Home » নিউজ » বাচ্চুর মন্তব্যে আগুন

বাচ্চুর মন্তব্যে আগুন

Share Button

মিডিয়া খবর :-

খ্যাতিমান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, সংগীত পরিচালক, গায়ক ও গীতিকার খান আতাউর রহমান। সম্প্রতি এই নির্মাতাকে রাজাকার বলে মন্তব্য করেন নাট্যজন ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খান আতাউর রহমানের ছেলে কণ্ঠশিল্পী আগুন জনগণের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লেখেন। আগুনের লেখা এ চিঠিটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

‘বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং আমার অত্যন্ত শ্রাদ্ধাভাজন নাসিরউদ্দিন সাহেব আমার বাবা খান আতাউর রহমান সম্বন্ধে  কী যেন বলেছেন নিউ ইয়র্কের কোনো একটি অনুষ্ঠানে। আমি মনে প্রাণে চাইব যে, সেই ভিডিও ক্লিপটি যেন ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে পৌঁছে যায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

যেহেতু আমার বাবা জনগণের কাছের মানুষ, তাই তাদের প্রতিক্রিয়া জানার পর, প্রয়োজনে আমি প্রেস কনফারেন্স করব। অবশ্যই সাথে থাকবে ভার্চুয়াল মিডিয়া। আমার কাছে সদ উত্তর আছে। বাচ্চু সাহেবের প্রতি রইল আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রয়াত অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। তাঁর করা মন্তব্যে সমালোচনা করেছেন খান আতার ছেলে আগুন।

এ ব্যাপারে একটি গণমাধ্যমে নিজের লিখিত প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। 

নিচে হুবহু তা দেওয়া হলো।

‘সম্প্রতি নিউইয়র্কে সংস্কৃতিকর্মীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্য শেষে এক প্রশ্ন উত্তরে কৃতী চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগীত পরিচালক ও অভিনেতা খান আতাউর রহমান সম্পর্কে আমার একটি উক্তিকে কেন্দ্র করে ফেসবুক ও অনলাইনে সংবাদ মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক চলছে। অহেতুক বিতর্ক নিরসনে আমার কথা পুনর্ব্যক্ত করছি।

• বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক খান আতাউর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণে অপারগ হয়েছিলেন। যে ৫৫ জন বুদ্ধিজিবী ও শিল্পী ১৯৭১ -এর ১৭মে মুক্তিযুদ্ধকে “আওয়ামী লীগের চরমপন্থীদের কাজ”বলে নিন্দাসূচক বিবৃতি দিয়েছিলেন দুঃখ জনক ভাবে খান আতাউর রহমান তাঁর ৯ নম্বর স্বাক্ষরদাতা ছিলেন। ১৭ মে ১৯৭১ দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকা দ্রষ্টব্য ।

• ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার ড. নীলিমা ইব্রাহীমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন রেডিও টেলিভিশনে পাকিস্তানীদেপ্রচার কার্যে সহযোগীতা কারীদের সনাক্ত করার জন্য। ১৯৭২ -এর ১৩মে নীলিমা ইব্রাহীম কমিটি যে তালিকা সরকারকে পেশ করেন সে তালিকায় ৩৫ নম্বর নামটি খান আতাউর রহমানের। তালিকাভুক্তদের সম্পর্কে কমিটির সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। তালিকাভুক্ত শিল্পীদের ৬মাস পর অনুস্ঠানে অংশ গ্রহণ পুনর্বিবচনার সুপারিশ করা হয়।দ্রষ্টব্য – বাংলাদেশ বেতার তথ্য মন্ত্রনালয়ের নং জি১১।সি-১।৭২।১৬/৬/৭২

• একথা অনস্বীকার্য যে খান আতাউর রহমান একজন গুণী শিল্পী। তার সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নাই। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব কালে তাঁর চলচ্চিত্র সমূহ আমাদের ঋদ্ব ও উজ্জিবীত করেছে । যেমন “সোয়ে নাদীয়া জাগো পানি” “নবাব সিরাজদৌলা” সহ অনেক চলচ্চিত্র। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন এবং তা তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। আবার আলতাফ মাহমুদ, জহির রায়হান , শহীদউল্লাহ কায়সারের মত শিল্পী সাহিত্যিকরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল্ন তাঁদের স্বীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এবং শাহাদাত বরণ করেছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন উদ্রেক হয়েছে যে ৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর অব্যহতিতে কেন আমি বা আমরা তাঁকে রক্ষা করেছিলাম। কারণ খান আতাউর রহমান কোন প্রকার মানবতা বিরোধী কর্মে লিপ্ত ছিলেন না যদিও পাকিস্তানীদের সমর্থনে রেডিও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করেছেন।আর খান আতাউর রহমান একজন শিল্পী এবং ৯মাসে তাঁর কর্ম সম্পর্কে আমরা অবহিত ছিলাম না। তাছাড়া আমরা এও ভেবেছি ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক অনেকে পাকিস্তানীদের পক্ষাবলম্বন করেছে। আমরা তা বিচারের এখতিয়ার রাখিনা।তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের এ কথা বাধ্যতামূলক মানতে বলা হয়েছিল যে কোন অবস্থাতেই যুদ্ধোত্তর সময়ে কাউকে ক্ষতি বা আঘাত করা যাবেনা। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্তদের বিচার করাহবে রাষ্ট্রীয়ভাবে। মুক্তিযোদ্ধারা সেই আদেশ পুরোপুরি ভাবে মেনেছিলো বিধায় যুদ্ধোত্তর কালে প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে কম হয়েছিল। জেনেভা কনভেনশন মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি মেনেছিলো কিন্তু পাকিস্তানীরা জেনেভা কনভেনশনের তোয়াক্কা করেনি।

• আমার মূল বক্তব্যে নয় এক প্রশ্নের উত্তরে ইতিহাসের দায় থেকে আমি খান আতাউর রহমান সম্পর্কে উক্তিটি করেছিলাম। সবশেষে আবারো বলছি খান আতাউর রহমান একজন সৃষ্টিশীল মানুষ কিন্তু ১৯৭১ সালে তিনি দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমার তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই শিল্পী হিসাবে তাঁর প্রশংসা করি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকালে তার নিন্দনীয় ভূমিকার সমালোচনা তো করতেই পারি।’

মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য অভিনেতা ফারুক বলেছেন, “১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নির্ভর একটি ঐতিহাসিক সেলুলয়েডের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অবস্থার আলোকে এটি নির্মিত। অথচ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যে মন্তব্য নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু করেছেন তাতে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার চেতনার মূলে আঘাত করেছেন।’

খ্যাতিমান পরিচালক ও লেখক আমজাদ হোসেনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক, আসাদ, আমির হোসেন বাবু, আল মনসুর, দুলাল, মারুফ, কাজী এহসান, খান আতা, সরকার ফিরোজ, ববিতা, রওশন জামিল, ওবায়েদুল হক সরকার, খলিল সহ এক ঝাঁক মুক্তিযোদ্ধা।

নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাবেশে প্রয়াত খান আতাকে ‘রাজাকার’ মন্তব্য করেন বাচ্চু। তিনি বলেছেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটাতো নেগেটিভ ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ’। ওই অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকেও হেয় প্রতিপন্ন করেন তিনি।

তিনি আরও বলেছেন, ‘খান আতা রাজাকার, আমি না হলে খান আতা বাঁচতো না। আমি না হলে খান আতা ৭১-এ ১৬ ডিসেম্বরের পরে মারা যায়। সে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ, তোকে মানুষ হতে হবে। তুই রাজাকার ছিলি’।

তার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিত্রনায়ক ফারুক প্রশ্ন রেখে বলেন, “এমন একজন গুণী লোক। কল্পনাও করা যায় না। What not কি না তিনি। এদেশের বিখ্যাত যারা তাদের স্নেহধন্য কাছের লোক ছিলেন তিনি । যার ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে। মাতৃভাষা বাংলা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র দেশের চেতনা ছিল যার অস্থিমজ্জায়। তিনি আর কেউ নন দেশের বিরলতম গুণীদের অন্যতম খান আতাউর রহমান। যার ক্যারিশমাটিক কর্মগুণের কারণে সে সময়ের বিখ্যাত পরিচালক এ জে কারদার তাকে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। পাশাপাশি তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয় বুদ্ধিদীপ্ত তরুণদের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে। তিনি সে অনুযায়ী জহির রায়হানের মতো টগবগে তরুণকে সুযোগের ব্যবস্থা করেন। যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি দিকপাল হিসেবে আবির্ভূত হন। এগুলো ছিল সব ধারাবাহিক কাজের ফসল। এরপর আমরা জহির রায়হান, আমজাদ হোসেন (রচয়িতা) এবং খান আতা(অভিনয় এবং সুরকার) এই ত্রিফলার অমরসৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’ দেখেছি। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি স্বাধীনতা যুদ্ধে। এটা সেলুলয়েড। পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনে তাদের স্বদেশচেতনার প্রতিচ্ছবিও জাতি দেখেছে যা ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাস রচনা করেছেন। যা আজও দেশবাসী শ্রদ্ধাবনত মাথায় স্মরণ করে।

“সেই ত্রিফলার একজন খান আতাউর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্মাণ করলেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এটি নিছক কোনো ছবি ছিল না। যুদ্ধপরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়েই ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্র। এখানে দেখা যায় একদল সৎ মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের চোখের সামনে কিছু নামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যায় লুটতরাজ, সহ্য করতে না পেরে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা নিজেরাও শুরু করে দেয় একই কাজ! কিন্তু তাদের কলেজের অধ্যক্ষ এটা মেনে নিতে পারেন না, তিনি তাদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করে তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা সে কথা মানেনা। এদিকে অধ্যক্ষর এক ছেলে এক মুক্তিযোদ্ধার বোনের সঙ্গে ভালোবাসার নামে প্রতারণা করে। ফলে বিয়ের আসরে মুক্তিযোদ্ধার গুলিতে সে প্রাণ হারায়, অপরদিকে অপমানের হাত থেকে বাঁচার জন্য মেয়েটিও আত্মহত্যা করে। অধ্যক্ষ নিজেকে পুত্রের হত্যাকারী বলে ঘোষণা করে সব অপরাধের ভার আপন কাঁধে তুলে নেন এবং পুলিশের কাছে ধরা দেন। পুলিশের সঙ্গে জেলে যাওয়ার সময় অধ্যক্ষ তার স্ত্রীকে বলেন, ‘তুমি এক ছেলে হারিয়েছ কিন্তু তোমার সাত ছেলে (মুক্তিযোদ্ধাদের দেখিয়ে) রেখে গেলাম’।”

“সময়টা বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল। তার সময় মুক্তি পেয়েছে। স্বভাবতই তার সায় ছিল। এখানে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাহেব ‘যে ভাষায় যেভাবে এমন একজন গুণীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেন তার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই। এতে কেবল উনি খান আতাকে অপমান করেননি করেছেন পুরো মুক্তিযোদ্ধাদের। কারণ ওই ছবিতে সবাই ছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা দেশ গঠনে মনোনিবেশ হতে একাত্ম হয়েছি বলেই সেদিন সে ছবিতে মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করেছি।”

চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ফারুক বলেন, ‘সে সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল সেটা যেমন আপনি (বাচ্চু) জানেন তেমনি আমরাও জানি। ছবিতে এতোদিন পর কি এমন পেলেন যে এটাকে নেগেটিভ মনে হল আপনার?’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আপনিও করেছেন আমরাও করেছি। তার মানে এই নয় যে আপনার কাছ থেকে জানতে হবে কে যোদ্ধা আর কে রাজাকার।’

যদি তাই হয় তবে নিজেকে পন্ডিত বলে জাহির করতে চাওয়া মি. বাচ্চু আপনিই বলেন, ‘কি কি কারণে কোন কোন পরিস্থিতিতে রাজাকার বলা যায়। খান আতার তেমন কি জানা আছে আপনার, সেটা প্রকাশ করুন। নইলে মুক্তিযোদ্ধারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

গবেষক মীর শামসুল আলম বাবুর গবেষণায় অজানা খান আতা —

ক) ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্য যখন ঢাকা অ্যাটাক করে তখন খান আতা গুলিস্তান অফিসে ইস্ট পাকিস্তান প্রযোজ-পরিবেশক সমিতির বৈঠক করছিলেন। আক্রমনের কথা শুনে ইস্ট পাকিস্তানের স্থলে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে করেন বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। সভায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জরি রায়হান ও আলমগীর কুমকুম উপস্থিত ছিলেন।

খ) মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ‘আমার সোনার বাংলা’ যে গানটি অনুপ্রাণিত করেছে সেটি নেওয়া হয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবি থেকে। আর গানটি অর্কেস্ট্রা করেছিলেন খান আতাউর রহমান।

গ) ‘এখনও অনেক রাত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খান আতাউর রহমান বলেছিলেন- “যুদ্ধ চলাকালীন আমি একটি বিবৃতিতে সই করতে বাধ্য হয়েছিলাম। সই করার আগে সেখানে আরেকটি সই দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক তাকে ফোন দিই ‘আপনি সই করেছেন দেখছি ওরা অস্ত্রসহ এসেছে আমি কি করবো? টেলিফোনের ওপাশ থেকে জবাব আসে দিয়ে দেন। আমি সই করি। বিশ্বাস না হলে আজকে আমার মহরত উদ্বোধন করতে আসা কবি সুফিয়া কামালকে জিজ্ঞাসা করুন।” (মাহবুব আজাদ রচিত খান আতাউর রহমান। বাংলা একাডেমি। প্রকাশকাল ২০০১)।

ঘ) ১৯৭৩ সালে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি এফডিসির ব্লাক-ওয়াইট ল্যাবে দেখানো হয়। সেখানে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী) ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জবাব চাইবে পরিচালক সমিতি
এদিকে নাসিরউদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তিনি ফিরলে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যায় উপযুক্ত জবাবে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংগৃহীত

Check Also

ফাহিমের ব্যয়বহুল ভিডিও বাংলা ড্যান্স

মিডিয়া খবর :- তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী ফাহিম ইসলাম  নিয়ে এলেন ব্যয়বহুল  বাংলা ড্যান্স। রাহুল ভানজারের কথায় …

শুটিং হাউজে লাঞ্ছনার শিকার অভিনেতা

মিডিয়া খবর :-  অভিনেতা সৌমিক আহমেদ রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের স্ক্রিপ্ট শুটিং হাউজের ম্যানেজার আলাউদ্দিনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares