Home » মঞ্চ » গ্লাসগোর কমনওয়েলথে বাংলা নাটকের ঝংকার

গ্লাসগোর কমনওয়েলথে বাংলা নাটকের ঝংকার

Share Button

ঢাকা:-

-: পাভেল রহমান :-

কমনওয়েলথ গেমসের সাংস্কৃতিক আসরে ৭১টি দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশের নাটক ‘দক্ষিণা সুন্দরী’।  গত বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর সেল্টিক পার্কে শুরু হয়েছে কমনওয়েলথ গেমসের ২০তম আসর। এ উপলক্ষে সাউথ রুটান্ডায় ন্যাশনাল থিয়েটার অব স্কটল্যান্ড আয়োজন করেছে ‘টিন ফরেস্ট থিয়েটার উৎসব’। সেখানে প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হলো বাংলাদেশের নাটক ‘দক্ষিণা সুন্দরী’।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে উৎসবের উদ্বোধনী নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ হয়েছে ‘দক্ষিণা সুন্দরী’ । কমনওয়েলথভুক্ত ৭১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ৬টি দেশ এ উৎসবে নাটক প্রদর্শন করবে। অন্য দেশগুলো হলো ভারত, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, মাল্টা ও জ্যামাইকা। উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশের নাটক ‘দক্ষিণা সুন্দরী’ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উৎসবে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের শিল্পীদের জন্য সময় বরাদ্দ করা ছিলো ১ ঘণ্টা। dakhina-sundory-3

লন্ডন থেকে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন- “এটা ছিলো স্বপ্নের মতো। কমনওয়েলথের সাংস্কৃতিক আসরে প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ হয়েছে বাংলাদেশের নাটক। থিয়েট্রেক্স বাংলাদেশের নাট্যকর্মীরা ছিলো দারুণ রোমাঞ্ছিত। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর অনেক দর্শকই এসে বলেছেন অসাধারণ একটা শো দেখেছেন তারা। দর্শকের মুগ্ধতা বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে।”

সুদীপ আরো বলেন- “এ নাটকটি নিয়ে দীর্ঘ এক বছরের জার্নি শেষ হলো। ‘টিন ফরেস্ট উৎসবে অংশ গ্রহণের জন্য বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ নাটকটি মনোনীত হয়েছে। আন্তজার্তিক পর্যায়ে বাংলা নাটক আরো একটি মাইলফলক স্পর্শ করলো ‘দক্ষিণা সুন্দরী’ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে।”

সুদীপ চক্রবর্তী আরো বলেন- “নাটকটি দেখতে প্রচুর বাঙালীরা এসেছিলেন। তাদের অনেকেই প্রদর্শনীর পর বলেছেন এর মধ্য দিয়ে বাঙালীরা খুবই গর্ব অনুভব করছে। এটা থিয়েট্রেক্স বাংলাদেশের নাট্যকর্মী ও বাঙলা ভাষাভাষী মানষের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”

কমনওয়েলথের সাংস্কৃতিক আসরে দক্ষিণা সুন্দরী মঞ্চায়নের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ঝংকৃত হলো বাংলা নাটকের জয়ধ্বণি। এর আগে নাসির উদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনায় ‘দ্য টেম্পেস্ট’ মঞ্চস্থ হয়েছিলো লন্ডনের গ্লোব থিয়েটারে। এবার ন্যাশনাল থিয়েটার অব স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণে মঞ্চস্থ হলো ‘দক্ষিণা সুন্দরী’। নিয়মিতভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাটক। এটি বাংলাদেশের নাট্যচর্চার বড় অর্জন বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবনের’ পটভূমিতে নির্মিত এ মঞ্চনাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। নাটকটিতে গীত, নৃত্য ও বাদ্য সহকারে সর্বপ্রাণবাদী পাঁচালী আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে বাংলার রূপকে। উপস্থাপনে অনুসরণ করা হয়েছে আখ্যানরীতি।

নাটকটি রচনা করেছেন শাহমান মৈশান। গবেষণা উপদেষ্টা ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, পোশাক পরিকল্পনা ডিজাইন তত্বাবধানে ওয়াহীদা মল্লিক জলি, রূপসজ্জা পরিকল্পনা তত্ত্ববধানে রহমত আলী, নৃত্য বিন্যাস অমিত চৌধুরী, সংগীত পরিকল্পনায় নীলা সাহা, আলোক পরিকল্পনায় মীর্জা শাখেছেপ শাকিব ও আতিকুল ইসলাম। মুখোশ পরিকল্পনা সুশান্ত কুমার সরকার, দ্রব্য পরিকল্পনা খাঁন মো: রফিক, পট অংকন রঘুনাথ চক্রবর্তী, অভিনয় ও পোশাক পরিকল্পনা করেছেন আতিকুর রহমান, মাহজাবীন ইসলাম, নুসরাত শারমীন, সৈয়দা ইফাত আরা ও এস এম জুম্মান সাদিক এবং প্রযোজনা সহযোগিতায় ন্যাশনাল থিয়েটার অব স্কটল্যান্ড ও ব্রিটিশ কাউন্সিল।

Check Also

রিজওয়ান

শিল্পকলায় রিজওয়ান উৎসব

মিডিয়া খবর :- সামজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মূলধারার চর্চা ও গবেষণা সংগঠন ‘মনন সমাজ সংস্কৃতি’র নাট্যবিভাগ ‘নাটবাঙলা’র …

madhu shikari

বটতলার নাটক মধুশিকারী

মিডিয়া খবর :- আজ শুক্রবার বটতলার ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।  বিকেলে মহিলা সমিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাটকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares