Home » চলচ্চিত্র » যেদেশে গুণীর সম্মান নেই
shibli

যেদেশে গুণীর সম্মান নেই

Share Button

ঢাকা:-

দেওয়ান মাহবুবুল আলম

‘তিনকন্যা’ সিনেমার এই গান গেয়েই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল কেদারনাথ ভট্টাচার্য উরফে শানু ভট্টাচার্য উরফে কুমার শানু’র। বিস্মিত হলেন? জ্বী, আমি উপমহাদেশ বিখ্যাত কন্ঠশিল্পী কুমার শানু’র কথা বলছি। যখন বলিউড বা টলিউডে তার কোন স্থান ছিল না তখন ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশী সিনেমা ‘তিনকন্যা’ তে আলম খানের সুরে “তিনকন্যা একছবি ছন্দা চম্পা আর ববি” গানটি গেয়েই কুমার শানু’র সিনেমায় অভিষেক হয়।

“ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের পানে চাইয়ারে” এই গানটি সারা বাংলায় ছড়িয়ে দিয়ে ১৯৭৮ সালে ‘নোলক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেব আত্মপ্রকাশ করেন বিশিষ্ট গায়িকা ফেরদৌসী রহমান।

‘ভেজাচোখ’ সিনেমা’র গান “জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প” কিংবা ‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমার গান “এখানে দু’জনে নিরজনে, সাজাব প্রেমের পৃথিবী” আজো আমাদেও মুখেমুখে ফেরে। কিন্তু কয়জন মানুষ এই বিখ্যাত সিনেমাগুলির মুল কারিগর পরিচালক শিবলী সাদিক এর কথা জানি বা মনে রেখেছি?

বাংলাদেশের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র পরিচালক ‘শিবলী সাদিক’ ১৯৪১ সালের ৯ই জানুয়ারী নওগাঁ জেলার মঙ্গলবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাফিজ এর উর্দু সিনেমা ‘তালাশ’ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমায় যাত্রা শুরু করেন। এরপর সৈয়দ আওয়াল এর সাথে যৌথভাবে নির্মান করেন ‘বালা’। তবে শিবলী সাদিক তার জাত চিনিয়েছিলেন ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘নোলক’ এর মাধ্যমে। উত্তরবঙ্গের গাড়ীয়ালদের জীবনকে খুবই সুন্দর ভাবে এই সিনেমায় ফুটিয়ে তোলেছেন। কিন্তু একই বছর ‘সারেং বউ’ ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘ডমুরের ফুল’, ‘অশিক্ষিত’ এতগুলি অসাধারন সিনেমার ভিড়ে ‘নোলক’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারলাভে ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি বানিজ্যিক সিনেমার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি প্রায় দুইডজন সিনেমা নির্মান করেন।

১৯৮০’র দশক ও ৯০ দশকের শুরুর দিকের অধিকাংশ ব্লকবাষ্টার সিনেমার নির্মাতা ছিলেন শিবলী সাদিক। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলি হচ্ছে – জীবন নিয়ে জুয়া, নোলক, রেশমী চুরি, তিনকন্যা, ভেজা চোখ, নীতিবান, দুর্নাম, অচেনা, মা মাটি দেশ, দোলনা, অর্জন, বদসুরত, অচেনা, অনুতপ্ত, খুনী আসামী, পাহারাদার, বদসুরত। একসময়ের হার্টথ্রুব নায়ক ‘সালমান শাহ’ কে নিয়ে নির্মান করেন অন্তরে অন্তরে, মায়ের অধিকার, আনন্দঅশ্রু। ২০০৬ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত শিবলী সাদিক পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘বিদেশিনী’ মুক্তি পায়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি দুবার ‘চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি’র সভাপতি এবং একাধিকবার মহাসচিব ছিলেন। নতুন পরিচালকদের উৎসাহিত করতে তিনি ‘কুটির-ই-চলচ্চিত্র’ নামক সংগঠন করেন। তার সহকারীদের মধ্যে আছেন আরেক খ্যাতিমান পরিচালক সোহনুর রহমান সোহান।

মাত্র ৬৯ বছর বয়সে ২০১০ সালের ৭ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডি’র সেন্ট্রাল হাসপাতালে শিবলী সাদিক মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ‘মুকুটহীন নবাব’ বলে পরিচিত আনোয়ার হোসেন এর মেয়ের সাথে শিবলী সাদিক তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন।

পরিশিষ্টঃ
তার মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু নিরবেই পালিত হয়। দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করলাম ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’ ও বেসরকারী ‘বাংলা মুভি ডাটাবেজ’ এ এই বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকের কোন প্রোফাইল বা ছবি নেই। যে শিবলী সাদিক না হলে হয়তো কেদারনাথ ভট্টাচার্য কোনদিনই ‘কুমার শানু’ হতে পারতেন না, তিনি তাকে মনে রেখেছেন? সেজন্যই হয়তো আফসোস করে বলা হয় ‘যেদেশে গুণীর সম্মান নেই, সেইদেশে গুণী জন্মায় না।’

Check Also

রীনা ব্রাউন

মুক্তি পাচ্ছে রীনা ব্রাউন

মিডিয়া খবর:- আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চলচ্চিত্র …

Nusrat-Faria

শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার ধ্যাৎতেরিকি

মিডিয়া খবর :-  সব প্রতিক্ষার অবসান শেষে এবার শুটিং শুরু হল আরেফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares