Home » সঙ্গীত » চুপ করে থাকা বোকামি – সুমনের খোলা চিঠি
sumon-artho

চুপ করে থাকা বোকামি – সুমনের খোলা চিঠি

Share Button

মিডিয়া খবর:-  

ব্যাংককের একটি হাসপাতালে অর্থহীন ব্যান্ডের ভোকাল ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুমনের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিজের ১১তম অস্ত্রোপচার নিয়ে সুমন তার ফেসবুকে এক খোলা চিঠি লিখেন। বিষয়টি নিয়ে  দীর্ঘদিন ধরে সমন মন পীড়ায় ভূগছেন সুমনের সে স্টাটাসটি প্রকাশ করা হল চিঠি।

—-আর কয়েক ঘণ্টা পর আমার গুরুত্বপূর্ণ ২ টি সার্জারি হবে। গত ৫ বছরে এটা আমার ১১ তম সার্জারি! জী… ঠিকই পড়েছেন। এটা কোন টাইপো নয়। একাধিক ক্যান্সার ফাইট করেছি আমি। সুতরাং সার্জারি ব্যাপারটা ইদানিং একটা অভ্যাসের মত হয়ে গেছে! ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করলে যা হয়, মৃত্যু ভয়ও কমে যায় একটা সময়। অন্তত আমার বেলায় তাই হয়েছে।sumon-ar

কিছুদিন আগে আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুকে। জনৈক মিউজিশিয়ান এবং টিভি চ্যানেল নিয়ে। আমাকে এবং আমার শ্রদ্ধেয় এক সিনিয়র মিউজিসিয়ানকে হিউমিলিয়েট করা নিয়ে। আশাকরি আগামীকাল আমার ঠিকমত জ্ঞ্যান ফিরবে। আশা করছি এবারও আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিবেন। কিন্তু কোন কারণে যদি সেটা না হয়, তবে আমার লেখা একটি খোলা চিঠি পাবেন ইন্টারনেট, রেডিও, সাপ্তাহিক পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে। সেখানে আমি বিশিস্ট এক ‘সিনিওর মিউজিশিয়ান’ এর আমার বিরুদ্ধে নোংরা পলিটিক্স এর ভিতরের কাহিনী তুলে ধরব। সময়মত এই চিঠি সব মিডিয়াতে চলে আসবে। মুখোশ খুলে যাবে তার।

এই ব্যাপারটা আমি কেন করছি সেটা নিয়ে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন। অনেকেই বলছেন কেন এই ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’? এই প্রশ্নের উত্তর যে কাদা ছোড়া শুরু করেছেন তাকে করলেই মনে হয় ব্যাপারটা ভাল হবে, আমাকে নয়।

কুকুর আপনার পায়ে এসে কামড় দিলে আপনার তার পায়ে কামড় দেবার দরকার নেই। চিৎকার করে কুকুরকে তাড়িয়ে দিন, অথবা লাঠির বারি দিন। আমার কাউকে কামড়ানোর কোন ইচ্ছা নেই। কিন্তু আমার লাঠি প্রস্তুত। আমাকে অন্যায় ভাবে একজন মিউজিশিয়ানের এবং একটি টিভি চ্যানেলের অপমান করা আমি ছেড়ে দিব কেন?

‘ফর দ্যা গ্রেটার গুড অফ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি’? একটা কথা বলি, গ্রেটার গুড অফ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করেই কিন্তু এইসব মানুসের চেহারা সাধারন শ্রোতার সামনে আনা উচিত। আপনি মিউজিক ভালবাসেন? আপনি চান বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ভাল হোক? তাহলে আমাদের এখান থেকে এইসব জঘন্য মিথ্যাচারকে বিদায় দিতে হবে। ইটস নট অ্যাবাউট রিভেঞ্জ, ইটস অ্যাবাউট জাস্টিস! কারন আমি যদি মরেই যাই, তবে রিভেঞ্জের প্রশ্ন আসবে কোথা থেকে?

আমার শেষ ব্লগটা লেখার পর অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় একজন রেস্পেক্টেড মিউজিশিয়ান একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল। সেটার জন্য কি সেই টিভি চ্যানেলে রিপোর্ট হওয়া উচিত নয়? সেই স্ট্যটাস নিয়ে কি আমি বলতে পারি না যে আমাকে নিয়ে লেখা হয়েছে? কোথায় গেল সেই চ্যানেল? কেন এখন চুপ?

আমাকে যিনি টিভি চ্যানেলে ছোট করেছেন, এটা তার প্রথম কাজ নয়। বেশ কয়েক বছর আগে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাতেও আমাকে নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা কথা তিনি বলেছিলেন যেটার রিপোরটার ছিল তার খুব কাছের একজন মানুষ। তখন কিছু বলিনি। অন্য কিছু সিনিয়র মিউজিশিয়ান এর অনুরোধে চুপ করে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন যা বুঝলাম, মানুষ এত সহজে বদলায় না। চুপ করে থাকা বোকামি।

সবকিছুর ভিডিও, স্ক্রিনশট, ইত্যাদি নিয়ে আমার ‘চিঠি’ তাই প্রস্তুত করলাম। সেই সময়ের সাপ্তাহিক পত্রিকা থেকে শুরু করে এ সময়ের এই টিভি অনুশঠানের ভিডিও, স্ক্রিনশট… সবকিছুই দেখতে পারবেন আপনারা। আপনাদের কাউকেই অনুরোধ করবোনা আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। শুধু অনুরোধ করবো, আমি যদি এই ফেসবুকে আর না ফিরি তবে আপনারা আমার চিঠিটা ঠান্ডা মাথায় পড়বেন/দেখবেন। এবং নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে জাজ করবেন।

আমার জন্য কাল যদি কারো চোখ থেকে এক ফোটা পানিও পরে, তবে তাকেই বলব, “আমার এবং আমার ফেলো মিউজিশিয়ানদের উপর যে অন্যায় করা হয়েছে, তার বিচার করবেন প্লিজ”। এটাই আমার অনুরোধ।

ফিরে আসছি আমার শারীরিক অসুস্থতার ব্যাপারে। আগেই বলেছিলাম কি পরিমান অসুস্থতার ভিতর দিয়ে আমি শেষ ৫ বছর গিয়েছি। অনেকবার মনে হয়েছে, আমার বুঝি সময় শেষ। কিন্তু আল্লাহ অশেষ রহমতে আমি বেঁচে গেছি। এটা সম্ভব হত না যদি আমার জন্য এত মানুষের দোয়া না থাকতো। আপনারা না থাকলে আজ হয়ত আমি বেঁচে থাকতাম না। মানুষের ভালবাসা না থাকলে এটা সম্ভব হত না। আমার পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ দেবার ভাষা আমার নেই। আগামীকাল যদি আমার জ্ঞ্যান ফেরে, তাহলে আপনাদের জন্যই ফিরবে এবং ইনশাআল্লাহ আপনাদের নিরাশ করবোনা। সবাই ভাল থাকবেন।

শিগগিরই আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ!

সুমন
অর্থহীন
বাম্রুংরাদ হসপিটাল, ব্যাংকক
সেপ্টেম্বর ২০১৪

সুমনের সঙ্গীত জীবন

সুমন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড অর্থহীনের প্রতিষ্ঠাতা এবং দলনেতা। তিনি মূলত গায়ক এবং বেস গীটার বাজিয়ে থাকেন। তবে কখনো কখনো তাকে একোস্টিক গীটার কিংবা কী-বোর্ড হাতেও দেখা যায়। তার পুরো নাম সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন। তবে তিনি সুমন নামেই পরিচিত। সুমনের জন্ম ৮ জানুয়ারি। সঙ্গীত জগতে সুমন বেস-বাবা নামে বহুল পরিচিত।

সঙ্গীত জীবন
১৯৮৬ সালে সুমন তার রক সংগীতের জীবন শুরু করেন। এই বছরই সুমন ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ নামের একটি ব্যান্ড গঠন করেন। ১৯৯০ সালে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে সুমন বেস গীটার বাজাতেন। এ বছর সুমন তার ব্যান্ডের নাম বদলে ‘রক ফ্যান্টম’ রাখেন। ‘সাইল্যান্স’ ব্যান্ডে সুমন লীড গীটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন। এর কয়েকদিন পর তিনি ‘ফিলিংস’-এ বেস গীটারবাদক হিসেব বাজানো শুরু করেন। এলাকার স্টুডিওতে তিনি বেস গীটারবাদক হিসেবে বাজানো শুরু করেন।

খালেদ সুমন ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেইজ, ইন ঢাকা, সুইট ভেনম, রক ব্রিগেডে বেস গীটারবাদক হিসেবে গীটার বাজান। এই বছরই তিনি তার প্রথম এলবাম ‘সুমন অর্থহীন’-এর কাজ শুরু করেন।

১৯৯৩ সালে সুমন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিলিংস ত্যাগ করেন। তিনি একক এলবাম করার পরিকল্পনা করেন। তার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন ধারার গান করার। তিনি এমনভাবে একক গান করা শুরু করেন যাতে ব্যান্ডের পরিবেশটা একক গানেও বজায় থাকে। তিনি ফায়সাল এবং রাসেলের সাথে তার প্রথম গান করেন। তার গানে ড্রাম বাজিয়েছিল রুমি।

১৯৯৪ সালে ‘জলি রজার’ ত্যাগ করেন। ১৯৯৫ সালে ‘শব্দ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন এবং এই ব্যান্ড থেকে কিছু গান রেকর্ডিং-এর কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে ‘শব্দ’ ভেঙে যায়। তারপর তিনি ‘ওয়ারফেইজে’ যোগদান করেন।

১৯৯৭ সালে ওয়ারফেইজের চতুর্থ এলবাম ‘অসামাজিক’-এর কাজ শুরু হয়। জি-সিরিজ থেকে সুমনের প্রথম একক এলবাম ‘সুমন ও অর্থহীন’ প্রকাশিত হয়। এলবামটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। সমালোচকরাও নতুন ধারার এই গানটির প্রশংসা করেন।

১৯৯৮ সালে ‘মন নতুন একটি দল গঠন করার পরিকল্পনা করেন। ‘ফেইথ’ ব্যান্ডের টিটি ও সেন্টু তার পরিকল্পনায় সহায়তা করেন। আরো কয়েকজন সংগীতশিল্পীকে নিয়ে সুমন ‘সুমন ও অর্থহীন’ নাম দিয়ে ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে ওয়ারফেইজ ত্যাগ করেন। এই বছরই ব্যান্ডের নাম ঠিক হয় ‘অর্থহীন’।

২০০০ সালে অর্থহীনের প্রথম এলবাম ‘ত্রিমাত্রিক’ প্রকাশিত হয়। এই এলবামটির জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। সুমনের নাম ওয়ারউইকের ‘ফেমাস ইউসার লিস্ট’-এ লিপিবদ্ধ হয়। তিনি প্রথম এশিয়ান সংগীতশিল্পী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

২০০১ সালে অর্থহীনের দ্বিতীয় এলবাম ‘বিবর্তন’ প্রকাশিত হয়। কারন উল্লেখ্য যে, বিবর্তন বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসা সফল এলবাম।

২০০২ সালে অর্থহীনের তৃতীয় এলবাম ‘নতুন দিনের মিছিলে’ প্রকাশিত হয়। এই এলবামে রয়েছে ‘সাতদিন’ নামের ২৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড এর একটি গান। এটি বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে দীর্ঘতম গান। সুমনের দ্বিতীয় একক এলবাম ‘স্বপ্নগুলো তোমার মত’ প্রকাশিত হয়।

২০০৩ সালে অর্থহীনের চতুর্থ এলবাম ‘ধ্রুবক’ প্রকাশিত হয়। সুমন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুমন আগের মত আর গান করতে পারবেন না বলেও শঙ্কা দেখা দেয়। সুমন তখন মেটাল সঙ্গীত গাওয়া কমিয়ে দেন। ২০০৪ সালে সুমনের অসুস্থতার কারণে ব্যান্ডের প্রায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এই বছরই সুমন এম.টি.ডির (মাইকেল টবিয়াস ডিজাইন) অধিভুক্ত হন।

২০০৫ সালে মনের চোয়ালের হাড়ে মারাত্মক সমস্যা দেয়। চিকিৎসক বলেন যে, সুমনের আগের মত গান করতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম। অর্থহীনের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সুমন এবং বাকী সদস্যরা অর্থহীন ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সুমন সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন। সুমন আবার গান গাওয়া শুরু করেন। এ বছর সুমন জন ডেনভারের গানের অনুবাদ করে ‘মেঘের দেশে’ নামের একটি এলবাম প্রকাশ করেন।

২০০৭ সালে সুমনের তৃতীয় একক এলবাম ‘বোকা মানুষটা’ প্রকাশিত হয়।

প্রাক্তন ব্যান্ডসমূহ
রক ফ্যান্টম (১৯৮৬-১৯৯২)
সাইলেন্স (১৯৯০-১৯৯২)
ফিলিংস (১৯৯০-১৯৯৩)
জলি রজার (১৯৯৩-১৯৯৪)
এসিস (১৯৯৩-১৯৯৪)
শব্দ (১৯৯৫-১৯৯৬)
ওয়ারফেইজ (১৯৯৬-১৯৯৯)

প্রকাশিত একক এলবামসমূহ 
সুমন ও অর্থহীন। প্রকাশকাল ১৯৯৭।
স্বপ্নগুলো তোমার মত। প্রকাশকাল ২০০২।
মেঘের দেশে। প্রকাশকাল ২০০৫।
বোকা মানুষটা। প্রকাশকাল ২০০৭।

ব্যান্ড এলবাম
অসামাজিক (ওয়ারফেইজ)। প্রকাশকাল ১৯৯৮।
ত্রিমাত্রিক (অর্থহীন)। প্রকাশকাল ২০০০।
বিবর্তন (অর্থহীন)। প্রকাশকাল ২০০১।
নতুন দিনের মিছিলে (অর্থহীন)। প্রকাশকাল ২০০২।
ধ্রুবক (অর্থহীন)। প্রকাশকাল ২০০৩।
অসমাপ্ত-১ (অর্থহীন)। প্রকাশকাল ২০০৮।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

Check Also

oishi-ashik

ঐশী ও আশিক গাইবেন আজ

মিডিয়া খবর:- জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঐশী ও আশিক সরাসরি গাইবেন বৈশাখী টেলিভিশনে। ৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১১টায় বৈশাখী টেলিভিশনের …

bakir-fasol

জুয়েল মোর্শেদ ও মমর বাকির ফসল

মিডিয়া খবর:- সংগীতশিল্পী  মাহফুজা মমর ‘বাকির ফসল’ গানটির মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে গত ৩০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares