Home » ইভেন্ট » মঈনুল আহসান সাবের, মাসরুর আরেফিন ও বদরুন নাহার এবার পুরস্কার পেলেন
mash

মঈনুল আহসান সাবের, মাসরুর আরেফিন ও বদরুন নাহার এবার পুরস্কার পেলেন

Share Button
ঢাকা:-
 

মাত্র তিন বছর। ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার। দেশের বরেণ্য সাহিত্যিকদের সম্মাননা জানানো এবং তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রবর্তিত এ পুরস্কার ইতিমধ্যেই বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য প্রবীণ-নবীন লেখকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এটা স্পষ্টতই বোঝা গেল।এবার পুরস্কার পেলেন কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, অনুবাদক মাসরুর আরেফিন ও তরুণ লেখক বদরুন নাহার। ২০১৩ সালে প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে তিনটি শাখায় শ্রেষ্ঠ বিবেচনায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। মাসরুর আরেফিন তার অনূদিত ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শাখায় পুরস্কার পান। মঈনুল আহসান সাবের ‘একদিন পরিমল’ উপন্যাসের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্য শাখায় এবং বদরুন নাহার তার গল্পগ্রন্থ ‘বৃহস্পতিবার’-এর জন্য হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার লাভ করেন। ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ পাঠক সমাবেশ, ‘একদিন পরিমল’ অনিন্দ্য এবং ‘বৃহস্পতিবার’ শুদ্ধস্বর থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

পুরস্কারের জন্য জমা পড়া ছয় শতাধিক বই থেকে শ্রেষ্ঠ তিনটিকে নির্বাচন করা হয়। পুরস্কারের বই নির্বাচনের জন্য গঠিত বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, কবি আসাদ চৌধুরী ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩’ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, পুরস্কারের চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন বিচারকমণ্ডলীর চার সদস্য এবং সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যকার, নাট্যনির্মাতা, প্রকাশক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সমাজের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থাপন করা হয় পুরস্কারটি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও তথ্যচিত্র। ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স জিশান কিংশুক উপস্থাপিত তথ্যচিত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাংলা সাহিত্যের মৌলিক সৃষ্টিকর্মকে উৎসাহিত করার জন্য ২০১১ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। পরে ২০১৩ সাল থেকে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্য পুরস্কার সংযোজন করা হয়েছে। পুরস্কার তিনটির মধ্যে দুটির অর্থমূল্য এক লাখ টাকা করে। আর হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্য পুরস্কারের মূল্য ৫০ হাজার টাকা। আগামী বছর তরুণ সাহিত্য পুরস্কারের মূল্যও এক লাখ টাকা করা হবে বলে গতকালের অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেওয়া হয়।

তথ্যচিত্রে বিচারকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম বিচার কাজটিকে নিজের জন্য একটা বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই বিচার কাজ করতে গিয়ে দেশের সেরা সব লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। ছয় শতাধিক বই থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর শতাধিক বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। সেগুলো সব পড়ে অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে বিচার কাজটি করা হয়েছে।

বিচারকমণ্ডলীর পক্ষে অধ্যাপক জিল্লুুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, বিচারের মাধ্যমে জমা পড়া গ্রন্থগুলোর মধ্যে শিল্পমান, লেখনশৈলী বিবেচনা করে সেরা গ্রন্থগুলোকেই নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো কাজটির সঙ্গে বোদ্ধা ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা যুক্ত। বইগুলো পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশের সাহিত্য একেবারে দিক বদলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ পুরস্কারটি স্থায়ী হবে এবং অন্যরকম মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে।পুরস্কারসংক্রান্ত তথ্যচিত্রে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে সেরা লেখাগুলো বাছাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিজের সাহিত্য বিবেচনার প্রতি যথেষ্ট আস্থা থাকার পরও ব্যক্তিগতভাবে আমি বারবারই দ্বিধান্বিত হয়েছি। কেননা, পুরস্কারের জন্য এত ভালো বই জমা পড়েছে যে দ্বিধা না করে উপায় ছিল না।

তথ্যচিত্রে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, পুরস্কার লেখক-পাঠক সবার জন্যই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি মরণোত্তরের পরিবর্তে জীবদ্দশায় লেখকদের পুরস্কৃত করার এ ব্যবস্থাটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক বিচারক তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা থেকে পুরস্কারের জন্য বইগুলো থেকে সেরা বই নির্বাচনের চেষ্টা করেছেন।সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, সমকাল একটি সাহিত্যমনস্ক সংবাদপত্র। সমকালের সাপ্তাহিক আয়োজন কালের খেয়া বাংলাদেশের নবীন-প্রবীণ সাহিত্যানুরাগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে চলেছে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রিন্ট মিডিয়া সংকটে পড়েছে। আঘাত আসছে সাহিত্য সাময়িকীর ওপর। তবে সমকাল কালের খেয়াকে আরও বড় আয়তনে প্রকাশ করতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও বিকাশের লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে এবং এটা অব্যাহত রাখা হবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মাত্র তিন বছরে ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সাহিত্যাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে যাতে এ পুরস্কারটি বিবেচিত হয়, সে লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক কাজ করে যাবে। প্রয়োজনে সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও পুরস্কার প্রবর্তন করা হবে।অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বিচারকমণ্ডলীর চার সদস্য জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, কবি আসাদ চৌধুরী ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন এবং তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন। তাদের হাতে পুরস্কারের চেক ও পদক তুলে দেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। পুরস্কৃত লেখকদের উদ্দেশে রচিত সম্মাননাপত্র পাঠ করে শোনান সমকালের কর্মী সিরাজুল ইসলাম আবেদ, সঞ্জয় ঘোষ ও আহমাদ শামীম। পুরস্কৃত লেখকদের রচনা থেকে পাঠ করেন অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও শারমীন লাকী।পুরস্কার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একগুচ্ছ সঙ্গীত গেয়ে শোনান প্রিয়াঙ্কা গোপ।

পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের প্রতিক্রিয়া : কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আনন্দ হয়, তাৎক্ষণিকভাবে অনুপ্রেরণাও জোগায়। তিনি সাহিত্য কীর্তির জন্য পাওয়া প্রথম পুরস্কার থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন পুরস্কারের স্মৃতিচারণ করেন।পুরস্কার বিজয়ী অনুবাদক মাসরুর আরেফিন বলেন, পুরস্কার পেয়ে ভালো লাগছে। তবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে বিব্রতবোধ করছি। তিনি বলেন, পুরস্কার পাওয়ার জন্য কেউ লিখে না, আমিও লিখিনি। বিশ্বসাহিত্যের যা কিছু ভালো সাহিত্য পাঠ করি, আমার মনে হয় এগুলো যদি বাংলায় অনুবাদ করে ফেলতে পারতাম।

হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী লেখক বদরুন নাহার বলেন, পুরস্কার পেয়ে ভারাক্রান্ত বোধ করছি। তিনি পুরস্কৃত বইটিকে যেন অতিক্রম করে যেতে পারেন সবার কাছে সেই শুভ কামনা প্রত্যাশা করেন।মিলনমেলা : অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে লেখক-প্রকাশক-সংস্কৃতিসেবীদের মিলনমেলা বসেছিল সোনারগাঁও হোটেলে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে তারা মেতে ওঠেন আড্ডায়ও। বিশিষ্টজনের মধ্যে এসেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সৈয়দ শামসুল হক, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শামসুজ্জামান খান, আমজাদ হোসেন, আনোয়ারা সৈয়দ হক, কামাল চৌধুরী, ফারুক মঈনউদ্দীন, নাসরীন জাহান, মুহাম্মদ সামাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরস্কার বিজয়ী তিন বইয়ের প্রকাশক আফজালুর রহমান (অনিন্দ্য), শহীদুল ইসলাম বিজু (পাঠক সমাবেশ) ও আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল (শুদ্ধস্বর)। আরও এসেছিলেন প্রকাশক আলমগীর রহমান, কবি শিহাব সরকার, শাহাবুদ্দীন নাগরী, ফারুক মাহমুদ, মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, আশরাফ আহমেদ, মারুফ রায়হান, হুমায়ূন আহমেদ পত্নী মেহের আফরোজ শাওন, ব্রাত্য রাইসু, টোকন ঠাকুর, আলফ্রেড খোকন, শোয়াইব জীবরান, শামীম রেজা প্রমুখ।সমকালের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, জিএম (মার্কেটিং) আবুল খায়ের চৌধুরী প্রমুখ।

( সমকাল থেকে)

Check Also

digital-fair

ঢাকায় ৬ দিনব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যের মেলা

মিডিয়া খবরঃ- ‘দ্য অনলি ওয়ে টু ফ্লাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে বড় পরিসরে দেশের বৃহত্তম কম্পিউটার …

vupen-hazarika

ভূপেনের গান শোনাবেন লিয়াকত আলী

মিডিয়া খবর:- আজ উপমহাদেশর কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী  ভূপেন হাজারিকার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares