Home » ইভেন্ট » “দ্রোহ ও প্রেম” এই চেতনায় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
rudra

“দ্রোহ ও প্রেম” এই চেতনায় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

Share Button

ঢাকা:-

দ্রোহ ও প্রেম- এই দুই চৈতন্যের নির্যাসকে শব্দের আখরে সাজিয়ে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গড়ে তুলেছেন নিজস্ব কাব্যসত্বা। গতকাল ছিল এই কবির ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯১ সালের ২১ জুন খুব অল্প বয়সে সাহিত্যের আকাশ থেকে খসে পড়ে এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।কাব্য জগত হারায় এক শব্দ সৈনিককে। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অতি আধুনিক বাংলা কবিতা নির্মাণে নিজের সংবেদনশীল কবি সত্বাকে রুপায়ন করেছেন নিজস্ব নির্মাণ কৌশলে। তাইতো তিনি দ্রোহের কবি, চেতনায় জাতিসত্বার কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। একাধারে কবি ও গীতিকার যিনি প্রতিবাদী রোমান্টিক হিসাবে খ্যাত রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ । আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করে যে কয়েকজন কবি শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তার কবিতার মধ্যে অন্যতম “যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট”, “বাতাসে লাশের গন্ধ”। কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার মিঠে খালিতে গড়ে উঠেছে “রুদ্র স্মৃতি সংসদ”। ১৯৭৩ সালে ঢাকার ওয়েষ্ট অ্যান্ড হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি ও ১৯৮৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বরেণ্য চিন্তাবিদ, গবেষক কবি আহমদ ছফার আনুকূল্যে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবির প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় । যার প্রকাশক ছিলেন আহমদ ছফা। তরুণ কবির সৃষ্টিশীলতাকে বুঝতে বেগ পেতে হয়নি তাঁকে। তিনি ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা। ১৯৮০ সালে কবি নুরুল হুদা ও কবি কামাল চৌধুরীকে নিয়ে দ্রাবিড় প্রকাশনা সংস্থা গঠিত হয়। এই প্রকাশনা থেকেই রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ’র দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরে চাই স্বর্ণ গ্রাম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৪ সালের এপ্রিলে তৃতীয় কাব্য ‘মানুষের মানচিত্র’ প্রকাশিত হলে ভিনধর্মী কাব্য ও নিজস্বতার জন্য বিপুলভাবে প্রশংসিত হন তিনি। ১৯৮৪ সালে চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ ছোবল, এবং ১৯৮৭ সালে পঞ্চম কাব্য গ্রন্থ ‘গল্প’ প্রকাশিত হয় নিখিল প্রকাশনী থেকে। ষষ্ঠ কাব্য ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ প্রকাশ পায় মুক্তধারা থেকে ১৯৮৮ সালে এবং ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয় ‘মৌলিক মুখোশ’। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিলো কাব্য গ্রন্থ ‘এক গ্লাস অন্ধকার’ (১৯৯২) এবং কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ (১৯৯২)। মৃত্যুর তিন বছর পর ১৯৯৪ সালে কবির শেষ জীবনের বন্ধু অগ্রজ কবি অসীম সাহার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থটি। শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থে কবির বেশ কয়েকটি অপ্রকাশিত কবিতাও প্রকাশিত হয়েছিলো। ১৯৮৯ সালে কবি কবিতার পাশাপাশি গানও রচনা শুরু করেন। আমৃত্যু কাব্য চর্চায় মগ্ন থেকে কাব্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে গেছেন সল্পায়ু এই কবি।

Check Also

Shesh chal

সজল ও তাইয়্যাবা তাহসীন জুটির শেষ চাল

মিডিয়া খবরঃ-    -: সাজেদুর রহমানঃ- মায়ের হাত ধরে নতুন বাবার সংসারে এসেছে আদনান। কয়েকমাস পরে …

tazrin gouhor

আব্বার লেখা গানের ডায়রিটা এখন আমার কাছে: তাজরিন গহর

মিডিয়া খবরঃ- ছোটবেলা থেকেই গানের সাথে ওঠাবসা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার সামনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares