Home » নিউজ » বিস্ময়কর প্রতিভা লালন সাঁই

বিস্ময়কর প্রতিভা লালন সাঁই

Share Button

মিডিয়া খবর :-             

বাংলার বাউলদের মধ্যে যিনি ছিলেন সবচেয়ে খ্যাতিমান ও অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী তিনি হচ্ছেন লালন সাঁই বা লালন ফকির। বিস্ময়কর প্রতিভা এই লালন ফকিরের জন্ম হয়েছিল অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। তবে তার জন্ম এবং বংশপরিচয় দুটোই এক রহস্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে। লালন নিজেও এই রহস্যের কোনো সমাধান দিয়ে যাননি। তার নিজেরই কিছু গান ব্যাপারটিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে। যেমন একটি গানে তিনি তার আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন-‘সবে বলে লালন ফকির হিন্দু কি যবন?/লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান।’ 
ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধকদের মধ্যে অন্যতম বাউল কবি লালন শাহের জন্মদিন আজ (বিশ্ব তারিখঃ মাহবুবুল হক) ১৭৭২/১৭৭৪ সালের আজকের দিনে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও লালন শাহের জন্ম তারিখ ও সাল এবং জাতি বা সম্প্রদায় নিয়ে অনেক মতভেদ আছে।কারো মতে তিনি ১৭৭২ সালে আবার কেউ কেউ কেউ বলেন ১৭৭৪ সালে তার জন্ম হয়। ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
লালন ফকিরের জীবন সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসুত্র তার নিজের রচিত অসংখ্য গান। লালনের কোন গানে তার জীবন সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়া নেই বলে জানা যায়। এই প্রশ্ন তাঁর জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল। 

লালনের জন্ম হয়েছিল ১৭৭৪ সালে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামের এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে। লালনের প্রকৃত নাম ছিল ললিতনারায়ণ কর। ডাক নাম লালু। এই লালু থেকেই পরবর্তীকালে তার নাম হয় লালন—লালন সাঁই বা লালন ফকির। কেউ কেউ বলেন তার লালন সাঁই নামটি দিয়েছিলেন তার গুরু সিরাজ সাঁই। তবে নিশ্চিত করে কোনোকিছুই জানা নেই কারুরই। 

জন্ম-অনাথ লালন বাবাকে চোখেই দেখেননি। জন্মের পাঁচ কি ছয় বছর বয়সে তার মায়েরও মৃত্যু হয়। এদেশের পিতৃমাতৃহীন গরিব ছেলেমেয়েদের জীবন যেভাবে কাটে, তেমনি হয়তো অবহেলা আর অনাদরে কোনো আত্মীয়ের আশ্রয়ে কেটেছিল লালনের শৈশব-কৈশোর। যৌবনে লালন ভাড়ারা গ্রামের একদল তীর্থযাত্রীর সঙ্গে নবদ্বীপে যাত্রা করেন। পতিমধ্যে লালন বসন্তরোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। ওই অবস্থায় মৃত্যুপথযাত্রী লালনকে তুলে নিয়ে যান মলম কারিগর নামে ছেঁউড়িয়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তি। মলম শাহ এবং তার স্ত্রী মতিজান তাঁকে আশ্রয় দেন এবং সুস্থ করে তোলেন। মলম সাহ তাকে কুর’আন ও হাদিস শিক্ষা দেন এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ফকির সিরাজ সাঁই নামের একজন ফকিরের কাছে পাঠান। মলম কারিগর ছিলেন সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্য। এই মলম কারিগরই একদিন লালনকে নিয়ে যান সিরাজ সাঁইয়ের কাছে। তখন থেকেই লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন,যা মূলত ইসলাম ধর্মীয়। 

তিনি একাধারে ফকির (সাধক), দার্শনিক, অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। 

১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। আজও সারা দেশ থেকে বাউলেরা অক্টোবর মাসে ছেউড়িয়ায় মিলিত হয়ে লালন শাহের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে।গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর ১২ দিন পর তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরীতে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে “মহাত্মা” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রচনার লেখকের নাম রাইচরণ।

 

Check Also

ফাহিমের ব্যয়বহুল ভিডিও বাংলা ড্যান্স

মিডিয়া খবর :- তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী ফাহিম ইসলাম  নিয়ে এলেন ব্যয়বহুল  বাংলা ড্যান্স। রাহুল ভানজারের কথায় …

শুটিং হাউজে লাঞ্ছনার শিকার অভিনেতা

মিডিয়া খবর :-  অভিনেতা সৌমিক আহমেদ রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের স্ক্রিপ্ট শুটিং হাউজের ম্যানেজার আলাউদ্দিনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares