Home » চলচ্চিত্র » চলচ্চিত্র নিয়ে এখন সবাই ভাবছেন!
sundory-jakhon-bristi-elo

চলচ্চিত্র নিয়ে এখন সবাই ভাবছেন!

Share Button

মিডিয়া খবর:-     -:এবিএম সোহেল রশিদ:-

আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে এখন সবাই ভাবছেন। অকপটে বিনা পারিশ্রমিকে ও অযাচিত ভাবে পরামর্শই দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা ‘বিধবার সংসারে সকলের খবরদারী’র মত। বুঝুক বা নাই বুঝুক, শুনুক বা নাই শুনুক প্রতিদিন আমরা খবরদারী করছি বা পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছি। আগে ঘরে ঘরে ডাক্তার ছিল। অসুখ হলেই সবাই ডাক্তার। এটা খাও ওটা খাও। এর মাঝে কবিরাজ, ওঝা, পীর ফকির, সন্ন্যাসীও ঢুকে যেত। আমাদের চলচ্চিত্রের এখন এরকম দশা। যতটা না খারাপ, যতটা না অসুস্থ তার চেয়ে বেশ পরামর্শের বৃষ্টি। ভিজে ভিজে একাকার। মূল সমস্যায় কেউ যায় না। কতটুকু কাপড় পরা উচিত, আইটেম সং কি , আইটেম সঙের নামে অশ্লীলতা, এসব যন্ত্রণা ও অজ্ঞতা আমাদের নির্মাতাদের মাঝেও আছে দর্শকদের মধ্যেও আছে। এর এসব নিয়ে প্রতিদিন চর্বিতচর্বণ হচ্ছে। সন্দেহ নেই চলচ্চিত্রের প্রতি ভালবাসা কারও কমতি নেই দেশ প্রেমেরও কমতি নেই। কিন্তু এত আলোচনা সমালোচনা যাদের জন্য তারা কি আপনার লেখা পড়ে নিজেকে শুধরে নিচ্ছেন। নাকি আপনার লেখা পড়ে আম জনতা সটকে পড়ছেন। এটা লেখার সময় বিবেচনায় আনতে হবে। আমি সমালোচনা বা আলোচনার বিপক্ষে নই। আমি বিশ্বাস করি আলোচনা সমালোচনা মানুষকে পরিশুদ্ধ হতে সাহায্য করে কিন্তু কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলুক তা আমি চাইনা। নিশ্চয়ই আপনারাও চান না।

মূল প্রসঙ্গে আসি। ভক্তকুলের ঝগড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকি সারাক্ষণ। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেন না। অন্ধ ভক্ত থাকতেই পারে। আর এটাই একজন শিল্পীর জীবনের সার্থকতা। কিন্তু ঝগড়া বা বচসার নামে যা হচ্ছে তা কি সহনীয় পর্যায়ে। যে শব্দ মুখেও আনতে ঘৃণা হয় তেমন শব্দ ব্যাবহার করছেন সামাজিক যোগাযোগের এক শ্রেণী ভক্তকুল। এটা কি কাম্য। আপনারাই বলেন অশ্লীলতার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন করতে হবে । আবার আপনারাই অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন আপনার লেখা বা মন্তব্যে। এটা কি আপনার বিপরীতমুখী আচরণ নয়? ছবির নাম নিয়ে চলছে দরকষাকষি। নান্দনিকতা খুঁজছেন কেউ কেউ। আবার কেউ ইংরেজি বাংলার যুদ্ধ চালাচ্ছেন । সরকারও প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের কথা বলছেন আবার স্ব-প্রণোদিত হয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন । কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয় এরকম পরামর্শমূলক আলোচনা সমালোচনায় না গিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে ফেলছেন সবাই।

নির্জীব চলচ্চিত্র বিষয়ক সকল সংগঠন। তাদের কাজটা কি। বিশ্বায়নের যুগে তাদেরকে কি কাজ করা উচিত, নিয়ম নীতি কি করে ঢেলে সাজানো উচিত তাই জানেন না। জানেন না বললে ভুল হবে , জানতে বা বুঝতে চান না ইচ্ছে করেই। ডিজিটাল যুগে মান্ধাতার আমলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। কেউ কেউ আবার অফিসেই আসেন না। অনেকেই আছেন নির্বাচনের দিন ছাড়া তার টিকিটিও দেখা মেলে না। তারপর আছে মামলার ভুত। মামলার ভয়ের চেয়ে মামলার মজাটা বুঝে গেছেন সবাই। মেয়াদ পার করে ক্ষমতায় থাকার এমন টনিক আগে জানা ছিল না কারও। সবাই এর সুফল নিচ্ছেন।

সিনেমা হল। ছবি নির্মাণের খরচ বাড়ছে। বাড়ছে সব কিছুর দাম। আজব এ দেশে সিনেমা হল কমছে। সবাই বলছেন বড় বাজেটের ছবি চাই। অমুক দেশের মত ভাল ছবি চাই আমাদেরটা ঐ রকম হচ্ছে না কেন? কিন্তু ছবি নির্মাণের অর্থ কোথা থেকে আসবে ? কি করে লাভ সমেত টাকা ফেরত নেয়া যাবে সেদিকে সরকারের বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কোন ভাবনা নেই। ডিজিটাল সিনেমা হল কম বেশী দুশ পঞ্চাশের মত । বকি দুইশর কাছাকাছি গুদাম মার্কা সিনেমা হল। চারশো হলের মধ্যে সুপার হিট ছবি সর্বোচ্চ দুই থেকে দুইশ পঁচিশটি সিনেমা হলে চলতে পারে। আর সাধারণ মানের ছবি একশ পেরোনো মুশকিল। এর কারণ আপনারা হয়ত ভাবছেন সব হলে কেন চলবে না। একই এলাকায় দুটি তিনটি সিনেমা হল থাকলে একটিতেই চলবে। কারণ ঐ এলাকায় সিনেমার দর্শক নির্দিষ্ট। একাধিক হলে মুক্তি দিলে হল মালিক লোকসানের মুখ দেখবে। দর্শক কিন্তু একই সংখ্যক থাকবে। এখন ভাবুন কোটি টাকার ছবি বিশ, পঞ্চাশ আর একশ টাকার টিকিটে মধ্য স্বত্ব ভোগী , হল মালিক, মেশিন ভাড়া দিয়ে প্রযোজকের কাছে কত দিনে লগ্নি ফেরত আসবে। সিনেমা হল যতদিন না বাড়বে যত আইন কানুন, যতই পদক্ষেপ নেন না কেন কোন উন্নতির সম্ভাবনা নেই। আপনি পণ্য বেচবেন আপনার দোকানই নেই তা হলে কি করে সম্ভব। যারা এডমিন। মানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপ বা পেইজের এডমিন। তারা ভুলে যান এডমিন আর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে পার্থক্য। অনেক সময় ঝগড়ায় জড়িত হয়ে যান। অনেক সময় ডিলিট বা ব্লক করার হুমকি দেন। আপনার কাজ হল সব সহ্য করে সবাইকে শান্ত করা। এডমিনের সর্বশেষ অস্ত্র হচ্ছে ব্লক করা। এটা আপনি যথেচ্ছা ব্যাবহার করতে পারেন না। এটা বুঝি আপনিও রক্তে মাংসে তৈরি মানুষ। আপনারও রাগ আছে। কিন্তু এগুলোর ঊর্ধ্বে থাকবেন বলেইতো আপনি এডমিন, তাই না। আপনার কোন মত থাকলে প্রথমে আপনার আইডিতে করুন। তারপর শেয়ার করুন। সংযত হন। আপনার ধৈর্যশীল আচরণ আমাদের চলচ্চিত্রকে এগুতে সাহায্য করবে। আর আপনিও সেই জন্যই কাজ করছেন। যারা উগ্র সমালোচনা করে তাদের সাথে প্রতিদিন যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে কথা বলুন। একদিন সে বুঝবে। আর এভাবেই বাংলা ছবির দর্শক বাড়াবেন আর আপনার এ অবদান চলচ্চিত্র শিল্প যুগ যুগ মনে রাখবে।

এবার আসি ভারতের সাথে যৌথ নির্মাণ।বাংলাদেশের কোন প্রযোজকই ভারতের সাথে যৌথ প্রযোজনায় যাচ্ছে না। যাচ্ছে কোলকাতার মত প্রাদেশিক রাজ্যের সাথে যৌথ নির্মাণে। এখানে সরকারী নিয়মনীতি, বিধিমালার প্রয়োগ ঠিক মত হচ্ছে কিনা তা দেখার কেউ নেই। প্রযুক্তি নির্ভর ছবি করতে হলে আমাদের নির্মাতাদের ও পেছনের কুশলীদের প্রশিক্ষণ দেয়াটা কতটা জরুরী তা এখনকার সিনেমা দেখলেই বুঝবেন। শুধু প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী দেশের বাংলা সিনেমায় গতি বৃদ্ধি, সৌন্দর্য, রঙের বাহারি ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকেও দক্ষিণা ভূতে পেয়েছে। আমরাও তো দক্ষিণাদের সাথে সহবাস করছি সেই অনেক দিন ধরেই । তাই আসুন মূল সমস্যা চিহ্নিত করি। পরিশীলিত পরিমার্জিত শব্দচয়নে লেখা লেখি করি। যাতে করে দর্শক ঘরে ফিরে না যেয়ে সিনেমা হলে ফেরত যায়। আসুন চলচ্চিত্রের সমালোচনা করি, একটা দৃশ্যও যদি ভাল লাগে তার প্রশংসাও করি। দর্শক বিমুখতা নয় দর্শক আগ্রহ তৈরি করা আপাতত আমাদের প্রধান কাজ। সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলব। এতে কোন বাধা নেই। আমি বিশ্বাস করি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রতিভাধর সমালোচক আছেন যাদের ক্ষুরধার সমালোচনা চলচ্চিত্রের উন্নতিতে সাহসী ভূমিকা রাখবেন। চলচ্চিত্রকে নিয়ে যাবেন সোনালী দিনগুলোর কাছাকাছি। হয়তো একদিন সব ছাড়িয়ে আমাদের ভাষা , আমাদের চলচ্চিত্র বিদেশের মাটিতে লাল সবুজের পতাকা উড্ডীন করবে গৌরবের সাথে। জয়তু বাংলাদেশের সিনেমা। বাংলা সিনেমা।

বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্য রক্ষায় মাঝে মাঝে সরকারী নির্দেশনা আসে। কিছু নির্দেশনা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে, কিছু নির্দেশনা দাবীর মুখে আর কিছু নির্দেশনা আসে আদালত কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে। যাই হোক শিল্প সাহিত্যের উপর এমন নজরদারই অন্যান্য দেশে কেমন তা এখন গবেষণার বিষয়বস্তু। সর্বশেষ যে সরকারী নির্দেশনাটি এসেছে তা হল বাংলাদেশের সিনেমার নাম ইংরেজিতে দেয়া যাবে না। বাংলায় নাম রাখতে হবে। বাংলা ভাষা ব্যাবহার করা সংক্রান্ত আদেশ বা প্রজ্ঞাপন নিয়ে কোন বিতর্ক করার অভিলাষ আমার নেই। কিন্তু এই দায় সারা প্রজ্ঞাপন বাংলা ভাষাকে কতটুক দায় মুক্ত করতে পারবে ? নাম যদি শ্রুতি মধুর না হয়, নান্দনিক বা পরিশীলিত না হয়, অশ্লীলতাকে ইঙ্গিত করে তা হলে ভাষাকে কতটুকু শ্রদ্ধা জানানো হবে। প্রজ্ঞাপনটিতে বাংলা ব্যাবহারে যথাযথ শব্দ প্রয়োগে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি শ্রুতি নন্দনও পরিমার্জিত শব্দ চয়নের ব্যাপারে একটা অনূচ্ছেদ থাকতে পারত।

এখন ইংরেজি নামের জোয়ার চলছে। এ জোয়ার আমাদের এখানে এসে লেগেছে বোম্বে থেকে কোলকাতা হয়ে বাংলাদেশে। এর সূতিকাগার হল দক্ষিণা ছবি। সেখানে ইংরেজি নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। কারণ ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ আছে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি চালু থাকিবে। কিন্তু আমাদের এখানে ইংরেজি ব্যাবহারে খাইমু তোরে , মারমু তোরে এ জাতীয় সিনেমার নাম থেকে কিছুদিন বেঁচে ছিলাম। এখন আবার বাংলা নাম করতে যেয়ে নাম হচ্ছে “ নগর মাস্তান” গুণ্ডামি । কথা হল ইংরেজিতে হবে না বাংলায় হবে সেটা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হল সুন্দর একটা নাম। ইংরেজিতে নাম দিলে তার একটা বাংলা নামও থাকতে হবে এমন নির্দেশনাটি কি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধার কোন ঘাটতি থাকত। আগে যেমন হত দি রেইন বাংলায় যখন বৃষ্টি এলো, সুন্দরী ইংরেজিতে এন্ড শি ওয়াজ বিউটিফুল। দেখুন কি সুন্দর নাম ছিল। এখনও কি এ কৌশল প্রয়োগ করা যায় না। আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে চেষ্টা চলছে। এর জন্য কিছুটা স্বাধীনতা দরকার। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখবেন।

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares