Home » টিভি নাটক » প্রিয় ফেরদৌসী মজুমদারের নাটক
fer-1

প্রিয় ফেরদৌসী মজুমদারের নাটক

Share Button

ঢাকা:-

জীবন্ত কিংবদন্তী, শক্তিশালী অভিনেত্রী, অসাধারন প্রতিভাময়ী, আর কি কি বিশেষণ দিলে এই গুনী অভিনেতার পরিচয় তুলে ধরা যায় আমার জানা নেই। বলছিলাম অসামান্য গুনী একাধারে মঞ্চ,টিভি কাঁপানো অভিনেত্রী, ছোটবেলা থেকে যার অভিনয় পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়েছি, প্রেরনা পেয়েছি, সংসপ্তকের হুরমতি বুয়া, কোকিলারা’র কোকিলা চরিত্রের ফেরদৌসী মজুমদারের কথা।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ‘থিয়েটার’ গঠন করা হয়, যেখানে ছিল আবদুল্লাহ আল মামুন, রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ। ফেরদৌসী মজুমদার সেই দলে যোগ দেন।তিনি মোট ২টি সিনেমায় অভিনয় করেন। মায়ের অধিকার’ এবং ‘দমকা’। বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিনি প্রায় তিনশ’র মতো নাটক করেন। তাঁর অভিনয় জীবন প্রায় তিন দশকের মতো দীর্ঘ। আবদুল্লাহ আল মামুন ফেরদৌসী মজুমদারকে নিয়ে একটি ৮৬ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন যার নাম ‘জীবন ও অভিনয়’ এই সময়ে এসে ফেরদৌসী মজুমদার অভিনয় একেবারে করছেনই না বলা যায়। fer-2

শুধু পারিবারিক গল্পের প্রতি গভীর টান থেকে তিনি প্রচার চলতি একটিমাত্র ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। নাম ‘ক্ষণিকালয়’। প্রচার হচ্ছে মাছরাঙা টেলিভিশনে। এটি পরিচালনা করছেন রহমতুল্লাহ তুহিন। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন ফেরদৌসী মজুমদার। এদিকে এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি এবার ঈদ উপলক্ষে এ গুণী অভিনেত্রী মাত্র একটি নাটকে কাজ করেছেন। আনিসুল হকের রচনা এবং মাইনুল হাসান খোকনের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এ নাটকটির নাম ‘একা এবং একা’। এ নাটকে তিনি একজন অন্ধ মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যিনি সারাক্ষণ তার ছেলের অপেক্ষায় থাকে। একদিন তার ছেলে আসে। তিনি ছেলেকে আদর করেন, নিজের হাতে খাওয়ান। কিন্তু একদিন পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। কারণ সেটি তার ছেলে ছিল না। ফেরদৌসী মজুমদার আবার ‘একা এবং একা’ হয়ে পড়েন। কেমন লাগলো নাটকটিতে অভিনয় করে? জবাবে ফেরদৌসী মজুমজদার বলেন, গল্পটিতে ভিন্নতা ছিল। নাটকটির গল্প বাস্তব থেকে নেয়া। এই ধরনের গল্প আমার সত্যিই খুব ভাল লাগে। যারা বাস্তব থেকে নাটকে গল্প তুলে ধরেন। আনিসুল হক অনেক শক্তিশালী একটি গল্প লিখেছেন। আমিও যথেষ্ট খেটেছি। সত্যি বলতে কি তখনই কষ্টটা উপভোগ্য হয়ে উঠে যখন তা অনেকটাই সার্থক হয়ে উঠে। নাটকটি দর্শকের ভাল লাগলেই আমাদের কষ্ট সফল হবে। পরিচালক জানান আসছে ঈদেই নাটকটি বিটিভি কিংবা একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। উল্লেখ্য, এই নাটকে ফেরদৌসী মুজমদারের সহশিল্পী হিসেবে আছেন তৌকীর আহমেদ। দর্শক হিসেবে আমরা চাইবো আরো অনেক দিন তিনি তাঁর অভিনয় শৈলী দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করে রাখবেন।

( নিচের অংশ উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া)

প্রাথমিক জীবন

ফেরদৌসী মজুমদারের জন্ম বরিশালে হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন ঢাকাতে। তাঁর বাবা খান বাহাদুর আব্দুল হালিম চৌধুরী ছিলেন ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর ভাইবোন ছিল মোট ১৪ জন যাদের মধ্যে ৮ জন ভাই এবং ৬ জন বোন। সবচেয়ে বড় ভাই কবীর চৌধুরী এবং মেজ ভাই শহীদ মুনীর চৌধুরী। ‘দারুল আফিয়া’ নামের বাড়িতে তাঁর শৈশব কেটেছে। তাঁদের পৈতিক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে। ফেরদৌসী মজুমদারের পরিবার ছিল খুব রক্ষণশীল।বাড়িতে সাংস্কৃতিক চর্চা ছিল নিষিদ্ধ। তাঁর লেখাপড়া শুরু হয় নারী শিক্ষা মন্দির স্কুল থেকে।এই স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ার পর তিনি ভর্তি হন মুসলিম গার্লস স্কুলে যেখান থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর ইডেন কলেজে ভর্তি হন।তিনি ছোটবেলায় খেলাধুলা করতে পছন্দ করতেন এবং একবার ৯৬৬ বার স্কিপিং করে ক্রিস্টালের বাটি পেয়েছিলেন যদিও ফিট হয়ে গিয়েছিলেন তখন। তিনি ছোটবেলা থেকেই মানুষকে ভেঙ্গাতে পারতেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাড়িতে ফিরতে সন্ধ্যা হওয়াতে তাঁর বাবা তাঁকে চটি দিয়ে পিটিয়েছিলেন।

fer-3অভিনয়ের শুরু

ইডেন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় তিনি তাঁর বড় ভাই মুনীর চৌধুরী থেকে প্রস্তাব পান একটা নাটকে রোবটের চরিত্রে অভিনয় করার যার নাম ছিল ‘ডাক্তার আবদুল্লাহর কারখানা’।এটি লিখেছিলেন শওকত ওসমান এবং মঞ্চস্থ হয়েছিল ইকবাল হলে যা এখন জহুরুল হক হল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তিনি পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘দন্ড ও দন্ডধর’ নাটকে অভিনয় করেন তাঁর শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিপরীতে।তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা নাটকের ফোরামে তিনি জড়িয়ে পড়েন এবং সন্মানী হিসেবে ৭৫ টাকা পান।এই টাকা দিয়ে তিনি দামী নেটের মশারি কিনলেন । বাসায় তার হারামের পয়সায় কেনা মশারি দেখে তাঁকে অনেক বকাঝকা করেন ।পরে অবশ্য কন্যার কান্না দেখে পরের দিন আবার নিজেই সেই মশারি কন্যাকে খাটিয়ে দেন।তিনি ১৯৭০ সালে মারা যান।তারপর ফেরদৌসী মজুমদার নীলিমা ইব্রাহিমের লেখা ‘তামসি’ নামক নাটকে অভিনয় করেন।বাবা মার অমতে তিনি ১৯৭০ সালের ১৩ই জুন রামেন্দু মজুমদারকে বিয়ে করেন। ১৯৭১ সালের শুরুতে তিনি পাকিস্তানের করাচীতে চলে যান একটা অ্যাডভার্টাইজিং ফার্মে কাজ করতে।পরে ১১ই মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মে মাসে তাঁর পরিবারের সবাই মুনীর চৌধুরী ছাড়া দাউদকান্দি, চান্দিনা হয়ে কলকাতা চলে যান ।

Check Also

tarikh-anam-khan

উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে তারিক আনাম খান

মিডিয়া খবর:- জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা তারিক আনাম খান ১৪ই ফেব্রুয়ারি পুবাইলে শুটিং চলাকালে হঠাৎ …

S-A-Sacchu

সংগঠনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও দেখেন সাচ্চু

মিডিয়া খবর:- প্রানবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে গেল অভিনয়শিল্পী সংঘের প্রথম নির্বাচন। সহকর্মী অভিনয়শিল্পীদের ভোটে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares