Home » রেডিও » আমরা কথা বন্ধু, কথা বলেই যাব

আমরা কথা বন্ধু, কথা বলেই যাব

Share Button

ঢাকা:-

-: -জহিরুল ইসলাম টুটুল :-

গল্পটা অল্পদিনের হলেও বেশ জমে উঠেছে । আর এই গল্পের কিছু পাত্রপাত্রীরাও এরই মধ্যে প্রায় অনেকেরই নজর কেড়েছে । যাই হোক এতো ভণিতা না করে আসল কথায় যাই । আমরা নাকি আবার খালি কথা-ই বলি । কথা ছাড়া নাকি আমাদের আর কোন কিছুই করে দেখাবার নাই । ঠিক আছে মানলাম । কিন্তু একটা ছোট্ট জিজ্ঞাসা, শুধু কথা শুনিয়ে লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখার কাজটা এই সময়ে যারা খুব ভালভাবেই করে যাচ্ছেন, তাঁরা খুব সহজ কাজ করছেন কি? fm

যাই হোক কথা আবারো পেঁচিয়ে ফেলছি । আসলে ঐ কথাই তো আমাদের সব । প্রতিদিন যে মানুষগুলো আমাদেরকে শোনেন, শুধু শোনেন বললে ভুল হবে, নিজেদের হাসি-কান্না, সুখদুঃখ, মান-অভিমান সহ জীবনের নানা রকম টানাপোরেন সহ অনেক কথাই কিছু ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দিতেও একদমই কার্পণ্য করেন না সেই মানুষগুলোর ভালবাসার দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা কাজ করছি, প্রতিদিন হটসিটে বসছি, দেদারছে কথা বলে যাচ্ছি, জীবন এবং চারপাশ থেকে যা কিছু শিখছি বা দেখছি তা-ই ঐ মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে বলে যাচ্ছি । জী, আমরা কথাই বলছি ।  

এফএম রেডিও এবং রেডিও জকি বা আরজে পেশায় বা নেশায় যারা ডুবে আছেন তাদেরকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানিয়েই আমার এই লেখা । এদেশে এফএম ব্যান্ডের রেডিও স্টেশনের বয়স সব মিলিয়ে ন’দশ বছর । তার মানে বলতে পারেন এখনো শিশু । প্রাইমারি ক্লাস পার করেনি । যেখানে আমাদের প্রতিবেশী দেশে প্রায় আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই এফএম ব্যান্ডের যাত্রা শুরু, সেখানে আমরা শুরু করলাম মাত্র । স্বভাবতই ভ্রু কুঁচকে একটা জিজ্ঞাসা আসতেই পারে যে আমরা তাহলে কাদেরকে অনুসরণ করে শুরু করলাম, বা এই লাইনে শুরুতে যারা কাজ শুরু করলেন তাঁরা কাদেরকে দেখে বা শুনে কাজ শিখলেন ? সহজ এবং সরল স্বীকারোক্তি হলো এই যে, পথ দেখাবার মত অথবা হাত ধরে কাজ শেখাবার মত তেমন কেউই ছিলেন না । শুধুমাত্র এদেশের কিছু সাহসী মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশের অনুকরণে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন । ব্যাস, মানুষ আবার রেডিও শোনা শুরু করলো, রাত জেগে শুনতে থাকলো, অফিসে যেতে যেতে, রান্না করতে করতে, ক্লাসের ফাঁকে, বন্ধুদের আড্ডায়, চা এর দোকানে বাজতে থাকলো রেডিও । উপস্থাপনায় ভিন্নতা এবং বেশী বেশী গান শোনার নিশ্চয়তায় অল্পদিনেই এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলো । এ ছাড়া শুরু থেকেই স্টেশনগুলো “আমার ভালবাসা” টাইপের কিছু জীবনমুখী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে শ্রোতাদের খুব কাছে পৌঁছে গেলো অল্প দিনেই । শুরুতে যদিও একটা বয়সী শ্রোতারাই এফএম রেডিও শুনতো , কিন্তু সময় যত এগোতে থাকে ততোই সব শ্রেণী-পেশা এবং বয়সের মানুষগুলোই এর সাথে সংযুক্ত হতে থাকে । বিয়ে বাড়ি কিংবা পারিবারিক 11111111111fm-radio-bangladঅনুষ্ঠানগুলোতে অন্য দেশীয় গান বেজে ওঠার পাশাপাশি দেশীয় বাংলা গানগুলোও আবার সমান তালে বেজে উঠতে থাকে । এর একটা বড় কারণ হচ্ছে এই যে, এফএম রেডিওগুলো শুরু থেকেই ভিনদেশী গানের পাশাপাশি অনেক বেশী মাত্রায় দেশীয় গান বাজাতে থাকে । আর এর ফলে শ্রোতারা খুব সহজেই ভাল গান বেছে নিতে পারে । আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি যে ঠিক এখনি আপনি বলতে চাচ্ছেন যে আমরা অনেক ভিনদেশী গান বাজাই । আচ্ছা আকাশ সংস্কৃতির এই ব্যাস্ত সময়ে যদি আমরা একটাও বিদেশী গান না বাজাতাম, তাহলেই কি এই দেশে অন্য ভাষার গান শোনা বন্ধ হয়ে যেত? নাকি আমাদের সংগীতাঙ্গন রাতারাতি বদলে যেত? আসলে জানালা খোলা রাখতেই হবে, আর বাইরের মুক্ত বাতাস ঘরে প্রবেশ করবেই । ভাল কাজ দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দরজা জানালা সব বন্ধ করে রাখলে হবে না, বরং সেগুলো উঠোনে ছড়িয়ে দিতে হবে, আর সেই উঠোনে অন্যকেও বসতে দিতে হবে । একটু চোখটা বন্ধ করে দশটা বছর পেছনে চলে যান তো ! বাংলা গান শোনা আমরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম । অভ্যাসটা প্রায় যেতে বসেছিল । এদেশের এফএম রেডিওগুলোতে গান তথা দেশীয় গান বাজতে থাকলো দিনব্যাপী । পুরনো গানের পাশাপাশি একদম নতুন শিল্পীদের গানও বাজতে থাকলো । শ্রোতাপ্রিয়তা পেতে থাকলো অনেক নতুন ভাল গান । আর সেই কারণেই কেউ স্বীকার করুক আর নাইবা করুক একদম মাটি থেকে আকাশে উঠে আসলো এদেশের অনেক সংগীত শিল্পী । যারা এখনো ভাল কাজ করছেন । মানুষের মধ্যে দেশীয় গান শোনার অভ্যাসটাও আবার ফিরে এলো । এমনকি এই প্রজন্মের যারা এ দেশের তথা এই উপমহাদেশের বিখ্যাত গান এবং কণ্ঠশিল্পীদের প্রায় ভুলতেই বসেছিল, তাঁদের জন্যই শুরু হলো “ওল্ড ইজ গোল্ড” নামের শ্রোতা নন্দিত অনুষ্ঠান ।

তবুও মানছি যে ধবধবে সাদা কাপড়ে একটুখানি দাগ লাগলেই স্পষ্ট দেখা যায় । যদিও নিজেfmরটা আমরা অনেক সময়ই টের পাইনা । সমাজের সকলখানে এমনকি দেশীয় সিনেমা নাটকেও যখন ভাষার বিকৃতি ঘটে অবলীলায় তখন আমাদেরকেই শুধু আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, কেন আমরা ‘উচ্চারণ’ কে ‘উচ্চাড়ণ’ কিংবা ‘বারি’ কে ‘বাড়ি’ বললাম ! নাটক কিংবা সিনেমার ডায়ালগে যখন ‘খাইছি’ ‘ধরছি’ ‘মারছি’ বিরামহীনভাবে সহ্য করতে হয়, ঠিক তখুনি বিদেশী ভাষার মিশ্রণ নিয়ে আমাদের দিকেই আঙ্গুল তোলা হয় । মজার ব্যাপার হলো এই যে, প্রতিদিন যখন লক্ষ মানুষ দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে আমাদেরকে নিয়মিত শুনতে থাকে, ঠিক তখন আমাদেরকেই প্রতিযোগিতার একদম বাইরে রেখে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা করা হয় । তবুও আমরা মেনে নিয়েছি । আলোচনা থেকে কিছু না পেলেও সমালোচনা থেকেই কিছু নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি ।

এই পেশায় অনেকদিন হলো কাজ করছি বলেই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলছি, যারা আমাকে নিয়মিত শুনেন ক’দিন বলতে পারবেন বাতাসে যে মানুষটি চরম উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রতিদিন শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেই মানুষটা আজ কতটা ভাল আছে, কতটা সুস্থ আছে, তার মনের কিংবা পকেটের সাস্থ্য ঠিকঠাক আছে কিনা !! জানি খুব বেশী বলতে পারবেন না । কারণ আমার মতই এই পেশায় বা নেশায় যারা মগ্ন তারা প্রায়ই ভুলে যান নিজেদের সুখদুঃখের কথা, অন্যকে আনন্দ দেয়াতেই যেন তার পূর্ণতা । আমার ভাষা কিংবা সংস্কৃতির অপমান আমরাও সহ্য করি না । তবে ভুলে গেলে চলবে না যে মায়ের চার’টা সন্তান সবাই আদর্শবান হয় না ।

যাই হোক ২/৩ টা স্টেশন দিয়ে শুরু হলেও এখন প্রায় দশের অধিক এফএম রেডিও থেকে প্রতিনিয়ত আরজে বা রেডিও জকি’রা তাঁদের কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দিচ্ছে । এবং আশার কথা এই যে আরও প্রায় ডজন খানেক স্টেশন এদেশের বাতাস দখলের অপেক্ষায় । ভাবতে ভালই লাগছে । আমাদের দল ভারী হচ্ছে । প্রতিযোগিতাটা এবার আমরা নিজেদের সাথেই করব, এরি মধ্যে করেও যাচ্ছি ।

সুতরাং, চলুক সমালোচনা, বারুক আমাদের শ্রোতা, আমরা কথা বন্ধু, কথা বলেই যাবো ।

 লেখক :- আরজে,  রেডিও আমার ৮৮.৪

 

 

Check Also

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হল রেডিওবিজি২৪.কম

মিডিয়া খবর :- বাংলাদেশের সংগীতের যাদুঘর হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল রেডিওবিজি২৪.কম। তারপর হঠাৎ ছন্দপতন। দীর্ঘদিন বন্ধ …

bangladesh betar

শুরু হলো বেতারের চারদিনের আয়োজন

মিডিয়া খবর :- হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু হল বেতারের,  আজ ৭৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares