Home » মঞ্চ » বাংলাদেশের প্রমিথিউস
promithius

বাংলাদেশের প্রমিথিউস

Share Button

ঢাকা:-

আজ গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবের শেষ দিনে শিল্পকলা একাডেমীর মূল হলে বাংলাদেশের মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের প্রমিথিউস নাটকটি সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে।

রচনার বুকপীঠ :  আনন জামান, নাট্যকার
বিশ্বনাটকের ইতিহাসে গ্রীসের অবস্থিতি নানাবিধ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। অনুমিত হয় আধুনিক থিয়েটারের প্রথম অভিনয় রূপায়িত হয়েছিল গ্রীসের পাহাড় কেটে তৈরী মঞ্চে। গ্রীসের পাহাড় আর পাথর কেটে দর্শক সারি আর অভিনয় ভূমি নির্মাণ থিয়েটারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা সাম্প্রতিক সময় অবধি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। স্কাইলাসের ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’ গ্রীসের ট্র্যাজেডী নাটকের উত্থান কালের নাটক। প্রমিথিউস বাউন্ডের প্রমিথিউস এ তৎসংশ্লিষ্ট প্রচলিত মীথ আমার অনুভবের গোঁপন আয়নায় মানবমুক্তির এক অপার্থিব চরিত্রের পার্থিব চিত্রছবি তৈরী করেছিল। শূন্যতার আলোয় গড়া চরিত্র হয়ে সে মাটিতে হেটে বেড়ানো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
সাম্প্রতিক অস্থির বিশ্বের সকল অনাচার আর ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশের প্রতিযোগিতার বিপরীতে- এই সবুজাভে–একজন প্রমিথিউস প্রয়োজন। যে শূণ্য থেকে অমৃত চৈতন্য এনে ফু দিয়ে ভরে দেবে চিত্ত চৈতন্যের নিরুদ্ধ ঘরে। নির্দেশনা দেবে নতুন নেতৃত্ব। জিউস এ নাট্যে যতটা না বেশী ঈশ্বর তার চেয়ে বেশী ফেরাউন, হিটলার, লর্ড ক্লাইভের দাতাল প্রতিচ্ছবির রক্তচক্ষুর স্বৈরশাসক হিসাবে চিত্রিত হয়েছে। প্রমিথিউস এক দারুন শক্তিতে তোমার শিকল চূর্ণ করেছে– এ কালের অর্বাচীন লেখক। স্বর্গরাষ্ট্রের শুভ্রমহল থেকে অগ্নির রক্তশিখা আর গোপন চৈতন্য নিয়ে অন্ধকার নাটঘরে আলো আঁধারির ত্রিমাত্রিক ভূবনে আরো একবার তোমার উদ্ভাসন হোক।
আকাশের শূণ্যতায় মাথার উপর ছাদ আর দরজার প্রথম কপাট তুমিই চিনিয়েছো হে প্রমিথিউস। তারাদের পথ আর রথের চাকা, ফুলবৃষ্টি আর পাতায় পড়া উষ্ণ বিন্দ­ু, চোখের পখ্নে রাত আর স্বপ্ন, মাটি সরিয়ে ফসলের দানা আর বুকে বোনা আশা। সব তোমার হে প্রমিথিউস।
হে কবিসম্রাট স্কাইলাস কাল অতিক্রমী শব্দ আর কাহিনীর কারিগর- তোমার পাঠ আর শিখনের শক্তিতে– তবে প্রমিথিউসের শিকল চূর্ণ হোক।

নির্দেশকের কথা: মোস্তাফিজুর নুর ইমরান
গ্রীক পুরাণের একটি কল্প কাহিনীকে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব আনন জামান যখন পুননির্মাণ করেন তখনই এই পুননির্মিত কাহিনীটির সাথে আমার পরিচয় ঘটে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২য় বর্ষের প্রযোজনা হিসেবে তিনি এটির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় যখন এই পান্ডুলিপিটির মঞ্চায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয় তখন এই পান্ডুলিপির রচয়িতা আমার শিক্ষক আনন জামান এবং মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় নির্দেশনার দায়িত্বটি আমার উপর প্রদান করেন। আমি কাজটি করার সুযোগ পেয়ে খুবই আনন্দিত হই। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় ৩০ বছরের পুরোনো নাট্যদল আর আনন জামানের লেখনী শক্তি অসাধারণ। এই দুইয়ের মিশেলে থিয়েটার দর্শকদেরকে আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কের কল্পনার কিছুটা অংশ প্রদর্শন করার সুযোগটা বেশ লোভনীয় ছিল।
নির্দেশনার রীতি নিয়ে নানাজনের নান মত থাকতে পারে, তবে আমি মনে করি, নির্দেশনার জন্য নির্দিষ্ট রীতিকে অনুসরণ করা খুব বেশী বাধ্যতামূলক নয়। কোন নির্দিষ্ট রীতিকে যদি আমি অনুসরণ করতে চাই, তবে সেক্ষেত্রে নিজেকে একজন ডেডলী ডিরেক্টর ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না।
 প্রমিথিউসের নির্দেশনা দিতে গিয়ে গল্পটি আমার কল্পনায় যেভাবে প্রতিভাত হয়েছে তাই আমি কম্পোজ করতে চেয়েছি। আমি মনে করি থিয়েটার দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে (নির্দেশকের জন্য) ১) কম্পোজিসন ২) কমিউনিকেশন। অর্থাৎ আমার কল্পনার সুবির্নিস্ত রূপটি যদি গল্পটিকে দর্শকের সাথে সফল যোগাযোগ তৈরী করতে পারে তবেই তা থিয়েটার শিল্পের উদ্দেশ্যকে স্বরূপ প্রদান করে। তবে টেক্স এর চেয়ে বেশী এই প্রযোজনায় আমি গুরুত্ব দিয়েছি সাব-টেক্সকে। অর্থাৎ আমি যে কথাটা বলবো সেই কথাটার একটি অন্তর্নিহিত ভাব আছে। আমি সেই ভাবটাকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি। দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে হৃদিমিক টোনটাকে বহাল রাখার একটা চেষ্টা করেছি, গল্পের সুবিন্যাসের সার্থেই। অভিনয় শিল্পিদেরকে সবসময় বলেছি অভিনয়ে নিজেকে বিলীন করে দিতে। মঞ্চে অভিনয় শিল্পি যা করবে তা যেন তার সম্পূর্ণ শরীর এবং মন ছন্দবদ্ধভাবে করতে পারে। এটাকে আমি একটা নিরীক্ষাও বলতে পারি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটার সবসময় পরিবর্তনশীল এবং থিয়েটারের প্রতিটি প্রযোজনাই স্বতন্ত্র।
প্রমিথিউস পান্ডুলিপিটি শুধুমাত্র গ্রীক পুরাণের গল্পটিই বলে না, সেই সাথে বলে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি চলতে থাকা স্বৈরাচারী শাসন ও শোষন, শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক এবং শিল্পীর পরাধীনতা এবং সৃষ্টির সৃজনের জন্য যারা কাজ করে তাদের পরিণতির গল্প। প্রমিথিউস গ্রীক পুরাণমতে জিউসের নির্দেশে মানুষ সৃষ্টি করে, তবে মানুষের কল্যাণের জন্য যখন তিনি মানুষকে চৈতন্য এবং অগ্নি প্রদান করেন যা মানুষকে শেখায় সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করতে। জিউসের নিষেধ সত্ত্বেও প্রমিথিউস মানুষকে যখন সভ্যতা ও উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যেতে চান তখন প্রমিথিউসকে বরণ করে নিতে হয় মর্মান্তিক পরিণতি। তবে প্রমিথিউস জানতেন মানুষের উন্নতি ও সভ্যতার সৃষ্টি ভাগ্যের লিখন যা খন্ডানো সম্ভব নয় এবং নিজের পরিনতি জেনেও তিনি মানুষের সবচেয়ে উপকারী বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হন এই প্রত্যাশায় যে মানুষই একদিন তাকে মুক্ত করবে।
স্কাইলাসের লেখা ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’ কে জনাব আনন জামান পুননির্মাণ করেছেন ব্যাপক পরিসরে, তাই প্রযোজনার ক্ষেত্রেও সেই ব্যাপকতাকে আমি রক্ষা করতে চেয়েছি এবং কালোত্তীর্ণ করার প্রয়াসেও ছিলাম সচেষ্ট। শারীরীক কসরৎমূলক কিছু কম্পোজিসন এসেছে গল্পের অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেই। কিছু গ্রীক ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ব্যবহার রযেছে প্রয়োজনীয় স্থানেই। এছাড়া বর্ণনাত্মক চরিত্রাভিনয় একটা মূখ্য স্থান দখল করেছে। নাট্যবোদ্ধারা প্রযোজনাটিকে ইচ্ছে করলে যে যার পছন্দমত রীতিতে ফেলে নিতে পারেন। তবে আমার কাছে এটি নির্দিষ্ট কোন রীতিহীন। তবে মূখ্যতা বিচারে এখন পর্যন্ত আমি প্রযোজনাটিকে বর্ণনাত্মক চরিত্রাভিনয় রীতি বলেই আখ্যা দান করছি।
প্রযোজনাটির সমস্ত ভালটুকু কলাকুশলীদের এবং সমস্ত সমালোচনা ও দোষত্রুটির দায়ভার আমার।

কুশীলব

মীর জাহিদ হাসান    :    সৈয়দ লুৎফর রহমান     
মোঃ শাহনেওয়াজ     :    জাহিদুল কামাল চৌধুরী দিপু
উৎপল চক্রবর্তী     :    হাবিবুর রহমান হাবিব
ইকবাল চৌধুরী    :    পলি বিশ্বাস
সৈয়দ ফেরদৌস ইকরাম    :    আবুল কালাম আজাদ     
শিখা দাশ    :    বাঁধন             
জুয়েল    :    শিশির        
অরুন দাশ    :  সামিউল জীবন         
জানেসার    :    জনি         
সোহেল    :    মিঠুন        
এনামুল    :    সোনিয়া         
রিয়া    :    সুমন দাশ         
মাইনুল ইসলাম    :    ইমতু
পূর্নিমা সাহা    :    অনাবিল খিসা

কলাকুশলী
রচনা    :     আনন জামান
নির্দেশনা    :     মোস্তাফিজুর নুর ইমরান
আলোক পরিকল্পনায়    :     ঠান্ডু রায়হান
মঞ্চ পরিকল্পনায়    :     আলী আহমেদ মুকুল
পোষাক ও আবহসঙ্গীত    :     মোস্তাফিজুর নুর ইমরান
কোরিওগ্রাফী    :     কামরুল হাসান ফেরদৌস
পোস্টার ডিজাইন    :     পিযূষ দস্তিদার
রূপসজ্জা     :     শুভাশীষ দত্ত তন্ময়
আলোক সহকারী    :     কামরুজ্জামান সবুজ
আবহসঙ্গীত সহকারী    :     পলি বিশ্বাস, উৎপল চক্রবর্তী, জাহিদুল কামাল চৌধুরী দিপু
মঞ্চ সহকারী    :     ইকবাল চৌধুরী, মাইনুল ইসলাম, অরুণ দাশ
পোষাক সহকারী    :     সেলিনা আহমেদ ডেইজী
        পলি বিশ্বাস
প্রপস সহকারী    :     মাইনুল ইসলাম, বাঁধন
আলো সরবরাহ    :     মালেক লাইট হাউজ
প্রযোজনা ব্যবস্থাপক    :     আবুল কালাম আজাদ
সহ প্রযোজনা ব্যবস্থাপক    :     সামিউল জীবন, জুয়েল
সহ মঞ্চ অধিকর্তা    :     ইকবাল চৌধুরী ও পলি বিশ্বাস
মঞ্চ অধিকর্তা     :     জাহিদুল কামাল চৌধুরী দিপু
সামগ্রিক তত্ত্বাবধায়ক    : মীর জাহিদ হাসান

দেখবেন আজ সন্ধ্যা ৭টায়।

Check Also

Untitled-1

সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘শিখণ্ডী কথা’

মিডিয়া খবর:  হিজলতলী গ্রামে বাড়ি রমজেদ মোল্লার। তার পরিবারে জন্ম হয় রতন মোল্লার। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে …

জাদুর প্রদীপ

শিল্পকলায় স্বপ্নদলের ‘জাদুর প্রদীপ’

মিডিয়া খবর : স্বপ্নদলের ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মাইমোড্রামা ‘জাদুর প্রদীপ’। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares