Home » প্রোফাইল » জাপান বন্ধু ড. রাধা বিনোদ পাল

জাপান বন্ধু ড. রাধা বিনোদ পাল

Share Button

মিডিয়া খবর:- 

পৃথিবীর বুকে  ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫(৬ বছর, ১ দিন)  মানবসভ্যতার ইতিহাসে এযাবৎকাল পর্যন্ত সংঘটিত সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সদ্য শেষ হওয়া এই মহা ধ্বংসলীলা শেষে  ১৯৪৬-৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরে জাপানকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। আর এর জন্য গঠন করা হয় বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালত।

দূরপ্রাচ্যর ট্রায়ালের জন্য আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বাঙালি বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল। বিচারক ড. রাধা বিনোদ পাল তাঁর ৮০০ পৃষ্ঠার যৌক্তিক রায় দিয়ে জাপানকে “যুদ্ধাপরাধ”-এর অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন। এ রায় বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক রায়ের মর্যাদা লাভ করে। এরপর তিনি জাপান-বন্ধু ভারতীয় বলে খ্যাতি অর্জন করেন।

জাপানিদের ইতিহাসে রাধা বিনোদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। জাপানের টোকিও শহরে তাঁর নামে রয়েছে জাদুঘর, রাস্তা, রয়েছে স্ট্যাচু। এমনকি জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিসার্চ সেন্টার রয়েছে।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার “মথুরাপুর” ইউনিয়নের “মৌজা সালিমপুরের” অধীন “তারাগুনিয়া” গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। এলাকাটি এখন  দৌলতপুর জজপাড়া নামে পরিচিত। পিতা বিপিন বিহারি পাল।radha_binod_pal_yasukuni_112135010_24372cdf47_o

ড. রাধা বিনোদ পাল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি নেন। কুষ্টিয়া হাইস্কুলে তিনি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।  ১৯২০ সালে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯-২০ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। ১৯২৫-১৯৩০ মেয়াদে এবং পরবর্তীতে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অধ্যাপনা করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৪-৪৬ মেয়াদে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায় রাধা বিনোদ পালের ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য কাকিলাদহে জাপানের এনএইচকে টেলিভিশনের পরিচালক তরুতাকাজি, প্রকৌশলী দাই সহাকুরা, টেকনিশিয়ান সিংজিজু বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ ছাড়া জাপান সরকারের প্রতিনিধিরা স্মৃতিবিজড়িত এ জায়গায় হাসপাতালসহ একাধিক স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে সেগুলো সম্ভব হয়নি।

খ্যাতিমান এই মনীষী ১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তথ্য সুত্রঃ এনএইচকে জাপান ও উইকিপিডিয়া।  

Check Also

থিয়েটারের স্বজন এস এম সোলায়মান

মিডিয়া খবর:-        -: কাজী শিলা :- এস এম সোলায়মান থিয়েটারের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, …

runa laila

রুনা লায়লা মাতাবেন লন্ডন

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে গানে গানে শ্রোতাদের মাতাবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares