Home » চলচ্চিত্র » আমাদের চলচ্চিত্রে গ্রুপিং
film

আমাদের চলচ্চিত্রে গ্রুপিং

Share Button

ঢাকা:-

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ন

বাংলাদেশের বাঙালী জাতির পরিচয় সংকট আজীবনের। এই সংকট ঘনীভূত হতে হতে বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে এসে পৌছেছে যে সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুব সামান্য খোলা আছে বললে নেহায়েত ভুল বলা হবে না। অপ্রিয় হলেও সত্য এদেশের বাঙালীই বাঙালীর চরম শত্র“। আর সেকারনেই বাঙালী দাঁড়াতে দাঁড়াতে বসে পড়ে। ফুল হয়ে ফুটতে ফুটতে ঝরে পড়ে। ১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে যে ঢাকাই চলচ্চিত্রের পথ চলা শুরু হয়েছিলো তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় নির্মিত হয়েছে অনেক চলচ্চিত্র। কোন চলচ্চিত্র তুমুল ব্যবসা করেছে, কোন চলচ্চিত্র গড়ে ব্যবসা করেছে, আবার কোন চলচ্চিত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তুমুল ব্যবসা করা চলচ্চিত্রের সংখ্যা একেবারে হাতে গোনা কয়েকটা। তবে লাভ ক্ষতি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। এটা ভালো দিক। তবে মন্দ দিকটি হলো এখন যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তারা খুব একটা যে মান সম্মত কাজ করছে তা কিন্তু নয়। মানহীনতার কারনে এখন আর এদেশের দর্শক হলে তেমন একটা যায় না। বরং ড্রয়িং রুমে ফ্যানের নীচে বসে হাতের রিমোট টিপে চলে যায় পার্শ্ববর্তী দেশের চ্যানেলে। সেখানে তারা আসল চলচ্চিত্রের স্বাদ খুঁজে পায়।

অথচ একসময় মানুষ হলে যেতো পরিবার নিয়ে। বড় পর্দায় রাজ্জাক-কবরী,ফারুক-ববিতা, জসিম-শাবানা, প্রয়াত সালমান শাহ-শাবনূর এবং সব শেষ রিয়াজ-পূর্নিমা এর চলচ্চিত্র দেখে তৃপ্তির ঠেঁকুর তুলে গায়ে লেগে থাকা বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে বাড়ি ফিরতো। অবশ্য আমাদের চলচ্চিত্রের সেই যুগটাকে বলা হতো স্বর্ণালী যুগ। স্বর্ণালী যুগ বারবার আসে না। একবারই আসে। তাকে ধরে রাখতে হয়। আমরা ধরে রাখতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। একসময় যেখানে পাড়া মহল্লায় আমাদের চলচ্চিত্র অভিনয় শিল্পীদের বাহবা দেয়া হতো,এখন সেখানে আমরা বাহবা দেই পার্শ্ববর্তী দেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কেনো আমাদের চলচ্চিত্র পিছিয়ে পড়ছে! আমরা ভাবি না। আমাদের ভাবার সময় কোথায়! অথচ অন্যদের নিয়ে ভাবার আমাদের ঢের সময় রয়েছে! আর সে কারনেই আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র খাদের কিনারায় বসে হাঁপাচ্ছে। এখন শুধু লাথি মারার অপেক্ষা! তাহলেই পুরো খাদে পড়ে যাবে ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্প। দেশী-বিদেশী অনেকেই লাথি মারার সুবর্ন সুযোগ খুঁজছে। কেউ কেউ বলছেন, আমাদের ঢাকার চলচ্চিত্রে বেশ আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তরুণ শিক্ষিত পরিচালক এসেছে। গল্পেরও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমার কাছে একদম সেটা মনে হয়না। এসব বাক্য শুধু নিজেকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই না। এটা সত্য ঢাকাই চলচ্চিত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। অথচ আমাদের চলচ্চিত্র ব্যবসা করতে পারছে না। এর কারন হিসেবে মোটামুটি বলা যেতে পারে, আমাদের পরিচালকরা শুধু প্রযুক্তিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। অভিনয়ের দিকে তাদের নজর কম পড়ছে। সে কারণে একজন অভিনয়শিল্পী দায়সারা অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছে। চলচ্চিত্র একটি নিখুঁত মাধ্যম, যেখানে দায়সারা বস্তাপঁচা কাজ করা মানে দেশের চরম ক্ষতি করা। চলচ্চিত্রকে যেখানে দেশের আয়না হিসেবে ধরা হয় সেখানে আমাদের চলচ্চিত্র দেখলে মনে হয় আয়নার পেছনের পাশ। আমাদের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ বলা সমযের দিকে একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবো যে, তখন প্রযুক্তির এতো উৎকর্ষতা ছিলো না। তবুও তখনকার অভিনয় শিল্পীরা তাদের অভিনয়শৈলী দিয়ে সবার মন কেড়ে নিতো। এখনতো তেমন অভিনয় কল্পনাও করা যায় না। অভিনয় মানে চিল্লাচিল্লি আর নারীদের দেহ প্রদর্শন। চকচকে প্রিন্টে নারীর বক্ষ, নীতম্ব পুঁজি করে তারা সিনেমার গল্প সাজায়। এদিকে বর্তমানে ঢালিউড চলচ্চিত্রে গ্র“পিং প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসা পরিচালকদের সাথে শুরু থেকে থাকা বাণিজ্যিক ধারার পরিচালকদের মধ্যে এক প্রকার নীরব যুদ্ধ চলছে। এই নীরব যুদ্ধে সুযোগ পেলে কেউ কারো সমালোচনা করতে ভুল করেন না। একপক্ষের মতে অন্যপক্ষের নির্মিত চলচ্চিত্র কোন চলচ্চিত্রই না। গ্র“পিং জিনিসটা সবসময়ের জন্য ক্ষতিকর। চলচ্চিত্রের জন্য তো সেটা ভয়ানক ক্ষতিকর। গ্র“পিং একটি দেশের চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করে দিতে যথেষ্ট। বাংলাদেশের বাঙালি জাতিটাই এমন নিজের পাতে কিছু কম পড়লে আপন জনকেও ছাড়ে না। শত্র“তা সৃষ্টি করতে তাদের পারদর্শীতার প্রশংসা না করলে বড় অন্যায় হয়ে যাবে। আর এই সুযোগে অন্যেরা ঢুকে পড়ছে আমাদের মধ্যে,  বিভক্ত করে দিচ্ছে আজীবনের জন্য। নিজেদের মধ্য গ্র“পিং চললে অন্যেরা বা’হাত ঢুকাবে এটাই স্বাভাবিক। ভারততো আজীবনই এই এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান শুরু করেছে।

আমি বিশ্বাস করি আমাদের পরিচালকরা পার্শ্ববর্তী দেশের পরিচালক থেকে ব্যাপক মেধাবী। তারা সেরকম সুযোগ সুবিধা পেলে আন্তজার্তিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষমতা রাখে। মালেক আফসারী, বদিউল আলম খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, সৈকত নাসির, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, রেদওয়ান রনি, মোস্তফা কামাল রাজ সহ আরো যারা চলচ্চিত্র পরিচালক আছেন তাদেরকে আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে বালাদেশের চলচ্চিত্রের এক একটি ‘সোনার বার’ মনে হয়। বিতর্কিত পরিচালক অনন্য মামুনকেও আমি মেধাবীদের কাতারে ফেলতে চাই। তার মেধা আছে। আমি খুব করে চাই তার মেধা যেনো দেশের চলচ্চিত্রের কল্যাণেই কাজ করে। কোলকাতার চলচ্চিত্রের দূর্দিনের কথা সবার জানা। আমাদের চলচ্চিত্রের কাহিনী নকল করে তারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করতো। অথচ এখন ওদের চলচ্চিত্র আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার নষ্ট করছে। এমনকি ওরা এখন ওদের চলচ্চিত্র দিয়ে বলিউডের সাথে টেক্কা দিচ্ছে। কোলকাতার চলচ্চিত্রের এমন উন্নতি আসলেই হিংসা করার মতো। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই ওদের ‘একতা’ ওদের চলচ্চিত্র শিল্পকে পাল্টে দিয়েছে। নিজের স্বার্থটাকে ছোট করে দেখে সবাই একত্রিত হয়ে নিজেদের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মজবুত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো বলেই সেদেশের রাজ্য সরকার তাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর আমাদের গ্র“পিং আমাদের দলাদলি আমাদের নোংরা রাজনীতি আর নড়বড়ে পরিকল্পনার কারনে এখনো আমরা কোমর সোঁজা করে দাঁড়াতে পারছি না। সে কারনে সরকার ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। সেজন্য সবার আগে আমাদের নিজেদেরকে একত্রিত হয়ে একটি মজবুত পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে যেনো সরকার সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। আর সেটি করতে গ্র“পিং এর দেয়ালাটা সবার আগে ভেঙে দিতে হবে।

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares