Home » নিউজ » বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক গীতিকার আর সাহসী তির্থক আহসান রুবেল
song

বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক গীতিকার আর সাহসী তির্থক আহসান রুবেল

Share Button

ঢাকা:-

-: কাজী চপল :-

কিছুদিন আগে সাহসী ও সৃজনশীল গনমাধ্যম কর্মী তির্থক আহসান রুবেল এর একটা ২ পর্বের লেখা মিডিয়াখবর.কমে প্রকাশিত হবার পর ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

যার ১ম পর্বের শিরোনাম ছিল – সাংবাদিক যখন গীতিকার …. জিম্মি নবীন গায়ক-গায়িকারা  – লেখাটার লিংক-    http://mediakhabor.com/?p=2876

লেখাটা ছিল একটা প্রতিবাদ। বাংলা গানের সর্বনাশের বিরূদ্ধে সাহসী উচ্চারণ, যা নবীন প্রবীণ শিল্পীদেরকে আলোর পথে চলার সাহস যুগিয়েছে। একটা অসৎ বলয়ের বিরূদ্ধে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তিগত আক্রমন সেখানে ছিলনা। যারা ভেবে বসেছেন তাদের বিরূদ্ধে বলা হয়েছে বা যে সব সাংবাদিক গীতিকারদের গায়ে লেগেছে বলে মনে করেন, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এবার তির্থক আহসান রুবেলকে সামনে পেয়ে একহাত নিলেন অজস্র ভুল বাক্যবাণে, কলম ছেড়ে মুখে মুখে কিছুবা শুন্যে হাত ছুড়ে মনের জ্বালা মেটালেন। তির্থক আহসান রুবেল এর শক্তিটা কোথায়? কে আছে তার পেছনে। আমি মনে করি তির্থক আহসান রুবেল এর শক্তি তার সাহসী উচ্চারণ আর আর তার ক্ষুরধার লেখনীতে।

গত বৃহস্পতিবার ঈদকে কেন্দ্র করে জি-সিরিজ ও অগ্নিবীণা প্রকাশ করে ৭৭টি অ্যালবাম, রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্ট Cafey Thirty3তে অ্যালবামগুলোর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এখানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন তির্থক আহসান রুবেল। বিক্ষুব্ধ কয়েকজন যে হাতে সোনার হরিণ পেলেন, মনের ঝাল মিটিয়ে নিলেন যে ভাষায় আর যা হোক সে সমস্ত শব্দ সাজিয়ে তারা গান লিখবেন না কোনদিন। তির্থক আহসান রুবেল এর দেয়া তাৎক্ষনিক এক ফেসবুক স্টাটাসে তার চিত্র দেখে নিতে পারি আমরা। নিচে হুবহু দেয়া হল-

-: তির্থক আহসান রুবেল :-

** যাহাদের আমার লম্বা লেখা পড়ার আগ্রহ/ইচ্ছা/ধৈর্য্য/রুচি কোনটাই নাই……. তাহারা এই পোস্টে আসবেন না……. মিডিয়াখবর.কম এর মাননীয় সম্পাদক, একজন সেলিব্রেটি আপনার ওখানে লেখে .. এইবার তো মনে হয়, তাহাকে উন্নত সম্মানী দিতে হইবেক ষ্পট: Cafey Thirty3 ইফতার শুরু হবার মিনিট পাচেঁক পর তিনি আমার সম্মুখে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তির্থক! বললাম, জ্বি। ঐদিকে আসেন।(চিপা গলি, ৫০ মিনিট পর ওয়াশরুম খুঁজতে গিয়ে গলির পরিচয় জানলাম) কথা আছে। আর কিছু না বলে তিনি চলে গেলেন। যেহেতু রোজা ছিলাম। তাই আমি আপন মনে ইফতার গ্রহণ করছিলাম। যাই হোক, ইফতার শেষে দেখলাম পানি শেষ। পানির সন্ধানে পা বাড়িয়ে এগোতেই লুৎফর হাসান ভাই’র সাথে দেখা। তিনি মনের সুখে হালিম খাচ্ছিলেন। ওহ তির্থক ভাই, আপনি কোথায় বসেছিলেন! হালিম খাইসেন! আমি বললাম, হালিমটা তেমন ভাল লাগেনি। তবে খারাপ বলে ফেলে দেয়ার মতোও না। এমন সময় দেখি তিনি আমার পিছে দাঁড়িয়ে আছেন। বললেন, আপনাকে বললাম না কথা আছে! একটু এ্যগ্রেসিভ। মনে মনে নিজেকে বললাম, জীবনে বহুবার এমন পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হয়েছিস ব্যটা। তোর ছাত্রজীবনের সেই সংগ্রামী দিনগুলোর কথা মনে নেই! কুল ম্যান কুল! কুল হয়েই বললাম, চলেন! চলে গেলাম সেই ঐতিহাসিক চিপায়। অত:পর তাহারা মুটামুটি ৪/৫ জন আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। একজন বাদে বাকিদের চিনি না। যাই হোক, পরবর্তীতে উহাদের নাম নানা প্রসঙ্গে আসলেও, এই মুহূর্ত্বে উহাদের নাম স্মরণ করতে পারছি না। শুধু একজনের পত্রিকার নাম মনে আছে। যাই হোক, নরম-গরম-তিক্ত-দু:খ নানান কথা হলো। উনারা মিষ্ট আচরণে ঠান্ডাভাবে কথা বললেও পুরোটা সময় জুড়ে তিনি চেহারাগত তীব্র অসন্তোষ, ক্রোধ, হতাশা সকল কিছু বিরাজ করিতে করিতে বার বার জানতে চাইছিলেন, আমি কেন তাহার বিরুদ্ধে লিখিলাম। আমি বলিলাম, আপনি কেন নিজের উপর টেনে নিচ্ছেন! আমি তো কারো নাম উল্লেখ করি নাই! তখন আরেকজন বলিলেন, মানুষ কি এত বোকা! আপনি যে পত্রিকার কথা ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন, তাতে মানুষ বোঝে না, কাকে বোঝাইলেন! তখন আমি ইষৎ হাসি দিলাম। একটা গল্প মনে পড়িয়া গেল। সেটা একটু জানাই। “এক মাতাল রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময়, হঠাৎ হোচট খেয়ে বলে বসলো: শুয়রের বাচ্চা প্রধানমন্ত্রী….. পুলিশ এটা শুনতে পেয়ে তাকে কয়েকটা বাড়ি দিয়ে বলে সাহস কত! আমাগো প্রধানমন্ত্রীরে গালি দেস! তখন সেই মাতাল বলে, আরে না না… আমি তো জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে গালি দিসি! তখন পুলি আরো কয়েক ঘা দিয়ে বলে, শালার পুত! আমরা জানি না কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী শুয়রের বাচ্চা!! ” মাঝে মাঝে কথা এগ্রেসিভ মুডে চলে যাচ্ছিল। আবার থেমে যাচ্ছিল। যাই হোক, এক পর্যায়ে বক্তব্য এলো, আপনি কি ভাবছেন Sudip Kumar Dip আর লুৎফর হাসান এর লগে চইলা বড় মাস্তান হইয়া গেছেন! ভাবছেন তারা ব্যকআপ দিতে পারিবে! ওহ আচ্ছা….. Mahmud Sunny আমার সাথে জড়িত বলিয়া তাহারা ধারণা করিয়াছে। যাহা আমার সৃষ্টির প্রতি অবজ্ঞা। এমন সৃষ্টির পেছনে ইহাদের ক্রেডিট আছে বলে স্বীকার করি না। অথ:পর কহিল, আপনে যে সিন্ডিকেটের কথা বলছেন, সে সিন্ডিকেট যদি থাকতো, তবে কবে সব থামাইয়া দিতাম! এসব কথার মাঝে তাহার জীবনের দু:খগাথা-স্ট্রাগলের গল্পও আসলো। এইসব স্ট্রাগলওলা লোকদের অবশ্য আমার ভাল লাগে। তারপর তাহার আবারো চিহ্নিত করলো যে, আমি শুধুমাত্র হিট খাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত এমন একটা অসভ্য লেখার জন্ম দিয়াছি। উদাহরণ হিসেবে আসলো, সবাই আমাগো পিছনে ছুটে গানের লাগিয়া…… আর আমরা এখন আপনেরে খুজিঁয়া কথা কইতাসি। আপনে তো সার্থক! তাহারা আমাকে বলিলেন, Sudip যে প্যাকেজে গান লেখে সেটা নিয়ে তো লিখেন না! আমি কথা দিলাম যে, এই ব্যপারে পর্যাপ্ত তথ্য পাইলে অবশ্যই লিখিবো। উহারা আমার প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছাকাছি অবস্থানের বলিয়াও নিশ্চিত করিলেন। এবং আমার প্রতিষ্ঠানের মিউজিক বিষয়ক দুজন মুরব্বীর কথাও বলিলেন। যাই হোক! কিছু থ্রেড, কিছু দু:খগাথা, কিছু স্ট্রাগল, কিছু অর্জন ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা শেষে তাহাদের অন্ত:ত একজন স্বীকার করিল যে, আমি যাহা লিখিয়াছি তাহা প্রতিবেদন নহে, ইহা একখান ফিচার/কলাম। তখন তাহারা জানতে চাইলো ফিচার লেখার আমি কে! আমি কি সঙ্গীতবোদ্ধা! গানের কি বোঝেন! স্বীকার করিলাম, আমি বোদ্ধা নহে! তবে ৩০ বছর যাবৎ গান শোনার একখান অভিজ্ঞতা আমার রহিয়াছে। অত:পর কহিলেন, আপনের ফেসবুকে তো দেখিলাম কিছু কিছু গানের পোস্ট। উহারা তো সেকেন্ড ক্লাস/ থার্ড ক্লাস টাইপের লিরিক্সও না। তাই আপনি হিংসায়-ঈর্ষায়-উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজখানা করিয়াছেন। অত:পর আমাকে কিছুটা বয়ো:জ্যাষ্ঠ বলিয়া সম্বোধন করিয়া আরো বহু কথা শেষে সমাবেশ সমাপ্ত করিলেন। পুরো ৩৫/৪০ মিনিটের আলাপে আমি যথারীতি ২/৪/৫ মিনিটের বেশী দখল না করিয়া চুপ রহিয়া ছিলাম। কারণ আমি জানি, আমার অবস্থান। আমি জানি, তাহারা দীর্ঘদিন যাবৎ বলতে না পারা বহু কথা মনের ভেতর আটকে রাখিয়াছে। তাই তাহাদের মন খুলিয়া বলিতে দিয়াছি। শেষে নিজের একটা উত্তেজনা বসত করা কমেন্টের জন্য দু:খপ্রকাশ করিয়া কহিলাম, ইহা আমার একমাত্র ভুল। কারণ আমি উত্তেজনা আটকাইয়া রাখিতে পারি নাই … অত:পর তাহাদের কথা শেষ হওয়ায় কহিলাম, ভাই কি এমনিতেই বিদায় নেবেন! নাকি আলিঙ্গন করিবেন! অত:পর তাহার সহিত আলিঙ্গন হইল। আমি তাহাদের আমার কার্ড দিয়া কইলাম, ই-মেইলটা ব্যবহার করি না। এর বাইরে সব ঠিক আছে। লাগলে ফোন দিয়েন। তিনি কহিলেন, তাহার কোন গানের কথা খারাপ হইলে সেটা লইয়া যতখুশি সমালোচনা করি, তাহাতে তাহার আপত্তি থাকিবে না। ওহ আচ্ছা, আমি প্রতিবাদলিপি দিতে আহবান জানিয়েছি। যেহেতু এটা বাংলা/বিডি নিউজের খবর না। কাজেই কিসের প্রতিবাদলিপি! নোট: যথারীতি আমি কারো নাম উল্লেখ করলাম না। এটা আমার স্টাইল। সকল কথা লিখতে গেলে তা উপন্যাস হয়ে যাবে। তাই বেশীরভাগ লিখলাম না। উনারা আমার কাছে সিনেমা ধ্বংসের জন্য ইমপ্রেস বা চ্যানেল আই’র ব্যপারে লিখতে আহবান জানিয়েছেন। কথা দিয়েছি, তাহাদের হিন্দী সিনেমা হুবহু নকল সিনেমা বানিয়েও জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা নিয়ে লিখবো, ক্রস চেক করার পর। আরেকটা কথা, ভাইগো গ্রামের ঝোপঝাড়ে ব্যঙ্গের ছাতা গজায়, তাকে মাশরুম ভাবার কোন কারণ থাকে না। আরেফিন রুমি-পরশী-ইমরান ব্যাঙ্গের ছাতা…….. মাসরুম নয়। তাই সেখানে পুষ্টি নেই। ভাল লেগেছে উনারা কোন উত্তেজক পরিবেশ সৃষ্টি করেন নাই। কারণ, তাতে যে পরিবেশ সৃষ্টি হতো সেটা জি-সিরিজ বা সেখানকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য সুখকর হতো না। আমাকে ভালবাসে এমন লোকজনও তো একটু দূরেই বসে ছিল! তার উপর নিজের তো একটা অতীত আছেই…… বি.দ্র.: তাহসান কিশোরীদের কতটা হার্টথ্রব তা আজ টের পেলাম। তার এ্যলবাম প্রকাশের সময় তাহসান যখন মঞ্চে তখন, কয়েক কিশোরী আমার পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো হাপাচ্ছিল আবেগে। একজন আমাকে বলে, আঙ্কেল, একটু জায়গা দেননা প্লিজ!! আমি আঙ্কেল!!!! আর তাহসান……… ঘটনাটি জানার পর, আমার কিছু সিনিয়র ভাই-বন্ধু আমাকে ধমক দিলো উনাদের না জানানোয়। একজন গালি দিলো কেন যেতে হবে সেখানে! আর গেলে একা কেন! একজন সরাসরিই বলল, তার মানে আপনারে চিপায় নিয়া **** মারছে! একবার জানাবেন না! আসলে এই মানুষগুলোর ভালবাসা এবং সাহসই আমাকে নিয়মিত বিপ্লব করতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এই মানুষগুলোর নাম উল্লেখ করছি না। কারণ সময় মতো এই মানুষগুলো ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে, সে বিশ্বাস রাখি। যাই হোক বন্ধুরা, এভাবেই নানাভাবে দেখা হয়ে যাবে… আমি খুব বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতার। কাজেই কথা হবে। দেখা হবে। আর লড়াই যদি ভুলে-ভালে লেগেই যায়, সেটা লেখার জবাবে লেখাতেই হবে আশা রাখছি। ভাল থাকবেন। আপনার জীবনের দু:খগাথা-স্ট্রাগল সব জয়ী হোক। গানের ময়দানেই দেখা হবে। হোক না প্রতিযোগীতা সৃষ্টিশীলতার, সৃজনশীলতার লড়াই।

Check Also

naveed mahbub

আসছে নতুন কমেডিশো মিস্টার টুইস্ট নাভীদ মাহবুব শো

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৭ই জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হবে নতুন কমেডি শো ‘মিস্টার টুইস্ট নাভীদ …

tausif, sporshia

মিউজিক্যাল ফিল্ম হারালো অজানায়

মিডিয়া খবর:- বৃহস্পতিবার ইউটিউবে প্রকাশিত হল কণ্ঠশিল্পী নাহিদ মেহেদীর গাওয়া গান নিয়ে মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘হারালো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares