশ্ন মুভি সংশ্লিষ্ট লোকদের করার আগে সরকার কে করেন! কেন কোন সরকারই (আই রিপিট কোন সরকারই) বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক টা ফিল্ম ইন্সটিটিউট করার উদ্যোগ নিতে পারলো না? বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সরকারের অনুদান কতো? ব্যাংক গুলা কি ধরণের সাহায্য দেয়? সিনেমা হল গুলোর আধুনিকায়নে সরকারের কোন ভুমিকা ছিলো কি না?সবগুলো প্রশ্নের নেতি বাচক জবাব পাবেন!এতো গুলো নেতি বাচক জবাব নিয়ে কেমনে আশা করেন আমাদের চলচিত্র ভারতীয় চলচিত্রের সাথে পাল্লা দিবে? যাই হোক! আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি খুব বাজে একটা সময় পার করছিলো যার মূল কারণ কোন সরকারই (আই রিপিট কোন সরকার ই) এই খাতে মনোযোগ দেবার প্রয়োজন বোধ করে নি! আমার কেন এন মনে হয় আমরা সেই বাজে সময়টা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতেছি। বাজে সময় কাটিয়ে উঠার উদাহারণ হিসেবে আমি শুধু মাত্র নিঃসার্থ ভালোবাসা বা ভালোবাসা আজকালের ব্যবসা সফল হবার কথা বলবো না। আমি বলবো যে চেঞ্জ টা শুরু হয়েছে সেটার কথা। ইনভেস্টমেন্ট আসছে ।রেদোয়ান রনির মতো ছেলে পেলে মুভি পরিচালনায় আসছে। আরেফিন শুভ এর মতো ছেলে পেলে যখন রেগুলার মুভি করার ইচ্ছা জানায় ভাবতে ভালোই লাগে। একটা চেঞ্জ শুরু হয়েছে। আমাদের শুধু একটু সময় দরকার। এই এক-দুই বছর! আমরা ঠিক ঘুড়ে দাড়াতে পারবো!

তো এই চেঞ্জের মাঝে ভারতের সাথে চলচিত্র বিনিময় চুক্তি করা

Check Also

khude-ganraj

শুরু হচ্ছে ক্ষুুদে গানরাজ

মিডিয়া খবর:- শুরু হলো রিয়েলিটি শো ‘ক্ষুুদে গানরাজের ষষ্ঠ সিজনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অন্বেষণের একমাত্র …

mou-shahadat-hossain

বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানমালা

মিডিয়া খবর:- বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ …

Shares