Home » চলচ্চিত্র » মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিকে না বুঝে
maruf

মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিকে না বুঝে

Share Button

ঢাকা:-

-: কবিও কাব্য :-

চলচ্চিত্র গবেষক ও বিশ্লেষক (বোফা) 

চিত্রনায়ক কাজী মারুফের প্রথম ছবি কোনটি ?………উত্তর ঃ ‘ইতিহাস’
কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করি কাজী মারুফের প্রথম ছবি কোনটি ? এর উত্তর কি দিবেন ? ভেবে পাচ্ছেন নাতো, তাহলে আমিই বলে দিচ্ছি ……… এর উত্তর হলো ”খোকনসোনা” যার পরিচালক ছিলেন কাজী হায়াত । কাজী মারুফের বয়স যখন ৫/৬ মাস তখন তিনি এই ছবিতে ”খোকন” এর ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন । …… হ্যাঁ, সেই ”খোকনসোনা” যা বাংলা মুলধারা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের একটি ক্লাসিক ছবি ছিল । আপনার পরিচিত প্রবীণ বা মধ্য বয়সী কোন বাংলা সিনেমা ভক্ত’কে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন অনেক প্রিয় ছবির মধ্যে ”খোকনসোনা”র নামটি । পরিবারের সাথে হলে দেখা আমার শৈশব মনে দাগ কাটা অনেক ছবির মধ্যে অন্যতম একটি ছবি এই ”খোকনসোনা” । শুধু কাজী মারুফ নয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় , কিংবদন্তী শক্তিমান অভিনেতা রাজীব এর প্রথম চলচ্চিত্র এই ”খোকনসোনা” যেখানে রাজীব ছিলেন ছবির নায়ক (খোকনের বাবা) চরিত্রে । বিকল্পধারার চলচ্চিত্র ”দি ফাদার” ছবিটির ব্যর্থতার কারনে ছবিটির প্রযোজক যখন কাজী হায়াত’কে তাঁর অফিসে নিষিদ্ধ করলেন সেই থেকে কাজী হায়াত মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি নিয়ে ফেরার প্রতিজ্ঞা করলেন এবং তাঁর সেই ফেরা হলো ”খোকনসোনা” দিয়ে ।

বিশ্বাস করেন ”খোকনসোনা”র গল্পটা খুব আহামরি ছিল না। ছিল না টানটান উত্তেজনায় ভরা নাটকীয়তা, ছিল না রোমান্টিক ছবির মতো দুটি হৃদয়ের পাওয়া না পাওয়ার গল্প । তবুও ছবিটি মানুষের মন জয় করেছিল । গল্পটা খুব সাধারন যা হলো ” একটি প্রযোজনা সংস্থা অফিসে চাকরি করে রাজীব । স্ত্রী ও ৬ মাসের ছোট্ট শিশু সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। রাজিবের স্ত্রী ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠিত এক ধনী পরিবারের মেয়ে যিনি রাজিব’কে ভালোবেসে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছেন । ধনীর সন্তান হলেও রাজিবের স্ত্রী’র কোন উচ্চবিলাসি চাহিদা নেই। দুজনের একটাই স্বপ্ন তাদের একমাত্র সন্তান খোকন’কে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা । সরকারি চাকরিজীবী আশিস কুমার লৌহের সরকারি বাসার একটি কক্ষ সাবলেট হিসেবে ভাড়া নিয়ে ছোট্ট সংসার সাজিয়েছেন । ভালোই যাচ্ছিল দুজনের কিন্তু রাজীব যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাগিনার দিনের পর দিন অনৈতিক দাবী মেটাতে বাধ সাধায় দ্বন্দ্ব শুরু হয় যার ফলে এক সময় রাজীব চাকরীটা ছেড়ে দেয় ………… এভাবে গল্পটা এগিয়ে যায় এবং একসময় ছোট্ট খোকন এর মর্মান্তিক মৃত্যু দিয়ে সন্তান হারা পাগলপ্রায় মায়ের কান্না দিয়ে ছবিটি সমাপ্ত হয় । ছবিটি দেখে সেই সময় বহু দর্শক আফসোস বা দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে হল থেকে বের হয়েছিল । ছবিটি দেখে মনে হয়েছে যেন পাশের বাড়ীতে ঘটে যাওয়া কোন অজানা হৃদয় বিদারক কাহিনী । এর কারন একটি অতি সাধারন গল্প সহজ সরল সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কাজী হায়াত যার ফলে দর্শকদের মন জয় করেছিল ছবিটি। অনেকে মানতে পারেনি খোকনের মৃত্যুটি । কিন্তু এই নির্মম বা মর্মান্তিক মৃত্যুটির মধ্যে দিয়ে বাস্তবের নাগরিক জীবনের একটি বার্তা পরিচালক দর্শকদের দিয়েছেন যা অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই । আমাদের সমাজের কতিপয় সুবিধাবাদী মানুষগুলোর কারনে যে একটি ছোট্ট সাজানো সংসারের ছোট্ট একটি স্বপ্নের মৃত্যু হতে পারে তা কি কেউ ভেবে দেখেছে? আমাদের নাগরিক জীবনে কত ঘটনা ঘটে তার কি কোন খবর আমরা রাখি? ………… এখনও ছবিটির কথা মনে পড়ে আমার । আজো ছবিটি যদি আপনি দেখেন তাহলে মনে হবে না যে ৩০/৩২ বছর আগের ছবি , আপনার কাছে মনে হবে গতকাল ঘটে যাওয়া আপনার পাশের বাড়ির কোন ঘটনা যা আপনি জানতে পারেননি ।
যারা বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির মাঝে জীবন ঘনিষ্ঠ কিছু খুঁজে পায়না তাদের জন্য এই ছবিটি একটা চপটাঘাত । না জেনে , না বুঝে বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিকে পচানোর চেষ্টা করবেন না ।।

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares