Home » টিভি নাটক » বড় ছেলের কি দোষ!!

বড় ছেলের কি দোষ!!

Share Button

মিডিয়া খবর :-      : সেলিম বিশ্বাস:

একজন মানুষের মনে যখন কোন একটি বিষয় ঘুরপাক খেতে থাকে, তখন টা কলম দিয়ে বের না করা পর্যন্ত একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মতো জীবন যাপন করেন খানিকটা। বিষয়টি তার মাথায় অন্য চিন্তা বা ভাবনাকে আসতে দিতে চায়না। চলাফেরার মধ্যে যেন সারাক্ষণ আইডিয়াটি তার সাথে কথা বলে, আর্গুমেন্ট করে। মানুষটা কিছুটা হলেও অস্বাভাবিক হয়ে যায়।

একটা সময় ভাবনাটি কলমের মাধ্যমে কাগজে এসে পড়ে। এ যেন সন্তান ভূমিষ্ঠ হল। আসলেই লেখকের ফিলিংস তখন এমনই হয়। ভাবনাকে কাগজের উপর ঢেলে দেয়া তো চারটি খানি কথা নয়। তো সেটা করতে পেরে গর্বিত জনক বা জননী মনে হতে থাকে।

সেই লেখা যদি যায় চুরি হয়ে, তবে তা হয় ভূমিষ্ঠ হবার পর চুরি হয়ে যাওয়া। বেচারার অবস্থা তখন কেউ বুঝতে পারেনা। তবে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা যদি না ঘটে, তাহলে লেখাটি পরিবর্ধন, পরিমার্জন এর মাধ্যমে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে লালন পালনের কাজ চলতে থাকে।

একটা সময় হয়তো লেখাটি কোন কাগজে বা পত্র-পত্রিকাতে ছাপা হয়, তখন মনে হয় সন্তান মাধ্যমিকে বা উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। কখনও কষ্টে-সৃষ্টে যদি বই হিসেবে বের হয়, তো মনে হয় সন্তান হার্ভার্ড কিংবা অক্সফোর্ড থেকে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে।

এরপর যদি সেই লেখা নিয়ে কোন ভিডিও চিত্র নির্মাণ করা হয়, তাহলে মনে হয় সন্তান ভালোভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সার্থক মনে হয়। গড়ে তোলা সন্তানের ইনকাম খাওয়া যায়। আহ।

ঘটনা হল, লেখক হবার চ্যালেঞ্জ কেউ নিতে চায় না। সবার পক্ষে নেয়া সম্ভবও না। তার আবার অনেক কারণ। গেলাম না সেদিকে। নিতান্তই পাগলামি দমন করতে না পরলে এই লাইনে অনেকে থেকে যান, পেশা হিসেবে বেছে নেন। বড় ধরণের ঝুঁকি নিয়ে। মানুষের মনের ক্ষুধা মেটাতে করে যান আমরণ চেষ্টা। জীবদ্দশায় মূল্যায়ন হয়তো পান না, আবার মরণোত্তর পান কিনা তারও ঠিক নেই।

মিজানুর রহমান আরিয়ান। তাঁকে আমি আগে থেকে চিনতাম না। সম্প্রতি তাঁর একটি কাজ (বড় ছেলে) আমি দেখেছি। পজিটিভ আর নেগেটিভ দুই ভাবেই তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রশংসা আছে প্রচুর। আবার এই নির্মাণের মাধ্যমে অনেকে সমালোচকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন, তাদের ব্যপক সমালোচনা চলছে।

এটা খুবই ইতিবাচক দিক বলে আমি মনে করি। বহু মানুষকে কি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে, কি মুখে, কি পত্রিকাতে কথা বলতে দেখলাম। তার মানে, এই নির্মাণ (বড় ছেলে) সবাইকে ভাবিয়েছে। সবার মগজে ঢুকতে পেরেছে। একটা কিছু দেখে সবার একই রকম অনুভূতি হবে না। এটা খুবই স্বাভাবিক। সবাইকে আমি সাধুবাদ দিব এই কারণে যে, কিছু হলেও এই নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাতে নির্মাতার কিছুটা হলেও তৃপ্তি পাওয়া উচিৎ।

আমি নেগেটিভ কিছু বলব না। অনেকে বলেছেন, তার মধ্যে অনেক গুলোই গঠনমূলক ছিল। সুতরাং কিছু নিতে হলে ওগুলো থেকে নিলেই হবে। পজিটিভ বললে বলব- মেহজাবিন আমার দেখা এখন পর্যন্ত সেরা অভিনয় এই টেলিছবিতে করেছেন। অপূর্ব এমনিতেই ভালো অভিনয় করেন, এখানেও তিনি নিরাশ করেন নি বরং কিছু ভালো এক্সপ্রেশন তিনি উপহার দিয়েছেন। বাবা হিসেবে যিনি কাজ করেছেন, তাঁর অভিনয় সাবলীল ছিল। আসলে অনেকেই বাবার এই চরিত্র করতে পারতেন। কাস্টিং তাকেই করা হয়েছে। এবং কাস্টিং ভালো হয়েছে। আমাদের দেশীয় নির্মাণে একটি কমন প্রবণতা আছে, অন্তত আমার চোখে তাই মনে হয়েছে। সেটা হল- নায়ক-নায়িকা-ভিলেন এর বাইরে যারা কাজ করেন, তাদের কাস্টিং করার ব্যাপারে খুব হেলেফেলা করা হয় বলে মনে হয়। অবশ্য এটা হতে পারে বাজেট এর কারণে। অথচ একটি নির্মাণে প্রতিটি চরিত্রই, প্রতিটি প্রপস, কস্টিউম সবই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সামান্য একটিও যদি এদিক ওদিক হয় তাহলে না বোঝা দর্শকের চোখেও তা ধরা পড়ে। একটি নির্মাণের সাথে জড়িত কেউই ফেলনা নন। সবারই ঘাম ঝরে। সবার ঘামই নোনতা। সরাসরি নির্মাণের সাথে জড়িত থাকায় অনেক খুঁত চোখে পড়ে না। এজন্য সমালোচনা আসলেই দরকার। আর সমালোচনা নিয়ে স্টাডি করারও দরকার আছে। ফ্রিতে সমালোচনা পাওয়া যায় বলে ওগুলোর কোন দাম নেই তা কিন্তু না।

এবার যারা নেগেটিভ সমালোচনা করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই কিছু কথা বলি। দেখুন, এই কাহিনী দেখে কাঁদতে হবে তা কিন্তু লেখক কিংবা নির্মাতা কেউই আপনাকে বলেন নি। আপনি হয়তো আপনার বন্ধুর স্ট্যাটাস পড়ে ওটা দেখে ফেললেন, কিন্তু বন্ধুর মতো ফিলিংস আপনার হল না। লিখে ফেললেন গুষ্টি উদ্ধার করা একখানা সমালোচনা গ্রন্থ। আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন, এর আগে কখনও কোন নির্মাণ নিয়ে লিখেছেন কিনা? এই নির্মাণই কিন্তু আপনাকে ভাবিয়েছে। কিন্তু গুষ্টি উদ্ধার করলেন নির্মাতার, আপনার বন্ধুর নয়। কোন সমস্যা নেই। আপনার কাছ থেকে অন্যান্য নির্মাণ নিয়ে আরও লেখা আশা করি।

কাহিনীর অসামঞ্জস্যতা, ফাঁক-ফোঁকর বের করছেন? আচ্ছা ভ্রাতা-ভগ্নি, আপনি নিবিষ্ট মনে এই কাহিনীটি আপনার মতে সঠিক ভাবে ভাবুন, তারপর মিলান তো কত ঘণ্টায় শেষ করতে পারেন। চ্যানেলের নাটক কিংবা টেলিছবি প্রচারের জন্য বরাদ্দ টাইম সম্পর্কে কি কোন আইডিয়া আছে? না থাকলে সমস্যা নেই, যদি থাকে তাহলে কাহিনীর সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দিক নিয়ে হাহাকার করার মানে কি ডিয়ার!! এই কাহিনীর মতো ঘটনা বাস্তবে খুবই হয়। তবে হ্যাঁ, কিছু ব্যাপার আছে, যার বাস্তব রূপ অবশ্যই ভিন্ন হবে।

তাহলে এখন আসি সেই কিছু কাহিনী নিয়ে, যার বাস্তব রূপ ভিন্ন অবশ্যই হবে। প্রশ্ন হল- এই অবাস্তব অংশটুকু এর সাথে জোড়ার কি দরকার ছিল?

আপনি যদি এসএসসি পাশ করে থাকেন কিংবা নবম-দশম শ্রেণীর সহপাঠ পড়ে থাকেন (যদি সহপাঠ থাকে) তাহলে এই ব্যাপারটা বুঝতে আপনাকে পিএইচডি হোল্ডার হওয়া লাগবে না। ঐ সহপাঠে খুব স্পষ্টভাবে নাটকের সংজ্ঞা দেয়া আছে, বাস্তবের সাথে কিছু রঙ লাগিয়েই তো নাটক সিনেমা বানাতে হয়। রঙ থাকলে আপনার খাবার পছন্দ হয়না, পোশাক পছন্দ হয় না, বউ পছন্দ হয় না, কিছুই ভালো লাগে না। তাহলে এই কাহিনীতে একটু রঙ বা ক্লাইম্যাক্স দিয়ে আপনার কাছে ভালো লাগানোর চেষ্টাতে কি দোষ হয়েছে?

এমন নির্মাণ আরও হোক। ভুলভাল নিয়ে স্টাডি হোক। সব দিকে, সবার দিকে ভালোভাবে গুরুত্ব সহকারে নজর দেয়া হোক। ‘বড় ছেলে’ টা কিন্তু বেশ ভালো হয়েছে।

Check Also

জনপ্রিয় পালকী ৫০০ পর্বে

মিডিয়া খবর:- ৫০০ পর্বের মাইল ফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দীপ্ত টিভির প্রতিদিনের ধারাবাহিক “পালকী”। দেশী …

ekti rat

একটি রাত-ঈদের দিন বেলা ১১টায়

মিডিয়া খবর :- বয়স ১৮ বছর, বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান রোদেলা চৌধুরী পিউ। বাবা চৌধুরী গ্রুপ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares