Home » মঞ্চ » এস এম সোলায়মান এর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী
s-m-sloiman

এস এম সোলায়মান এর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী

Share Button

মিডিয়া খবর:-        -: কাজী শিলা :-

এস এম সোলায়মান  থিয়েটারের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার আগমনে থিয়েটারের জগত পেয়েছিল নতুন প্রান, হয়েছিল উদ্ভাসিত। নতুন সাজে, নতুন রুপে , নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে থিয়েটারকে নিয়ে গিয়েছিলেন  কয়েক ধাপ সামনে। আজ এই অকাল প্রয়াত নাট্যজন এস এম সোলায়মানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

শেখ মোহাম্মদ সোলায়মান ওরফে এস এম সোলায়মান ছিলেন একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক, অভিনেতা, গায়ক, ও সঙ্গীতকার।  খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। তিনি তাঁর বিশেষ সঙ্গীত বৈশিষ্ট্যকে নাটকে ব্যবহার করেন। অভূতপূর্ব কম্পোজিশন সৃষ্টি করেছিলেন, এমনকি প্যারোডি করেও মানুষের মন জয় করেন তিনি । মঞ্চ নাটকের সাথে জড়িয়ে যান তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সিতে রাত দিন নাটক নিয়ে পড়ে থাকতেন তিনি। সাথে থাকত হারমোনিয়াম। তিনি নাটকে বাংলা লোকআঙ্গিক  ব্যবহার করে নতুনধারা সৃষ্টি করেন। নাটকে সঙ্গীতকে ব্যবহার করেন অন্যতম অঙ্গ হিসেবে। তিনি  বুঝতে পেরেছিলেন নাটকে শুধু শিল্প বুঝলে হয় না, সাথে সাংগঠনিক দক্ষতাও লাগে। আমৃত্যু দক্ষতার সাথে নাট্য সংগঠন চালিয়ে গেছেন।

বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চে ক্ষ্যাপা পাগলাখ্যাত এস এম সোলায়মান ১৯৫৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন ভারতের আসাম রাজ্যের ডিগবয় শহরে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের দু’দফা (১৯৮৮-১৯৯১) সেক্রেটারী জেনারেল এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মিদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এস এম সোলায়মানের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এস এম সোলায়মান কালান্তর, পদাতিক নাট্য সংসদ, ঢাকা পদাতিক, অন্যদল ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি তিরিশটিরও বেশী নাটক রচনা, রূপান্তর এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। সঙ্গীত ও কোরিওগ্রাফির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে এস এম সোলায়মান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নবনাট্যধারায় নির্মাণ করেন এক নতুন আঙ্গিক।

এস এম সোলায়মান বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী ছিলেন। তিনি পঁচিশটিরও বেশী টেলিভিশন নাটক রচনা করেছেন। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য ভিডিও চিত্র, ডক্যুমেন্টারী, টিভি নাটক ইত্যাদি। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রচিত ও সুরারোপিত কয়েকটি মিউজিক ভিডিও এ্যালবাম, গান ও গীতিনাট্যের ক্যাসেট। তাঁর রচিত ও সুরারোপিত অধিকাংশ গান এখনো অপ্রকাশিত। ওয়ার্ল্ড ভিউ, সিডা ও নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি নির্মাণ করেন বেশ ক’টি ভিডিও চিত্র। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অডিও-ভিডিও নির্মাতা হিসেবে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৩ সাল থেকে এস এম সোলায়মান নাটকের দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন আমেরিকা। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকবার নিউইয়র্ক যান এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে প্রবাসী বাঙালিদের সমন্বয়ে গঠিত দল- বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা’র প্রযোজনায় সাতটি নাটক মঞ্চায়ন করেন।

তাকে বাংলাদেশের থিয়েটারের জগতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করা হয়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। মঞ্চনাটকে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রংপুর পদাতিক সম্মাননা (১৯৮৮), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা সম্মাননা (১৯৯৪), বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা সম্মাননা (১৯৯৫), বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরষ্কার (১৯৯৬), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লস এঞ্জেলেস সম্মাননা (১৯৯৬), সুবচন নাট্য সংসদ (১৯৯৬), চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা সম্মননা (১৯৯৭), থিয়েটার আর্ট ইউনিট সম্মাননা (১৯৯৮), মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় সম্মাননা (২০০০), আরণ্যক নাট্যদলে ‘দীপু স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর-২০০১), ও ঢাকা পদাতিকের ‘আবুল কাশেম দুলাল স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর- ২০০২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত ও নির্দেশিত নাটক আমিনা সুন্দরী আমেরিকার অফ ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ১৯৮৩ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্ত্রী সু-অভিনেত্রী রোকেয়া রফিক বেবী এবং একমাত্র কন্যার নাম আনিকা মাহিন একা। ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে নাট্যজন এস এম সোলায়মান এর অকাল প্রয়াণ ঘটে।

Check Also

paicho

হাসির নাটক পাইচো চোরের কিচ্ছার ৫০তম প্রদর্শনী

মিডিয়া খবর :- আগামী ১৭ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল …

Abdul-Hadi

আব্দুল হাদির দেশের গান ‘সেই দেশেতে জন্ম আমার’

মিডিয়া খবর :- দেশের গান গাইলেন বাংলাদেশের সংগীতের কিংবদন্তী অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী আব্দুল হাদি। গানের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares