Home » ব্রডকাস্ট » ব্রডকাস্ট বিভাগের কাজটা চ্যালেঞ্জিং-সুজন দেবনাথ
sujan debnath

ব্রডকাস্ট বিভাগের কাজটা চ্যালেঞ্জিং-সুজন দেবনাথ

Share Button
মিডিয়া খবর:-
সুজন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট বিভাগে কাজ করছেন, সফলতার সাথে। বর্তমানে তিনি একুশে টেলিভিশনে ব্রডকাস্ট বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।  মিডিয়া খবরের সাথে এক কথোপকোথনে জানালেন ব্রডকাস্ট বিভাগ ও তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা।
মিডিয়া খবরঃ প্রথমেই একটু জেনে নিই ব্রডকাস্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্মেন্টের কাজ কি?
 
সুজন দেবনাথঃ বিশ্বব্যাপী তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে ব্রডকাস্টিং ডিপার্টমেন্টের কাজের ধরণ পরিবর্তন এবং সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্রডকাস্টিং বিভাগের সাহায্যে টিভি চ্যানেলগুলো অডিও-ভিডিও বার্তা দর্শকের কাছে দৃশ্যমান করে থাকে। মূলত এই বিভাগের কর্মীরা প্রোগ্রাম ও নিউজ বিভাগের বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠান এবং নিউজ অনএয়ার করে থাকে। ব্রডকাস্ট বিভাগ আসলে সকল বিভাগের সাপোর্ট হিসাবে কাজ করে। বিশেষ করে নিউজ ও প্রোগ্রামের পিছনে থেকে সকল সাপোর্ট দেয়। সেই সাথে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা পর্যন্ত ব্রডকাস্ট বিভাগের কাজ। ব্রডকাস্ট টিমের সাথে সাপোর্ট হিসাবে ক্যামেরা, অনএয়ারের যাবতীয় কাজ. এডিটর প্যানেল, আর্থ স্টেশন, অনলাইন অডিও ভিডিও ম্যাজেমেন্ট রয়েছে। সাধারনত এই বিভাগে যারা কাজ করেন তারা হলেন; ভিডিও এডিটর, অডিও ইঞ্জিনিয়ার, ভিডিও ইঞ্জিনিয়ার, ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার, ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল কলাকুশলী।
মিডিয়া খবরঃ আপনি ব্রডকাস্ট বিভাগে কাজ করছেন, সেক্ষেত্রে নিজেকে কিভাবে দেখছেন ?
 
সুজন দেবনাথঃ আমি কাজকে উপভোগ করি। যদিও ব্রডকাস্ট বিভাগের কাজ অনেক চ্যালেঞ্জিং। সব সময় সতর্ক থাকতে হয় সিগন্যাল ঠিক আছে কি? কোথাও পাওয়ার ডাউন হয়ে যাচ্ছে কি? সম্প্রচারের কোন সমস্যা আছে কি না দেখতে হয়। আমাদেরকে কাজের জন্য ২৪ ঘন্টায় অন ডিউটিতে থাকতে হয়। পরিবারকে সময় দিতে পারি না। রাতে ঘুমিয়ে থাকলেও যদি কোন সমস্যা দেখা দেয় কল করলে চলে যেতে হয়।
 মিডিয়া খবরঃ আপনার ব্রডকাস্ট জীবনের চ্যালেঞ্জিং মুহুর্তটা বলেন ?No automatic alt text available.
 
সুজন দেবনাথঃ চ্যালেঞ্জিং মুহুর্ত বলতে যখন কোন সমস্যায় পড়ে স্টেশন তখনই আমাদের কাছে সেটা মেরামত করাটা। আমি সিএসবিতে (CSB) থাকার সময় একবার সম্পূর্ণ পাওয়ার ডাউন হয়ে যায়। সে সময় সেটা মেরামত করা আমার কাছে সব চাইতে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। কারণ ব্রডকাস্ট এর পাওয়ার ডাউন হলে একবারে মেরামত করা যায় না। পার্ট বাই পার্ট একেকটা অংশ ধরে ধরে মেরামত করতে হয়। যা করা সহজ নয় চ্যালেঞ্জিং বটে।
মিডিয়া খবরঃ বর্তমানে বাংলাদেশে টেলিভিশনের কোয়ালিটি ডিস্টিবিউট অবস্থাটা কেমন ?
সুজন দেবনাথঃ বাংলাদেশ এদিক থেকে একটু পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখনও এন্যালগ সিস্টেমে ঘরে ঘরে সিগন্যাল ডিস্ট্রিবিউট করছি। তবে খুব তাড়াতাড়ি ডিস্ট্রিবিউট পার্টের আপগ্রেশন হবে। কারণ বাংলাদেশে দুইটা লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেক টিভি চ্যানেল ডিজিটাল কন্ট্রোল রুমের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এখন যে সব নতুন টিভি চ্যানেল আসছে তারা HD করলে আমরা ঘরে বসে সেই HD কোয়ালিটি দেখতে পারবো। তবে এখন পর্যন্ত আমরা ঐ ভাবে HD কোয়ালিটি মানুষের ঘরে পৌছে দিতে পারছি না ।
মিডিয়া খবরঃ ব্রডকাস্ট ম্যানেজমেন্টের সাথে যারা কাজ করছেন তারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে যোগ দেন নাকি আপনারা প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরী করেন ?
সুজন দেবনাথঃ প্রধানত এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং বিষয়ে পড়াশুনার কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। যারা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এখানে যোগদেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ও টেলিভিশন থেকে শিখে আসে অনেকে। এছাড়া ক্যামেরাম্যানদের কথা একটু আলাদা, বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজ থেকে কিংবা চ্যানেল থেকে শিখে আসে ।
মিডিয়া খবরঃ আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান একুশে টেলিভিশন নিয়ে কি ভাবছেন?
সুজন দেবনাথঃ সম্ভবত একুশে টেলিভিশন ম্যানেজমেন্ট চাইছেন সব নতুন ভাবে সাজাতে। আসলে একুশে টেলিভিশন প্রায় ১৮বছর ধরে চলছে। ঐ সময়কার সব নতুন নতুন সেটআপ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন আরও আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে। তাই আমরা নতুনভাবে সব সাজাতে চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে HD কোয়ালিটি করাটা আমরা ভালো মনে করছি।
মিডিয়া খবরঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
সুজন দেবনাথঃ আপনাকেও ধন্যাবাদ।
No automatic alt text available.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares