Home » চলচ্চিত্র » আগে নিজের দেশ থেকে শিখুন এরপর ইরান তুরান ঘুরুন
film-old-pic

আগে নিজের দেশ থেকে শিখুন এরপর ইরান তুরান ঘুরুন

Share Button

মিডিয়া খবর:-             -: কবি ও কাব্য :-

‘’এই হলো ঢাকা শহরের ব্যস্ততম মগবাজারের চৌরাস্তা। এই চৌরাস্তার মোড়ে আইল্যান্ড এর পাশে একটি শিশু কোলে নিয়ে দাড়িয়ে থাকা পাগলীটিকে নিশ্চয়ই সবাই দেখেছেন।একটু সাহায্যর আশায় আমাদের অনেকের কাছে চলার পথে সে হাত পেতেছে। কেউ দিয়েছে,কেউ দেয়নি। কোথায় তার ঠিকানা। কোথায় তার পরিবার, কোথায় সে রাতে থাকে আমরা কেউ জানিনা। তার কোলের শিশু সন্তানটির পিতা কে আমরা কেউ জানিনা। কিছুদিন আগে তাকে যুবতী দেখেছিলাম, একদিন তাকে অন্তসত্তা দেখলাম আর এখন এই শিশুটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি । যতটুকু বুঝতে পারি যে তার কোন বিয়ে হয়নি । তবে কে এই শিশু সন্তানটির পিতা? কি তার পরিচয়? তার জীর্ণশীর্ণ রুগ্ন শরীর দেখে বুঝা যায় যে সে আর বেশিদিন বাঁচবে না। তাহলে এই শিশু সন্তানটির কি হবে? কোন ধনী ব্যক্তি বা বিদেশি সাহায্য সংস্থার কেউ কি এই শিশুটিকে কোলে তুলে নিবে? সে কি বড় হতে পারবে গুলশান বনানীতে? সে কি লিখাপড়া করতে পারবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে? অনেক প্রশ্ন, অনেক জিজ্ঞাসা যার উত্তর আমরা জানিনা। তবে এইটুকু বুঝতে পারি যে এমন কিছুই হবে না। তাহলে কি হতে পারে তার ভবিষ্যৎ?’’ … ঠিক অনেকটা এইরকম ভাবেই ‘ধর’ ছবির গল্পটির একটি ধারণা দিয়ে কথাগুলো বলছিলেন পরিচালক কাজী হায়াত। ছবির শুরুতেই তিনি গল্পটির প্রেক্ষাপট খুব দারুনভাবে তুলে ধরেছিলেন। ঢাকা শহরের এক পাগলীর সন্তান এর গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘ধর’ ছবিটি । দারুন একটি ছবি ছিল ‘ধর’ ছবিটি যা নিয়ে আলাদা ভাবে অন্য একদিন বলবো

রাস্তার একটি পাগলীর শিশু সন্তান নিয়ে একটি ছবি বানানো যায় সেটা কাজী হায়াত দারুন ভাবে দেখিয়েছিলেন। এভাবে সমাজের বিভিন্ন উপাদান থেকে আমাদের পরিচালকরা সিনেমার জন্য গল্প নিয়েছেন। অথচ আজ আমাদের ছবির পরিচালক, কাহিনীকারেরা মৌলিক গল্প খুঁজে পান না। গল্পের জন্য উনাদের ইরান, তুরান, কোরিয়া, আমেরিকা, ভারত সহ নানাদেশ ঘুরতে হয়। বিদেশি গল্প অবলম্বনে ছবি করা দোষের কিছু নয় কিন্তু তা যদি হয় একচেটিয়া তাহলে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের আগের অনেক গুনি পরিচালকরাও বিদেশি গল্প নকল করে ছবি বানিয়েছিলেন কিন্তু তার সাথে সাথে তারা মৌলিক গল্পের ছবিও বানাতেন । একজন কাজী হায়াতই সমাজে ঘটে যাওয়া সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে দুর্দান্ত সব ছবি বানিয়েছিলেন। তাঁর পরিচালিত দায়ি কে, দাঙ্গা, ত্রাস, চাঁদাবাজ, দেশপ্রেমিক, দেশদ্রোহী, ধর, তেজী, লুটতরাজ, ইতিহাস, সমাজকে বদলে দাও, অন্ধকার ছবিগুলো যেন আমাদের নষ্ট সমাজ ও রাজনীতির এক একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। যা নিয়ে আমাদের ভাবায়। আবার এই কাজী হায়াত তাণ্ডবলীলা, পাঞ্জা, মিনিস্টার নামক নকল গল্পের ছবিও বানিয়েছিলেন যা খুব বেশি দৃষ্টিকটু লাগেনি। কারন একজন পরিচালকের যে কোন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করার স্বাধীনতা থাকতেই পারে। ঠিক একই ভাবে শহিদুল ইসলাম খোকন, শিবলি সাদিক, এ জে মিন্টু, আমজাদ হোসেন, জহিরুল হক, এহতেশাম, দেলোয়ার জাহান ঝনটু, মতিন রহমান, এর মতো গুনি সব পরিচালকেরা মৌলিক ও নকল দুটো ধারাতেই ছবি বানিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ের পরিচালকরা মৌলিক গল্প খুঁজেই পায় না যা একটি ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে। আজ একজন কাহিনীকার আব্দুল্লাহ জহির বাবু , জোসেফ শতাব্দী মৌলিক গল্প খুঁজে পায় না। অথচ নিয়মিত আমাদের সমাজে কতরকম ঘটনা ঘটছে যা দিয়ে দারুন সব সিনেমা বানানো যায় তা বাবু , শতাব্দীর মাথায় আসে না। একজন প্রবীণ কাজী হায়াত যদি এখনও ‘ইভটিজিং’ নিয়ে সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের ছবি বানাতে পারে তাহলে আব্দুল্লাহ জহির বাবু, বদিউল আলম খোকন, অনন্য মামুন, অনন্ত জলিলরা কেন পারে না । একজন আমজাদ হোসেন , নারায়ন ঘোষ মিতা, কাজী জহির, জহিরুল হক, কবির আনোয়ার, আজিজুর রহমান, এ জে মিন্টু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, দারাশিকো, ছটকু আহমেদ, আহমেদ জামান চৌধুরী, দেলোয়ার জাহান ঝনটু, কাজী হায়াত কি করে এতসব দারুন দারুন মৌলিক গল্পের ছবি বানাতেন তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? কোনদিন কি তাদের নির্মিত ছবিগুলো দেখার চেষ্টা করেছেন? তাদের ছবিগুলো থেকে কেউ কি কোনদিন কিছু শেখার চেষ্টা করেছেন? আমি বাজী ধরে বলতে পারি আজকের কোন পরিচালক, কাহিনীকার কেউ আমাদের গুনিদের নির্মিত ছবিগুলো থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেনি। সবাই আধুনিকতার জোয়ারে ভাসতে গিয়ে বিদেশি গল্পের দিকে ছুটছেন। বিকল্পধারা আর বাণিজ্যিক মূলধারা সবাই একই কাজ করে যাচ্ছেন। এটা শুধু আমাদের কাহিনীকার , পরিচালকদের দোষ দিলে হবে না , আমাদের দর্শকদেরও কিছুটা দায় আছে। অনেকবার বুঝাতে চেয়েছি যে ফেইসবুকে, ব্লগে বিদেশি ছবি নিয়ে গুণকীর্তন করা বন্ধ করুন । কিন্তু কে শোনে কার কথা। বিদেশি ছবির লিংক শেয়ার, গান শেয়ার, প্রশংসামূলক রিভিউ কোন কিছুই বাদ যায়নি। সেইসব ছবির কোন ভুল থাকলেও আমাদের দর্শকদের চোখে তা ধরা পড়েনি । এসব লিখালিখি কি আমাদের কাহিনীকার ও পরিচালকদের চোখ পড়ে না ? অবশ্যই পড়ে । যার ফলে তাদের কাছে মনে হয় হিন্দি অমুক ছবির গল্প নিয়ে কাজ করলে বোধহয় আমাদের দর্শকদের কাছে ভালো লাগবে। কিন্তু এই ভাবনাটা হিতে বিপরীত হয় । মুল কথা হচ্ছে আমরা যার যার অবস্থান থেকে কেউই সৎ নই । আমরা মুখে বলি এককথা আর কাজে প্রমান দেই আরেকটা। এই দুমুখো মনোভাব নিয়ে কোনদিন সম্ভব নয় ভালো কিছু করার । সম্ভব নয় এগিয়ে যাওয়ার । আমাদের সবাইকে পরিবর্তন হতে হবে । 
সবশেষে নিচে আমাদের মুলধারার বিনোদনধর্মী বাণিজ্যিক ছবি থেকে মৌলিক গল্পের খুব অল্প কিছু ছবির নাম দিলাম –

মনিহার, রাতের পর দিন, পিচ ঢালা পথ, সুপ্রভাত, আলোর মিছিল, আবার তোরা মানুষ হো, এপার ওপার, মাসুদরানা, লাঠিয়াল, দিন যায় কথা থাকে, অশিক্ষিত, ডুমুরের ফুল, বাল্যশিক্ষা, যাদুর বাঁশি, বসুন্ধরা, গোলাপি এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, দুই পয়সার আলতা, ভাত দে, নোলক, জন্ম থেকে জ্বলছি, বাদি থেকে বেগম, কি যে করি, পেনশন, অশিক্ষিত, ছুটির ঘণ্টা, নাজমা, ব্যথার দান, বিসর্জন, ভাই বন্ধু, লড়াকু, ভেজা চোখ, চাপা ডাঙ্গার বউ, জীনের বাদশা, রামের সুমতি, মা ও ছেলে, বীরপুরুষ, সত্য মিথ্যা, দায়ি কে, ঝিনুকমালা, ছেলেকার, রাঙাভাবী, কাজের বেটি রহিমা, জজ ব্যারিস্টার, দিনকাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা, গরীবের বউ, পিতা মাতা সন্তান, বাংলার বধু, দাঙ্গা, ত্রাস, চাঁদাবাজ, চাকরানী, সিপাহী, দেশপ্রেমিক, দেশদ্রোহী, ঘাতক, কমান্ডার, লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, ইতিহাস, সমাজকে বদলে দাও ……… এই প্রজন্মের কোন দর্শক, প্রযোজক, কাহিনীকার, পরিচালক কেউ একজন কি বলতে পারবেন যে তালিকার সবগুলো ছবি আপনারা দেখেছেন বা কোনদিন দেখার চেষ্টা করেছেন? আগে নিজের দেশ থেকে শিখুন এরপর ইরান তুরান ঘুরুন ।। 

Check Also

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares