Home » সঙ্গীত » জানি না কোন মন্তরে…আবারো বাপ্পাদা’র যন্তর মন্তর
BAPPA

জানি না কোন মন্তরে…আবারো বাপ্পাদা’র যন্তর মন্তর

Share Button

ঢাকা:-

-: তির্থক আহসান রুবেল :-

হিরক রাজার দেশে রাজা তার প্রজাদের ধরে এনে যন্তর মন্তরে ছেড়ে দিত।কারাগারের চেয়ে এই যন্তর মন্তর ছিল অনেক বেশী কার্যকর। এখানে প্রজাদের যন্তর মন্তর করা হতো। তারা রাজা অনুরাগী হয়ে উঠতো। কথাগুলো শুনতে মজার মনে হলেও যারা সত্যজিতের সিনেমাটি দেখেছেন, তারা সবাই জানেন এই রাজা মূলত ছিল অত্যাচারী। সে যন্তর মন্তরের অপব্যবহার করতো। কিন্তু যন্তর মন্তরের সু-ব্যবহারও আছে, যদি কেউ সেটা ব্যবহার করতে জানে।bappa-majumder

 বাপ্পা মজুমদারের দশম একক এ্যলবাম ‘জানিনা কোন মন্তরে’ প্রকাশ পেল সম্প্রতি। ঘুম-গোসল জাতীয় কার্যক্রম ব্যতিত টানা ২ দিন এ্যলবামটি শুনলাম। কি শুনলাম কিছুই এখন বলতে পারছি না। তবে টানা চলেছে গানগুলো। সবই বোধহয় যন্তর মন্তরের খেলা। একটা যাদু, একটা মায়া। এর আগে ‘বেঁচে থাক সবুজ’ এ রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি রবে নীরবে’ যতটা না মুগ্ধতা তারচেয়েও বেশী পাথর করে রেখেছিল যেন। সেই ‘কোথাও কেউ নেই’ থেকে শুরু আজো শুনছি বাপ্পা দা’র গান। প্রতিবারই যন্তর মন্তর। bappa-2

মোট ১১ টি গান ও একটি ইন্সট্রুমেন্টাল দিয়ে সাজানো ‘জানিনা কোন মন্তরে’ সিডিটি কেনার পর কাভার খুলেই কতগুলো চমক। কাভার ডিজাইন ভিন্ন, বাপ্পাদা’র বায়োগ্রাফি, লিরিক্স এর বই সাথে জীবনস্মৃতি, প্রচ্ছদের একটি স্টিকার। মজার আরেকটি বিষয়, প্রচন্ড এই গরমে বাপ্পা দা’র শরীরে জ্যাকেট! যাই হোক, বায়োগ্রাফিটা ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলায় হলে আরো ভাল হতো।

 গানের প্রসঙ্গে আসি।এই এ্যলবামটি বর্তমান সময়ের ডিজিটাল কারচুপি, সফটওয়্যার প্রতারণা ইত্যাদি নানা অপকর্মে ভাসমান অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড় সুবাতাস বইয়ে দিয়েছে। একজন শিল্পী তার সাধনা, চর্চা, যোগ্যতা দিয়ে কিভাবে মানুষকে আবদ্ধ করে রাখতে পারে, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ এই এ্যলবামটি। ডিজিটাল যুগে সফটওয়্যার ব্যবহৃত হবে, কিন্তু শুধুমাত্র সফটওয়্যার দিয়ে শিল্পী নির্মাণ হতে পারে না। সফটওয়্যার ব্যবহৃত হবে সৌন্দর্য বর্ধনে। বাপ্পাদা’র এ্যলবামটিতেও সফটওয়্যারের ব্যবহার আছে। তবে তা প্রতারণা করার জন্য নয়, দূর্বলতা ঢাকার জন্য নয়, অ-শিল্পীকে শিল্পী বানানোর জন্য নয়। কন্ঠ সব সময়ই ইন্সট্রুমেন্ট-মিউজিকের উপরে। জানি এগুলো দেখে এখনকার প্রতারক শিল্পীরা কিছু শিখবে না। কারণ না শিখেই বড় কাভারেজ পাওয়া যায় গান কিনে।

 নিয়াজ আহমেদ অংশু ভাই সাম্প্রতিক কালে আর কোন এ্যলবামে গান করেছেন কিনা মনে করতে পারছি না। তবে শৈশবের স্মৃতি থেকে এটুকু স্বীকার করতেই হবে যে, ভাল লেগেছে উনার উপস্থিতি। ‘বাউন্ডুলে চিঠি’ গানের মাঝে প্রাণের গল্প যেন। মাস্ মাসুদের ‘কোন তরি বাউ’ গানটা সার্বিক বিচারে ভাল লাগার। ‘বিষন্নতার ঢেউ’ শিরোনামে গানটা কি শুধুমাত্র বাপ্পাদা গাইবেন ভেবেই যেন লিখেছেন জয় শাহরিয়ার! গানটি বাপ্পা দা’র গতানুগতিক গানের মতোই তবে মনে স্থান নেবে। বাপ্পাদা’র সিগনেচার টিউন। রাসেল ও’নীল এর লেখা ‘মন যন্ত্র না’/‘জানিনা কোন মন্তরে’ গানটার মাঝে হালকা ফোক টোন অথচ আধুনিক। শাহান কবন্ধের লেখা ‘বৃষ্টি আসুক’ গানটাও বাপ্পা দা’র গান বলে যে কেউ এক মূহুর্ত্বে চিহ্নিত করতে পারবে।গানটায় একটা চমৎকার উচ্ছ্বাস-উৎফুল্লতা আছে। আবির আলমগীরের ‘ক্যাফে হিলসাইড এভিনিউ’ বৃষ্টি ভেজা বিষন্নতায় মনকে আর্দ্র করবে। শাহান কবন্ধের আরেকটি গান ‘ধুলোর পাহাড়’ গানটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, সব মিলিয়ে গানটাকে পরিপূর্ণ লেগেছে। অবশ্য একেকজনের রুচি একেক রকম। রবিউল ইসলাম জীবনের ‘একলা পথিক’ গানটা শোনার পর একটা কথাই বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, প্রতিমাসে সফটওয়্যার প্রতারক সুরকার-কম্পোজারের মাধ্যমে অসংখ্য গানের অপমৃত্যু না ঘটিয়ে এমন গুণী মানুষের হাতে বছরে একটা গান তুলে দিন। জানি না এর আগে আপনার কোন গান এতটা যত্ন-সম্মান পেয়েছে কি না! (কুমার বিশ্বজিৎ দা’র এ্যলবামটা শুনতে পারিনি এখনো। সেখানে আপনার গান আছে শুনেছি। তাই সেটা বিবেচনায় নিলাম না আপাতত)। রানার লেখা ‘এই গানটা’ এমন তিনজন ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা যে, তিনজন আলাদাভাবেই এক একজন মহীরুহ। সঞ্জীব চৌধুরী, নীলয় দাস, হ্যাপী আখন্দ। উনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাপ্পাদা, মনে রেখেছেন এই গুণীজনদের তাই কৃতজ্ঞতা-ধন্যবাদ অবbappaশ্যই প্রাপ্য বাপ্পাদা’র। বাপ্পাদা’র নিজের লেখা ‘কি করি’ আরেকটি বাপ্পা সিগনেচার। যারা বাপ্পাদা’র গান পছন্দ করেন, তাদের জন্য খুব ভাল লাগার গান হবে এটি। এ্যালবামের সর্বশেষ গানটি মূলত সঞ্জিব চৌধুরীর লেখা একটি কবিতা। গানের প্রয়োজনে ২/১ জায়গায় একটু বদলে নেয়া মূল ভাবকে ঠিক রেখে। ‘আমার ভ্রমণ’ শিরোনামে গানটি শুনলেই বুঝতে পারবেন সঞ্জীবদা এখনো আছেন আমাদের মাঝে জীবন্ত। গানের কথাই সঞ্জীবদা’র উপস্থিতি জানান দেয়। একটিইন্সট্রুমেন্টাল সংযোজন ‘The Butterfly’ আপনাকে ভাসাতেও পারে প্রজাপতির বাগানে এক ঝাঁক প্রজাপতির সাথে।

গানগুলো পরী, দিন বাড়ি যায়, সূর্য স্নানে চল এর মতো কোন মাইলফলক বসাতে পারবে কিনা, সেটা সময় নির্ধারণ করবে। হাজারো নষ্টের মাঝে বিশুদ্ধ সংগীতের একটা সুবাতাস উপহার দেয়ায় ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানাবো বাপ্পা মজুমদারকে।

 সর্বশেষ: 

এ্যলবামটি শুনে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। তার কিছুটা এখানে শেয়ার করছি:     Bappa Mazumder এর ‘জানিনা কোন মন্তরে’ এ্যালবামটা একটানা ৩য় বারের মতো শুনছি। অসম্ভব ভাললাগা এবং পছন্দের এই গায়ককে নিয়ে কিছুদিন আগে Gabriel Sumon লিখেছিলেন, প্রিয় এই গায়ক ২০ বছর ধরে একই গান গাইছেন। কথাটা রিপিট করছি না। একই গান গাইছেন। তবে এ্যলবামের সবচেয়ে বড় পাওয়া, সফটওয়্যার নামক কুরূচিপূর্ণ প্রতারণা নেই। আমাদের আজকের নবীন সেলিব্রেটি বা উঠতি গায়ক-গায়িকারা কি শুনে দেখবেন কিভাবে একটি এ্যলবাম অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে শিল্পীর কন্ঠের যোগ্যতায়! চর্চা কিভাবে একজনকে অসাধারণ বানায়, সেটা আপনারা পাবেন। বেশীরভাগ গানের কথা চমৎকার। কম্পোজিশন বারবারের মতোই ভাল লাগার। সবার জন্য একই ডিজাইনের টোন-টিউন করা লাগে না, যা আপনারা বর্তমানে কিছু ক্লীবলিঙ্গ কম্পোজারের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন দাম দিয়ে।
শেষ কথা। বাপ্পাদা আপনার কন্ঠ, কম্পোজিশন, সুরের যাদুতে গানগুলো শুনছি।
তবে গ্যাব্রিয়েল সুমনের কথাটাও অনেক বেশী প্রয়োজ্য। আপনাকে নিজেকে উৎরে যেতে দেখতে চাই। সেই উৎরে যাবার অপেক্ষায় আছি। সেই স্ফুলিঙ্গটা দেখতে চাচ্ছি।
বন্ধুরা দয়া করে প্রিয় শিল্পীদের গান পাইরেসী করবেন না। তাতে আপনারা গানের সঠিক মান-সৌন্দর্য যেমন পাচ্ছেন না। ঠিক তেমনি আপনার প্রিয় শিল্পীকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। ভালবাসার বিনিময়ে প্রিয় শিল্পীকে অভাবটা উপহার দিয়েন না প্লিজ।
দায় স্বীকার:

আমি সঙ্গীতের কিছু না। শুধুমাত্র শুনতে শুনতে ভাললাগা-মন্দলাগাটুকু বলেছি। সবার ভাল না-ও লাগতে পারে। তবে আমি আমার অবস্থানে শতভাগ সৎ থেকেছি বলেই দৃঢ় বিশ্বাস রাখি।

 লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

Check Also

oishi-ashik

ঐশী ও আশিক গাইবেন আজ

মিডিয়া খবর:- জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ঐশী ও আশিক সরাসরি গাইবেন বৈশাখী টেলিভিশনে। ৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১১টায় বৈশাখী টেলিভিশনের …

bakir-fasol

জুয়েল মোর্শেদ ও মমর বাকির ফসল

মিডিয়া খবর:- সংগীতশিল্পী  মাহফুজা মমর ‘বাকির ফসল’ গানটির মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে গত ৩০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares