Home » চিত্রকলা » ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান হালচাল
dhakai

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান হালচাল

Share Button

ঢাকা:-

-: রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ :-

এফডিসি কেন্দ্রিক ঢাকাই চলচ্চিত্রে পাকিস্তান আমল থেকে আরম্ভ করে স্বাধীনতা পর্যন্ত বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে সে ধারা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ধারার মধ্যে ভালো-মন্দ মিলিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। যার মধ্যে কোনটি ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে,আবার কোনটি পায়নি। ঢাকাই চলচ্চিত্রের কাহিনী সাধারনত ‘প্রেম’ নির্ভর। প্রেমকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ,সংঘাত নিয়ে চলচ্চিত্রের কাহিনী এগোয় এবং মিলন দিয়ে শেষ হয়। চলচ্চিত্রের এসব কাহিনী মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্তদের মনে একঘেয়েমী ভাব সৃষ্টি করলেও নিম্নবিত্তরা ঠিকই প্রেক্ষাগৃহে যান। যার ফলশ্রুতিতে চলচ্চিত্র একটি নির্দষ্ট গোষ্ঠীভুক্ত হয়ে গেছে। আর তাই পরিচালক,প্রযোজকরা তাদের হাতছাড়া করতে চান না।
কিন্তু তাদের ভিতরো এখন একঘেয়েমীতা সৃষ্টি হয়েছে। সারাদিন পরিশ্রম করে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে
টিকিট কেটে একই রকম জিনিস দেখতে কারোরই ভালো লাগবেনা এটাই স্বাভাবিক। পঞ্চাশ টাকার বাজারে তাদের একদিন ভালোভাবে চলে যায়। বাজার ভালো না। জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী। এর ভিতর দিয়ে পঞ্চাশ টাকা বাঁচিয়ে প্রক্ষাগৃহে একই কাহিনীর চলচ্চিত্র দেখার মানে হয় না। তাই এখন নিম্নবিত্তদের লক্ষ্য করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও ব্যবসা করতে পারছেন না প্রযোজকরা। তাই বাধ্য হয়ে পরিচালককে চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত ‘মশলা’ দিচ্ছেন। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ তারা। পঁচা মাংসে যতোই মশলা দেয়া হোক না কেনো তা খবার অযোগ্য। এদিকে ডিজিটাল চলচ্চিত্র ঢাকাই চলচ্চিত্রে পদার্পন করার পর চলচ্চিত্রের মান ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। যারা একসময় যে টাকা দিয়ে টেলিফিল্ম নির্মাণ করতে চাইতেন এখন তার ডিজিটালের কল্যাণে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। তবে হাতে গোনা কেউ কেউ ডিজিটাইলেশনের মাধ্যমে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। যা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর কারন মূলত ব্যতিক্রমী কাহিনী আর শৈল্পিক নির্মাণ। এখানে বলে রাখা ভালো, ১৯৯৮ সালের আগে যার নাম ছিলো ‘ইলেকট্রনিক সিনেমাটোগ্রাফি’ তা পরবর্তীতে নাম পাল্টে ‘ডিজিটাল সিনেমাটোগ্রাফি’তে রুপ নেয়। তারপর থেকে ক্যামেরার দাম সহজলভ্য হওয়ায় ৩৫মিঃমি এর কদর কমতে থাকে। সে সুযোগে সনি ১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেল বাজারে ছেড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়। তারা বুঝাতে সক্ষম হয় ডিজিটাল এই ক্যামেরার প্রিন্ট ৩৫ মিঃমি থেকে ঢের বেশী পরিস্কার এবং তা দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সহজলভ্য। যদিও বাংলাদেশে ডিজিটালের যাত্রা হাতেগোনা কয়েকবছর হলো। অন্যদিকে সরকারের কোন কোন মন্ত্রী,নেতা ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানী করার বিষয়ে উদার মনোভাব দেখাচ্ছেন। কিছু চ্যানেল ছোট পর্দায় চলচ্চিত্র মুক্তি দিয়ে শিল্পের বারোটা বাজানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। তারউপর আবার কাহিনী চুরি করে চলচ্চিত্র নির্মাণের হিড়িক পড়েছে ঢাকাই চলচ্চিত্রে। এ নিয়ে স্বয়ং শাকিব খানের দিকে নকলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রেক্ষাগৃহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আরামে কয়েক ঘন্টা বসে চলচ্চিত্র দেখে বিনোদিত হবার কোন উপায় নেই। সবকিছু মিলিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্র বর্তমানে চরম দূরাবস্থার মাঝে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এভাবে আদৌ এগোনো যায় না। শুধু নিজেদের সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই না। [বিঃদ্রঃ বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মনোভাবেরর উপর নির্ভর করে লেখা। ]

Check Also

dhaka art summit

ঢাকা আর্ট সামিট গৌরবময় শিল্পযজ্ঞ

মিডিয়া খবর:- ৫ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় তৃতীয়বারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা …

porimoni

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সিনেমায় পরীমনি

মিডিয়া খবর :- নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম অবশেষে নতুন সিনেমা ‘স্বপ্নজাল’র জন্য নায়িকা খুঁজে পেলেন। নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares