Home » নিউজ » সুন্দর আর নান্দনিক রীতির এক অফিসের গল্প
kazi it

সুন্দর আর নান্দনিক রীতির এক অফিসের গল্প

Share Button

মিডিয়া খবর :-    : সেলিম বিশ্বাস :

শুধুমাত্র গান, নাটক, নাচ, সিনেমা, কবিতা, গল্প, আবৃত্তি কিংবা শিল্পের আরও যে শাখাগুলো আছে সেগুলোর একক উপস্থিতিতে কখনও সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না। কিংবা কোন একটি ধারণ করে দাবি করতে পারিনা, আমি কালচারাল পারসন, আমি কালচারের সব জানি। কারণ, কালচার ব্যাপারটা আসলে অত্যন্ত ব্যাপক। আমার পাশের গ্রামের মানুষ কিভাবে একটি সমস্যার সমাধান করছে, কিভাবে কথা বলছে তা একটা কালচার। আবার দেশের বাইরে কিভাবে একটি উৎসব পালন করছে কিংবা উৎসব কি নিয়ে হচ্ছে সেটাও একটা কালচার। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কে বা কারা কিভাবে খায়, কিভাবে কথা বলে, চলে, মারে, মরে, হাসে, ইয়ার্কি করে, বিয়ে করে মানে জীবনযাপনের সবই কিন্তু কালচারের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা নাটক, সিনেমা, কবিতা দিয়ে সেগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পাই। আমরা কিন্তু গত শতাব্দীর কোন দশকের একটি সিনেমা দেখলে কিংবা সিনেমার একটি গানের ভিডিও দেখলেও সেই সময়ের কালচারের কিছুটা আইডিয়া পাই। বোদ্ধারা এ বিষয়ে আরও দারুণভাবে সবিস্তারে বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

আসলে বলতে চাচ্ছি কর্মস্থল বা যেখানে আমরা চাকরি করি সেখানেও কিন্তু প্রতিষ্ঠানভেদে বিভিন্ন কালচার আছে। একেকটা একেক রকম। বিদেশের কথা বাদ দিলাম। শুধু যদি আমাদের দেশের কথা বলি তাহলেও অনেক ধরণের কালচার প্রতিটি কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব কায়দায় গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। পজিটিভ নেগেটিভ দুটোর সহবস্থান সবসময় থাকে। আমাদের দেশের কমন কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কালচার আছে- বসের ঝাড়ি, বেতন ঠিক টাইমে না পাওয়া, একজনের পেছনে অন্যজনের লেগে থাকা, মূল্যায়ন না পাওয়া, কম বেতন, বেশি সময় খাটানো ইত্যাদি। এ সবই কিন্তু কালচারের আওতায় পড়ে। তাই তো আমরা বলি দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চ।আজ আমি একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। কাজী আই টি সেন্টার। উত্তর আমেরিকার একটি কোম্পানি এটি। প্রতিষ্ঠাতা মাইক কাজী। ঢাকাতেই এদের অফিস।

এখানকার কিছু কালচার আছে, বেশ দারুণ। ২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা, রাতেও অফিস চলে। পরিবেশ পুরোটাই ইংরেজিতে কথা বলা। মানে হল কেউ এখানে জব করতে থাকলে তার আইইএলটিএস এর প্রস্তুতি কিন্তু চলতে থাকে। কোচিংএ গেলেও লিসেনিং, রিডিং, স্পিকিং, রাইটিং প্রাকটিস করাবে, সেটা এখানেই চাকরি সূত্রে হয়ে যায়। বেস্ট সেলার সব ইংরেজি অডিও বইগুলো কর্মীদেরকে গিফট করা হয়, তা পড়ে সারমর্ম বলতে পারলে পুরস্কার আছে। আছে খোদ আমেরিকান মানুষ, সুতরাং তাদের সাথেও চলাফেরায় কালচারাল আদান প্রদান হয়। তারাও আমাদের দেশীয় উৎসবে পাঞ্জাবী, লুঙ্গি পরে তাক লাগিয়ে দেয়।

মাস শেষে ভালো পারফরম্যান্স করা কর্মীদের মা-বাবা বা অভিভাবকদেরকে অফিস থেকে গোপনে ফোন করে দাওয়াত দেয়া হয় এবং একটি নির্দিষ্ট দিনে ‘প্যারেন্টস নাইট’ অনুষ্ঠান করা হয়, যেখানে মাসের বেস্ট পারফর্মারের লিস্টে থাকা কর্মী আচমকা ঘোষণার মাধ্যমে তার নাম জানতে পারেন। বিস্ময় নিয়ে মঞ্চে গিয়ে দেখতে পান দর্শক সারির সামনেই বসে আছে প্রিয় মা-বাবা কিংবা পরিবারের কেউ। কেউ কেউ এসময় আবেগে কেঁদেই ফেলেন।

নতুন যোগ দেয়া কর্মীকে প্রথম দিনেই উপস্থিত সবার সামনে গান গাইতে হয় এবং পরবর্তী ৯০ দিন প্রতিদিন তাকে একটি করে গান গাইতে হয়। সবাই সবার মতো কাজ করে চলেছে, এদিকে কেউ কেউ গান গেয়ে চলেছে।

কখনও কখনও একঘেয়ে ভাব হলে স্পিকারে মিউজিক দিয়ে একসাথে নাচার ব্যবস্থা আছে কিংবা জায়ান্ট স্ক্রিনে সেরা সেরা সব গানগুলো প্লে করে দেয়া হয়। আর বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা থাকলে সেটাও সব ফ্লোরে দেখা হয়ে থাকে। জিতে যাবার মুহূর্তে সবাই একসাথে তা উদযাপন। ম্যাচ যদি হয় খুব হাইভোল্টেজ তাহলে তো প্রোজেক্টরের ব্যবস্থা।

চলতে থাকে কাজ। চলতে থাকে অফিসের অর্থায়নে আনলিমিটেড কফি পান। মিনিমাম দুবার সবাই সবার সাথে হাগ। কারও জন্মদিন থাকলে তা উদযাপন। কখন যে অফিসের টাইম পার হয়ে যায় এগুলো করতে করতে, টের পাওয়াটা মুশকিল।

কোন ধমকা ধমকির ব্যাপার নেই। না বুঝলে বুঝানোর ব্যবস্থা আছে। ট্রেইনিং বিভাগ আছে। বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতা বাড়াতে কর্মীদেরকে বেশ কিছু মূল্যবান ট্রেইনিং দেয়া হয়, এর জন্য সনদপত্র দেয়া হয়। কখনও কখনও কর্মীদেরকে বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হয়, খরচ কাজী আই টি বহন করে থাকে।

প্রতিটি মানুষের কিছু স্বতন্ত্র মেধা আছে, সৃজনশীলতা আছে। সেগুলোকেও লালন করে কাজী আই টি। বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পিকনিক কিংবা ক্রিকেট-ফুটবল ম্যাচ কিংবা পার্টির আয়োজন থাকে, যেখানে কর্মীরা তাদের নিজস্ব মেধা দেখানোর ব্যাপক সুযোগ পেয়ে থাকে। হয়ে থাকে, নাটক, গান, নাচ, কৌতুক আরও কত কি!!

গড়ে উঠছে তরুণ নেতৃত্ব, তরুণ বাংলাদেশীরাই চালাচ্ছে কোম্পানি, পাচ্ছে পদোন্নতি, সম্মান। চলছে দারুণ সব ইনোভেটিভ আইডিয়া হান্টিং । সব সময়, সারাক্ষণ। আছে কাজের অবারিত সুযোগ। শুধুমাত্র চাহিদা মতো যোগ্যতা থাকলেই কাজ পাওয়া বেশ সহজ।

এভাবেই বছর ঘুরে আরও একটি বছর কখন যে কাজী আই টি সেন্টারের কর্মীদের জীবনে চলে আসে, তাতে হয়তো তারা চমকে যায়।  

ইচ্ছা হলে ঢু মেরে আসতে পারেন এদের ফেইসবুক পেইজ থেকে। 

https://www.facebook.com/kaziitbd/

Image may contain: 26 people, people smiling, people standing

 

Check Also

mayurponkhi

ময়ূরপঙ্খী ফিল্ম সোসাইটির মেম্বারশীপ সার্টিফিকেট প্রদান

মিডিয়া খবর:- সম্প্রতি ময়ূরপঙ্খী ফিল্ম সোসাইটির সদস্যদের মাঝে মেম্বারশীপ সার্টিফিকেট প্রদান করা হল। গ্রীন ইউনিভার্সিটির ফিল্ম …

ডিপজলের মেয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন

মিডিয়া খবর:- গত বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের মেয়ে ওলিজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares