Home » সঙ্গীত » সাংবাদিক যখন গীতিকার, ব-কলমও ডিগ্রীধারী (২য় পর্ব)
rubel

সাংবাদিক যখন গীতিকার, ব-কলমও ডিগ্রীধারী (২য় পর্ব)

Share Button

ঢাকা:-

— তির্থক আহসান রুবেল

বর্তমানে প্রায়শ:ই পত্রিকার বিনোদন পাতাজুড়ে দেখা যায় হেডলাইন তান্ডব! ভূঁইফোড় অনলাইনের পাশাপাশি ইদানিং মূলধারার পত্রিকা আর অনলাইনগুলোও বিকৃত হেডলাইনের প্রতিযোগীতায় নামছে প্রায়ই। প্রভা আর মা হতে পারবেন না! (কাহিনী নাটকের, ছবি বাস্তবের স্বামী সহ প্রভার), মাঝরাতে মারা গেলেন মাহি! (সিনেমার সুটিং)। ব্যপারটা অনেকটা এরকম যে, যদি তারেক রহমান কিংবা জয় বলে যে, “আমার মা, তিনি এখন আর শুধুই আমার মা নয়, তিনি এই দেশের মানুষের প্রতিনিধি…” পরদিন হয়ত হেডলাইন হবে, “তারেক/জয় খালেদা/হাসিনাকে মা বলে অস্বীকার করলেন!” হয়ত ভেতরে তলানীতে দেখা যাবে আসল ঘটনা।

বিনোদন-রাজনীতি মিলিয়ে উপরের কয়েকটা লাইন এজন্য লেখা যে, আজকের হেড লাইনটির ২য় অংশ নিয়ে হয়ত চিৎকার শুরু হবে। তবে সত্য জানতে হলে, পড়তে হবে আপনাকে বাকিটুকু। মনে আছে নিশ্চয়ই এই লেখাটির প্রথম পর্বের কথা। অসংখ্য পড়ায় সম্পাদক মহাশয় এক পর্যায়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে, তার সার্ভার লোড নিতে পারবে কিনা! পেরেছিল। কারণ, অজ্ঞাত কারণে দেশের অনেক গায়ক-গায়িকা-গীতিকার-সুরকারের ওয়াল থেকে পোস্টটি নেমে যাওয়ায় উনাদের ফলোয়াররা সবাই পোস্টটির নাগাল পায় নি। এই একটা জায়গায় আমার উত্তেজিত বন্ধু এবং সহকর্মীগণ সফল বলেই মনে করি। তবে ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। ইতিমধ্যে লেখাটি অনেকের নজরে পড়ে যাওয়ায় বড় কিছু হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। দেখা যাক ভবিষ্যত আমাদের কোন দৃশ্য দেখায়!

গত দিন কয় আমি বড় দু একটি সিডি-ভিসিডির দোকানে বসে সাম্প্রতিক গানের এ্যালবামগুলো ঘেটে দেখলাম। শত শত এ্যালবামের ভিড়ে অসংখ্য গীতিকার-সুরকার-কম্পোজারের সন্ধান পেলাম। এটা চমৎকার একটি ব্যাপার। এদেশে এখন অনেক অনেক সৃজনশীল মানুষের দেখা পাচ্ছি। তবে এত এত গীতিকারের মাঝে নেই প্রিন্স মাহমুদের নাম, নেই লতিফুল ইসলাম শিবলী, শহীদ মো. জঙ্গী, আসিফ ইকবাল, মারজুক রাসেল, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মনিরুজ্জামান মনির, বাপ্পী খান, এঞ্জেল শফিক, মিল্টন খন্দকার, মো. রফিকুজ্জামান, সৈয়দ আওলাদ, সালাউদ্দিন সজল, আশরাফ বাবু, কবীর বকুল, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, কাওসার আহমেদ চৌধুরী, আফতাব মাহমুদ খুরশিদ, খোশনুর আলমগীর, আশিকুজ্জামান টুলু, দেহলভী, আমজাদ হোসেনের মতো লিজেন্ডদের নাম। আর উনাদের বাইরে আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, নকীব খানদের মতো আরো অনেক লিজেন্ডরাও লিখেছেন অনেক অনেক শ্রুতিমধুর এবং জনপ্রিয় অনেক অনেক গান। একের পর এক জমকালো সৃষ্টি উপহার দিয়েছিল আর্কের হাসান, তরুণ, জামিউর রহমান রনিম, সকাল এর মতো তরুণপ্রাণ একটা দল। তালিকায় আছে আরো অনেক অনেক নাম। যা স্মৃতিভ্রষ্টতা সহ নানান কারণে মনে আসছে না হয়ত।  উপরোক্ত গীতিকারদের গানের কথায় যে কাব্য এবং গীতিময়তা ছিল, আজকের একশ এ্যালবাম নিলে কি দশটা পাওয়া যাবে! আছে সেই লিজেন্ডদের মতো জীবনবোধ! আছে কি মননগত এবং প্রকৃতিগত আত্মশিক্ষা! প্রশ্ন জাগতেই পারে, আজকের নবীনেরা কেন এই লিজেন্ডদের কাছে যায় না! নাকি নামগুলোই জানে না! নাকি তারা তাৎক্ষণিক আনন্দ নিয়ে থাকতে চায়! নাকি তারা চায় না, বছরের পর বছর টিকে থাকুক তার গান! আমি কোনভাবেই বলছি না যে, নতুন প্রজন্ম দাঁড়াবে না! নতুন গীতিকার আসবে না! উপরের তালিকায় কয়েকটা প্রজন্মকেই দেখানো হয়েছে। বর্তমানেও প্রজন্ম আসবে। কিন্তু দায়িত্ব নিতে হলে যে, দায় বহনের যোগ্যতাও লাগবে। ছড়ার মতো ছন্দ মেলাতে পারলেই গান! একদিন এক বন্ধু শিল্পী বলেছিলেন, তার এক বন্ধু গীতিকারকে দেখেছিলেন বইমেলা থেকে অচেনা-অজানা ছড়াকারদের অনেক অনেক বই কিনে নিয়ে যেতে। কারণটা বুঝতে কষ্ট হলে দু:খিত। তবে এটুকু বলতেই হবে, বইয়ের সেই ছড়াকার কোনদিন হয়ত এসে দাবী করার সাহসই পাবে না যে, তার ছড়া বা ছড়ার ছায়া আরেকজনের লেখা গান হিসেবে চলছে।

এক দোকানী আমাকে আমাকে একজন সাংবাদিক গীতিকারের নাম উল্লেখ করে বলল, তার সব গানই তো হিট! যা লেখে তাই হিট! দেখেন না, সব সিডিতে তার গান! আমি মেনে নিলাম, তাই তো! নতুবা সব এ্যালবামেই তার গান কেন! ওহ না, সব এ্যালবামে না তো! বিশেষ কিছু কম্পোজারের এ্যালবামে বেশী। তার বাইরে নবীন কিংবা মিক্সড এ একটা দাপট আছে। কিন্তু গানগুলো শুনতে কেমন! দোকানীকে একজন বিশেষ গায়ক-সুরকার-কম্পোজারের একটা এ্যালবাম দিয়ে বললাম চালাতে। জানেন নিশ্চয়ই, ভাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যতিত ভাল গানও অনেক সময় ভাল লাগে না। গান শুরু হলো! যথারীতি হাসি ফুটলো মুখে। আরেকটা গান শুনলাম। তারপর আরেকটা এ্যালবাম দিয়ে চালাতে বললাম। তারপর আরেকটা। বেশ কয়েকটা শোনার পর মাথায় একটা প্ল্যান আসলো। খুব শীঘ্রই আপনাদের জন্য একটা গান উপহার দিচ্ছি। না বন্ধুরা, আমার লেখা, সুর, কম্পোজিশন কোনটাই না। বর্তমান সময়ের আলোকিত মানুষদের সৃষ্টিকর্মই হাজির করবো। থাকলেন না হয় আর একটু অপেক্ষায়!

গত লেখাটির পর অনেক অনেক ইনবক্স পেয়েছি। ভালবাসা, অভিনন্দন, সাহস, উৎসাহ, সমস্যা অনেক কিছু জানিয়েছেন অনেকে। এর মাঝে সিনিয়র একজন সুরকার-কম্পোজার আমাকে এই সময়ের একজন হিট কম্পোজারের একটা মিউজিক ভিডিওর লিঙ্ক পাঠান। গানটি শুনে তাজ্জব! বাংলাদেশে এই মানের ইয়াং আছে! অথচ আমি জানতামই না। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল! কিন্তু প্যাচ বাধলো যখন একজন দাবী জানালো এটা বহুল আলোচিত একটি হিন্দী সিনেমার গানের কপি মানে চুরি! সিনেমাটি আমার দেখা হয়নি। ক্রসচেক করার আগ পর্যন্ত তাকে প্রতিভাবান হিসেবেই জেনে রাখলাম। বর্তমানের একজন জনপ্রিয় গায়ক, আমাকে তার সাম্প্রতিক কয়েকটি উন্নতমানের গান পাঠালো। শুনলাম। ভাল-মন্দের চেয়ে সেই প্রচলিত কথাটাই তাকে বলতে বাধ্য হলাম! ‘ভাইয়া, আপনি গানটা না দিয়ে যদি অন্য কারো কাছে শুনতাম, তবে কনফিউশনে পড়তাম! গানটা কার। সেই ৪/৫ জনের মাঝে তো আপনিও হারিয়ে গিয়ে একই হয়ে গেলেন! আপনি যে, স্বতন্ত্র একজন মানুষ, সেই আপনিটা কোথায়! আপনি আপনাকে আবিস্কার করতে চাই।’

 মজার একটি ভিডিওর সন্ধান পেলাম। সম্পাদক মহোদয় অনুমোদন করলে সেই ভিডিওটি এই লেখার শেষে যুক্ত হবে। তাহলেই বুঝতে পারবেন, কেন বন্ধা গীতিকারের পাশাপাশি সিন্ডিকেট কম্পোজাররা এত হিট! কারণ তারা এখন আপনাদের যে কাউকেই গায়ক-গায়িকা বানাতে পারবেন। সফটওয়্যার আছে না! ফলে যার কন্ঠে টান নেই, সেও লম্বা টান দেয়, যার বিট-পালস নিয়ে ধারণা নেই, সেও সঠিক বিট-পালস পাবে। সিন্ডিকেট গীতিকাররা আপনাকে পাঠাবে সেইসব কম্পোজারের কাছে। কাভারেজ পাবেন আপনি, কম্পোজার আর গীতিকার হিসেবে তাদের নাম তো আছেই! এবং আপনার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা এই যে, আপনিও এখন হাবীব-আরোফিন রুমি-ইমরান-হৃদয় খান কিংবা ন্যান্সি-পূজা-পড়শী-নওমী যে কোনটাই হতে পারবেন লিঙ্গভেদে। শুধু একটু কাভারেজ দরকার। সেটা পেলেই সেই তালিকায় আপনিও স্থান পাবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনাকে নাম না বলে গান শোনালে আপনিও বিভ্রমে পড়বেন গায়ক বা গায়িকার নাম নিয়ে! আর কে কম্পোজার সেটা নিয়েও পড়বেন ফাপড়ে। হাবীবের কাজ তবুও হয়ত চিনবেন! বাকিটা!

নবীন গায়ক গায়িকারা কোন রকম একটা গান গাইতে পারলেই সে কাভারেজের পেছনে ছোটে। সাধনার দরকার নাই। ১৫/২০/২২ বছর বয়স তো কম না! এই বয়সেই তো লিজেন্ড হতে হবে। তাই তাদের চাই অনেক অনেক কাভারেজ। আর সে নিশ্চয়তা নিয়ে বসে আছেন অনেক অনেক গীতিকার-কম্পোজার। একজনের কাছে গেলে, কাজের বাকি অংশ আরেকজনের কাছে যাবেই। কাজেই মান নিয়ে আপোষ হোক। কাভারেজের ব্যপারে কোন আপোষ নাই! ফলে এই পুরো অসুস্থতার মাঝে ব-কলমও ডিগ্রীধারী হয়ে যাবে। কে এই ব-কলম! জানতে চাইলে সাথেই থাকুন!

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী

(ভিডিওটি দেখুন, আপনাদের মন্তব্য লিখুন)

বি:দ্র: – অনেক পাঠক ফেসবুক ইনবক্স, মন্তব্য ঘরে, টেলিফোনে পর্যন্ত আগের লেখাটার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, তাদের সবার জন্য এবং আগ্রহী অন্য পাঠকদের জন্য প্রথম পর্বের লেখাটার লিংক এখানে দেয় হল–  সাংবাদিক যখন গীতিকার …. জিম্মি নবীন গায়ক-গায়িকারা   http://mediakhabor.com/?p=2876

Check Also

Samina-Monir

দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির গানে সামিনা চৌধুরী-মনির খান

মিডিয়া খবর:- গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত নতুন ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির জন্য দীর্ঘদিন …

Abul-Hayat-Rifa

মিউজিক ভিডিওর মডেল আবুল হায়াত

মিডিয়া খবর:- মিউজিক ভিডিওর মডেল হলেন আবুল হায়াত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান …

2 comments

  1. অসাধারন উপস্থাপনা… বিষয় ও ভাষা বৈচিত্রে অনিন্দ। এধরনের লেখা সাধারনত সাংবাদিকরা লেখেন না এবং পত্রিকা গুলো ছাপেও না। মনে হয় যেন এধরনের লেখা তাদের আত্মহত্যার সামিল। আপনার সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন। আমরা চাই এ বিষয়টা নিয়ে নবজাগরণ হোক, সংস্কৃতির সবচেয়ে বলিষ্ঠ উপাদান সঙ্গীত অন্তঃসারশুন্য না হোক।

  2. ভাই জনৈক সেই গীতিকারকে বোধহয় চিনতে পেরেছি। নাম বললাম না… তবে ক্লু দিলাম, ”জীবন বড়ই অদ্ভুত’, ‘আজি এ প্রভাতে রবীর কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর’……….. বসুন্ধরা গ্রুপের যিনি সম্পদ নন, সম্পত্তি………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares