Home » অনুষ্ঠান » আমার সোনার বাংলা কণ্ঠে কণ্ঠে‘
sonar-bangla

আমার সোনার বাংলা কণ্ঠে কণ্ঠে‘

Share Button

মিডিয়া খবর :-

গন্তব্য ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ।  দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই এলাকাজুড়ে লাখো মানুষের ঢল। ভিড় ঠেলে মাঠে প্রবেশ করছে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মাঠের ভেতরে স্টেজের পেছনের স্ক্রিনে তখন ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় এগিয়ে চলার দৃশ্য ভেসে উঠছে। এক মিনিট পরই বাজল বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। আর লাখো কণ্ঠ একসঙ্গে গেয়ে উঠল—‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি…।’ বাঙালির জীবনে ১৬ ডিসেম্বরের এই ক্ষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন দেশ—বাংলাদেশ। বিজয়ের সেই ক্ষণেই গত বুধবার লাখো কণ্ঠে গীত হলো জাতীয় সংগীত। জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সবাই দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে গাইল অমর সংগীত। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগতরাই নয়, একই সময়ে সারা দেশের মানুষ, অধুনালুপ্ত ছিটলমহলবাসী এবং সারা বিশ্বের বাঙালিরা একই সময়ে কণ্ঠ মিলিয়েছে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে। ‘বিজয়ের সূর্যোদয়, বাংলাদেশ বিশ্বময়’ স্লোগানে কোটি কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিজয় দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি।

২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর এ আয়োজনটি হয়ে আসছে। জাতীয় সংগীত গাইবার সময় মঞ্চে ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত, শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ। জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান ড. আবুল বারাকাত।

এরপর আবৃত্তি, ভাওয়াইয়া গান, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান, বাউল গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশনা ছিল। সন্ধ্যায় ‘কনসার্ট ফর ফ্রিডম’ আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন সায়ান, ব্যান্ড অবসকিউর, শিরোনামহীন, আর্বোভাইরাস, ওল্ড স্কুল ও মিনার্ভা। বিপুল মানুষের সমাগমে নিরাপত্তার স্বার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিনটি প্রবেশপথ বাদে অন্যগুলো বন্ধ রাখা হয়। প্রতিটি প্রবেশপথেই বসানো হয় আর্চওয়ে। পরিস্থিতি সামলাতে নিয়োজিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও রোভার স্কাউট সদস্য।

 বিজয় উৎসব পালনে এ বছর আরেকটি অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে ছায়ানট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বসেছিল ভিন্নধর্মী সুরেলা বিজয় উৎসব। ৪০ মিনিটের এ আয়োজনের বিশেষত্ব হলো লাল-সবুজের পোশাক পরে মানবপতাকা তৈরি করে জাতীয় সংগীত গাওয়া। গতকাল বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবার কণ্ঠে বিজয়ের সমবেত স্লোগান ধ্বনিত হয়। পরিবেশিত হয় কণ্ঠে কণ্ঠে দেশের গান। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নিরন্তর দেশপ্রেম জাগ্রত রেখেছে দেশাত্মবোধক গান। সেদিন পথহারা জাতিকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ওপর লেখা গানগুলো। স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পর আজ আবারও বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের দেশপ্রেমের ভিত্তিকে আরেকটু মজবুত করতেই গাওয়া হলো সেই গানগুলো। স্লোগান শেষে সবুজের বর্গাকার করে তার মাঝে লাল বৃত্তাকার গড়ে তুলে দাঁড়ান শিল্পীরা। ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা যখন জাতীয় সংগীত গাইলেন তখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন। চার হাজার শিল্পীর এই আয়োজনে সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা ‘তুমি বাংলা ছাড়’ আবৃত্তি করেন জহিরুল হক খান। ‘বিপ্লবের রক্তরাঙা ঝাণ্ডা ওড়ে আকাশে’ গানটি একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান খায়রুল আনাম শাকিল। সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’, ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না’, ‘নবীন আশা জাগল যে রে আজ’, ‘জয় হোক জয় হোক’, ‘আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে’, ‘বাংলাভূমির প্রেমে আমার প্রাণ হইল পাগল’, ‘লাখো লাখো শহীদের রক্তমাখা’ গানগুলো। গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন নৃত্যনন্দন ও ছায়ানটের শিল্পীরা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শেষ হয় এ আয়োজন।

Check Also

ankhi

নববর্ষে আঁখি আলমগীরের দুই মিউজিক ভিডিও

মিডিয়া খবর:- কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুটি নতুন গানের মিউজিক ভিডিও নিয়ে শ্রোতাদের …

Habib-Mitthe-noy

হাবিবের নতুন গান মিথ্যে নয়

মিডিয়া খবর:- নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares