Home » মঞ্চ » আজ আরণ্যকের স্বপ্নপথিক শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায়

আজ আরণ্যকের স্বপ্নপথিক শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায়

Share Button

ঢাকা:-

আজ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজনা স্বপ্নপথিক মঞ্চস্থ হবে গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবে।

নাট্যকার হারুন রশীদের কথা –  বিত্ত নাই, বেসাত নাই। কিন্তু স্বপ্ন আছে দের অনেক। জীবনের কাছ থেকে কিছু না পেলেও আকাশজোড়া স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে ওরা। ওরা শ্রমিক। পোশাক তৈরীর শ্রমিক। ওদের রক্ত, ঘাম আর মৃত্যুর বিনিময়ে বাড়ে রাষ্ট্রের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ আর বিত্তের বৈভবে পরিপূর্ণ হয় মালিকদের জীবন। কিন্তু পূরণ হয়না ওদের সামান্যতম চাওয়াও। তারপরও চিত্তের ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ ওদের জীবন। ওরা হাসে, গান গায়। না পাওয়ার বেদনাকে ভুলে যেতে চায় কাজ আর কৌতুকে মত্ত থেকে।  ওরা জানে, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী হচ্ছে এক ধরণের খাঁচা। সে খাঁচায় আছে ভাল খাওয়া, ভাল পরা আর ভাল জীবনের প্রলোভন। কিন্তু বাস্তবে মেলেনা কিছুই। খাঁচায় বদ্ধ পশু এবং পাখিকে তবু খেতে দেওয়া হয় কিন্তু গামেন্টস্ এর খাঁচায় বন্দী মানুষগুলোর অন্ন জোটেনা দু’বেলা। খাঁচার পশু এবং পাখির পায়ে থাকেনা কোন শেকল। কিন্তু গার্মেন্টস্ কর্মীদের পায়ে শেকল, হাতে শেকল, কোমড়ে জড়ানো লোহার বেড়ি। পুঁজি আর মুনাফার যাঁতাকলে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হয় ওরা। রাষ্ট্র আর কারখানা মালিকের লাভের উপকরণ হয়ে ওরা মনের। অবহেলা আর নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে ওরা প্রাণ দেয় বারবার।  তারপরও জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ওরা এগিয়ে যায়-পথ চলে স্বপ্নের ডানা মেলে।

নির্দেশক মামুনুর রশীদের কথা      -বাঁচিবার বড় সাধ –     আমাদের জীবনের রক্তাক্ত অধ্যায়গুলি আমাদের নাটকের উপজীব্য হয়ে উঠেছে। সেই মুনির চৌধুরী কবর থেকে আজকের হারুন রশীদের “স্বপ্নপথিক” যেন একই সুতোয় গাঁথা। মাঝখানের নাটকগুলিও তাই। সব জায়গায় রক্তক্ষরণ। এমনকি শেক্সপীয়ারে ঢুকেও পাই আমরা রক্তাক্ত কোরিওলেনাসকে।
সব সমাজেই দ্বন্দ্ব আছে, সংঘাত আছে, কিন্তু রক্তাক্ত পরিণতি আছে কিনা তা আমার জানা নেই। মানুষ পুড়ে মরছে, লঞ্চ ডুবিতে মরছে, ভবন ধ্বসে মৃত্যুবরণ করছে হাজারে হাজার। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সাম্প্রদায়িকতার সেই অভিশাপ তো আছেই। আছে আদিবাসীদের উপর নিপীড়ন তাও রক্তাক্ত। এদেশের বিবেকবান যে কোন মানুষ কি এসব ছেড়ে পুঁথিপাঠ করবে? রবীন্দ্রনাথও নাটকে মানুষের এই রক্তাক্ত বিষয়কে প্রধান করে তুলেছেন।

আমরা তাই মানুষের পাশেই দাঁড়াতে চাই। সমস্যাকে এড়িয়ে লুকোতে চাই না তথাকথিত দ্রুপদীর আড়ালে অথবা অতীতগামিতায়।আমরা অনুসরণ করতে চাই এই অঞ্চলের সংস্কৃতির সহজিয়া ভাবটি। যার অন্তরের সুর মানুষ। দূর্বোধ্যতা, প্রযোজনায় অহেতুক প্যাচপয়জার সর্বস্বতা কালে কালে আমাদের শিল্পকে সর্বস্বান্ত করে দেবে। সেই সর্বনাশের পথে আমরা যাব না। মানুষের চিরন্তন যে আকুতি “বাঁচিবার বড় সাধ” সেই বাঁচিবার বড় সাধ যে কিভাবে কিছু দানবের অর্থ লিপ্সার কাছে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় তাই আমাদের স্বপ্নপথিক নাটকের একটা বড় দিক।

নাটক একরৈখিক নয়। তার শাখাপ্রশাখা লাগে। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর পরিভ্রমণেই সেই পূর্ণতা পায়। সেই পথে কোন দরদী দর্শক যদি এদেশের শ্রমজীবি মানুষের সাথে কোথাও একান্ত হয়ে যায় তার জন্যই একজন ক্ষুদ্র নির্দেশকের সামান্য প্রয়াস।swapno

কুশীলবগণ
০১. আজিজুল হাকিম সিকিউরিটি ইনচার্জ, আরিফ হোসেন আপেল, ০২. সুরভী রায়    সহকারী সিকিউরিটি ইনচার্জ, ০৩.ফোয়ারা গার্মেন্টস শ্রমিক রুবলী চৌধুরী, ০৪. লতিফ  গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা মনির জামান, ০৫.     জয়নাল আবেদীন  ফ্লোর ম্যানেজার  রুহুল আমিন, ০৬.  জরিনা  গার্মেন্টস শ্রমিক মোমেনা চৌধুরী,০৭.  সুফিয়া   গার্মেন্টস শ্রমিক  শামীমা শওকত লাভলী, ০৮. রাধারানী  গার্মেন্টস শ্রমিক  তমালিকা কর্মকার, ০৯. আসকার সাঈদ    গার্মেন্টস শ্রমিক  সাঈদ সুমন, ১০. মেহেরাব হোসেন মনা ভবন মালিক সাজ্জাদ সাজু, ১১. বেগম  গার্মেন্টস শ্রমিক  হাসিনা সাফিনা বানু, ১২. রেণু  গার্মেন্টস শ্রমিক  শারমিন হায়াত দীপা, ১৩. কমান্ডার রেসকিউ টিমের লিডার        মামুনুর রশীদ, ১৪.  ডি আই জি পুলিশ অফিসার  হারুন রশীদ, ১৫. এ এস পি পুলিশ অফিসার  কামরুল হাসান, ১৬. জুয়েল পুলিশ কনস্টেবল  জুয়েল, ১৭.  শেখ মিলন  পুলিশ কনস্টেবল  শেখ মিলন, ১৮. আব্দুল আজিজ ভলান্টিয়ার ফিরোজ আল মামুন, ১৯. আব্দুল মমিন ভলান্টিয়ার হাশিম মাসুদ, ২০. তাহমিনা খান সাংবাদিক লায়লা বিলকিস ছবি, ২১. মার্টিন ক্যামেরাম্যান  অনির্বাণ সাহা, ২২. শাহনাজ  সাংবাদিক শারমিন হায়াত দীপা, ২৩. নিয়াজ  ক্যামেরাম্যান মোঃ নিয়াজুল ইসলাম
২৪.  গোফরান   রেসকিউয়ার  দিলু মজুমদার, ২৫.  ইশতিয়াক ডাক্তার ইশতিয়াক, ২৬.  গার্মেন্টস শ্রমিক  রেসকিউয়ার, ভলান্টিয়ার এস রানা, জোবায়ের জাহিদ, মরু ভাস্কর, রেজওয়ান পারভেজ,  কৌশিক, শাহরান, জিয়াদুল হক, অপু  মেহেদী, স্বাক্ষ্য শাহীদ, শান্ত।

নেপথ্যে যারা কাজ করেছেন-

রচনা্ঃ হারুন রশীদ,  নির্দেশনাঃ  মামুনুর রশীদ, সহকারী নির্দেশনঃ শামীমা শওকত লাভলী, আলোক পরিকল্পনা : ঠান্ডু রায়হান, সহকারী : ফরিদ উদ্দিন, মঞ্চ পরিকল্পনা : ফয়েজ জহির, মঞ্চ নির্মাণ সমন্বয়কারী : ইসতিয়াক হোসেন, মঞ্চ নির্মাণ সহযোগী :  জুবায়ের জাহিদ, মাহফুজ মুন্না, কৌশিক, অনির্বান,শান্ত, সাক্ষ্য শাহীদ, শাহরান, জিয়াদুল হক, অপু, দ্রব্য সামগ্রী পরিকল্পনা : হাশিম মাসুদ, দ্রব্য সামগ্রী সহযোগী : তমালিকা, এস রানা, সাঈদ সুমন, পারভেজ, কৌশিক  সাহা, মরু ভাস্কর, মনির, কোরিওগ্রাফি : ওয়ার্দা রিহাব, পোষাক পরিকল্পনা : এনাম তারা সাকী, পোষাক সহযোগী : ইফতাজ জাহান, সুরভী রায়, অপু মেহেদী,  সঙ্গীত পরিকল্পনা : রামিজ রাজু, সহযোগিতায় : মিথুন, সহকারী : সঞ্জীব, প্রচ্ছদ : হাশিম মাসুদ, মঞ্চ ব্যস্থাপক : কামরুল হাসান।

এ নাটকটি দেখবেন জাতীয় নাট্যশালায় আজ  সন্ধ্যা ৭টায়।

Check Also

আজ নাটক কঞ্জুসের ৬৯০ তম মঞ্চায়ন

মিডিয়া খবর :- ৭০০ তম মঞ্চায়নের পথে এগিয়ে চলেছে হাসির নাটক কঞ্জুস। আজ নাটকটির ৬৯০ …

সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘শিখণ্ডী কথা’

মিডিয়া খবর:  হিজলতলী গ্রামে বাড়ি রমজেদ মোল্লার। তার পরিবারে জন্ম হয় রতন মোল্লার। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares