Home » সঙ্গীত » ‘অবাক ভালবাসা’ অবাক করবেই
abak

‘অবাক ভালবাসা’ অবাক করবেই

Share Button

ঢাকা:-

-: তির্থক আহসান রুবেল:-

যারা শিরোনাম দেখে অবাক হতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপাতত অগ্রীম বার্তা হচ্ছে: খুব শীঘ্রই আমরা গিনেজ বুক অব রেকডর্স-এ নাম লেখাতে যাচ্ছি। তবে সেটা কোন ব্যক্তি বিশেষের অর্জন হিসেবে নয়। বরং পুরো মিউজিক piyuইন্ডাস্ট্রির অনন্য অবদান এটা। আর ‘অবাক ভালবাসা মাহমুদ সানি ফিট. ভেরিয়াস আর্টিস্ট’ এ্যলবামটিও সে ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবদান রাখতে পারে।misti

ঈদ উপলক্ষে লেজার ভিশন থেকে প্রকাশ পেয়েছে এ্যলবামটি। মাহমুদ সানির সৃজনশীলতার যাদুতে খুব মিষ্টি সুর এবং দূর্দান্ত কম্পোজিশন এই এ্যলবামটির একটি বড় সাইনবোর্ড। মোট ৮টি মৌলিক গানের সাথে বোনাস হিসেবে রয়েছে একটি বিখ্যাত গানের মাহমুদ সানি ভার্সন। গীতিকার হিসেবে দুইজন নারী আফরিন জেসিকা ও বর্ষার সাথে রয়েছেন রবিউল ইসলাম জীবন, সুদীপ কুমার দ্বীপ, রেজাউর রহমান রিজভী এবং মাহমুদ সানি নিজে।

মাহমুদ সানির লেখা ‘লজ্জা-২’ গানটি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামীতে মঞ্চ মাতাবে। সাবা গেয়েছেন গানটা। লজ্জা’র প্রথম সংস্করণ হিট করেছিল বলে ধারণা করছি। যার প্রেক্ষিতে এ্যলবামের প্রথম গান হিসেবে ‘লজ্জা-২’ স্থান পেয়েছে। ‘বৃষ্টি’ গানটি গেয়েছেন সানি এবং প্রমি যুগল কন্ঠে। গানটি লিখেছেন রেজাউর রহমান রিজভী। প্রমির কন্ঠে মাদকতা আছে। খুব খুব মিষ্টি একটা কন্ঠ। কিন্তু বাংলার চেয়ে বাংলিশে কথা বলায় অভ্যস্থ কি! দু এক জায়গায় অযাচিত চাপ দিয়েছেন বলে মনে হলো। গানটা চমৎকার নির্মাণ করেছেন সানি। বরষা ও সানির যৌথ লেখনিতে জন্ম নিয়েছে ‘দু’চোখে’ গানটির। কন্ঠ দিয়েছেন সানি এবং সায়মা। গানটি ভাল হয়েছে। সায়মার কন্ঠটাও আসক্ত করবে আপনাকে। এ্যলবামের সেরা গান ‘রাত জোছনা’। সানির লেখা গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন সানি এবং মিষ্টি। খুব বেশী শ্রুতিমধুর গান। মিষ্টির কন্ঠ এক অজানা টানে আটকাবে আপনাকে। চলচ্চিত্রের ব্যস্ত গীতিকার সুদীপ কুমার দ্বীপ উপহার দিয়েছেন ‘খুঁজিনি আমি’ গানটি। কন্ঠ দিয়েছেন চম্পা ও সানি। গানটি অবলিলায় চলচ্চিত্রের গান হতে পারতো। চম্পার একদম নতুন কন্ঠ পেলাম এখানে। গানটির সম্পূর্ন বহি:প্রকাশ শিহরণ জাগাবে। ‘তোমার ঐ মনের’ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন পিউ ও সানি। লিখেছেন সানি নিজেই। লং ড্রাইভের উপযুক্ত গান এটি। পিউ’র কন্ঠে হাসকিটা চমৎকার এসেছে। রবিউল ইসলাম জীবন সানিকে দিয়েছেন ‘তোমার দু’চোখেতে’ গানটি। পরপর দুটো প্রায় একই ধরণের সুর, কম্পোজিশনের গান রেখে এই গানটির প্রতি অবিচার (২য় অবস্থানে বলে) করা হয়েছে বলেই মনে করছি। গানটির গায়কী এবং সুর কপি-পেস্ট সম্রাটদের অনুকরণ মনে হয়েছে। গানের দ্বিধা ভাল লেগেছে। আফরিন জেসিকার লেখা ‘আকাশ promiবুঝে’ গানটা গেয়েছেন সানি। বড় হলরুমে আলোর খেলায় হাজারো তরুণ দর্শকের উপস্থিতিতে গানটা মন্দ হবে না। চমৎকার মিউজিক। ‘আজ এই দিনটাকে’ চমৎকার সংযোজন। এ্যলবাম কাভারে কেন গীতিকারের জায়গায় সংগৃহীত এবং সুরকারের নাম গুম! অতি পরিচিত এই গানটার গীতিকার, সুরকারের সন্ধান ইন্টারনেটের সাহায্যে হলেও যোগাড় করা যেত। গানটির গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, সুরকার বাপ্পী লাহেড়ী, মূল শিল্পী কিশোর কুমার, পরবর্তীতে বাপ্পী লাহেড়ী নিজেও গেয়েছেন। গানটি ১৯৮৫ সালে ‘অন্তরালে’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয় (তথ্যগত ভুল হলে, সংশোধনী গ্রহণযোগ্য)। তবে সানি ভার্সনের শেষে যে নারী কন্ঠটা যুক্ত হয়েছে, তার পরিচিতিও সংযোজন বাধ্যতামূলক ছিল। সেই সাথে গানটার প্রথম অন্তরার প্রথম শব্দটা উচ্চারণের সময় আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত ছিল। উচ্চারণগত কারণে শব্দটার অর্থই বদলে গেছে। তবে গানটার নতুন ভার্সন তৈরিতে সানি নিজেকেই উপস্থাপন করেছেন, যা প্রশংসারযোগ্য।

প্রায় সবগুলো গানই চমৎকার। কিন্তু উন্নতমানের সকল খাদ্য একসাথে থাকলেই উন্নতভোজ হয় না, যদি সেখানে বিভিন্ন স্বাদের খাদ্য না থাকে। স্লো, সফট, মেলোডি’র পাশাপাশি অন্ত:ত সানির একক গানের ক্ষেত্রে হলেও ২/১টি হাই বিটের গান থাকলে এ্যলবামটি অনেক বেশী পরিপূর্ণ হতো বলে মনে করি। এ্যলবামের গানগুলো শ্রুতিমধুর। সানি এ সময়ের সেরাদের একজন বলেই বিশ্বাস। সানির কন্ঠ অন্ত:ত আলাদা করা যাবে সেই হিট (!) দের থেকে। একদম শুরুর একটা কথার সাথে যুক্sabaত করে বলবো, সানির সুর কম্পোজিশন সেলিব্রেটি কপি-পেস্টদের চেয়ে অনেক বেশী সমৃদ্ধ। কিন্তু সফটওয়্যারের ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। কারণ লাইভে মানুষ এ্যলবামের স্বাদ না পাওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন অনেক গায়ক গায়িকা। বিশেষত বর্তমান নতুন যে কন্ঠগুলো আসছে, তারা সফটওয়্যারের কল্যাণে ভাল গাইলেও, লাইভে গিয়ে দেখা যায় গান আর মিউজিক দুদিকে ছুটছে। কারণ জন্ম থেকেই তারা কৃত্রিমতা এবং প্রতারণাকে আপন করে নিচ্ছে। তবে সব ছাপিয়ে যে ব্যপারটা অবাক করবে, সেটাও কম চমকপ্রদ নয়। গিনেজ বুকে নাম লেখিয়ে পৃথিবীর বুকে আমরা আবারো চমক তুলতে পারবো বলে ধারণা করছি। কারণ এ্যলবামের প্রতিটা নারী কন্ঠ যমজ (প্রায় একই)।

বাংলাদেশের মানুষ এ্যলবামটি কিনবে, গান শুনবে কাজেই বাংলা ভাষায় প্রচ্ছদ হওয়াটা ভদ্রতা নয়, বরং শুদ্ধতম দায়িত্ব। বাংলিশ ভাষাটা বিদেশী এবং দেশী কারো জন্যই নয়। কারণ এটা বিকৃতবাদীদের ভাষা। গীতিকারদের ছবি সম্মানের সাথে ব্যবহার হয়েছে। সেজন্য একটা ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য জড়িতদের। গানের কথা সংযুক্ত থাকা বাঞ্চনীয় ছিল। কারণ সব কাজ ফেলে তীব্র মনোযোগে গান শোনার সুযোগ মানুষ এখন কম পায়।

বিশ্ব রেকর্ড এর পথে বাংলাদেশ:

saimaসফটওয়্যারের কল্যাণে বর্তমানে আমাদের দেশে একদল গায়ক গায়িকা আছেন যারা সবাই হিট গায়ক। মজার ব্যপার হচ্ছে সকলের কন্ঠই প্রায় এক, মানে যমজ। এমন কি আগামীতে আগত গায়ক-গায়িকারাও একইভাবে যমজ কন্ঠেরchampa অধিকারী হবেন। ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী যমজ কন্ঠের অধিকারীর গায়ক গায়িকার দেশ হিসেবে আমরা গিনেজ রেকর্ডস এ নাম লেখাতেই পারি। তাই অত্যান্ত আনন্দের সাথে বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশে বর্তমান হিট, ফ্লপ, বাম্পার সহ যাবতীয় সকল শ্রেণীর যাবতীয় সুরকার, কম্পোজার, গায়ক, গায়িকা, গীতিকারদের বেশীর ভাগ যদি কোন কারণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন (কখনই কাম্য নয়), তাতে অন্ত:ত অতি পরিচিত এবং বয়ান হিসেবে সেলিব্রেটি মূল্য পাওয়া সেই চিরচেনা কথাটা আর শুনতে হবে না বলে তীব্রভাবে বিশ্বাস করি। কথাটি হচ্ছে, “তাঁর অভাব কখনই পূরণ হবার নয়।” কারণ এই দেশে এখন আমি তুমি তুমি আমি নিয়ে পারমুটেশন আর কম্বিনেশন (নচিকেতার গানের কথা) মিলিয়ে প্রচুর যমজ গান হচ্ছে। ফলে একটা সোর্সের অভাব অন্য সোর্সরা বুঝতেই দেবে না। অন্যদিকে যমজ কন্ঠের (সফটওয়্যারের অপ ব্যবহারে) অধিকারী অনেক অনেক গায়ক গায়িকা আছে আমাদের। ফলে একজনের প্রস্থানে সে জায়গাটা খালি মনে হবে না মিলি মাইক্রো সেকেন্ডের জন্যও। একই সাথে যমজ কম্পোজিশন ও যমজ সুর নিয়ে পরিস্থিতিটা জানতে আগের বাক্যটাতে কন্ঠের জায়গায় সুর, কম্পোজিশন বসিয়ে পড়ে নিতে পারেন। অর্থ প্রায় একই থাকবে। এটাকে বলে যমজ বাক্য!

 ভাবতে অবাক লাগে, শিল্পী যদি নিজে দাবী না করে কিংবা আগে থেকে গায়ক গায়িকার নাম না জানলে শুধু গান শুনে এদেশের কোন মানুষ চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারবে না সেই গানের গায়ক/গায়িকা কে! একজন মানুষ স্বতন্ত্রভাবে নিজেকে চেনাবে, নিজের কন্ঠকে চেনাবে! সে আগ্রহ, সে ক্ষমতা, সে যোগ্যতা যেন নেই কারো! একটা প্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির অপ ব্যবহারে। এ্যলবামের হিট গানটিই যখন একই গায়ক/গায়িকারা লাইভে গাইতে যান তখন তারা দর্শক-শ্রোতাদের নিগ্রহের শিকার হন। কারণ সেখানে তো আর লাইভ কন্ঠ ঘষাঘষির সুযোগ থাকে না! শুধুমাত্র এই একটা কারণে গত দশ বছরে একক কোন গায়ক/গায়িকার কোন গান মানুষের মনে স্থান পায়নি এক সপ্তাহের জন্য। কখনো কখনো মেয়াদটা হয়েছে তারচেয়েও কম। শুধু তাই না! এইসব দূর্গন্ধ দেখে শ্রোতারা নাক চেপে হাটতে হাটতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, সত্যিকারের কোন শিল্পীর সত্যিকারের গান বাজারে এলেও চেপে ধরা নাকের রন্ধ্রে পৌঁছাতে পারেনি সেই সৃষ্টি। অর্থাৎ অসভ্যতার দাপটে গুম হয়ে গেছে সভ্যতার হাতছানী।

 বেঁচে থাক বাংলাদেশের গান। বেঁচে থাক মৌলিক সৃষ্টিশীলতা। সৃজনশীলদের জয় হোক। আমাদের গানের কথা, সুর, কম্পোজিশন, গায়কী ফিরে আসুক সোনালী সোপানে।

 বি.দ্র.:

১.   ভাল সাউন্ড সিস্টেম এবং উপযুক্ত পরিবেশ একটি গানকে সঠিকভাবে কর্ণগোচর করে এবং ভাললাগা সৃষ্টি করে।

২.   আপনি কি শরীরে চোরের রক্ত বহন করছেন? উত্তর হ্যাঁ হলে পাইরেসী করুন। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে গান শুনুন। আর উত্তর না হলে, সিডি কিনুন। শিল্পীকে সুস্থভাবে বাঁচতে দিন। এবার আপনিই চুড়ান্ত করুন আপনি কোন রক্তের সন্তান।

 লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

mahmud-sunny

 

Check Also

Samina-Monir

দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির গানে সামিনা চৌধুরী-মনির খান

মিডিয়া খবর:- গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত নতুন ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির জন্য দীর্ঘদিন …

Abul-Hayat-Rifa

মিউজিক ভিডিওর মডেল আবুল হায়াত

মিডিয়া খবর:- মিউজিক ভিডিওর মডেল হলেন আবুল হায়াত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares