Home » নিবন্ধ » উভয়সংকট, যানজট, শহরায়ন জটা ঘনঘটা

উভয়সংকট, যানজট, শহরায়ন জটা ঘনঘটা

Share Button

মিডিয়া খবরঃ-   – শায়লা সিমি টুকটুক-

প্রথমত একটা বিষয় উত্থাপন করি ; ইউরোপীয় সভ্যতা ও ইতিহাস বিবেচনাকে সামনে রেখে পৃথিবীর অন্যান্য সকল সভ্যতা আলোচনায় আসে। ইউরোপ -আমেরিকার ইতিহাসবিদ পন্ডিতেরা রামায়ণ – মহাভারত বা কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থকেই ইতিহাস মনে করেন না। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন -“আধুনিক পাশ্চাত্য সংজ্ঞা অনুসারে মহাভারত ইতিহাস না হইতে পারে, কিন্তু ইহা যথার্থই ..একটি জাতির স্বরচিত স্বাভাবিক ইতিবৃত্ত। “এখন সময় বিশ্বরাষ্ট্র গঠনের, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রথম চড়াই হলো মদিনা চাটার। সামুদ্রিক উপকূলবর্তী এলাকায় ভার্টিকাল কন্সট্রাকশনের নিদর্শন সিবাম সিটি যা ১,৭০০ বছর পুরোনো সভ্যতা। Manhattan of the Desert’ নামেও চেনা হয় তারে। এখানেই, এ নাম করণেই জানা সম্ভব যে কতটা তুলনা করি আমরা! আমরা বিশ্ব থেকে ভালো কোনো শিক্ষা গ্রহণ করবো তবে আঞ্চলিকতা বিচারে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আমেরিকান কন্সট্রাকশন ছেড়ে চায়না পরিকল্পনায় এলাম; এ যেন শুভঙ্করের ফাঁকি ! এই বিষয়ক আলোচনায় শেষকালে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না! ঢাকার স্বস্তি ফিরিয়ে তার সুস্বাস্থ বজায় রাখা এখন সম্পূর্ণ হাতের নাগালের বাইরে! শুধুমাত্র যানবাহন ও রাস্তার বেহাল অবস্থা সেটা বোঝার জন্য যথেষ্ট ! ঢাকা শহরে পরিকল্পিত আবাসন প্রয়োজন, প্রয়োজন প্রতিবন্ধী ও বেকার ভাতা, আরো প্রয়োজন বয়স্ক ভাতা প্রদানের! প্রয়োজন রয়েছে সঠিক পরিমানে বিদ্যুত সরবারহ, গ্যাস সরবরাহ; দরকার হাসপাতাল উন্নয়ন! সুতারং নগরায়নের একটি উন্নয়নমুখী ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সোচ্চার হতে হবে! এ বুলি স্ক্রিপ্ট হিসাবে পড়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমরা প্রতিদিন চাপ বাড়াচ্ছি ঢাকার উপর; ঢাকায় এসে ভিড় করছি। কর্ম সংস্থানের জন্য মানুষ ঢাকায় ভিড় জমাচ্ছে কারণ ফলনের পক্ষে জমি কমে যাচ্ছে , বাজারজাত করণে মধ্যবর্তী সংস্থার কবলে সাধারন দাস হয়েই পড়েছি আমরা সিস্টেমের! তবু এ দ্বাসত্বের সঠিক সংবিধান ও আইন প্রনয়ন প্রয়োজন সেটাই আজকের কথা !

সুষম এবং বহুমুখী বেড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র প্রকৃতির নির্দিষ্ট অংশ অথচ নিয়মের বাইরে দ্রুত, অনিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের আকাঙ্ক্ষা এর পতন ঘটাচ্ছে ! যেমন -প্রাকৃতিক স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক উন্নয়নকে ব্যাঘাত ঘটানো না হলে এগোন যেত এবং সকল অভাব প্রকৃতিগতভাবেই পূরণ সম্ভব ছিল! উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ধারা বহমান অথচ তা অনৈতিক একটি পথে পরিচালিত হচ্ছে! তবে একক রাজনৈতিক ক্ষমতা একটা স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করেছে যা কাজে লাগানো সম্ভব ছিল।পরিবেশের সংক্ষরণ খুব প্রয়োজন। বায়ু দূষণ, যানজট ও শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো ভেঙে পুনর্গঠন প্রয়োজন। এ তিনটি খুব জোরালো জায়গা এবং সে সঙ্গে রয়েছে গণমাধ্যমের ভূমিকা। ঠ লা শ্যাম লা (ঠেলা সামলা ), এ বাক্যের একটা নিজস্ব ভাবসম্প্রসারণ করে যা দাঁড়ায় ; তরণী -পরিমণ্ডল- শ্যাম- অনুরঁজন। গণমাধ্যমের অনুরঁজন ও নৌকা সামাল দিতে , গণমাধ্যম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সাংস্কৃতিক সংঘঠনগুলো পড়েছে সংকটে। পরিবারের সদস্যদের সামাল দিতে হিমশিম ! মাঝেমধ্যে গা হিম হয়ে যায় প্রচার ও তার প্রতিফল দেখে ! কিছু হলেই তা নিয়ে শুরু হচ্ছে সাইবার সাইট এ হৈ চৈ! সুতারং একটি পরামর্শকারী প্যারেন্টাল এসোসিয়েশন প্রয়োজন এবং প্রয়োজন রয়েছে সরকার ও সরকারি দলের সততা, দেশ পরিচালনার জ্ঞান উন্নয়ন ইত্যাদি।

সবচাইতে বোঝাপড়ার জায়গায় আমরা চক্ষু মুদে আছি ! সকল ব্যবস্থা তৈরির পিছনে আছে আমাদের বেঁচে থাকা বা ভালোভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছে। রাষ্ট্র সৃষ্টি ও তার নিয়ম মেনে চলা, আধুনিকায়ন সকল কিছুই এক উদ্দেশ্যে! আর এই টিকে থাকা মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়। সুস্থ থাকা, সুষ্ঠু জাতি হিসাবে পরিগণিত হওয়া। শিক্ষার মান উন্নয়ন ইত্যাদি। সম্পূর্ণভাবে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের দ্বারা জীবনযাপনের ক্ষমতা।
এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংঘ সমিতি খুব গুরুত্বের সঙ্গে তাদের অনুশীলন কর্মসূচি ধার্য করবে এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবে তবেই সম্ভব! কিছুদিন আগেই পড়লাম চট্টগ্ৰামে কয়েকটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। শুধু নাম বড় হলেই চলেনা; বড় হবার পথে যে দায়িত্ববোধ অবশ্য পালনীয় হয়ে ওঠে তা বুঝে নেওয়া দরকার। শহরায়ন পরিকল্পনা ও গঠন সুষ্ঠু হওয়া দরকার।

সংঘের ক্ষেত্রে কিছু কথা জেনে রাখা দরকার ! ভারত ও বাংলাদেশে ৮০’র দশকে বিভিন্ন অঞ্চলে নানা সংঘটন ও অরাজনৈতিক দল সমাজ পুনর্গঠনমূলক কাজ ও পরিবৃত্তিতে ভুমিকা রেখেছে। তারা প্রাথমিক ভাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে নানা উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম ছিল। নগরায়নে এ সকল সংস্থা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল এবং চার্ট সমাজ ছিল তার একটি বিশেষ অংশ। ভারতে ইন্দিরা গান্ধী হত্যা ও সে সময়্কাল বিচারে নানা মহল্লায় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ এই ধরনের সংগঠন কর্মীদের হত্যা ও গুমের ইতিহাস ভারতের যুব -সমাজকে সংঘ সংশ্লিষ্ট কার্যাবলীতে নিরুত্সাহিত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বা সরকারী দলের ছত্র ছায়ায় নানা সংঘ, যারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সেগুলো অবিলম্বিত; কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু, রাজনৈতিক সংঘগুলো সাধারণের উন্নয়নের চাইতে দল বা কর্মীদের স্বার্থ নিয়ে বেশি ভাবছে সে কারণে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে এদের ভুমিকা আশা করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে এরশাদ শাসনামলে এই অরাজনৈতিক সংঘ-সমূহ সংখ্যায় কমে আসে অথবা তাদের কার্যাবলী সীমাবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। গণতন্ত্রের জাগরণের সন্মুখে যে সকল অপসংস্কৃতি-চর্চা বিদ্যমান ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম –

ছবিঃ শায়লা সিমি টুকটুক

. আঞ্চলিক পর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা।
. রাজনৈতিক আচরণ।
. অপরিকল্পিত, অনৈতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
. গবেষণার অভাব প্রধানত বাংলাদেশের সঠিক শহরায়নের পথে বাধা।
-এখন প্রশ্ন হলো – শহরায়ন সহযোগিতা এবং এর সঠিক উন্নয়ন আসলে নিশ্চিত করতে পারে কে বা কারা?
-কিভাবে আঞ্চলিক চাহিদা মোতাবেক সরকার, সংস্থা ও মধ্যবর্তী সংস্থা, ব্যাঙ্কিং ও ঋণ ব্যবস্থা এই শহরায়ন ব্যবস্থাকে উন্নয়নের পথে তরান্নিত করতে পারে ?

মূল কথা :
প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনসংখ্যা। জনসংখ্যার হিসাবে প্রত্যেকটি মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র , বাসস্থান সঠিক উপায়ে নিশ্চিত করতে হলে এই পৃথিবীর মতই আরো সাতটি পৃথিবী প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার হিসাবে ঢাকা শহর বিশ্বের মধ্যে অষ্টম অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা অর্জনের জন্য শহরকেন্দ্রিক হবার যে প্রবণতা তা বৃদ্ধি করছে যানজট ও আবাসন সমস্যা । স্ব-স্ব-অঞ্চলের অর্থনৈতিক লক্ষ্য হবে যতদূর সম্ভব স্বনির্ভর করে চালানো! সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করে, দলীয়করণ বন্ধ করে তবেই আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্ভব। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সকল প্রয়োজন সব আঞ্চলিক রাষ্ট্র যেন পূরণ করতে সক্ষম হয় সে লক্ষ্যে সরকারকে এগোতে হবে ; ২০১৭ ইংরেজি বছর বাঙালির সফলতার সড়ক হোক। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রত্যেক বাঙালি সংস্কার মুক্ত মানুষ হয়ে উঠুক।

shailasimi@gmail.com

Check Also

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল ভারতীয় স্থলবাহিনী

মিডিয়া খবরঃ-      সাজেদুর রহমানঃ- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেছেন গতকাল। রাতেই ডাকা …

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা

মিডিয়া খবর:-          -:সাজেদুর রহমান:- বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর একের পর এক আক্রমণে সীমান্তবর্তী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares