Home » শিল্পকলা » আলীম মাহমুদের চর্যাগান
charja-1

আলীম মাহমুদের চর্যাগান

Share Button

ঢাকা:-

নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল-এর আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন চর্যাপদের নির্দিষ্ট রাগ আশ্রয়ে সুর ও কণ্ঠ প্রদানের মাধ্যমে স্বপ্নদল-সদস্য অধ্যাপক আলীম মাহমুদের ‘চর্যাগান’ শিরোনামের ডিভিডি সংকলনের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হলো গতকাল ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ।Chorga-Gaan-DVD-4

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস এনডিসি-র সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক অনিসুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আফসার আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্বপ্নদলের সহযোগী সংগঠন ‘সহজিয়া চর্যাগানের গ্রন্থিক দল’ কর্তৃক চর্যাগান পরিবেশিত হয়।
আধ্যাপক আলীম মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘চর্যাপদ’ এবং এর সঙ্গীতরূপ নিয়ে নিবিড়-গবেষণা করে আসছেন। তিনি চর্যাকারগণের নির্ধারিত রাগকে অক্ষুণ্ন রেখে প্রাপ্ত সমগ্র চর্যাপদের (৪৭টি পদ) সুরারোপ ও কণ্ঠসহযোগ করেছেন এবং সমগ্র চর্যাপদের সঙ্গীতরূপ নিয়ে এ ধরনের ব্যবহারিক-গবেষণা দুই বাংলায় জানা মতে এটিই প্রথম। তার এ অনন্যপ্রয়াসের ভিডিও ধারণের মাধ্যমেই নির্মিত হয়েছে ‘চর্যাপদ’ শিরোনামের ডিভিডি এ্যালবাম।

চর্যাপদ –

উঁচা উঁচা পাবত তঁহি বসই সবরী বালী।
মোরঙ্গি পীচ্ছ পরহিণ সবরী গীবত গুঞ্জরী মালী।।
উমত সবরো পাগল শবরো মা কর গুলী গুহাডা তোহৌরি।
ণিঅ ঘরণী ণামে সহজ সুন্দারী।।
ণাণা তরুবর মৌলিল রে গঅণত লাগেলি ডালী।
একেলী সবরী এ বণ হিণ্ডই কর্ণ কুণ্ডলবজ্রধারী।।

চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদর্শন। নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতম রচনা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীতের শাখাটির সূত্রপাতও এই চর্যাপদ থেকেই হয়। সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্রাবলি এই পদগুলিতে উজ্জ্বল। এর সাহিত্যগুণ আজও চিত্তাকর্ষক। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকার্য যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন। চর্যার প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ প্রমুখ। 

charja

Check Also

oishi-ashik

ঐশী ও আশিক গাইবেন আজ

মিডিয়া খবর:- জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঐশী ও আশিক সরাসরি গাইবেন বৈশাখী টেলিভিশনে। ৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১১টায় বৈশাখী টেলিভিশনের …

bakir-fasol

জুয়েল মোর্শেদ ও মমর বাকির ফসল

মিডিয়া খবর:- সংগীতশিল্পী  মাহফুজা মমর ‘বাকির ফসল’ গানটির মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে গত ৩০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares