Home » মঞ্চ » রাই-কৃষ্ণ পদাবলী শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায়
rai-podaboli

রাই-কৃষ্ণ পদাবলী শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায়

Share Button

ঢাকা:-

আজ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় নৃত্যাঞ্চলের রাই-কৃষ্ণ পদাবলী মঞ্চস্থ হবে গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবে।

বিভিন্ন রকমের সঙ্গীত এবং নৃত্য-প্রকরণের সম্মিলনে রাধা এবং কৃষ্ণের মনোজগতের নানা বিচিত্র ভাবের প্রথাগত উপস্থাপনের ধারাটিই রাসলীলা নামে পরিচিত। শত্রুদের বিনাশ এবং ধর্মের/সত্যের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন থেকে মথুরা নগরীতে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন, রাধা তখন তাঁর প্রিয়ের নিকট থেকে নিজের বিরহের ভয় এবং উদ্বেগ গোপন রাখতেই গোপী এবং গোপিণীগণকে সঙ্গে নিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দিত ভঙ্গীমায় কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করতে শুরু করেন। তারা নিজেদের স্বর্গীয় প্রেমের প্রসঙ্গে গান করছিলেন, গানের বিষয়বস্তুতে আরো ছিল মিলনের আনন্দের কথা এবং পরস্পরের সাথে পূণর্মিলনের আকঙ্খার কথাও। যখন তাঁরা নৃত্য করছিলেন, তখন রাধা-কৃষ্ণের স্বর্ণালী এবং কৃষ্ণ-বর্ণের দু’টি দেহ যেন আদি-অন্তহীন ‘যুগল মুর্তি’র মত একীভূত হয়ে যাচ্ছিল। আর এভাবেই তাঁরা নিজেদের পরম পবিত্র এবং মৃত্যুহীন প্রেমের অনিন্দ্য প্রকাশ ঘটাচ্ছিলেন।

রাই-কৃষ্ণ পদাবলীর প্রেক্ষাপট – আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন সারা দুনিয়াজুড়েই ভালবাসার প্রকৃত অর্থ এবং গুরুত্ব হারিয়ে যেতে চলেছে। জীবনের সকল স্তরেই আবেগটা এখন একেবারে কৃত্রিম এবং যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। একটা সম্পর্ক, তা’ যেমনই হোক না কেন, তার সৌন্দর্য্য, ঐশ্বরিকতা এবং বিশুদ্ধতা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। জীবন এবং অস্তিত্বের প্রয়োজনেই মানুষের আত্মা প্রেম প্রত্যাশা করে, তার প্রয়োজন ধৈর্য্য এবং ত্যাগের দৃশ্যমান অভিব্যক্তি।

 প্রাসঙ্গিক ধারণা – রাই-কৃষ্ণ পদাবলী হচ্ছে রবীন্দ্র-শৈলী এবং কীর্তনের মিশ্রণে নির্মিত এক বিশিষ্ট আঙ্গিকের গীতি-কোলাজ। এর মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের কাছেই প্রেমের বারতা পৌঁছে দেবার প্রয়াস চালানো হয়ে থাকে। রাই-কৃষ্ণ পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমাভিসারের মনোজাগতিক প্রতিটি উপলব্ধির আনুপূর্বিক বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়।

 রাধাকৃষ্ণের কাহিনীটি প্রকৃতপক্ষেই সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন একটি লোকজ উপাখ্যান। রাধার সাথে কৃষ্ণের যুব-সুলভ সৌন্দর্য মন্ডিত প্রেম-বিলাসকে (লীলা) স্পষ্টতই ঈশ্বর এবং মানবাত্মার পারস্পরিক ক্রিয়া-কুশলতার রূপক হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। কৃষ্ণের সাথে রাধার তূরীয় আনন্দমগ্ন প্রেম এবং তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলিকে প্রায়শ পরমাত্মার সাথে মিলনের প্রয়াস হিসাবেই ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। রূপকার্থে এ ধরণের প্রেম প্রেমিক-প্রেমিকার পবিত্র আন্তঃসম্পর্কের দিকটাকেই প্রস্ফুটিত করে।

কাহিনীর শুরুটা বৃন্দাবনে, যেখানে একসাথেই বেড়ে উঠেছিলেন রাধা এবং কৃষ্ণ। সেখানেই সময়ের সাথে সাথে তাঁদের প্রেমও বিকশিত হতে শুরু করেছিল। রাজ্যাভিষেকের আগে যখন কৃষ্ণ মথুরায় যাবার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন, সেই সময়টাতে রাধা খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কৃষ্ণের অনুপস্থিতির কালে রাধা গোপী গোপিনীদের সাথে, ললিতা, বিশাখা, বৃন্দা এবং সুবলের সাথে, কৃষ্ণের স্মৃতিচারণ করতে শুরু করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতেই সঙ্গীতে এবং বর্ণনায় বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনাবলী উপস্থাপিত হয়েছে শেখ হাফিজুর রহমানের রচিত এই আলেখ্যে।

মানভঞ্জন পর্ব – রাধাকে দুঃখে ভারাক্রান্ত অবস্থায় দেখে কৃষ্ণ তাঁর রূপের প্রশংসায় রাধাকে সান্তনা দেবার প্রয়াস করলেন। কৃষ্ণ তাঁর ‘সুন্দর মদন মোহিনীর মন প্রফুল্ল করার জন্য নিজের ঐশ্বরিক মায়া-মন্ত্র প্রয়োগ করলেন।

রাইকৃষ্ণ পদাবলীতে রাধা এবং কৃষ্ণের মূর্তিমান রূপের কাব্যিক বয়ান মনোহর দক্ষতায় উপস্থাপন করেছেন খ্যাতিমান অভিনেতা শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কাব্যিক সুষমান্ডিত এ সংগীতালেখ্য আমরা মুগ্ধ বিস্ময়ে লক্ষ্য করি প্রবল অনুরাগের বিবিধ অভিব্যক্তি-ক্রোধ এবং সান্তনা, মিলন এবং বিরহ, সর্বোপরি প্রেমাস্পদের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেবার আন্তরিক বাসনা।

ঘটনাক্রমে, কৃষ্ণের অনিঃশেষ প্ররোচনায় উদ্দীপিত হয়ে রাধা আর নিজের আবেগ আড়ালে রাখতে পারেন না, এবং প্রেমিকের প্রতি পুলকিত হয়ে পড়েন। অপার স্বর্গীয় শুদ্ধতা, শ্রদ্ধা এবং প্রেম-মগ্নতায় রাধা নিজেকে কৃষ্ণের কাছে সমর্পন করেন।

 রাই-কৃষ্ণ পদাবলী গীতিনাট্য নেপথ্যে ও মঞ্চে যারা কাজ করেছেন-  রচনা:   শেখ হাফিজুর রহমান, পান্ডুলিপি সম্পাদনা : শঙ্কর তালুকদার, ভাবনা ও পরিচালনা :  সুকল্যাণ ভট্টাচার্য, সহযোগী নৃত্যনির্দেশক : সোহেলী মহাপাত্র ও প্রলয় সরকার, সঙ্গীত পরিচালনা : রত্না চৌধুরী,  সঙ্গীত সম্পাদনা   : আবলু, কন্ঠ সঙ্গীতে : হৈমন্তী শুক্লা, রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা, মনময় ভট্টাচার্য, অন্তরা চৌধুরী, জয়তী চক্রবর্তী ও অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধারা বর্ণনা : সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ ঘোষ, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশীষ বসু ও অমিত রায়,  মাল্টিমিডিয়াংশ পরিচালনা ও সম্পাদনা: পলাশ সরকার, সেট ডিজাইন : নুরুদ্দিন ফারুক শুভ, সহযোগী    : গাজী সাজ্জাদ হোসেন লাচ্চু, রূপসজ্জায় : তাপস মন্ডল, আলোক পরিকল্পনা : নাসিরুল হক খোকন, আলোক সজ্জা  :  সবুজ ভুঁইঞা, পোষাক পরিকল্পনা : সুকল্যাণ ভট্টাচার্য, পোষাক তৈরি :  দিব্য কান্তি সেন, অনুপম টেইলার্স, পোস্টার ডিজাইন :পলাশ সরকার, স্ক্রিন ফটোগ্রাফী : লিটন দে,

অংশগ্রহণকারী শিল্পীবৃন্দ : আইরিন পারভীন, শাম্মী ইয়াসমীন ঝিনুক, আয়শা সিদ্দিকা এলি, ফারজানা ইয়াসমীন মিলি, আনিকা হোসেন বৈশাখী, আরিফিন সুলতানা নিপু, অরুনমা দত্ত, শাহীনুর              আক্তার, মীম চৌধুরী, সাদরিনা রহমান পিয়া, ফারজানা মিতা, সাবরিনা পর্ণ, মেরী-মনি রোজারিও, শুভ্রা কোড়াইয়া। মোঃ আবুল হোসেন তপন, ঝোটন সিলভেস্টার ছেড়াও, মোঃ নাজিব মাহফুজ লিমন, সুকোমল ইফতেখার কাঁকন, মোঃ সোহেল ভূঁইয়া, মোঃ মজিবর, রাসেল আহমেদ, মোঃ শাহাদাৎ হোসেন নিপু, সাগর আচার্য্য, আব্দুল হাদী (মেহেদী) তানভীর হোসেন, শাহিন সরকার, গোলাম রাব্বানী (ইমরান) শাহীন কবীর, আল- আমিন, মোঃ হাফিজুর রহমান (সাকিব),এইচ,এম মেহরাফ হাসনাইন (রিজভী), মোঃ আরিফুল ইসলাম।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নৃত্যাংশ প্রধান ভূমিকায় : শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ।

এ নাটকটি দেখবেন জাতীয় নাট্যশালায় আজ  সন্ধ্যা ৭টায়।

Check Also

Untitled-1

সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘শিখণ্ডী কথা’

মিডিয়া খবর:  হিজলতলী গ্রামে বাড়ি রমজেদ মোল্লার। তার পরিবারে জন্ম হয় রতন মোল্লার। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালে …

জাদুর প্রদীপ

শিল্পকলায় স্বপ্নদলের ‘জাদুর প্রদীপ’

মিডিয়া খবর : স্বপ্নদলের ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মাইমোড্রামা ‘জাদুর প্রদীপ’। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares