Home » লাইফ স্টাইল » শাপলা শালুকের বাংলাদেশ
shapla

শাপলা শালুকের বাংলাদেশ

Share Button

মিডিয়া খবর:-shapla-6

যে দেশেতে শাপলা শালুক ঝিলের জলে ভাসে
যে দেশেতে কলমি কমল কনক হয়ে হাসে
সে আমাদের জন্মভুমি মাতৃভুমি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অতি পরিচিত এই  ফুল শাপলা-শালুক আজ বিলুপ্তির পথে। গ্রামবাংলার বিলে-ঝিলে ও ডোবা-নালায় এই ফুলের সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই জাতির জনক জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলাকে বেছে নিয়েছিলেন। ঐতিহ্যবাহী শাপলা, পানিফল, শালুক আর ঢ্যাপ আজ তেমন ছোখে পড়ে না। জমিতে অতি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলাফুল।

এক সময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-নালা খাল-বিল, রাস্তার দু’পাশে জলাশয়ে ব্যাপকভাবে শাপলা ফুলের মনোরম দৃশ্য দেখা যেত। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, shapla-1জলাশয়ের নিচু জমিতে এমনিতেই জন্মাত প্রচুর শাপলা-শালুক ও ঢ্যাপ। অনেকেই এই সব পানিফল তাদের খাদ্যের তালিকায় রাখত। শিশুরা তো বটেই সব বয়সের মানুষ রঙ-বেরঙের শাপলার বাহারি রুপ দেখে মুগ্ধ হতেন।

শাপলা সাধারণত লাল এবং সাদা রংয়ের হয়। এটি অনেকের কাছে খুবই ভালো সবজি হিসেবে সমাদৃত। গ্রামবাংলার অনেকেই চুলকানি এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য ঔষধি গুণসম্পন্ন এই শাপলা খুঁজে ফেরেন। শালুক পাওয়া যায় এই গাছের মাটির নিচের মূল অংশে। পানির উপরে ফুটে থাকা শাপলা ফুলের দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আজ আর নেই।

আজ থেকে ১৫ বছর আগে বিলের বুকজুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য চোখে পড়ে আকৃষ্ট করেনি এমন লোকের সংখ্যা নেই বললেই চলে। শরতকালে যেন বিলের প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সজ্জিত থাকত।

শাপলা গাছ ও ডাটা পানির গভীরতায় ৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। নরম কচি আর খসখসে এই ডাটা খালি মুখে কিংবা ঝাল লবণ ও তেঁতুল মাখিয়েমুখরোচক সবজি হিসেবে গ্রামের মানুষ
তাদের রসনাবিলাস করতেন। তাছাড়া শাপলা ডাটা মাছ মাংস রান্নার উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়। দুই তিন মাস বয়স হলেই শাপলা ফুলের পাপড়ি ঝরে যায়। মাথায় এক প্রকার ফুলের মতো গুচি তৈরি হয়, যা গ্রামবাংলায় ঢ্যাপ নামে পরিচিত।shapla-8

এই ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এই সব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা খৈ আর নাড়–র মজাই আলাদা। কাঁচা ঢ্যাপের দানা কেউ কেউ খালি মুখেও খেতে দারুণ পছন্দ করেন। বিগত দিনে গ্রামে অভাবের সময় অতি দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ বিল থেকে শালুক তুলে এনে সিদ্ধ করে ভাতের বিকল্প হিসেবে ক্ষুধা নিবারণ করতেন। শালুক হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, দ্রুত ক্ষুধা নিবারণ করে এবং শরীরে পর্যাপ্ত শক্তিও জোগায়।

আগের দিনে শরতের শেষে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলাশালুক ঢ্যাপ তোলার ধুম পড়ে যেত। কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার দৃষ্টিনন্দন শাপলা-শালুক আজ বিলুপ্তির পথে। অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মদের শাপলা ফুল চিহ্নিত করতে জাদুঘরে যেতে হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

shapla-5

Check Also

sa world

লাইফ স্টাইল শপ এসএ ওয়ার্ল্ডের নতুন শাখা মিরপুরে

মিডিয়া খবর :- বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডেড পণ্যসমুহের বিশাল সমাহার নিয়ে ফ্যাশন হাউজ ‘এসএ ওয়ার্ল্ড’এর দ্বিতীয় এক্সক্লুসিভ …

eid shocase

ইউসি আয়োজিত ঈদ শো-কেস ২০১৬

মিডিয়া খবর :- ব্র্যান্ডেড পোশাক ও ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল প্রোডাক্টের উপর ১৭ ও ১৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares