Home » মঞ্চ » অন্ধকারে মিথেন এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে
andhokare mithen

অন্ধকারে মিথেন এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে

Share Button

ঢাকা:-

 গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবে আজ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে রেপার্টরি থিয়েটার আগন্তুক এর নাটক অন্ধকারে মিথেন।

অন্ধকারে মিথেন নাটকটিতে এক ধরণের নিরীক্ষা করতে চেয়েছেন নির্দেশক। যা বলবার কথা ছিলো তার সবটাই নিংড়ে দিতে চেয়েছেন নাটকটির প্রযোজনায়। যারা বিশ্বাস করেন এখন পর্যন্ত নাটকের প্রাণ লুকোন আছে অভিনয় এর মধ্যে, সেই অভিনয় দিয়ে ধরতে চেয়েছেন মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব গুলোকে। অনুপ্রাণিত হয়েছেন সফোক্লিস এর ‘ইডিপাস থেকে নতুন কোন গল্পের জন্ম দিতে। দেখতে চেয়েছেন মানুষ কি করে নিয়তি-র কাছে নিজের অজান্তেই আটকে পড়ে। জানতে চেয়েছেন নারীর অন্তর্গত অনুভূতি থেকে। এইসব দেখবার জন্য বেছে নিয়েছেন ১৯২০ সালের অন্ধকার এক খনির কুপকে। ১৯২০ সাল-কে, যখন ইডিপাস ও ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স নিয়ে চলছে গবেষণা ঠিক তখনই আমেরিকার কোন এক কয়লা খনিতে সবার অজান্তে ঘটতে থাকা ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে। হয়তো এটা ঔদ্ধত্ব বলবেন অনেকেই।

নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার বলেন, ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই তখন নতুন সৃষ্টির আনন্দময় স্বপ্নে টগবগ করে ফুটছি। লেখার জন্য একটা ভাবনা অনেকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছিলো, বিশেষ করে ইটালীর একটা প্রযোজনা ‘ইডিপাস অন দি টপ’ দেখবার পর থেকেই। সাথে যুক্ত হলো নতুন করে বন্ধুত্ব হওয়া সালেক খান এর সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতার কিছু ফলাফল। তবুও দ্বিধায় ছিলাম এমন একটা বিষয় নিয়ে কাজ করা সম্ভব কিনা? সবসময়ের মতো ঝুমি তার কাঁধ এগিয়ে দিলো আমার সাহস বাড়িয়ে তুলবার জন্য। উৎসাহ দিলেন সালেক খান। অর্ধেকটা পান্ডুলিপি পড়ে শোনাবার পর যখন আলী যাকের আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করলেন শেষাংশ শুনবার জন্য এবং সর্বোপরি আমার স্বপ্ন দেখা বন্ধুরা যখন এক সাথে রাজী হয়ে গেলো এই নাটকটি করতে তখন সিদ্ধান্তে উপনিত হলাম। শুরু হলো মহড়া। এর তার ড্রইংরুমে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আমাদের চোখে ঝলকানি দিতে শুরু করে মঞ্চের উজ্জ¦ল আলো গুলো। কাজ করতে করতে বিচ্যুত হয়েছে অনেক বন্ধু, ব্যস্ততা সরিয়ে নিয়েছে কাউকে কাউকে কিন্তু কাজ থেমে থাকেনি। আমার বিশ্বাস তাদের স্বপ্নটাও মরে যায়নি এখনো।

কিন্তু আমরা যে তরুণ। তাই ঔদ্ধত্ব দেখাবার ইচ্ছা আমাদের সহজাত। পরিশেষে ‘অন্ধকারে মিথেন’ আমাদের সকলের। এর যা কিছু ভালো তার সবটুকু আগন্তুক এর বন্ধুদের, যাদের অন্তঃস্থ ভালোবাসা ছাড়া নাটকটি মঞ্চায়ন ছিলো অসম্ভব। আর যা থাকে দায় সেটা একান্তই নির্দেশক এর ব্যর্থতা।

 কুশীলব গনের নাম – ভিভিয়ান : ত্রপা মজুমদার (থিয়েটার), তরুণী: তাহ্নীনা ইসলাম (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), ব্রাউন : ফয়েজ জহির (আরণ্যক), এডওয়ার্ড : জাহাঙ্গীর আলম (প্রাচ্যনাট), লরেন্স :পান্থ শাহরিয়ার (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), জন :মোস্তাফিজ শাহীন (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), টমাস:ফখরুজ্জামান চৌধুরী (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়)

নেপথ্যে যারা কাজ করেছেন- রচনা ও পরিচালনা : পান্থ শাহ্রিয়ার, মঞ্চ পরিকল্পনা : ফয়েজ জহির, আলোক পরিকল্পনা : অম্লান বিশ্বাস (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), আবহ সঙ্গীত: আহসান রেজা খান (সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার), সহযোগী : মাহফুজ রিজভী (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), কোরিওগ্রাফী : তাহনিনা ইসলাম ও মোস্তাফিজ শাহীন , পোষাক পরিকল্পনা : তাহনিনা ইসলাম , স্থির চিত্র : মেজবাউর রহমান আর্থার ও প্রজ্ঞা , মিলনায়তন ব্যবস্থাপনা : জর্জ দীপক বায়েন। 

নাটকটি আজ শিল্পকলাএকাডেমীরএক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে।

Check Also

Untitled-1

সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘শিখণ্ডী কথা’

মিডিয়া খবর:  হিজলতলী গ্রামে বাড়ি রমজেদ মোল্লার। তার পরিবারে জন্ম হয় রতন মোল্লার। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে …

জাদুর প্রদীপ

শিল্পকলায় স্বপ্নদলের ‘জাদুর প্রদীপ’

মিডিয়া খবর : স্বপ্নদলের ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মাইমোড্রামা ‘জাদুর প্রদীপ’। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares