Home » সঙ্গীত » সুগায়িকা ফেরদৌস আরা’র সাথে আলাপন
ferdous ara

সুগায়িকা ফেরদৌস আরা’র সাথে আলাপন

Share Button

ঢাকা:-

মিডিয়া খবর :- আপা কেমন আছেন?

ফেরদৌস আরা :- ভালো।

মি: খ:- আমাদের দেশে নজরুল সঙ্গীতের চর্চা এখন কিছুটা সীমিত, এটা কিভাবে প্রসারিত করা যায়?

ফে: আ:- আমি প্রথমেই প্রশ্নটাকে উল্টিয়ে দিতে চাই, কেন? বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম -তার যে কার্যক্রম তা মোটেও সীমিত নয়। একাত্তরের পরে আমরা আমাদেরferdous-ara-1 দেশকে পেয়েছি এবং আমাদের জাতীয় কবিকেও পেয়েছি। জাতীয় কবির কাজ সরকারী এবং বেসরকারী এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েও আমরা কিন্ত নীরলস ভাবে করে চলেছি। বাংলাদেশে অনেক কাজ হচ্ছে। গবেষণাধর্মী প্রচুর কার্যক্রম হচ্ছে। আর তোমার কথা যদি ধরি তাহলে বলা যায় একাত্তরের পর বাংলাদেশে আমাদের জাতীয় কবিকে নিয়ে যে রকমের কাজ হওয়া দরকার ছিল সে রকম হয়নি ।

মি: খ:- জানতে চাইবো আপনার গানের যাত্রাটা কিভাবে শুরু হয়েছিলো ?

ফে: আ:- আমার পরিবার ছিলো সঙ্গীতপ্রিয় পরিবার। আমার পিতা ব্যাক্তি জীবনে প্রকৌশলী ছিলেন তাহলেও তিনি উচ্চাংগ সংগীত বিশারদ ছিলেন। আমার চাচা আব্দুর সাকুর-বিখ্যাত একজন মানুষ তিনি কথা সাহিত্যিক ছিলেন। সংগীতের উপর প্রচুর পুস্তক আছে। অগাধ জ্ঞান তার সংগীতের ওপর। তো আমরা ছিলাম আমরা চারবোন এবং একভা্ই সকলে গান করতাম। আমি ছিলাম সবার চেয়ে ছোট। বড় বোনরা গান করতেন আর আমি শুনতাম। বড়বোনেরা বিভিন্ন জায়গায় গান করে প্রা্ইজ পেতেন। আমি অনুপ্রেরণা পেতাম। তখন টেলিভিশন শুরু হয়নি তখন ছিল রেডিও। রেডিওর গানশুনে বোনেরা গবেষণা করতো। তখনতো বিখ্যাত শিল্পীরা নজরুলের গানকে শুদ্ধভাবে করতো। আমি তখন থেকে শিখতাম। রেডিওর অথেনটিকসুর এবং কথাকে অক্ষুণ্য রেখে যিনি গাচ্ছেন তার গানকে নিয়ে গবেষণা করতো বোনেরা। মজার ব্যাপার কিজানো – গানগুলোকে ক্যাসেট করে লগবুক তৈরি করে বোনেরা কাজ করতো। আর এখনতো বাফা- নজরুল ইনিষ্টিটিউট- নজরুলএকাডেমিতে অনেক কাজ হচ্ছে। আমিও ছোট পরিসরে কাজ করছি। আমার একটা স্কুল আছে সুর সপ্তক। আমি সেখানে স্টুডেন্ট তৈরি করছি আর আমি আমার অন্য একটা পরিকল্পনা আছে আসলে আমি অন্যচিন্তা নিয়ে শুরু করেছি স্কুলটি -আমার পিতার একটা নির্দেশনা ছিল যে যতক্ষণ পারফমার থাকবেত তখন শিক্ষকতার কাজ করবে না। আমার স্টুডেন্টরা যারা অনেক সার্প, অনেক জ্ঞানী তাদের দেখাশোনার জন্য আমি এখন শিক্ষকতা করছি। আমার স্কুলের শুরুটা ছিলো দু’হাজার সালে।

মি: খ:-  নজরুল সংগীতের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠলেন কবে থেকে?

ফে: আ:- এটা আমার রক্তে ছিল। বড়ferবোনেরা যখন গান করতো তারা প্রাইজ পেত তাতে আমি অনুপ্রেরণা পেতাম।আর ছোট বেলাতে আমি ডান পিটে ছিলাম নাচ, খেলাধুলা করতাম গানটা তখন আসেনি কিন্তু যখন বুঝতে শুরু করলাম সংগীতের ব্যাপকতা কি?  যখন দেখলাম এটা আসলে ধ্যানের এবং সাধনার ব্যাপার। তখন এর গবেষণার  প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করলাম। আর নজরুল সংগীতের প্রতি ভালো লাগা এবং অবচেতন মনে রাগাশ্রীত গানগুলোতো আছে, সে গুলো বাস্তবে সাধনা করে রপ্ত করার ব্যাপার। এভাবে অনুরাগী হয়ে উঠেছিলাম।

মি: খ:- আচ্ছা আমরা কথা বলছিলাম একটু আগে আপনার গানের স্কুল সুরসপ্তক নিয়ে। তো জানতে চাচ্ছি আপনার স্কুলে যারা শিখতে আসে তাদের মধ্যে নজরুল সঙ্গীত শেখার আগ্রহটা কতটুকু ?

ফে: আ:- অনেক অনেক বেশি আগ্রহ দেখছি। আমি শুধু আমার স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। আমি ঢাকা ভার্সিটি , অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনিষ্টিটিউট এবং বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যেথানে গেছি সেখা্নেই দেখেছি অনেক অনেক আগ্রহ। তবে আমি একটা ব্যাপারে চ্যানেল গুলোকে অভিনন্দন জানাচ্ছি তারা এখন অনেক বড় বড় সংগীতের আসর করছেন এবং তারা প্রমোট করছেন প্রতিভা ময় সংগীতশিল্পিদের। এটা অনেক বেশি করে এখনকার বাবা মায়েদের সংগীতের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে দিয়েছে। আগেকার সময়ে বাবামারা মনে করতেন যে ছেলেমেয়েরা বখাটে হয়ে যাবে সংগীত মুখি হলে। এ ধারনা পাল্টেছে একারনে চ্যানেলগুলোকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

মি: খ:- বর্তমানে আমাদের দেশে শিল্পীরা একেকজন একেক রকম করে নজরুল সংগীত পরিবেশন করছে। এতে করে কি কবির গানের মৌলিকত্ব হারাচ্ছে না ? আপনার মতামতকি?

 ফে: আ:- আসলে তুমি বলতে চাচ্ছ যে গায়কী নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে। কোন সুরটাকে শ্রোতারা মূল বলে ধরে নেবে। সেটা বলছো, না? শোনো, এটা আসলে আগেও ছিল শুধু এখন নয়। শোন যখন সত্যায়ন বোর্ড ছিলো তখন এই বিভ্রান্তি আরো প্রকট ছিল। আমাদের সময়ে প্রবীন শিল্পীরা যখন আমাদেরকে গান শেখাত তখন আমরাও ছিলাম বিভ্রান্ত। কেন? কারন আমরাও ভাবতাম যে কোন সুরটা আমরা গাইব আর কোন সুরটা আমরা বর্জন করব। একই রকম ঘোর পাক আমরাও খেয়েছি। কিন্তু এখন সে বিভ্রান্তি কেটে গেছে। নজরুল ইনিষ্টিটিউট সেটা কাটিয়ে দিয়েছে। ওরা নজরুলকে নিয়ে গবেষণা করে এমন একটা সত্য দাঁড় করিয়েছে যে সেটা এখন সবার জন্য সত্য।  সেটা হলো কবি নজরুল যখন সুস্থ জ্ঞানে ছিলেন তখন উনি নিজে যে গানগুলো করতেন সেটাকে অক্ষুন্য ধরে নিচ্ছে ইনিষ্টিটিউট। এটা সত্যায়ন বোর্ডের সত্যতা আর আরেকটা ব্যাপার হল কবি নজরুল এর মৃত্যুর পর তার যে গুনগ্রাহীরা, তার খুব কাছের মানুষেরা যারা কবির গানকে কবির সাথে থেকে সংরক্ষণ করেছেন সে গানগুলো মৌলিক। এ গুলোকে আমরা সহ সকলে সত্য এবং অখন্ড ধরে নিচ্ছি। কারন এ সব কিছু হলো গবেষণা লব্ধ।

মি: খ:- আপা নজরুল সংগীত শিল্পীদের জাতীয়ভাবে জাতীয় একটা সংগঠন থাকা উচিত এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?ferdous-ara2

ফে: আ:- তুমি যেটা বলছিলে সরকারী ভাবে। সেক্ষেত্রটা আলাদা । সেটা ছাড়া অনেক বলিষ্ঠ সংগঠন রয়েছে। নজরুল সংগীত পরিষদ, নজরুল একাডেমিতো রয়েছেই। তুমি বিকশিত হবার কথা বলছিলে। হ্যা বিকশিত হওয়ার ব্যাপারটা কম। সুযোগ কম পাওয়া যাচ্ছে গাইবার। আমি বলতে চাচ্ছি  যে নজরুলের হাজার হাজার গান রয়েছে কিন্তু গাইবার সুযোগকম। এমন অনেক গান আছে যে গুলো কেউ শোনেনি কিন্তু অনেক ভালো অনেক সমৃদ্ধ সে সব গান। কেউ গাইবার সুযোগও পাচ্ছেনা। কেউ বিকাশ বা প্রকাশ করার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তবে আমি বলব ব্যক্তিগতভাবে অনেকে বিকাশ করবার সাহস করছে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনেক না জানা গানকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাচ্ছি এবং সেটা গ্রহনীয় করে তোলার চেষ্টা করছি। আমি সিডিও প্রকাশ করেছি এমন সব নজরুলের গান যা অনেকে শোনেনি কিন্ত সে গানগুলো এত সুরেলা এত মিষ্টি ভাবা যায় না।

Check Also

Habib-Mitthe-noy

হাবিবের নতুন গান মিথ্যে নয়

মিডিয়া খবর:- নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক …

Nisho-Urmila

নিশো ঊর্মিলার মিউজিক ভিডিও তুমি দিন তুমি রাত

মিডিয়া খবর :- তুমি দিন, তুমি রাত, তুমি যে প্রভাত, তুমি মন নিলে কখন, বাড়িয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares