Home » নিবন্ধ » একুশ মানে মাথা নত না করা

একুশ মানে মাথা নত না করা

Share Button

মিডিয়া খবর:-

আজ অমর একুশে, বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য দিন। আজ থেকে ৬৫ বছর আগে ১৯৫২ সালের এ দিনে ঢাকার রাজপথ হয়ে উঠেছিল উত্তাল। পাকিস্তানি শাসকদের হুমকি-ধমকি, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ভাষার দাবিতে রাজপথে নামে ছাত্র-শিক্ষক, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী অসংখ্য মানুষ। বসন্তের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে হাজারো কণ্ঠে আওয়াজ ওঠে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। এ সময় আকস্মিক জনতার মিছিলে গর্জে ওঠে পুলিশের গুলি। সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হলো মাটি। মানব ইতিহাসে সংযোজিত হলো এক অভূতপূর্ব অধ্যায়।

21এ দিনটি বাঙালি জাতির জন্য শুধু শোকের দিনই নয়, ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধের জাগরণেরও দিন। মূলত একুশে ফেব্রুয়ারিই বাঙালি জাতির আপন সত্তা মুছে দেয়ার সব আধিপত্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহই তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের মনে জাতীয়তাবোধ, সংস্কৃতি, স্বাধিকার ও শৃঙ্খলমুক্তির চেতনার প্রদীপ জ্বেলে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারি থেকেই সূচনা ঘটে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও গণতন্ত্রের আন্দোলনের এবং শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর পর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব, মহত্ত্ব ও তাৎপর্য অসাধারণ।

ভাষার জন্য বাঙালির এই আত্মদানের দিনটিকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। আজ সেই গৌরবময় দিন। বাঙালির সঙ্গে গোটা বিশ্ববাসী এ দিনটিকে পালন করবে মাতৃভাষার প্রতি অগভীর ভালোবাসা বুকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত হলেও উদ্বেগের বিষয় হলো ১৯৫২ সালের পর অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। একুশের পথ ধরে ১৯৭১-এ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধজয়ী হয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতি বছর ফিরে ফিরে আসলেও মাতৃভাষার যথাযোগ্য অবস্থান, মর্যাদা ও বিকাশ নিশ্চিত করার কাজে আমাদের কিছু  সাফল্য সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা রয়ে গেছে।

21febরাষ্ট্রীয়, শিক্ষাগত ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন আজো হয়নি। এখনো উচ্চশিক্ষায় বাংলার ব্যবহার সীমিত। আদালতের কর্মকাণ্ডে এখনো বাংলা ভাষা উপেক্ষিত। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনে আদালতের রায় ৩০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পর্যন্ত এই আইন ঢালাওভাবে অমান্য করে যাচ্ছেন। পুরোপুরি বিদেশি শব্দ বা বাংলা-বিদেশি শব্দের মিশেলে রাখা হচ্ছে দোকানপাট ও বিপণিবিতানের নাম। বাংলা বানানে দিব্যি চালিয়ে দেয়া হচ্ছে ইংরেজি শব্দমালা। মহান ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে আবেগ উচ্ছ্বাসের ব্যাপক বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও মানা হচ্ছে না বাংলা বানান নীতিমালা। ভাষা আন্দোলনের পর ৬৫ বছর এবং স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পরেও নিছক বুলিতে পরিণত হয়েছে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।

রক্তাক্ত অধ্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত এ ভাষার মর্য়াদা প্রতিষ্ঠিত হোক। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের বাংলা ভাষা ও বাঙালিত্বের গৌরববোধ জাগিয়ে তুলুক, বাংলাকে সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা দেয়া এবং বিশ্বভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন করে অনুপ্রাণিত করুক।

Check Also

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল ভারতীয় স্থলবাহিনী

মিডিয়া খবরঃ-      সাজেদুর রহমানঃ- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেছেন গতকাল। রাতেই ডাকা …

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা

মিডিয়া খবর:-          -:সাজেদুর রহমান:- বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর একের পর এক আক্রমণে সীমান্তবর্তী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares