Home » সঙ্গীত » নতুন দিনের গান… সত্যের ধৃষ্টতা
NATUN-DINED-GAAN

নতুন দিনের গান… সত্যের ধৃষ্টতা

Share Button

ঢাকা:-

-: তির্থক আহসান রুবেল :-

নতুন দিনের গান! এক প্রকার ধৃষ্টতা কি নয়! নতুন দিনের গান ঘোষণা করার তুমি কে! আপনি কে! তুই কে! আপনারা কে! কে আপনাদের সার্টিফিকেট দিয়েছে যে, আপনাদের এই গানগুলো নতুন দিনের সূচনা করবে!a12

ঈদ উৎসবকে রঙিন করতে ১১ জন গায়কa11-গায়িকা আর ৩ টি ব্যান্ড মিলে প্রকাশ করেছে একটি গানের এ্যলবাম। ‘নতুন দিনের গান…’ শিরোনামের এ্যলবামটি সমন্বয় করেছেন দুই তরুণ ফাহিম হাসান ও পিয়াস রেজা। উপরের কথা ফিরে আসি! নতুন দিন বলতে আপনারা কি নতুন দিনের সূচনা বুঝিয়েছেন! নাকি বছর কয়েক ধরে বর্তমান পর্যন্ত গানের নামে, গানের কথার নামে, গানের সুর এবং কম্পোজিশনের নামে যে অসুস্থ-অসভ্য-কপি-কপি-কপি-নকল নকল-নকল-অটো টিউনার-সফটওয়্যার ইত্যাদির সংমিশ্রণে যে দূর্যোগপূর্ণ দিনের প্রবাহ চলছে সে স্রোতে গা ভাসিয়ে, নতুন দিনের অপ গানকে বয়ে নিয়ে চলার প্রচেষ্টা! শ্রোতা হিসেবে আমার ভাললাগা-আমার মন্দ লাগাটাই একটা এ্যলবামের সুনির্মাণ বা কু নির্মাণের মাপকাঠি। সঙ্গীতবোদ্ধারা বিট থেকে বিট পরিমাপ করবেন। আমি করবো আমার মানদন্ডে।   

জয় শাহরিয়ারের কথা-সুর-কম্পোজিশনে ‘তোর জন্য’ গানটার মাঝে দুষ্টু দুপুরে নীলের দিকে চেয়ে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখা যেনো। জিসান আলমের লেখা ‘তোর’ গানটার সুর করেছেন, কন্ঠ দিয়েছেন পারভেজ সাজ্জাদ। অভিজিত জিতুর কম্পোজিশনে গানটিতে চিরচেনা পারভেজকে নতুন করে পাওয়া যাবে। মন ভাসাবে মধ্য দুপুরের উদাসীনতায়। পিয়াস রেজার কন্ঠে ‘ধুসর পৃথিবী’ গানটা আপনাকে নস্টালজিক করবেই। পিয়াসের কন্ঠের যাদু-মাদকa5তা সবই আপনাকে বিদ্ধ করবে। বুকের ভেতর একটা টান অনুভব করেছি গানটা শুনতে শুনতে। গানটির কথা লিখেছেনa4 প্রিন্স। সুর ও কম্পোজিশন করেছেন তাসিন আহমেদ। ব্যান্ডদল ফাস্ট সেমিস্টার এর গাওয়া ‘অবেলা’ গানটি লিখেছেন রাজবীর আহমেদ, সুর করেছেন অমিদ হোসেইন। গানটা ভাল  লাগবে সবার। সুরটাও পরিচিত ঠেকতে পারে। তবে ঠিক কোন গানের তার সঠিক ঠিকানা খুঁজে পাইনি। অথবা আমার মনের ভুল! ‘অধরা’ গানটির মাধ্যমে বহুদিন পর লম্বা টানে হামিং দেয়া একজন গায়কের সন্ধান পাওয়া গেল। তন্ময়ের কথায় এবং তন্ময় ও ইফাতের সুরে গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন ইফাত। গানটির কম্পোজিশন করেছেন বনি আহমেদ। গানটির সব কিছুই ভাল লাগবে। পূজনীয় রাধা রমনের গান ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’র ফিউশন করেছে ব্যন্ডদল রি-কল। ফিউশনের নামে লালন যখন মিষ্টতা ছেড়ে হেড়ে ও বিকৃত গলায় আধুনিক হয়েছে! সেখানে রাধা রমন কন্ঠের মিষ্টতায় আধুনিক হয়েছে। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির, আধুনিক সফটওয়্যারের পাশাপাশি কন্ঠের আধুনিক ঘষাঘষিটা কাম্য নয়। অন্ত:ত একটা ব্যন্ডদলের যতটা সম্ভব প্রকৃত নির্যাসেই থাকা উচিত। ফাহিম হাসান লিখেছেন, গেয়েছেন, সুর করেছেন সালেকিনকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে তাহসিন এবং লেনিন কম্পোজিশনে ছিলেন ‘বৃষ্টি দিনে’ গানটির। গানটি সব দিক দিয়ে ভাল হলেও, কন্ঠের উপর ঘষাঘষিটা নজরে পড়েছে। তবে গানটা সার্বিক বিচারে মন্দ নয়। এ সময়ের হিট তকমাওয়ালা অনেকের ঘুমহীন রাতের কারণ হতে পারে গানটি। পিয়াস রেজার সুরে ‘মনের আড়াল’ গানটা লিখেছেন রাজু ইসলাম গেয়েছেন অমিয়, কম্পোজিশন করেছেন তাহসিন আহমেদ। গানটা সঠিক প্রচার পেলে পাড়া মহল্লার মঞ্চ কাঁপাবে। পাড়া-মহল্লার উঠতি ব্যান্ড কিংবা কলেজ-ভার্সিটির অনুষ্ঠানগুলোতে এই গানটাকে আপন করে নিলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। গলায় কিছুটা ঘষাঘষি আছে বলে মনে হলো। ‘কাছে টেনে নাও’ গানটার মাধ্যমে এ্যলবামটি যদি দর্শকদের কাছে টানতে না পারে, তার পুরো দায় দিতে হবে a7বিগত বছর কয়েকের দূষণীয় সঙ্গীতের ফলে শ্রোতাদের বিমুখতা। খুব মিষ্টি একটা গান। প্রথম প্রেমের আহবানে এই গানটা হয়ে উঠতে পারে তরুণ-তরুণীদের জাতীয় সঙ্গীত। তাসিন আহমেদের কম্পোজিশনের এই গানটির কথা ও সুর নকিব তুহিনের আর গেয়েছেন সালেকিন। এরপরের গানটি জয় শাহরিয়ারের কম্পোজিশনে এবং প্রিয়’র কথা-সুর ও কন্ঠে কোন এক মুগ্ধতায় আপনাকে আটকে রাখবে। কতক্ষণ আটকে থাকবেন, তা নির্ধারণ করবে কখন কোন না কোনভাবে আপনার মুগ্ধতায় ব্যঘাত ঘটবে, তার উপর। গানটার শিরোনাম ‘স্বপ্ন’। পিয়াস রেজা সুর করেছেন এ্যলবামের ১১তম গানটি। সুদীপ সৌরভের লেখা শিশিরের কন্ঠের গানটার শিরোনাম ‘প্রতিক্ষা’। এই গানটাও উঠতি ব্যন্ডদলগুলো আপন করে নিলে অবাক হবার কোনই কাa6রণ থাকবে না। কারণ গানটা শ্রোতা আকর্ষণের মতোই। বনি আহমেদ আগের গানের মতোই যাদু ঢেলেছেন এখানেও। ‘বৃষ্টি ঝরে’ গানটা গেয়েছেন অঞ্জন। কথা ও সুর নাজমুলরাসেলের। গানটির কম্পোজিশন করেছেন জয় শাহরিয়ার। হালকা মেজাজে শুরু হওয়া এই গানটা প্রায়শ:ই চড়াও হবার চেষ্টা করবে আপনার ভাবনায়। জাহিদ আকবরের লেখা ‘যদি আমাকে’ গানটার সুরের প্রতি যত্নবান ছিলেন শান। এ্যলবামের একমাত্র ডুয়েট গান হলেও মনকুমারীর সাথে গায়ক হিসেবে কারো নাম না আসাটা রহস্যময়! গানটা শ্রুতিমধুর। ভাল হয়েছে। এ্যলবামের সর্বশেষ গান ‘রাণী ছাড়া রাজ্য’ ব্যান্ডদল ফ্লো সেইন্টস এর। আলভি’র কথা ও সুরে বাংলা ইংরেজী ভাষায় মিলেমিশে হাইব্রিড হয়ে যাওয়া একটি র‌্যাপ গান এটি। ফ্লো সেইন্টস চমৎকার বাজিয়েছে গানটাতে, তবে গানের বেশীরভাগ কথাই দূর্বোধ্য। তাছাড়া মিউজিকের আধিক্য কন্ঠ ছাপিয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

এ্যলবামের কাভারে গানের কথাগুলো না থাকাটা সব সময়ের জন্যই অন্যায়। কারণ অনেকে এ্যলবাম কিনে গানের কথাগুলো পড়ে দেখে। গানের কথা পড়েও এ্যলবামের মান বোঝা যায়। জানি না কোন কারণে এখানে লিa8রিক্সগুলো   আসেনি। ব্যপারটা অস্বস্তিকর! তাছাড়া গানের শিরোনাম-কন্ঠদাতা-কথা-সুর-কম্পোজার সকল পরিচয় ইংরেজী অক্ষরে কেন! এটাকে দৈনতা হিসেবেই দেখবো। বিশেষত গানের শিরোনামের বাংলিশ রূপটা বর্তমান অপ-অভ্যস্থ সময়কেই প্রকাশ করে। বর্তমান অপ-বৈচিত্রতার মাঝে একদম হালকা মেজাজের প্রচ্ছদ গ্রহণ করার রুচি-মানসিকতা বর্তমান শ্রোতাদের আছে কি! অনেকে নাকি প্রচ্ছদ দেখে এ্যলবাম কিনে! এবং তারা নাকি সুরুচির পরিচয়টা এ ক্ষেত্রে কমই দিতে পারে। যদিও এতে এ্যলবামের কাটতি কমতে পারে, গানের মান নয়।

এই এ্যলবামের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ভাষার বৈচিত্রতা এবং সৃজনশীলতা। একই সাথে সুর ও কম্পোজিশনের বৈচিত্র। প্রতিটা গায়ক-গায়িকার কন্ঠ স্বতন্ত্র। বর্তমানের বাম্পার হিট(!)দের মতো একই সুর, সফটওয়্যারের অপ ব্যবহারে একই কন্ঠ, একই কম্পোজিশনখানে নেই। সম্পূর্ণ নতুন কিছু পাওয়া যাবে, যা কোনভাবেই অপ নয়। বরং প্রতিটা ক্ষেত্রে রয়েছে সু-নির্মাণ। অন্যদিকে কন্ঠে সফটওয়্যারের টুকটাক ব্যবহার নিজেদের উপর আস্থাহীনতার পরিচয় দিয়েছে। একদম শুরুর কথায় ফিরে আসি: ৯৯জন যদি মিথ্যার পক্ষে থাকে আর ১ জন যদি সত্যের পক্ষে থাকে, তবুও সত্যটা সত্য হিসেবেই থাকবে। সত্য গণতন্ত্র মানে না। সত্য সব সময়ই স্বৈরতন্ত্র। সে তার অবস্থানে অবিচল। ফলে এ্যলবামটির সঠিক প্রচারণা প্রয়োজন বাংলাদেশী গানপ্রেমী প্রতিটা মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য! এ্যলবামটি সত্যিই সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গীতে বর্তমানে প্রবাহিত অপচর্চাকে দূরীভুত করে নতুন দিনের সূচনা পথে একটি সত্য হয়ে থাকবে সঠিক মূল্যায়ন পেলে। এক কথায় বলা যায়: দূর অতীতের কথা বাদই দিলাম, ৯০ দশক থেকে শুন্য দশকের মাঝামাঝি দেশী গানের সোনালী সময়ের সেই দূরন্তপনাকে ছুঁতে না পারলেও, বর্তমান দূরাবস্থায় অনেক অনেক ভাল।

 শেষ কথা:a9 এখন পর্যন্ত ঈদের যতগুলো এ্যলবাম শুনেছি কিংবা গত মাস কয়েকে যতগুলো গান শুনেছি, তার মাঝে এই এ্যলবামটিকে সেরা বলবো। যদিও এ্যলবামটির কাটতি তেমন হবার কথা নয়। কারণ এ্যলবামটি প্রকাশ পেয়েছে ঈদের একদম আগে আগে আজব রেকর্ডস থেকে। এ্যলবামটি সেভাবে মিডিয়া কাভারেজ পাবে না বলেই শতভাগ বিশ্বাসী।

কারণ এমন একটি এ্যলবাম যদি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং মানুষ যদি আবারো রুচিশীল গানে ফিরে আসে, তবে কাগুজে (নিজেরা নিজেরা) হিট তকমাওলা বহু গীতিকার-সুরকার-গায়ক-গায়িকা-কম্পোজার ভেসে যাবে সত্য, সুন্দর, সৃষ্টিশীল আর সৃজনশীলতার স্রোতে।

 লেখক: মিডিয়াকর্মী

a2

Check Also

Samina-Monir

দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির গানে সামিনা চৌধুরী-মনির খান

মিডিয়া খবর:- গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত নতুন ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির জন্য দীর্ঘদিন …

Abul-Hayat-Rifa

মিউজিক ভিডিওর মডেল আবুল হায়াত

মিডিয়া খবর:- মিউজিক ভিডিওর মডেল হলেন আবুল হায়াত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান …

One comment

  1. ভালই সুরতহাল একেবারে জব্বর। কি আর বলব রে ভাইজান কি আর বলব, লজ্জা লাগে আমি নিজে চিনি কয়েক জনকে, একজনকে জিজ্ঞাস করেছিলাম তুমি কার কাছে গান শিখেছ সে আমাকে উত্তর দেয় আমি কোনদিন গান সিখি নাই, আপনি এইখানে জাদের নাম দিয়েছেন তাদের একজন এর কথাই আমি বলছি,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares