Home » চলচ্চিত্র » রুচিশীল দর্শকদের চলচ্চিত্র ‘ অল্প অল্প প্রেমের গল্প’
alpo-alpo-prem

রুচিশীল দর্শকদের চলচ্চিত্র ‘ অল্প অল্প প্রেমের গল্প’

Share Button

ঢাকা:- 

-: রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ :-

সাধারনত যেসকল ছোট পর্দার পরিচালকরা বড় পর্দায় একটু ভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে আসেন সেসকল পরিচালকদের নির্মানকে মূল ওম বাণিজ্যিক ধারার পরিচালকরা বরাবরই আড়চোখে দেখেন।

তবুও থেমে নেই তারা। তাদের আড়চোখে তাকানোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন ছোট পর্দার পরিচালকরা। তাদের মধ্যে সানিয়াত একজন। সম্প্রতি তার পরিচালিত ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলো।

সপ্তাহের শেষদিন প্রেক্ষাগৃহে গেলাম চলচ্চিত্রটি দেখার উদ্দেশ্যে। যদিও চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে আগেই মোটামুটি ধারনা পেয়েছিলাম যারা আমার আগে দেখেছে তাদের কাছ থেকে। প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করে মোটামুটি একটি ভালো চেয়ার দেখে বসে পড়লাম। দর্শক আমরা সব মিলিয়ে ১০-১৫ জন। যাহোক, চলচ্চিত্রের শুরু হয়েছিলো মিশা সওদাগারকে দিয়ে। মোবাইল কলে ঘুম ভেঙে যায় তার। মোবাইলের ওপাশ থেকে ফরিদ চৌধুরী নামে কেউ একজন একটি ছেলেকে অপহরণ করার জন্য বলে। যার সাথে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মিশা কথামতো সেই ছেলেকে অপহরন করে। তবে অপহরন করার পূর্বে তার মাথায় জোরে আঘাত করে। এখানে বলে রাখা ভালো, ছেলেটি নীলয়। ওরকম আঘাত করলে কেউ বাঁচে কিনা আমার জানা নাই। যদি কেউ অজ্ঞানও হয় তাহলে এতো তাড়াতাড়ি জ্ঞান ফেরাটা আসলেই অলৌকিক। তাছাড়া এতে মাথা ফেঁটে গিয়ে রক্ত বের হওয়া উচিত। অথচ ছিঁটেফোঁটা কোন রক্ত দেখা যায়নি। হয়তো এটি চলচ্চিত্র বলেই সম্ভব হয়েছে।alpo-alpo-premer

মূলত এভাবেই চলচ্চিত্রের কাহিনী শুরু হয়। মিশা অপহরণ করে নীলয়কে সিলেট যাওয়ার পথে তার প্রেমের গল্প শুনতে চায়। নীলয় গল্প শুরু করে। পছন্দের মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার আগে সেই মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। মন খারাপ করে তার বিয়ের দাওয়াতে এসে মদ খেয়ে মাতাল হওয়ার এক পর্যায়ে নায়িকা শখের সাথে দেখা হয়। এখানে শখের উপস্থিতিতে কিছুটা কৌতুক আনতে গিয়ে একটা বিভ্রম ঘটে যায়, তা হল মদের বোতলের মুখ না খুলেই মদ খাওয়ার দৃশ্য দেখানোতে। এরপর তাদের মাতলামির গান শুরু হয়। গানের কথা এবং মিউজিক ভালো লেগেছে। শুধু একটি গান নয়, চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত টাইটেল গান সহ সব গান বেশ ভালো ছিলো। এক্ষেত্রে সংগীত পরিচালকরা বেশ রুচিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

এদিকে চলচ্চিত্রের কাহিনী গাঁথুনী ছিলো প্রশংসা করার মতো। মনোযোগ বিচ্যুতির কোন দৃশ্য চোখে পড়েনি। সংলাপে কিছুটা দূর্বলতা ছিলো। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে আসি প্রধান তিন চরিত্রের অভিনয় প্রসঙ্গে। মিশা সওদাগরের চরিত্রটা ছিলো গতানুগতিক ধারার বাইরে। খল চরিত্রের পাশাপাশি তাকে কিছুটা কমেডি চরিত্রে দেখা গেছে চলচ্চিত্রটিতে। এমন ভিন্নধর্মী চরিত্রে দক্ষতা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। নীলয় আগের থেকে বেশ উন্নতি করেছেন অভিনয়ে। তার প্রথম চলচ্চিত্রে দেখেছিলাম সংলাপ বলার সময় হাত-পা কিভাবে নাড়াচাড়া করবেন সেটা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিলেন, অন্তত এই চলচ্চিত্রে তিনি সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। নায়িকা শখ অতিরিক্ত দক্ষতা দেখাতে গিয়ে তার অভিনয়ে অদক্ষতার ছাপ ফেলেছেন বলা যায়। সংলাপ বলার সময় তিনি কন্ঠে যে অতিরিক্ত ভাব সংমিশ্রণ করেছেন তাতে তাকে চরম অপেশাদার মনে হয়েছে। যদিও তিনি একজন পেশাদার অভিনেত্রী। এসব বিষয়ে তিনি আরো নজর দিবেন আশাকরি। এছাড়া নতুন পার্শ্ব নায়িকাসহ বাকিদের অভিনয় ভালো লেগেছে। চলচ্চিত্রের শেষের দিকে কাবিলার উপস্থিতি দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে বলে আমি মনে করি।

এবার আসি সংলাপের বিষয়ে। কাবিলা যখন তার ভাইয়ের সাথে শখের বিয়ে ঠিক করতে আসেন তখন শখের মাকে খালাম্মা এবং বাবাকে খালু বলে ডাকতে শোনা যায়। কিন্তু বিয়ের দিন এই ডাক পরিবর্তিত হয়ে চাচী এবং আঙ্কেলে রুপ নেয়। ‘আঙ্কেল’না হয় বাদই দিলাম কিন্তু ‘চাচী’! যদিও এসব খুব গুরুতর ভুল নয়। তবে নিঁখুত চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে নজর রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।

বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সেট নির্মাণ চমৎকার হয়েছে। তবে এফডিসির চিরচেনা সেটের স্থান থেকে বেরিয়ে আসার একটা চেষ্টা করলে আরো ভালো লাগতো। মেকাপ তুলনামূলকভাবে সঠিক মনে হয়েছে। তবে মিশা সওদাগরের ঠোঁটে লিপস্টিকের মাত্রাটা কিছুটা বেশী মনে হয়েছে, যা দৃষ্টি কটু লেগেছে। ক্যামেরার ফ্রেমিং এবং ব্যকগ্রাউন্ড মিউজিকে নতুনত্ব ছিলো।

সবমিলিয়ে চলচ্চিত্রটি ভালোর কাতারে ফেলতে চাই। কেননা আমি শুধুমাত্র অর্থ দিয়ে চলচ্চিত্রের ভালো-মন্দ নির্ণয়ের বিপক্ষে। হ্যাঁ, এটা ঠিক পরিচালককে সুন্দর ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রের পূর্বে ব্যবসায়িক দিকটা মাথায় রাখতে হবে। কেননা চলচ্চিত্র ব্যবসা না করলেতো প্রযোজক থাকবে না।

সানিয়াতের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ কিছু রুচিশীল দর্শকদের হলে আনতে সক্ষম হয়েছে। এটা তার এক রকম সফলতা বলা যেতে পারে।

alpo-alpo-prem-1

Check Also

ferdous-moushumi

ফেরদৌস, মৌসুমী মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে আসছেন

মিডিয়া খবর:- ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ ছবির ছবির শুটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ.  গানের শুটিং অবশ্য শেষ হয়েছে। …

bhalobasha emone hoy

চিত্র পরিচালক হিসেবে তানিয়া আহমেদের অভিষেক

মিডিয়া খবর:- অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা এমনি হয়’। চিত্র পরিচালক হিসেবে এ চলচ্চিত্রের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares