Home » নিউজ » মার্কিন গণমাধ্যমে গাজাবাসীর দুর্দশা
gaza

মার্কিন গণমাধ্যমে গাজাবাসীর দুর্দশা

Share Button

ঢাকা:-

মার্কিন গণমাধ্যম অবশেষে গাজাবাসীর দুর্দশা তুলে ধরেছে- এ শিরোনামে আল-জাজিরাতে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন প্যাটি কুলহানে। তিনি সংস্থাটির হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধি। প্যাটি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ধাক্কায় এবার মূল গণমাধ্যম চ্যানেলগুলোও গাজার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেছে। তিনি লিখেছেন, ইন্টারনেটের আবিষ্কারে কত ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলেছে সেটা মাঝেমাঝে ভাবি। একটু ভাবুন তো। প্রথম যখন আমরা ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ টাইপ শুরু করি, তখন কি কোন ট্রাভেল এজেন্ট ভেবেছেন এটা তার ব্যবসাকে নষ্ট করবে একদিন? কেউ কি কখনও ভেবেছে আমাজনের মতো একটি স্টোর এক সময় ঐতহ্যবাহী ব্যবসা করবে? কে ভেবেছিল একদিন ভার্চুয়াল দোকান থেকে নিজের পোষা বিড়ালের জন্যও জামাকাপড় কেনা যাবে। কেনা যাবে কাপড় কাচা সাবান আর দারুণ সব পোশাক। এই ইন্টারনেট অন্য আরেকটি বিষয়েও পরিবর্তন আনছে যা আমি সত্যিই কখনও ধারণা করিনি। সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্বের চিত্র। প্রথমবারের মতো আমি দেখেছি, প্রধান  গণমাধ্যমগুলো চলমান লড়াইয়ের বিবরণের পাশাপাশি কি পরিবেশের মধ্যে গাজাবাসী  দিনাতিপাত করছে সেটার বিস্তারিত দেয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য সময় বরাদ্দ করেছে। আমি এটা বলছি না যে, তাদের কাভারেজ নিরপেক্ষ বা এমনকি ন্যূনতম ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। বরং বলতে গেলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিডিয়াগুলোর সংবাদ শুরু হয়েছে গাজা থেকে রকেট ছোড়া বা ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতির খবর ও দৃশ্য দিয়ে। রিপোর্টাররা এগুলো ইচ্ছা করে করুক বা না করুক তারা ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে অবস্থান নেয়ার বেশ ভাল চেষ্টাই করছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদেরকে কদাচিৎ শক্ত প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন পার্থক্যটা কোথায়। উত্তর হলো সবখানে। ওই রিপোর্টগুলো হয়তো ইসরাইলের ওপর কি প্রভাব পড়ছে সেটা দিয়ে শুরু হয়েছে কিন্তু তারপরই যখন সংবাদের পটপরিবর্তন হচ্ছে সেখানে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে গাজার চিত্র। তারা বলছে, ফিলিস্তিনিদের কোথাও পালিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। নেই লুকানোর জায়গা। তারা তাদের নিত্যদিনের কথা বলছে। আর বলছে তারা কি বৈষম্যের মুখোমুখি। কেউ কেউ এমনকি এখন অবরোধ নিয়েও কথা বলা শুরু করেছে। আজকাল বলতে গেলে সব প্রধান সংবাদপত্রই তাদের প্রথম পাতায় যেসব ছবি ছাপছে সেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে গাজার বিভীষিকা। আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, সংবাদের পটপরিবর্তনের পেছনে একমাত্র কারণ ওয়েব আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মার্কিন মিডিয়া এখন আর এমন ভান করতে পারছে না যে গল্পের শুধু একটিমাত্র দিক আছে। কেননা মানুষ নিজ উদ্যোগেই খবর দেখে নিতে পারে। আর তারা তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণমাধ্যমগুলোকে স্পষ্ট পক্ষপাতের জন্য দায়ী করবে। একজন প্রতিনিধি গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করছিল। তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে নেয়া হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ঝড় ওঠে তাতে ওই সংবাদমাধ্যমকে বাধ্য হয়ে পুনরায় ওই রিপোর্টারকে গাজায় ফেরত পাঠাতে হয়েছে। এতেই প্রতীয়মান হয় নিশ্চিত একটি পরিবর্তন এসেছে। এ উপলব্ধি শুধু আমার একার নয়। রক্ষণশীল কলামনিস্ট রন ফোরনায়ার সমপ্রতি একটি কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম, ‘হোয়াই বেন ইয়ামিন নেতানিয়াহু শুড বি ভেরি ভেরি ওরিড’, অর্থাৎ কেন বেন ইয়ামিন নেতানিয়াহুর অনেক অনেক বেশি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। ফোরনায়ার ফক্স নিউজের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেসের সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্রেরই একটি গল্প আছে। ইসরাইলেরটা হলো আরব দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি এ রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে অনাগ্রহী আর ফিলিস্তিনের সন্ত্রাসীরা তাদেরকে ধ্বংস করতে চায়। দশকের পর দশক ধরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটাকে মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র হিসেবে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে। প্রথমত, এটা সত্যি, অন্তত ফিলিস্তিনের ইহুদি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে যখন বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিক আর রাজনীতিক সহ অন্যান্য পশ্চিমা অভিজাত মতামতদাতারা ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গি সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং সেটা আরও ফলাও করে প্রচার করেছেন। এবং সর্বশেষ, পশ্চিমের জনমত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ইসরাইলের প্রতি শক্ত সমর্থন রয়েছে। প্রথম বিষয়টি এখনও বাস্তব। যুক্তরাষ্ট্র হামাসের মতো কারও হামলার কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। কোন দেশই করবে না। নিজেদের প্রতিরক্ষার অধিকার রয়েছে ইসরাইলের। নেতানিয়াহু ওয়ালেসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হামাসের উদ্দেশ্য ও কৌশল বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের শক্ত অবস্থানে অটল থেকেছেন। শঙ্কা রয়েছে শেষ দু’টি ফ্যাক্টর নিয়ে। একটা হলো অভিজাত সমপ্রদায় একসময় একচেটিয়াভাবে ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একাত্মতা দেখিয়েছে। এখন ইসরাইলকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক গণমাধ্যমের এ বিশ্বে কিভাবে পদক্ষেপ নেয়া উচিত তা শিখতে হবে। গাজায় প্রাণহানির দৃশ্য, টুইট আর পোস্ট বিশ্ববাসীর কাছে মুহূর্তেই পৌঁছে যায়; সংবাদে কোন প্রকার শোধন, পরিমার্জন ছাড়াই।’ এক কথায় বলতে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এই শোধন প্রক্রিয়া সরিয়ে দিয়েছে। ফোরনায়ায় আরও উল্লেখ করেছেন, জরিপে দেখা গেছে মার্কিন জনগণের জনমত পাল্টে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম আর উদারমনাদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমবেদনা ও সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই আমরা এখন দেখছি, নেতানিয়াহুর জোরালো কিছু সমর্থক মার্কিন গণমাধ্যমে শক্ত হুঁশিয়ারি বার্তা দিচ্ছেন। তারা নেতানিয়াহুকে এই বার্তা পাঠাচ্ছেন যে, যদি যুদ্ধজয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রয়োজন হয় তাহলে আপাতত লড়াইয়ে জয়ী হলেও শেষমেশ যুদ্ধ হেরে বসতে পারেন তিনি। এ নিয়ে ইসরাইলি সরকারের জোরালো সমর্থনকারীদের অনেকে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা অদ্ভুত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। বুশ প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা সমপ্রতি টুইটারে দাবি করেছিলেন, গাজার ছবিগুলো বানোয়াট। এরপর ওই টুইটারেই তাকে এমন তোপের মুখে পড়তে হয় যে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। সেটা করতে গিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন কিভাবে কখনও কখনও ইসরাইলের শত্রুরা বানোয়াট ছবি দেয়। মার্কিন সংস্কৃতি তারকাপ্রধান। প্রথমবারের মতো তারকারা গাজাবাসীদের জন্য তাদের সমর্থন টুইট করা শুরু করেছেন। অনেকে আবার সমর্থন বার্তা দিয়ে পরক্ষণেই বাদ দিয়েছেন। তবে সবাই তা করেননি। সার্বিক বিষয়টাই নতুন। টুইটার প্রজন্মের আগে কি কোন তারকা সময় নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতেন? আর করলেই কি সংবাদপত্র আর গণমাধ্যমগুলো তা প্রচার করতো। এখন আর এসব প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। কেননা তারকারা মুহূর্তেই একটি হ্যাশ (#) দিয়ে তাদের সমর্থন প্রকাশ করতে পারেন। আমি এটা বলছি না যে, এসব কিছু তেল আবিবের হিসাব বদলে দেবে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, ম্যাডোনা বা ওয়ান ডিরেকশন ব্যান্ডের একজন বালক গায়ক কি ভাবছেন তা নিয়ে নেতানিয়াহুর মোটেও কোন মাথাব্যথা নেই। জনমত জরিপ অনুযায়ী ইসরাইলি জনগণ তার এই সামরিক অভিযানে দুর্বার সমর্থন দিয়েছে। আর রাজনীতিবিদরা সবসময় দেশীয় রাজনীতিই আগে বিবেচনায় নেয়। আর সেটা মার্কিন রাজনীতিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা অনেক কারণে জনসমক্ষে ইসরাইলের বিপক্ষে ভুল কোন শব্দও উচ্চারণ করবেন না। আর বর্তমান সময়ের বাস্তবতা হলো, ভিন্ন অবস্থানে যাওয়ার জন্য ভোটারদের তরফ থেকে তাদের ওপর কোন চাপ নেই। আমরা অতীতেও গাজায় হামলার বিভীষিকা দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো নয়। ইসরাইলি সরকার হয়তো বাজি ধরতে পারেন এতে কিছু বদলাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এ সব ভুলে যাবে আর ক’দিন বাদেই নতুন কোন তারকাকে নিয়ে মাতবে যে মাতাল হয়ে, অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বা বিবাহ বিচ্ছেদ করে সংবাদ শিরোনামে থাকবে। এমনটা করা সহজ ছিল যখন প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার সার্বিক কাজটা করতো প্রধান গণমাধ্যমগুলো। এখন আর সেটা সহজ নয়। মার্কিন জনগণ যা দেখেছে তা হয়তো ভুলে যেতে পারে, তবে এ দফায় এমন সম্ভাবনা অনেক জোরালো যে নির্মমতার এ সব দৃশ্য তারা বিস্মৃত হবে না।

(Courtesy Daily Manab jamin)

Check Also

naveed mahbub

আসছে নতুন কমেডিশো মিস্টার টুইস্ট নাভীদ মাহবুব শো

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৭ই জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হবে নতুন কমেডি শো ‘মিস্টার টুইস্ট নাভীদ …

tamim, khaled

সিজেএফবি‘র সভাপতি তামিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমেদ

মিডিয়া খবর :- দেশের  জাতীয় দৈনিক, পাক্ষিক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিনোদন সম্পাদকদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares