Home » চলচ্চিত্র » ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ময়মনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব
sonai madhob

২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ময়মনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব

Share Button

মিডিয়া খবর:-

বাংলাদেশে রয়েছে লোকজ সংস্কৃতির বিশাল ভান্ডার। এ দেশের লোকজ গান, লোকজনাচ, লোকজ নাটক, যাত্রাপালা, লোকজ শিল্পসহ যা কিছু আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ তা সবই লোকজ সংস্কৃতি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো হারিয়ে গেলে আমাদেরকে আত্মপরিচয়ের সংকটে পড়তে হবে। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার নামে পশ্চিমা সংস্কৃতি চর্চা এখন সর্বত্র বিরাজমান । কালের গর্ভে  বিলিন হতে চলেছে প্রাচীন বাংলার লোকজ ঐতিহ্য । আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে পশ্চিমার সংস্কৃতির জয়জয়াকার রব এবং নতুন প্রজন্ম ভিনদেশী সংস্কৃতি চর্চায় গাঁ ভাসিয়ে নিজের সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিতে যাচ্ছে । এরূপ পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম নৈতিকতা হারিয়ে বিপদগামী হচ্ছে প্রতিনিয়ত । এ থেকে উত্তরণের পথ বের করতে না পারলে হারিয়ে যাবে লোকজ সংস্কৃতির প্রাণ । তাই বর্তমান সময়ে মৈমনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব আয়োজন সর্বাধিক গুরূত্ব রাখে ।

 বাংলার মাটি ও শেকড় নিঃসৃত হাজার বছরের নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতির রস নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশের অন্যতম নাট্য সংগঠন লোক নাট্যদল (বনানী) আয়োজন করতে যাচ্ছে ছয় দিনব্যাপি ‘ময়মনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব ২০১৪। এ নাট্যদলটির বহুল প্রশংসিত নাট্যপ্রযোজনা ময়মনসিংহ গীতিকাlokonattya অবলম্বনে পদাবলী যাত্রা ‘সোনাই মাধব’-এর ১৫০তম মঞ্চায়ন উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।‘শেকড় খুঁজি প্রাণের মেলায়’ এ স্লোগাণ নিয়ে আয়োজিত নাট্যোৎসবে ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নির্মিত ৬টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। এর মধ্যে রয়েছে  ২৫ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রযোজনা “দস্যু কেনারামের পালা”, ২৬ সেপ্টেম্বর লোক নাট্যদল প্রযোজনা ‘সোনাই মাধব’, ২৭ সেপ্টেম্বর শিকড় নাট্য সম্প্রদায় কিশোরগঞ্জের নাটক “চন্দ্রাবতী” ২৮ সেপ্টেম্বর নাট্যধারা প্রযোজনা “আয়না বিবির পালা”, ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রযোজনা “মহুয়া” এবং ৩০ সেপ্টেম্বর  নাট্যতীর্থ প্রযোজনা কমলা সুন্দরী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উৎসবের নাটকগুলো মঞ্চায়িত হবে। নাটক মঞ্চায়ন ছাড়াও প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে উৎসব প্রাঙ্গণে মুক্তমঞ্চে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ লোকসংগীত পরিবেশন করবেন।

প্রসঙ্গত শুধুমাত্র ময়মনসিংহ গীতিকার উপর ভিত্তি করে নাট্যোৎসবের আয়োজন বাংলাদেশে এই প্রথম। ইউজিন গোমেজ এর নির্দেশনায় সোনাই মাধব- প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সোনাই মাধব দেশের  গন্ডি পেরিয়ে  ভারত , হংকং, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালি, লন্ডন প্রভৃতি দেশে  মঞ্চস্থ হয়েছে । বর্তমানে লোকনাট্যদল (বনানী) এর সর্বমোট নাটকের সংখ্যা ২৬ টি। উল্লেখযোগ্য নাটক কোনগুলোর মধ্যে কঞ্জুস , সোনাই মাধব, তাপসী তরঙ্গিনী, বৈকুণ্ঠের খাতা,পদ্মানদীর মাঝি , অত:পর হরেন মন্ডল, টাপুর টুপুর, হেলেন, তুষাগ্নি, মানুষ,বিধি ও ব্যতিক্রম, মাঝরাতের মানুষেরা,  নির্মাণ, রথ যাত্রা, অন্ধ নগরির চৌপাট রাজা,  এ মিড্ সামার নাইটস্ ড্রিম,  মহাপ্রয়ান, বশীকরণ, সুনাগরীকের সন্ধানে।

উৎসবে বিশেষ  অতিথি হিসেবে  উপস্থিত থাকছেন নাট্যজন বিভাস চক্রবর্তী

 ময়মনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব — আয়োজনের মূল কারণ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে    – লোকজ সংস্কৃতি একটি জাতির প্রাণ। এখানে মিশে থাকে সে দেশে বসবাসরত বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রথা, বিশ্বাসসহ তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সার্বিক দিক । লোকজ সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়কে সঠিক ও নিবিড় ভাবে তুলে ধরে। বাংলার লোক সাহিত্যও সমৃদ্ধ মৈমনসিংহ গীতিকায় পাওয়া যায়। মৈমনসিংহ গীতিকা বাঙালি জনজীবনের এক সুনির্মল প্রতিচ্ছবি।

আমাদের স্লোগান ‘শেকড় খুঁজি প্রাণের মেলায়’ আমাদের লোকজ ঐতিহ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের প্রকৃত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিগত পরিচয় তুলে ধরে দেশ প্রেম জাগরণে ভুমিকা রাখা সম্ভব হবে ।

মৈমনসিংহ গীতিকায় রয়েছে – মহুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ানা মদিনা, দস্যু কেনারামের পালা, কঙ্ক ও লীলা , মলুয়া , দেওয়ান ভাবনা , কাজলরেখা , রূপবতী পালাগান সমূহ । এতে রয়েছে এতে নেত্রকোণা অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের পরিচয় । যেমন: কাঞ্চনপুর, বামনকান্দি, জালিয়ার হাওর, তলার হাওর, বাইদ্যার ভিটা, ঠাকুর বাড়ির ভিটা, উলুয়াকান্দি প্রভৃতি স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর ভাষা সহজ সরল ও প্রাণবন্ত। একেবারে বলা চলে মাটি মানুষের ভাষা। পালাগুলো রসালো ও শ্রুতিমধুর হওয়ায় তা সহজেই পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে এক অমূল্য রত্ন হিসেবে বিবেচিত। শুধু তাই নয়, এতে সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, বিরহ-মিলনসহ নিত্য দিনের ছবি রয়েছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এই মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে কাহিনী  নিয়ে বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে এদেশে। ‘সাতভাইচম্পা’, ‘কাজলরেখা’, ‘গুনাইবিবি’ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের’খায়রুন সুন্দরী’ পর্যন্ত বহু ছবির বৈশিষ্টতে লোকজকাহিনি ও উপাদান রয়েছে।
মৈমনসিংহ গীতিকা নাট্যোৎসব এর মাধ্যমে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির দিক তুলে ধরা সম্ভব হবে । এধরনের আয়োজনে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্ব ও ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে ।

 

Check Also

selim-al-din.jpg-1

সেলিম আল দীন উৎসব শিল্পকলায়

মিডিয়া খবর :- ১৪ই জানুয়ারি আজ। বাংলা নাটকের গৌরব নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। …

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares