Home » অনুষ্ঠান » ব্যাতিক্রমী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান জাগ্রত অহঙ্কার
jagrota

ব্যাতিক্রমী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান জাগ্রত অহঙ্কার

Share Button

নিজস্ব প্রতিবেদক:- বৈশাখী টেলিভিশনের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠান  জাগ্রত অহঙ্কার, উপস্থাপনা করছেন  লে. কর্ণেল(অবঃ) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক । প্রতি মাসের শেষ রবিবার বিকাল ৫.২০ মিনিটে  প্রচারিত হয়। প্রযোজনা করেছেন এস.এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা ও লোমহর্ষক কাহিনী আজও থেকে গেছে নিভৃতে। সেইসব বিষয়ই এ অনুষ্ঠানের উপজীব্য। একেকটি পর্বে থাকে একেকটি বিষয়। অনুষ্ঠানটির  গবেষণা ও উপস্থাপনা করছেন লে. কর্ণেল(অবঃ) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক। প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সম্মুখ যুদ্ধ বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সেই স্থানগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাতে বোঝা যায় প্রযোজক এস.এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন বেশ খেটে নির্মাণ করেছেন অনুষ্ঠানটি। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষজন, সংশ্লিষ্ট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সহযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়েছে বেশ যত্নের সাথে। জাগ্রত অহঙ্কারের স্টোরি বোর্ডটি সুন্দর করে উপস্থাপিত। এ অনুষ্ঠানটিতে ৮ সদস্যের একটি শুটিং ইউনিট  কাজ করে। DV450 ক্যামেরায় এই অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়েছে। ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করছেন  ফিরোজ আখতার, অনিমেষ হাওলাদার, সানি ডি রোজারিও, শাহরিয়ার মানিক প্রমূখ। অনুষ্ঠানের চমৎকার গ্রাফিক্সটি বানিয়েছেন মাহমুদুল হাসান বাবু, টাইটেল মিউজিক করেছেন অসীম কুমার নট্ট, ভিডিও সম্পাদনায়  দীপঙ্কর চৌধূরী ও সেতু পোদ্দার।

এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার যুদ্ধকে তুলে ধরা হয়েছে। ঢালাওভাবে যুদ্ধের কথা না বলে  প্রামানিকভাবে সব কিছু তুলে ধরা হয়েছে যা ‍নি:সন্দেহে সাধুবাদ যোগ্য।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা ও লোমহর্ষক কাহিনী ‘জাগ্রত অহংকার’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ঘটনা  উপস্থাপন করা হচ্ছে যেমন –

রায়গঞ্জের যুদ্ধ ও শহীদ আশফাকুস সামাদ বীর উত্তম: যুদ্ধ সময় ২১শে নভেম্বর, ১৯৭১; স্থান: রায়গঞ্জ সেতু, কুড়িগ্রাম। এই সম্মুখসমরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সামাদ শাহাদৎবরণ করেন। সেই এলাকায় তিনি একজন কিংবদন্তী।

ভূরুঙ্গামারী মুক্তির শেষ যুদ্ধ এবং অত্যাচারী ও নির্যাতিত নারীদের উদ্ধার: যুদ্ধ সময় ১৩ই নভেম্বর, ১৯৭১; স্থান: ভূরুঙ্গামারী বাজার, কুড়িগ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের বিশাল বিজয় ও পাকিস্তানিদের সমূহ পরাজয়। পাকিস্তানিদের নারী নির্যাতন ও গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

রংপুর সেনানিবাস আক্রমন: যুদ্ধসময় ২৮শে মার্চ, ১৯৭১, স্থান: রংপুর সেনানিবাস ও আশপাশের ১০টি গ্রাম ও ঘাঘট নদী পাড়। গ্রামবাসী, আদিবাসী ওরাঁও, আদিবাসী সাওঁতাল একত্রে গ্রামের সাধারণ অস্ত্র দ্বারা আধুনিক সেনাবাহিনীকে আক্রমণ রচনা ও অকাতরে প্রাণ দান। এরকম ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

ধামাই চা বাগানের যুদ্ধ ও শহীদ এমদাদুলক হক বীরউত্তম: যুদ্ধ সময়: ৭ই নভেম্বর ১৯৭১, স্থান: ধামাই চা-বাগান, জুরী, সিলেট। তরুণ মুক্তিযোদ্ধা একাই এগিয়ে গেলেন পাকিস্তানি মেশিনগানের অবস্থান ধ্বংস করতে। তাঁর আক্রমণ সফল হল কিন্তু তিনি জীবিত ফিরে আসতে পারলেনা। এক সাহসী তরুণ মুক্তিযোদ্ধার অবদান।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ধলই আক্রমণ: যুদ্ধ সময় ২৮অক্টোবর ১৯৭১, স্থান: ধলই বিওপি, শ্রীমঙ্গল। কোম্পানী অধিনায়কের নির্দেশে কিশোর হামিদুর এগিয়ে গেলেন শত্র“র বাংকারের দিকে, প্রথম বাংকার ধ্বংস করলেন, আহত হলেন। তারপর এগিয়ে গেলেন দ্বিতীয় বাংকারের দিকে। সেটা ধ্বংস করতে গিয়ে মুখমন্ডলে মেশিনগানের গুলিতে শাহাদতবরণ করলেন। কৃষকের সন্তান কিশোর মুক্তিযোদ্ধ হামিদুরের আত্মত্যাগ হৃদয়ে ব্যাথিত করে।

মহালছড়ি যুদ্ধ: যুদ্ধ সময় ২৮শে এপ্রিল ১৯৭১, স্থান: মহালছড়ি, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম। পাকিস্তানি কমান্ডো কোম্পানী ও তাদের সমর্থিত মিজো বিগ্রেডের আক্রমণ প্রতিহত করলেন তরুণ ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের । তারপর এলএমজি নিয়ে পাহাড়ের গা ঘেঁষে এগিয়ে গেলেন তাদের ধ্বংস করার জন্য। বহু মিজো হতাহত হলো। সে-সময় শত্র“র গুলিতে শাহাদাত বরণ করলেন তরুণ ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের। মিজোরা এই যুদ্ধের পর আর ভবিষ্যৎ যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রইল।

তেলিয়াপাড়া সম্মেলন: ১৯৭১-এর ৪ঠা এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগান, হবিগঞ্জ। এই স্থানে প্রথম বাংলাদেশের অধিনায়করা প্রতিরোধ সংগ্রামের বিষয়ে সম্বনয় সাধন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া সম্মেলন মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

গঙ্গাসাগরের যুদ্ধ ও সিপাহী এলবার্ট এক্কা, পরম বীরচত্র“: যুদ্ধ সময়: ৩রা ডিসেম্বর, স্থান: গঙ্গাসাগর রেল স্টেশন, আখাউড়া। পাকিস্তানি ১২ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টের কোম্পানিকে আক্রমণ করল ভারতীয় ১৪ গার্ড রেজিমেন্ট। প্রচণ্ড যুদ্ধে ছুটে শুত্র“র প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে মেশিনগান ছিনিয়ে নিয়ে তাদের হত্যা করলেন এলবার্ট এক্কা। তিনিও শহীদ হলেন। তিনি একমাত্র ভারতীয় সৈন্য যিনি ভারতের সর্বোচ্চ যুদ্ধ খেতাব পরম বীরচক্র খেতাবে ভূষিত হলেন।

দখিগঞ্জ গণহত্যা : ১৯৭১-এর ৩রা এপ্রিল, স্থান: দখিগঞ্জ, রংপুর। বহু নিরীহ মানুষ ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এই স্থানে এনে হত্যা করা হয়।

পায়রাবন্দ গণহত্যা: ১৯৭১-এর ২২ শে এপ্রিল, স্থান: পায়রাবন্দ, রংপুর। বেগম রোকেয়া জন্মস্থানখ্যাত এই পায়ারাবন্দে বহু নিরীহ মানুষ ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এই স্থানে এনে হত্যা করা হয়। এখানে দুটো গণকবর অবস্থিত।

হলদারপুর গ্রামে বিমান আক্রমণ: যুদ্ধ সময়: ১৮ই এপ্রিল১৯৭১, স্থান: হলদারপুর গ্রাম, হবিগঞ্জ। নিরীহ গ্রামবাসী লন্ডনপ্রবাসী তরুণীর বিবাহ অনুষ্ঠান উদযাপন করছিল। সেই অনুষ্ঠানে যোগ হয়েছিল লাঠি খেলা। পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান উপর থেকে তা পর্যবেক্ষণ করে এবং পরবর্তীতে দুটো বিমান পুরো গ্রামটিকে রকেট আক্রমণ করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। বহু মানুষ হতাহত হয়।

আসগর বেলুচের কাহিনী: সময়: জুলাই ১৯৭১। ৩৩ বেলুচ রেজিমে›টের সৈনিক বেলচিস্তান নিবাসী আসগর বেলুচ। কুমিল্লা সেনানিবাসে তাঁর অবস্থান। নিরীহ বাঙালিদের উপর অত্যাচার দেখে তার মনে পড়ে এভাবেই বেলুচদেরকে পাকিস্তানি পাঞ্জাবি সেনাবাহিনী হত্যা করেছিল। এই সেনাবাহিনীর সাথে আর থাকা নয়। জুলাই মাসে রাতে গার্ড ডিউটি দেওয়ার সময় তিনি তার রাইফেল হাতে করে সেনানিবাস ত্রাগ করেন। হেঁটে হেঁটে পৌঁছালেন বরুড়া থানার সুন্দরপুর গ্রামে। সেখানে মানুষের কাছে আশ্রয় চাইলেন এবং পেলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁর রাইফেলটি উপহার দিলেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করলেন। এরপর তিনি ঐ গ্রামেরই মেয়ে জয়দুনকে বিয়ে করেন এবং পুরোপুরি বাংলা বলা আয়ত্ত্ব করলেন। স্বাধীনতার পর রেডক্রসের মাধ্যমে কোয়েটা নিবাসী তাঁর মার কছে পত্রের মাধ্যমে তাঁর সার্বিক অবস্হার কথা জানান। পত্রের উত্তরে তাঁর মা জানান,“তু জিধার ভি বাহে, খুশ রায়ে, জিন্দা রাহে” ( তুই যেখানেই থাকিস, খুশি থাক বেঁচে থাক)। তখন থেকে আসগর বেলুচ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশেই রয়ে গেলেন।

এমন চমৎকার একটি প্রামানিক অনুষ্ঠান নির্মান এবং সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রযোজক এবং  বৈশাখী টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষকে সেলুট দিতে চাই।

Check Also

nausaba

বিডিং শো স্বপ্ন সদাইয়ে কাজী নওশাবা

মিডিয়া খবর:- আজ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিডিং শো ‘স্বপ্ন সদাই’। দর্শক …

khude-ganraj

ক্ষুদে গানরাজের অডিশন

মিডিয়া খবর:- আগামী ২৩ ডিসেম্বর ‘ক্ষুদে গানরাজ’ ১৬ এর ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অডিশন চ্যানেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares