Home » Uncategorized » বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা
------

বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা

Share Button

ঢাকা:-

বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন প্রবাসী অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা ।  আমেরিকায় দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। বর সুইস বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মার্ক ওয়েনবার্গ। নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দূরে আছেন নাট্যাঙ্গন থেকে। মাঝে মাঝে দেশে এসেlata-1 আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটিয়ে যান। সম্প্রতি তিনি মার্ক ওয়েনবার্গকে  বিয়ে করেছেন বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন। নতুন বরের সঙ্গে নিজের ছবিও প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, মার্ক ওয়েনবার্গ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ১৮ই জুলাই সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা পার্টি হলে লতা-মার্কের জমকালো বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে লতার বর ওয়েনবার্গের মা পল ওয়েনবার্গও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি  এ কে এ মোমেন, কানাডাপ্রবাসী গণিতবিদ মিজান রহমানসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১২ই জুলাই লতার গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। বাঙালি রীতি অনুসারেই বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় লতা-মার্কের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বহুব্রীহি’ ও ‘এইসব দিনরাত্রি’তে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন লুৎফুন নাহার লতা। ১৯৯৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালেই সাবেক স্বামী মেজর (অব.) নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এদিকে, লুৎফুন নাহার লতা বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনে কাজ করছেন।lata-4

এই বিয়ে বিষয়ে লতা তার ফেসবুকে যা লিখেছেন- 

জীবন হলো এক অন্বেষণ ,এক সফল বা অসফল জার্নি তবু প্রতিটি সূর্যোদয়ে নব আনন্দে জেগে ওঠে মানুষ । অনেকের মতই আমার জীবন এক সুদীর্ঘ লড়াই। চলার লড়াই। বলার লড়াই। মাথা উচু করে বাঁচার লড়াই। দীর্ঘতম সেই একাকী লড়াই কেবল আমার নয়, আমার মত অগণন নারীর জীবনকে করেছে ঋদ্ধ । আমার একমাত্র সন্তান সিদ্ধার্থ জন্ম থেকে আমার এই লড়াইয়ের একমাত্র সাথী । আজ তাঁর দারুন আনন্দের দিন । তার ঐকান্তিক চেষ্টায় সে পেয়েছে একটি পারিবারিক জীবন । হ্যা বন্ধুরা সিদ্ধার্থ আর আমি একটি পরিবার তৈরী করেছি মার্ক কে নিয়ে । মার্ক ওয়াইনবার্গ ।

আজ থেকে একশো বছর আগে মার্কের দাদা দাদী খুব অল্প বয়সে আমেরিকায় এসেছিলেন ইউক্রেনের কিয়েভ থেকে । মার্কের বাবার জন্ম ক্লিভল্যান্ড ওহাইও তে । তিনি ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ । ফ্রান্সের প্যারিস শহরে সঙ্গীতের ছাত্র অবস্থায় দেখা হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের মেয়ে সুন্দরী পলা ট্রোলারের সঙ্গে । পাঁচ ছেলে নিয়ে তাঁরা রচনা করেছেন একটি অসাধারন পরিবার । কর্ম জীবনে তাঁরা দুজনেই ছিলেন স্কুলের শিক্ষক । ব্যাক্তি জীবনে দুজনেই ধর্মের অন্ধকারাচ্ছন্ন আবরন ভেঙ্গে বেরিয়েছেন আলোতে । দুজনেই মানবতাবাদী ।latra-4
মার্কের জন্ম মাতুলালয়ে , সুইজারল্যান্ডে। পেশায় একজন সি পি এ । কাজ করেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে । ওয়াইনবার্গ কেবল জন্মসূত্রে তাঁর লাস্ট নেম তাঁর দাদা দাদী , বাবা মা , আমি ও সে আমাদের কাছে ধর্মের গোঁড়ামির চেয়ে ধর্মের আলোকিত পথই গ্রহনযোগ্য । মানবতাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় ।

আমার প্রিয় বন্ধু এহসান ইমদাদ আর মার্কের ছোট ভাই বব, বাংলাদেশী কায়দায় আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল , কিন্তু আমি চিরদিন বাংলা বাংলা করে মরছি সেই আমি আমেরিকান কাউকে বিয়ে করবো ! অসম্ভব ! তাছাড়া আমার তো সময় ছিল না কাউকে নিয়ে ভাববার! আমার সামনে পিছনে ডাইনে বায়ে কেবল আমার ঝড়ে পড়া বিড়াল ছানার মত আমার সিদ্ধার্থ । ফলে দীর্ঘ বারো বছর আর মার্ক কে ভালো করে দেখাও হয় নি ।lata-5

পাঁচ বছরের সিদ্ধার্থকে নিয়ে একা এই দেশে এসেছিলাম , কত বিপর্যায়ে কেটেছে জীবন,মাঝে মাঝে সেকথা শেয়ার করি আপনাদের সাথে । আজ যখন সে বাইশ বছরের তরুন ,পড়ছে আইন শাস্ত্র , তাঁর সাথে জেরায় আমি পেরে উঠিনা । এক পর্যায়ে বলেছি ‘ আমি যাকে ভালোবাসি না তাকে বিয়ে করব না ।’ জবাবে সিদ্ধার্থ বলেছে ‘ মা লাভ ক্যান গ্রো ।’

২০১০ এ মায়ের মৃত্যুর পরে আমার প্রথম মনে হল আমি কত একা । সেই থেকে আমার মনের ভুবন জুড়ে এক ঝরা পাতার শুন্যতা খেলা করে বেড়ায় । আজ বয়স যখন বাড়ছে এই নিঠুর পরবাসে , সত্যি বলতে কি অন্ধকার ঘরে একলা মরে পড়ে থাকার একটু একটু ভয় ও পেয়ে বসে । ফলে মন স্থির করলাম । আমার ভাই বোন দের সাথে কথা বলে রাজী হয়ে গেলাম ।

এমন হতে পারতো এই মহা রোমান্টিক আমি কাউকে উন্মাতাল ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে মহা আনন্দে বিয়ে করতে পারতাম আর আমার ছেলেটি কেবল মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাঁকে মেনে নিত ! আমি কি সুখী হতে পারতাম ! তারচেয়ে ভালো আমার ছেলে খুশী আর আমি মেনে নিলাম এই জীবন !
গত কাল সন্ধ্যায় আমার একান্ত আপনার জনদেরকে নিয়ে একটি ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি মার্ক কে সবার সাথে । যারা আমার সাথে ছিলেন তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । এই শহরের শুধু নয় টরোন্ট থেকে এসেছেন নৃত্যশিল্পী অরুনা হায়দার , অটোয়া থেকে এসেছেন আমার আত্মার আত্মীয়, যাকে আমি আমার পিতার আসনে বসিয়েছি অটোয়ার কার্ল্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ ডঃ মীজান রহমান । তিনি ও সিদ্ধার্থ আমাকে সম্প্রদান করেছে মার্ক ও মার্কের মায়ের হাতে । আমার বাঙ্গালী কমিউনিটি আমার ভাই হয়ে বোন হয়ে বাবা মা হয়ে আমার জন্য সব করেছেন। আমার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে আমার মাথা নত হল ।।

মার্ক ভাল মানুষ । অসাধারন এক মাল্টি কালচারাল পরিবার থেকে আসা উদার মুক্তমনের মানুষ । আমার সিদ্ধার্থ তাঁকে পেয়েছে পিতৃস্থানীয় একজন বন্ধু হিসেবে গাইড হিসেবে। তাঁর সাথে জীবন হয়তো অর্থবহ হয়ে উঠবে সেই আশা করছি । আপনাদের সবার শুভপ্রার্থনা থাকবে আমাদের জন্যে সেই আশা করি।

lata 

Check Also

dance-a

দ্বিতীয় জাতীয় নৃত্যনাট্যোৎসব শুরু হচ্ছে

মিডিয়া খবর :- আজ সোমবার  শিল্পকলা একাডেমিতে আট দিনব্যাপী দ্বিতীয় জাতীয় নৃত্যনাট্যোৎসব শুরু হচ্ছে। উৎসবটির …

crest

মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা ক্রেস্ট স্বর্ণের নয় রুপার

মিডিয়া খবর:- ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ ক্রেস্ট তৈরিতে স্বর্ণের পরিবর্তে এখন থেকে রুপা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares