Home » চলচ্চিত্র » নতুন চর জেগেছে লাল চর
lalchar

নতুন চর জেগেছে লাল চর

Share Button

মিডিয়া খবর :-        : কাজী শিলা :

রতন খবর দিল চর জেগেছে- ওসমান শেখের প্রায়ান্ধ চোখে স্বপ্নের আনাগোনা- হনুফার চোখে আনন্দাশ্রু। জেলেপাড়ার ২০টা নৌকা নিয়ে একশোর বেশী জেলে রওনা হয়ে গেল তাদেরlalchar-1 স্বপ্নের চরের উদ্দেশ্যে। কুল নাই কিনার নাই বিশাল পদ্মা- দুর থেকে ভেসে আসছে ২০ টা জেলে নৌকা। নৌকারোহীরা সকলেই উত্তেজিত, উদ্বিগ্ন। কি হয়! কি হয়! তুমুল উত্তেজনা নিয়ে নৌকাগুলো নির্দিষ্ট সীমানা পার হয়ে গেল। পাড়ে দাঁড়ানো সকলে আনন্দে হৈ হৈ করে হাতে তালি দিয়ে উঠলো। মিষ্টি বিতরণ হল। সুজন ভাইয়ের ক্যামেরায় ধরা পড়লো অসাধারণ একটা শট। ওয়াইড লেন্সে বিশাল গভীর পদ্মার অসামান্য ক্যানভাসে জেলে নৌকার মিছিল। শ্যুটিং চলছে। এটি নাদের চৌধুরীর লাল চর ছবির ধারণকৃত প্রথম দৃশ্য।

আমি শ্যুটিং শুরু হওয়ার তৃতীয় দিন টিমের সাথে যোগ দেই। এর আগে দু একটা সিনেমায় কাজ করলেও এ ছবিতে কাজ করাটা আমার lal charজন্য বিশেষ একটা পাওয়া। তাই কাজটা কেমন হচ্ছে এটা জানার উদগ্র কৌতুহল হচ্ছিল। যাওয়ার পথে গাড়ীতে মাসুম ভাইয়ের (মাসুম আজিজ) কাছ থেকে জানলাম শ্যুটিং চলছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। রাত ১০.৩০ এ গিয়ে পৌঁছলাম গেষ্ট হাউজে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটা ছিমছাম নিরিবিলি গেষ্ট হাউজ। এটা র‌্যাব-১১ এর অফিসও বটে। তখনও শ্যুটিং টিম আউটডোর থেকে ফেরেনি। আমরা ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং এ অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই হৈ হৈ করে টিম ফিরে এলো। খাবার টেবিলে জানতে পারলাম ছবির নায়ক আনিসুর রহমান মিলন জ্বরের কারনে আজ শ্যুটিং এ আসতে পারেনি। মনটা খারাপ হয়ে গেল। মনে হল হয়তো টিম স্প্রিটটা নষ্ট হল। সকালের কল টাইম জেনে মন খারাপ নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে তো চক্ষু চড়ক গাছ! সুদুর ঢাকা থেকে বিক্রমপুরের ভাগ্যকুলে এসে সকলের ঘুম ভাঙালেন আনিসুর রহমান মিলন। সাধারনত এরকমটা দেখা যায় না। এতক্ষণ ঝিমিয়ে পড়া মনটা চনমনিয়ে উঠলো। নড়েচড়ে বসলো সকলে। চা নাস্তা খেয়ে, মেকাপ নিয়ে ছুটল সবাই নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

শ্যুটিং এর ফাঁকে ফাঁকে কথা হল রতন চরিত্রের অভিনয় শিল্পী নায়ক আনিসুর রহমান মিলনের সাথে। তিনি বললেন, অনুদানের ছবি আগে করিনি। এটাই প্রথম। নাদের ভাইয়ের উপর আস্থাlal char আছে। সেই আস্থা থেকেই ছবিটি করছি। প্রথমদিন ঠান্ডায় নদীতে নৌকা চালিয়ে, চরে রৌদ্রে শ্যুটিং করে জ্বর এসে গেল। lal charদ্বিতীয় দিন সেটে উপস্থিতই হতে পারলাম না। এখানে যারা কাজ করছে সবাই খুবই সিরিয়াস। সমস্ত আর্টিস্টদের ইনভলবমেন্ট এই ছবির একটা বড় দিক। কষ্টটাকে কেউ কষ্ট মনে করছে না। সবই খুব মন দিয়ে কাজটা করছে। নিজের তাগিদেই সিরিয়াস হয়ে গেলাম- মনে হল ভালো কিছু করতে হবে। ছবির গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে। মনে হয় না এটা কোন অনুদানের ছবি। বানিজ্যিক ছবির একটা আভাস আছে এর মধ্যে। অনুদানের ছবি সাধারনত ভালো ছবি হয়েছে এমন একটা অনুভ’তি জাগায় একটা শ্রেনীর মধ্যে। সাধারন জনগনের মধ্যে হিট হয়েছে এমনটা দেখা যায় না। এ ছবির মধ্যে সেই সম্ভাবনা আছে। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নাদের ভাইয়ের এক্সপেক্টেশনকে অনার করে শেষ পর্যন্ত ভালো করে যাওয়ার চেষ্টা করবো।’

lal-char-5নাদের ভাই যেভাবে পরিকল্পনা করেছে সেভাবেই এগিয়ে চলেছে লাল চর। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলে, ভোর বেলায় মেকাপ কল থাকে। সকলেনিষ্ঠার সাথে নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করছে। অবশ্য এর মধ্যে কেউ কেউ অত্যুৎসাহীও ছিল। থাক সেসব কথা। কয়েকদিন পর আমাদের সাথে এসে যোগ দিল একজন পাগলী। সত্যি পাগলী নয় পাগলী চরিত্রাভিনেত্রী সাবিহা জামান। সেদিন সকালে মেকাপ নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে রওনা দেয়ার আগে গেস্টহাউসের সামনের চায়ের দোকানে বসে সকলে গরুর খাঁটি দুধের  চা খাচ্ছি। এরমধ্যে একজন পাগলী এসে বসলো চা খেতে। দোকানে বসা সকলে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল। একজন জটাধারী পুরোহিত মশায় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এসে হঠাৎ পাগলীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বসলো। এবার অস্বস্তিতে পড়ার পালা পাগলীর। কারন পাগলী তো আসল পাগলী নয়। মোহাম্মদ আলী বাবুল ভাইয়ের মেকাপের জাদু। যা দেখে বাচ্চারা পিছু নিয়েছে তার। এলাকার লোকেরা ভেবেছে তাদের এলাকায় একটা নতুন পাগলের আমদানী হয়েছে।

এরপর নাদের চৌধুরী যখন মেকাপ নিয়ে এসে দাঁড়ালেন আমাদের মাঝে।  তখন আরেকবার সকলের অবাক হবার পালা। মনে হল যেন নাদের চৌধুরী নয়, ২০ বছর আগে ফেরারী হয়ে যাওয়া নাদের ডাকাত। এরকম একটা দুটো নয় সবগুলি চরিত্রকে পরম মমতায়, অসাধারন নৈপুন্যের সাথে জীবন্ত করে তুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বয়োজ্যেষ্ঠ রূপসজ্জাকর মোহাম্মদ আলী বাবুল।

শীতের দিন, নদীর চরে শ্যুটিং। থাকার জায়গাটাও অসম্ভব সুন্দর নিরিবিলি, শান্ত, মায়াময়। সকাল দুপুর রাত কেটে যাচ্ছে অবলীলায় শ্যুটিং এর তালে তালে। কাজ চলছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে, শৃংঙ্খলার সাথে। অভিনেতাদের মধ্যে দু একজন lalcharছাড়া সকলেই থিয়েটার কর্মী। এমনকি স্টিল ফটোগ্রাফীতে আছেন খোরশেদ আহমেদ, উনিও মঞ্চের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। সুতরাং টিমওয়ার্ক, একে অপরের সাথে সমঝোতাও খুব ভালো। প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে টিমের সর্বোচ্চ মানুষটিও নিজের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করছে। একজন আরেকজনকে ভালোর দিক থেকে টপকে যাওযার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ বিষয়ে একটা মজার অভিজ্ঞতা বলতে চাই। সেদিন চিয়া বুড়ি চাইয়া বাবুলের মাইয়া, বাবুলে কান্দে পঁচা কাডাল খাইয়া’ গানটির শ্যুটিং চলছে। প্রেক্ষাপট হল- চর জেগেছে তাই গ্রামবাসীরা আনন্দ করছে। এখানে আনিসুর রহমান মিলনের সাথে গ্রামবাসী চরিত্রে অভিনয় করছে ঢাকা পদাতিকের একঝাক অভিনেতা। আর মীমের সহযোগী নৃত্যশিল্পীরা হলেন নৃত্য পরিচালকের সাথে আসা এফডিসির নৃত্যশিল্পী। মধ্যরাত পর্যন্ত lal-char-7শ্যুটিং চলছে। একই দৃশ্য বার বার বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে নেয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীরা শীতের রাতে স্বল্প কাপড়ে মাটিতে বসে অভিনয় করছে। ঠান্ডায় জমে যাবার মত অবস্থা। ওদের করুণ অবস্থা দেখে একজন নৃত্যশিল্পী এসে সহানুভ’তি জানিয়ে গ্রামবাসী চরিত্রে অভিনয়কারী ফিরোজ হোসানকে  বললেন- আহারে পেটের দায়ে কত কষ্টই না করতে হয় আপনাদের, কতদিন ধরে করেন অভিনয়? ফিরোজ ভাইও সমবেদনায় আপ্লুত হয়ে বললেন- এটাই তার প্রথম কাজ।’ আসলে তিনি যে একজন সরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ঢাকা পদাতিকের সিনিয়র সদস্য সেটা ভুলে কখন যে ভাগ্যকু’লবাসী হয়ে গেছেন হয়তো নিজেও জানেন না। সবচেয়ে বড় টিমওয়ার্ক দেখিয়েছেন ভাগ্যকুলের সাধারন মানুষ যাদেরকে একত্রিত করেছেন ভাগ্যকু’ল ইউনিয়নের মেম্বার রেনু আপা (রেনু মাষ্টার)। কোন কিছুর অভাব তিনি হতে দেননি। সেটা মানুষ জোগাড় করা হোক বা হারিকেন, নৌকা, বাড়িঘর সব তিনি চাবা মাত্র হাজির করেছেন।

মঞ্চ ও টিভি মিডিয়ার প্রখ্যাত অভিনেতা নাদের চৌধুরী সিনেমার পরিচালক হিসেবে কেমন করবেন সেটা নিয়ে আমি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। এর আগে তার সাথে মঞ্চে কাজ করেছি। তার নিদের্শনায় টিভি নাটক, টেলিফিল্ম করেছি। কিন্তু সিনেমা এ্ প্রথম। আমাদের  অনেকের অভিজ্ঞতা আছে বড় পর্দায় টেলিফিল্ম দেখার। অর্থাৎ পরিচালক ছবি বানাবার মানসে নির্মান করেছেন কিন্তু সেটা না হয় টেলিফিল্ম না হয় বড় পর্দায় দেখার যোগ্য কোন ছবি। লাল চর সম্পর্কে বিষয়ে এ সংশয় প্রকাশ করলে নাদের ভাই হেসে বলেছিলেন- ‘আমার উপর আস্থা রাখেন।’ আরেকটা বিষয়ে পরিচালক নাদের চ্যেধুরীর উপর আমি ১০০ ভাগ আস্থাশীল ছিলাম সেটা হল অভিনয়। আমার চরিত্রটা ছিল ২০ বছর আগে বিধবা হয়ে যাওয়া গ্রামের একটা পোড় খাওয়া নারী। চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারবো কি না সে বিষয়ে আমি নিজেই খুব ভয়ে ছিলাম। এ বিষয়েও নাদের ভাই তার উপর আস্থা রাখতে বলেছিলেন। একটা দৃশ্য ছিল যেখানে ২০ বছর পর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া ভাই ফিরে আসে। খুবই স্পর্শকাতর দৃশ্য। কম্পোজিট শট, টু শট ওকে হওয়ার পর আমার ক্লোজ শট চলছে। আমার এক্সপ্রেশন নির্দেশকের মনপুত: হচ্ছে না। নাদের ভা্ই আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন বললেন আমার চোখের দিকে তাকান, তাকালাম, তার এক্সপ্রেশন দেখে  আমার মনের মধ্যে অদ্ভুত ঝড় উঠলো। চোখে মুখে ফুটে উঠলো এতকাল পরে ভাইকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ বেদনার ঝড়।  শট ওকে হল।    

গ্রামীন পটভূমিতে করা লালচর একটা চর দখলের প্রাচীন গল্প। সমসাময়িক কোন গল্প না বেছে জীবনের প্রথম ছবি কেন গ্রামীন পটভূমির? কেন চর দখলের মত পুরানো একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে এটা নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন ছিল। lal-char-8কিন্তু পরিচালক নাদের চৌধুরীর বক্তব্য পরিস্কার। তিনি জানালেন- চর দখল শুধু একটা বিষয় নয়। চরকে ঘিরে এক জোড়া তরুন তরুনীর যে স্বপ্ন সেটাকেই তুলে ধরতে চেয়েছি। টাইটানিক, লগান একশো বছর আগের ঘটনা তারপরেও সমসাময়িক। বাংলাদেশ গ্রাম নির্ভর দেশ। এতবড় একটা জনগোষ্ঠি গ্রামে বাস করে তাদের নিয়েই তো কাজ করবো। যদিও আমার জন্ম গ্রামে নয়, বড় হয়েছি শহরে। তবু গ্রামটাকে আমি ভালো বুঝি। গ্রামীন মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। সেটা করতে আমি পছন্দও করি। আর বানিজ্যিক বিষয়টাকে মাথায় রেখেছি। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র করছেন আনিসুর রহমান মিলন। গ্রামের চরিত্রে তাকে খুব মানায়। আর নি:সন্দেহে অভিনয় ভালো করে। তার বিপরীতে সেরা নাচিয়ে মোহনা মীম অভিনয় করছে। এর আগে সে কোন সিনেমা করেনি। আমার একটা টেলিফিল্মে কাজ করেছে। ভালো নাচ জানে, এক্সপ্রেশন ভালো। সে ও অত্যন্ত ভালো করেছে। ভিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম দুরন্ত অভিনেতা। সবগুলি চরিত্রে শক্তিশালী অভিনেতা দরকার জন্য মঞ্চকর্মী নিয়েছি। একটা সুন্দর সুস্থ ছবির জন্য যে সব উপাদান প্রয়োজন এই গল্পে সব আছে। একটা সুস্থ গল্প, প্রেম ভালোবাসা, সংগ্রাম, ট্রাজেডী, কমেডি, বিবেক সব। অত্যন্ত আবেদনময় দুটি গান আছে। গান দুটি গেয়েছেন ডলি সায়ন্তনী ও নাকীব হৃদ চৌধুরী। সব মিলিয়ে  ছবিটি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বলে আশা করি। 

lal-char-9নাদের চৌধুরী মনে করেন- মঞ্চ আর সিনেমার মধ্যে একধরনের মিল আছে। মঞ্চ হচ্ছে টাফ মিডিয়া (লাইফ)। পাওয়ার দরকার। ফিল্মেও পাওয়ার দরকার। মঞ্চে যেটুকু লিমিটেশন থাকে ফিল্মে সেটা পূর্ণ করা সম্ভব। ফিল্ম একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে সমাজ জীবনে। সেরকম কোন কাজ যদি করতে পারি তাহলে কালজয়ী কিছু করা আমার স্বপ্ন। বানিজ্যিক ছবি আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। কিন্তু অবশ্যই প্রফেশনাল এবং রিয়ালিষ্টিক এপ্রোচ নিয়ে ছবিটি করেছি। দেখে যদি মনে হয় যে কিছু করতে পারবো তাহলে ভবিষ্যতে আরো করবো।

lal char lal char lal char lal char  lal char

Check Also

nuru miah o tar beauty driver

নুরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার

মিডিয়া খবর :- গত ২৪ জানুয়ারি কোনও কর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায় …

tanha, shuva

ভাল থেকো চলচিত্রের পোস্টার প্রকাশ

মিডিয়া খবর:- প্রকাশ হল জাকির হোসেন রাজুর নির্মিতব্য চলচিত্রের পোস্টার। জাকির হোসেন রাজুর নির্মাণে আসছে নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares