Home » সাহিত্য » গল্প » তাহলে আবার ভয় কিসের !

তাহলে আবার ভয় কিসের !

Share Button

মিডিয়া খবর:-

আমার বিয়েটা প্রেম করে বিয়ে। লদকা লদকি টাইপ প্রেম না, ঝগড়ুটে প্রেম !
বিয়ের আগে প্রচুর ঝগড়া হত, ভাবলাম বিয়ে হয়ে গেলে বোধহয় ঝগড়াঝাটি কমে যাবে। ও হরি, কমবে কি, বরং বেড়ে গেল !!
আগে তবু দুজনে দু-জায়গায় থাকতাম বলে কিছুটা রেহাই ছিল, কিন্তু বিয়ের পর একসাথে থাকার কারণে সেই রেহাইটুকুও হাপিশ ! ঝগড়ার ‘কোয়ালিটি’ এবং ‘কোয়ান্টিটি’—-দুটোই বাড়তে থাকল।

আমরা দুজনে দুই মেরুর বাসিন্দা। কারও সাথেই কারও মতের মিল হত না। আমি যাই উত্তরে তো আমার স্ত্রী যায় দক্ষিণে। অবাক হয়ে ভাবতাম, এই মহিলাকে বিয়ে করলাম কি করে ? এত বড় একটা ভুল করতে পারলাম ! আমি এতটাই গাড়ল ?? ছি ছি ছি !!!

অপরদিকে আমার স্ত্রীও একইরকম অভিযোগ করতো। আমাকে বিয়ে করাটা নাকি ওর সাত জন্মের পাপের ফল, আমার মত একটা জঘন্য প্রাণী এই পৃথিবীতে নেই, ইত্যাদি।

ঝগড়া একদিন চরমে উঠলো।
তখন সকাল দশটা এগারোটা হবে। স্ত্রী আমার দিকে আঙুল উঁচিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল – “তোমার সাথে বাস করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
আমি চিবিয়ে চিবিয়ে বললাম -“তোমার সাথে বাস করা আমার পক্ষেও সম্ভব নয়।”
দেখা গেল এই একটা জায়গায় দুজনেই সহমত পোষণ করছি। ঝগড়া ওখানেই স্টপ হয়ে গেল। ঠিক হল আমরা দুজন এবার থেকে আলাদা আলাদা থাকব। কেউ কারো মুখ দেখব না। তারপর একটা শুভদিন দেখে দুজনে মিলে কোর্টে গিয়ে মিউচুয়াল ডিভোর্স নিয়ে নেব।

আমার স্ত্রী বলল – “উকিল কে খুঁজবে ? তুমি না আমি ?”
আমি বললাম -“তুমিই খুঁজবে ! ওসব খোঁজাখুঁজির ঝামেলা আমার পোষাবে না। যেখানে বলবে সই করে দেব, ব্যস  ঝামেলা খাল্লাস !”
“তখন আবার পাল্টি খাবে না তো ?”
“অবশ্যই না ! পাল্টি খেলে আমার নামে কুত্তা পুষো।”

অতঃপর আমার স্ত্রী খুশি মনে সুটকেস গুছিয়ে ওর বাপের বাড়ি চলে গেল।

আমিও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। প্রথমেই “ইয়াহু” বলে একটা পেল্লায় লাফ মারলাম, তারপর বন্ধুদের খবর দিলাম আমার বাড়ি চলে আসতে। আজ হোল নাইট মোচ্ছব হবে।
পরদিন অনেক বেলায় খোঁয়াড়ি ভাঙার পর শিস দিতে দিতে বাড়ি থেকে বেরোলাম, এবং পরিচিত লোকজন দেখলেই দু-হাত তুলে বলতে লাগলাম – “আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গ , হাঃ হাঃ হাঃ !”

সেই মুক্ত বিহঙ্গকে দশদিন পর দেখা গেল শ্বশুরবাড়ির সামনের রাস্তায় সারাদিন ধরে পায়চারি করছে আর একটার পর একটা সিগারেট টানছে।
লোকজন জিজ্ঞেস করতে লাগল -” ব্যাপার কি ?”
আমি কঠিন গলায় বললাম -“নাথিং !”

দ্বিতীয় দিন শ্বশুরমশাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বললেন – “বাবা এরকম পাগলামি কোরো না, ভিতরে চল । লোকে কি বলবে?”
আমি আগের দিনের চেয়েও কঠিন গলায় বললাম – “নো !!!”

তৃতীয় দিন আমার স্ত্রী বেরিয়ে এল। আমাকে ধমক দিয়ে বলল – “কি চাও তুমি ?”
আমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম – “বাড়ি চল।”
স্ত্রী চোখ কপালে তুলে বলল – “বাড়ি যাব মানে ? ইয়ার্কি পেয়েছো ? উকিলের ব্যবস্থা হয়ে গেছে, দু-চারদিনের মধ্যেই নোটিস পেয়ে যাবে। যাও বাড়ি চলে যাও ।”
আমি আরেকটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে দ্বিতীয়বার বললাম – “বাড়ি চল।”
আমার স্ত্রী বাজখাঁই একটা ধমক দিল – “চোপ্ !”
আমি একটা চলন্ত রিকশা থামিয়ে তৃতীয়বার বললাম – “বাড়ি চল।”
আমার স্ত্রী হতাশ গলায় বলল – “তোমার কি কোনোকালেই বুদ্ধিশুদ্ধি হবে না ? এই জামাকাপড়ে যাব নাকি ? কাপড়টা অন্তত ছেড়ে আসতে দাও !”

সেই থেকে একসাথেই আছি। মাঝে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে বটে, কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাইনি। তার মানে এই নয় যে ঝগড়াঝাটি বন্ধ হয়ে গেছে ! বরং আগের চেয়ে দশগুন বেড়েছে।
আমার স্ত্রী যখন চেঁচামেচি করে হাঁপাতে থাকে তখন আমি নিচু স্বরে বলি – “কি হল , দম শেষ ?”
ওই কথাটাই দম দেওয়ার কাজ করে। স্ত্রী দ্বিগুন উৎসাহে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়।

রাগ চরমে উঠলে দাঁত কিড়মিড় করে বলে – “দেখো, তোমাকে আমি কোনোদিন বোধহয় খুন করে ফেলব !”
কথাটা যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ! এই মহিলার পক্ষে সেটা করা অসম্ভব কিছু নয় ! কোনো ভাড়াটে খুনি ফুনি লাগবে না, ইনি একাই একশো।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে এইরকম একটা ভয়ঙ্কর কথা শোনার পরেও আমার বিশেষ ভয় ডর লাগে না। দাঁত বার করে হেসে চলে যাই, কারণ আমি জানি, এই মহিলা আমাকে খুন করলেও ছেড়ে কোনোদিন যাবে না !

তাহলে আবার ভয় কিসের !!! ??
(Collected)

Check Also

কোথাও লুকানো থাকে কিছু-শায়লা হাফিজ

মিডিয়া খবর:-        -:শায়লা হাফিজ:- ভুলে যাবার মত আমার একটা গোপন করা অসুখ …

moon

তুমি যে আছো বলেই-এ এস মাহমুদ খান

মিডিয়া খবর:-      -:এ এস মাহমুদ খান:- তুমি যে আছো বলেই জোনাকি জ্বালে বাতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares